Selected Poems as on 18.08.17

নির্বাচিত কবিতাগুচ্ছ - রাজেন্দ্র
----------------

মনের থেকেও শুদ্ধ
--------------
মন্ত্র থেকেও মূর্ত মনের ভাব

মনের থেকেও শুদ্ধ আমার প্রেম

আমি জানু পেতে নৈঋতে বসে
অবহেলা আর তাচ্ছিল্য মেখে
মাথা নত করি নৈঃশব্দের কোলে

তৃপ্তি আর অতৃপ্তি মিলেমিশে
আমার জন্মদাগে রেখে যায়
গোধূলির উষ্ণ দীর্ঘশ্বাস

বিবাগী মুহূর্তরা হারিয়ে যায়
ছায়াপথের আলোকবর্ষ ভুলে

এখন ট্যাবে গুগল সার্চ খুলে
বসে আছি কালপুরুষের পায়ের কাছে
নীরবে একান্তে

উত্তর ফাল্গুনী জেগে আছে
কান পেতে অধীর অপেক্ষায়

আমি পারবো কিনা
হাজার বছর পরে
ওর বুকে মিশে যেতে __
জানতে

নিবিড় হও মন
-----------
সূর্যাস্তের শেষ আলো ছিটকে এসে
নেমেছিলো ঘাসে পড়ে থাকা কদম
আর লাইনের গায়ে এলিয়ে থাকা
আধশোয়া শিউলির কাছে

নিবিড় হও মন

আরও একান্তে ঘনিষ্ঠে এসো

আরও ঘনিয়ে এসো কাছে

রেখে দাও ঠোঁটে
ভেজা ঠোঁট দুটো
পারো যতক্ষণ

যেমন করে
জড়িয়ে ধরে সাপেরা

মাটির গন্ধে উষ্ণতায় বাঁচে

যে মাকড়ষার রসে হয়নি বোনা জাল চাঁদের আলোয়

যে মহুয়ার টানে আসেনি ছুটে ভালুকেরা নদীর মোহনায়

যে জাল কেটে মাছেরা পেয়েছে ফিরে অমূল্য জীবন

যে চাঁদের আলোয় কবিতারা হয়নি আঁকা রঙিন জলে

যে ভালুক জানেনি ভালোবাসতে নিজেকে নিজের সাথে একলা ভোরে

যেই মোহনায় এসে নদীরা সঙ্গমে ভয় পেয়ে হয়েছে বিপরীতগামী

যে মাছের স্বাদে পিত্ত গলে কষ লেগেছে জিভের আগায়

যে জীবনে ফুলেরা ওঠেনি ফুটে গন্ধমাখা সুরের তালে

আমি সেই দেশের মাটিকেই মাতৃভূমি বলে ডাকি

সেই জন্মভূমিই আমার মা

আমার উদাসী একলা দেহবাদ বাজেনি এখনো বিষাদের সুরে

আমার ভালোবাসার সুরের তানপুরাটা এখনো হয়নি টেনে বাঁধা

তবুও আমি প্রণাম করি আমার দেশের মাটিকে বারবার

নতজানু হই আর বিড়বিড় করে আনমনে গাইতে থাকি

"... এই দেশেতে জন্ম আমার ..."

দেব ( তা ) আসছেন
---------------
জ্যামিতিক হারে
সম্পত্তি বাড়াতে থাকো তুমি
প্রতিটা ভোটের পর

আমাদের মত জনতা জনার্দনকে
পাঁচ বছরে মাত্র একটা দিন
তোমার ভীষণ রকম দরকার

ঐ একটা দিন
কখনো তুমি টেনশনে জুজু হয়ে থাকো
কোথাও লাফাও বত্রিশ ইঞ্চি ছাতিকে
বেয়াল্লিশ করে

কারণ তুমি জানো
তোমার বগলে ফুসকুড়ি হলে
বা জাঙিয়ায় আরশোলা ঢুকে পড়লেও
তাতে ডেটল ঘষার ফ্যান এ দেশে বিস্তর

কিন্তু বন্যা হলে
মানুষ বাড়ি ঘর ভেসে গেলে
গবাদি ফসল নষ্ট হলেও
তোমার দেখা নেই

দেখা নেই দাঙ্গা হাঙ্গামায়

তবে এটা জানি
সারাটা বছর তোমাকে
অবশ্যই দেখা যাবে
ছুটতে আর লড়তে
বাতানুকুল হলে
সিনেমার সাদা পর্দায়

মহাকাশের দিকে চেয়ে
-----------------
মহাকাশের দিকে চেয়ে গুনতে থাকি রাতের তারা

কখনো এক দুই তিন করে শূন্যে গিয়ে হারিয়ে যাই তো কখনো উল্টো গুনে আবার শূন্যে ফিরে আসি

বলতে পারিনা "আজাদী ঝুটা হ্যায়" গলা ছেড়ে বলতে চেয়েও

ভালো আর মন্দ লাগারা পাশাপাশিই আছে

ওরা আগেও ছিলো আর থাকবেও

জলে ডুবে গেলে
------------
খাঁচায় জল ঢুকলে পা ছুঁড়ে চ্যাঁ চ্যাঁ করে ডানা ঝাপটায় আর বারবার শেখা বুলি আওড়ায় পোষা টিয়াপাখি

খাঁচায় আমরাও তো সকলে খাই দাই ঘুমাই হাগুমুতু মৈথুন বাচ্চা পয়দা আর ঝগড়া ঝাঁটি করি শেখানো পড়ানো বুলি মুখস্থ করে

জল ঢুকলে ডাঙায় তোলা মাছের মতো হাঁফ ধরে আর নিজেকে বাঁচাতে অপরকে ঠেলি জলে বুকে পাথর চেপে

শেখানো বুলি উগরে জ্ঞান জাহির করতে থাকা টিয়ার সাথে আমার তফাৎ নেই একটুও আর খাঁচায় থাকা মনের ডানাও ভারী হয়ে গেছে এতটাই যে ইচ্ছেমত উড়তে গেলেই পড়ে যাব

নিজের বাঁচার ইচ্ছে টুকু গাঢ় থেকে গাঢ়তর হয় মড়া পোড়ানো অমাবস্যার রাতে শ্মশানের চিতার আগুনের আলো আঁধারি উত্তাপে

ভাঙা খোলা খাঁচা পেয়েও টিয়াটা আর ভারী ডানা মেলে উড়তে পারেনি আগের মতো ঠিক যেমনটা ওকে উড়তে শিখিয়েছিলো ওর মা

তবুও জলে পড়ে ও ভেসে থাকে আর উড়তে চেষ্টা করে ভেজা ডানা মেলে কোনও এক অজানা জাদু শক্তির ভরে

আমরাও তো এখন আর প্রকৃতির কোলে লালিত জারোয়ার ছানা নই যে সুনামি এলে আগেভাগেই পাহাড়ের মাথায় চড়ে বাঁচবো

কারণ আমরা সবজান্তারা বুঝে বা না বুঝেও এটাই জানি __

প্রযুক্তিই আমাদের প্রাণ আর রোবটেরাই আমাদের ভবিষ্যৎ

ভালো থাকার জন্যে
শব্দকে বেছে নিয়েছি

মালা করে পড়াই
বা মদ করে খাই

এতেই ভালো আছি

এতেই আনন্দ পাই

আবিষ্কার মনের হলে
সারা জীবন লেগে যায়

অধিকার শরীরের হলে
মুহূর্তেই মোহ কেটে যায়

তবে পুরুষ কি চায় ?

যতদূর জানি শরীরটাই
পুরুষের আকর্ষণ যা
নাভির নীচেই শুরু হয়

আর নারীর মনের হদিস তো
শুনেছি বিধাতার বাপেরাও পাননি
কখনো

তবে তার সৃষ্ট পুং জীবটা
কেমন করে পাবে ?

সুতরাং প্রেম
ভালোবাসা শুধুমাত্র
একটা ছলনাময় মোহ

যার শুরু অবশ্যই আছে
আর নির্মম শেষও

তেলের গুণ
---------

যেই খাঁটি তেলটা
গান্ধী নেহেরু জিন্না আজাদ
প্যাটেল মেননরা লাগাত
সাদা চামড়াওয়ালাদের পাছায়
আর লোম চাঁছা অন্ডকোষে

সেই ঝাঁঝালো তেলটা যে
এখন আর তুমি পাবেনা ভায়া

ঐ তেলের দম ছিলো বটে

ক্ষমতার চেয়ারখানা শেষমেষ বাগিয়েছিলো
ওরা কাটাকুটি আর কুমীরডাঙা খেলে

ঐ তেল মালিশওয়ালা শিয়াল কুমীরদের
উত্তরসুরীরাই জন্মসূত্রে গদি পেয়েছে

বাতানুকুল সেলুনে নিয়ে যাও শালাদের

পাছা উপুড় করে তেলের পিপে ঢেলে দাও

তবেই না তোমরা সবদিকে সফল হবে

আইন দেখবে
প্রশাসন সামলাবে
বিল্ডিং বানাবে
বানিজ্য করবে
সংস্থার কর্ণধার হবে

কেনা বেচা দালালি তোলাবাজি
এই চার জীবিকায় মোক্ষলাভ করবে

তারপর আবার বানপ্রস্থের আগেই
দাদা এবং নেতা হবে

এই ভাবেই চলতে থাকবে
ক্ষমতার একপেশে হস্তান্তর

আর তেলের গুণমান
বদলে যাবে নিরন্তর

ডাবর লাল থেকে নীহার
কেয়ো কার্পিন থেকে ভার্টিকা

পাবলিক নিংড়ানো তেলের
অ্যাড দিয়েই চলবে দেশ

একটাই সার কথা ঘটে রেখো ভায়া

তুমি যত বড়োই হনু কিংবা
পানু হও না কেন

ঠিকমতো তেল না মাখালে
স্বাধীনতার সুখ পাবে না কখনো

জয় হিন্দ !!!

তেল মাখানোর স্বাধীনতা
চলতে থাকুক !

১০

তোমার   দুই   কাজল
মোছা   চোখ
মন   কুঠিতে
অন্তর   বাস   হোক

১১

লুটিয়ে পড়া চাঁদের আলোয়
ঢেউ ভাঙা ভেজা বালির নীচে
ঘুমিয়ে ছিলো বহুধা বিভাজিত
আধা অসংযমী মনের স্বাধীনতা

একটানা দীর্ঘশ্বাসে বেপরোয়া
পরকীয়া মহুয়ার রসে উত্তাল
জারিত সুখে ভেসে উঠলেন
মাইকেল অ্যাঞ্জেলো

আর মুখ বুঁজে নীরবে
উই কাদা মাখা প্রস্তর দেহ
কাটতে লাগলেন যখন তখন

১২

মাছের আঁশেরাও
কানে কানে কথা বলে

তেতে ওঠে রোদ্দুরে
হিলহিলে সাপেরা

দরাদরি করে এক জাত
অন্য জাতের দাম

কুয়াশায় ঘাসে
আড়মোড়া ভাঙে নদী

পায়ে পায়ে ঝগড়াতে
এ দেশের মানুষ
মানুষ খানকীর সমান

১৩

গন্ধেরা আনাচে কানাচে বসে
অপেক্ষায় আবহমান

এক টুকরো মাছ বেশী পেলে
গলির নেড়ি মাদীর লেজ
নড়তেই থাকে

বোঁটকা গন্ধে উড়ে যায় চিল
শকুন খাওয়া প্রাণ

গত রাতে এক টুকরো মাছ
বেশী খাওয়া আর না খাওয়া নিয়ে
কুকুর বিড়ালের লড়াই জমেছিলো বেশ

৫০ টাকার পিস্ খাওয়া ভালো
নাকি
অ্যান্টিবায়োটিক চুষে খাওয়াটাই
সবচেয়ে খাসা বদ অভ্যেস

এ নিয়ে আর কথা বলতে চাইনা

তবে ঘেন্না ধরে গেছে
ছাই পোড়া এই ঝাঁটের সংসারে

বুড়ো শকুনের মত
মড়া খুঁটে খাওয়ার তাগিদে
কেন জানিনা বেঁচে আছি
এই পোড়ামাটির দেশে

যেমন করে বেঁচে আছে ছিনে জোঁকেরা
গরম রক্ত চুষে নেওয়ার অপেক্ষায়

১৪

তবে জেনে রাখা ভালো
-----------------

মেরুদন্ডহীন আত্মসুখী গোলাম কাঁকড়া যদি হঠাৎ কাছা খুলে স্বাধীন হয় আর শিয়ালেরা যদি পায় তাদের কামড়ে চুষে ছিবড়ে করে খাওয়ার
একচ্ছত্র অধিকার তবে জেনে রাখা ভালো সেই হতভাগ্য পানা পুকুরটা আসলে তোমার আমার সকলের একলা ডুবে মরবার ভারতবর্ষ ।

গূহ্যদ্বারের কৃমিরা যখন খুশী তখন এবং যাকে খুশী তাকে চুলকানোর অভিপ্রায়ে যখন একতরফা সংবিধানের অধিকার ভোগ করে আর অনাহারে আধপেটা খেয়ে গেঁড়ি গুগলি শাপলা কচু ঘেঁচু খুঁজে মরে আধা উলঙ্গ ছেলেমেয়েরা তবে জেনে রাখা ভালো সেই ডাকিনীর জঙ্গলটাই তোমার আমার অসহায় ভারতবর্ষ ।

বিদেশীদের হয়ে দালালির দেশভাগে লুঠেরাদের ক্ষমতা দখল এবং বংশ পরম্পরায় শোষণ আর গুন্ডামিকে অতঃপর মেনে নেওয়া আমরা তাদের পাছায় বুড়ো আঙুলের ছাপ দিয়ে চলেছি দশকের পর দশক বিনা দ্বিধায় বিনা প্রশ্নে ।

আধপেটা খেয়েও মুখ বুঁজে ঝিমিয়ে থাকি আমরা । কাজ না পেলেও রোজগার না থাকলেও বন্যায় ডুবে মরে গেলেও ভেসে উঠে পচে গলে কাক শকুনের খাবার যোগাই । কিন্তু ভোটটা সময় করে দিতে একবারও ভুলি না । ঐ দিনটা শাসক দলের মন যোগালে ভালো নয়ত ছাপ্পা ভোটকেই হাসিমুখে বরণ করে নিই ।

প্রতি পাঁচ বছরে একবার কোটিপতি বড়লোক নেতারা একদিনের জন্যে গরীব সেজে ভোট ভিক্ষায় পথে নামেন । রোদে পোড়েন । জলেও ভেজেন । মাটির ঘরে ঢুকে মুড়ি বাতাসা খান । হাঁচেন কাশেন খোলা মাঠে হাগেন বাতকর্ম করেন । কারণ দেশ আমার মহান । আমার নেতা নেত্রীরা কেউ আম আদমী সাধারণ নন, তারা ভগবান ।

যাঁতাকলে আমাদের মগজ ধোলাই করে দালালদের কেউ হয়ে ওঠেন দেশ-জাতির জনক, কেউ বা চাচা, কেউ আম্মা, কেউ পিসি কেউ ভাতিজা । আর দেশের জন্যে যাবজ্জীবন জেল খেটে প্রাণ দেওয়া বিপ্লবীরা পেনশনের টাকার খোঁজে দপ্তরে দপ্তরে দৌড়ে ঘুরে মরেন । বিনা চিকিৎসায় মারা যান । আর আমরা তাদের অবদান ভুলে গরু শুয়োর খাওয়া নিয়ে লড়তে থাকি । যারা খেতে পড়তে ঘুমোতে দেবেনা, তাদের নামে জয়ধ্বনি দেই ।

হায় রে আমার দেড়শো কোটির অভাগা ভারতবর্ষ । দেশ ভাগ করে স্বাধীনতা পেয়েও শান্তি নেই । ভাগের মা'কে তারকাঁটার বেড়া দিয়ে বেঁধেও শান্তি নেই । কাগুজে স্বাধীনতা এখন সত্তর বছরের থুরথুরে জরাজীর্ণ বৃদ্ধ । সীমান্ত সুরক্ষার পিছনেই চলে যাচ্ছে দেশের প্রায় সমস্ত রাজস্ব ।

স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রযুক্তি গবেষণায় কতখানি এগোলাম বা পিছোলাম, তার হিসেব তো গুগলই বলে দেবে । পণপ্রথা বধূনির্যাতন কন্যাভ্রূণ হত্যা ধর্ষণ খুনের হিসেবও হয়তো রাজ্য ধরে জেনে নেব । কিন্তু একটা প্রশ্নের উত্তর কি জানা যাবে ? বলে দেবেন কেউ ? আমরা কিসের স্বাধীনতা পেলাম ? কতখানি পেলাম ?

না না । এখন আবার সংবিধান দেখে কপি পেস্ট মারাতে যাবেন না যেন । সেটা তো এই অধমটাও পারবে । উত্তরটা আপনি আপনার মন থেকেই বলুন তো দেখি । একবার তো বই ছাড়া নিজের মতো করে ভেবে জবাব টা দিন ।

আর যদি তা না পারেন, তবে ঐ হারামিদের পাছায় আদি অনন্তকাল ধরে বুড়ো আঙুলের ছাপ্পা মারতে থাকুন । আর বলতে থাকুন, "বন্দে মাতরম্" । স্যরি, একটু ভুল হয়ে গেলো । বলুন, "কমরেডস্, বিপ্লব দীর্ঘজীবি হোক্ । ওহ্ নো । আবার ভুল বলে ফেললাম । বলুন, "জয় শ্রী রাম" ।

পুনশ্চঃ- (বলতে ভুলে গেছিলাম) আগামীকাল আমাদের স্বাধীন বৃদ্ধা ভারতমাতা সত্তর বছর পূর্ণ করবেন । আপনারা অবশ্যই আর বাকি বছর গুলোতে যেমন করে (একটা ছুটির দিনে যা যা করা সম্ভব) এই দিনটি কাটিয়ে এসেছেন, তেমন করেই দিনটি যাপন করবেন ।

বেশি ইমোশনাল হবার কিছু নেই । এই দেশটার জল মাটি আকাশ বাতাস পাহাড় পর্বত সমুদ্র মরুভূমি - সবটাই বিক্রি হয়ে যাবে আগামী দিনে । আর আমরা বা আমাদের পরবর্তী আগামী প্রজন্মেরা উদ্বাস্তু হয়ে আবার ক্রীতদাসের মতো বাঁচবো । এটাই মেরুদন্ডহীন আত্মসুখী গোলাম কাঁকড়া জাতির একমাত্র নিয়তি । সকলে জাতির জনকের ভাষায় তিন বাঁদর সেজে চুপচাপ নীরবতা পালন করুন । আর মনে মনে বলুন,  " জয় শ্রী রাম । হুপ্ হুপ্ !!! "

১৫ পরমাণু কবিতা - মনে আসা কিছু শব্দকে সাজালাম । এগুলো কবিতা কিনা জানি না -_-


বিভ্রান্ত পাললিক শিলার ভাঁজে
লুকিয়ে রাখা কাজলের কোণে
শব্দের সহবাসে সুখে থাকে মন


বামপন্থায় বিশ্বাসী বিপ্লবী বিভীষণ বাঙালীরা বোমাবাজিতেই বোধিজ্ঞানের বটবৃক্ষ খোঁজে


বুঝতে না চাওয়া অবুঝ মন বোঝা হয়ে ওঠে


দিনের শেষে ভদকা রাম হুইস্কি কিংবা দেশী

বাবা মা বউয়ের চেয়েও ওদের দরদ বেশী


রক্তক্ষরণের নীরবতায়
উঁকি দিয়ে যায়
নোনা নিঝুম নগ্নতা


চেনা রিং টোনের সম্পর্কে চোনা পড়ে গেছে


ভালোবাসা নিরুদ্দেশ হলে
"চুমু" রাও হারিয়ে যায়
মন খারাপের ঠিকানায়


কাটাকুটি খেলেই চলেছে প্রহরীর প্রহর আর প্রতীক্ষা

এখন শুধুই শিউলি কাশফুল আর ঢাকীর অপেক্ষা


বর্ষায় বর্ষাতি আর
অন্ধকারে মোমবাতি
না থাকলে
ঝাড়বাতি কিন্তু অনন্তকাল
আপনার পিছন ছাড়বে না

১০
ইরেজারে কালি মোছে
অভিমান নয়

বলিরেখা চামড়ায় পড়ে
হৃদপিন্ডে নয়

১১
মনে ধরলে 'সাঁইয়া'
নয়তো "টা টা, ভাইয়া"

১২
রূপান্তরে শুঁয়োপোকা হয় প্রজাপতি
আর রত্নাকর হয়ে ওঠেন বাল্মিকী

১৩
সব ধর্ষকই দিগম্বর হয়

সব দিগম্বর ধর্ষক হন না

১৪
ঘোর কাটতে
ভোর হয়ে গেল

১৫
পুজোটা মূর্তির হোক
বা ভাবমূর্তির

ব্যাপারটা একই

১৬
লুঙ্গি খুলে নামলাম জলে
আমাকে কুমীরে নিয়ে গেল
আর ওটা ছাগলে

১৭
ঘুড়িকে ভালোবাসতে হলে
আকাশ হয়ে ওঠো

১৮
শব্দেরা আজকাল
মন ক্যামনের গন্ধ বেয়ে
উবে যায়

অসীমের ঠিকানায়

১৯
সেটাই সেরা জাদু
যখন যাদুকর
যাদু হয়ে যান

২০
দুর্বলেও সুযোগ নিতে চায় দুর্বলতার

২১
ভুলভাল "চাট" এ নেশা
আর মাথায় "চাঁটি" সমান

২২
শতছিন্ন অন্ধকার ঘরে
কলঙ্কও থাকতে চায় না

২৩
"লিমিটেড" ইচ্ছেরা স্বপ্নে এসে
"আনলিমিটেড" হয়ে যায়

২৪
আজকাল শুধু
ভেসে থাকতেই মন চায়
কখনো বাতাসের ভাঁজে
কখনো ভাঙা মেঘের ঠিকানায়

২৫
অমরত্ব পেলাম

আজ ঘাসের ফুল
কানে কানে জানালো
সে ভালোবেসেছে আমাকে

২৬
কিছু শব্দ রয়েই যায়
না বলা ভাষায়
কাজল জলের ফোঁটায়
ওরা ধুয়ে মুছে মিলিয়ে যায়

২৭
তুমি সইতে পারো সব

আঘাতের প্রতিলিপি থাক
বা নাই থাক

২৮
গাঁজা মহুয়ার
মিশেলে টাল
মন আজ
উদাম মাতাল

২৯
চশমার জলছবিতে
বিন্দু বিন্দু মেঘ
কাঁচপোকার পায়ের ছাপে
বুদ্বুদের অসহায় বিষণ্ণতায়
জমে যায়

৩০
অনুমান আর অনুভবের তফাৎ খুব সামান্যই
প্রথম জন মগজের আর পরের জন হৃদয়ের

৩১
আলিঙ্গনে যৌনতায়
ঈশ্বর পরকীয়া হন
তখন তুমিই ঈশ্বরী

৩২
বিন্দু বিন্দু ভাবনারা
ইচ্ছাপত্র ছাড়াই
পরকীয়া হয়ে যায়

৩৩
একমাত্র উত্তর ফাল্গুনী জানে
অনন্তকাল ধরে আদ্রা চেয়ে আছে
তার পথের আলোয়

মহাবিশ্বের সব জাগতিক আলোকে
অতিক্রম করেও ফুরিয়ে যায়নি
তার একান্ত চাওয়া পাওয়া

৩৪
এদেশে 'লাদেন' কিংবা 'লেনিন' নয় আর
এখন আমার 'লালন' কে দরকার

--------

১৬

আয়রণ করা জামার ভাঁজে
লুকিয়ে রাখা ইস্তেহারে
টলে ওঠেন ভগবান

কয়লা পোড়া ভাবনারা গরম হয়
উনুনের নিভন্ত আঁচে

মাথার উপর দাপিয়ে চলেন ধর্ম আর
পর্বত হাতে লাফিয়ে ওঠেন হনুমান

১৭

গাছ আর শব্দেরা
পথ হারায়

একে একে
এক আকাশ বুকে

জমাট  কুয়াশায়

---------------------

আসলে কবিতা ব্যাপারটাই আমার কাছে ভারী গোলমেলে একটা ব্যাপার ।

ছোটবেলা থেকেই যেগুলো পড়ে বড়ো হয়েছি, সেগুলো হয় ছন্দে মিল নয় অন্ত্যে মিল নয়তো দুটোই আছে এমন ।

এরপর নিজের মনের কিছু কথা লেখার ইচ্ছে হলে দেখলাম কত মানুষ কত কিছু বলে দিচ্ছেন । আর অধিকাংশরাই বিশেষ পাত্তা দিচ্ছেন না ।

ভাবখানা এমন যেন বিভিন্ন বানিজ্যিক পত্র পত্রিকা আর লিটিল ম্যাগাজিনের সম্পাদক, আবৃত্তিকার (বাচিক শিল্পী) আর কবিতা লেখকেরাই নির্ধারন করে দেবেন, কোনটা কবিতা হলো আর কোনটা হলো না ।

আর এরা তো সকলেই স্ব স্ব ক্ষেত্রে বিদগ্ধ (বিশেষ রকম ভাবে দগ্ধ বা পোড়া) এব প্রায় সকলেই সমালোচনার ক্ষমতায় এবং কাব্য প্রতিভায় নোবেল পদক পাওয়ার সমতুল্য ।

আমি ভেবে দেখলাম, আমি একজন সাদামাটা ছোটোখাটো সরকারী আমলা । কবিতার চাষ করতে চাই । কবিতা পড়তে ভালো লাগে । অথচ কোনটা কবিতা, সেটা এখনো বুঝে উঠতেই পারি না ।

কবিতা লিখে দেশ আর সমাজ উদ্ধার করতে তো আমি আসিনি । আমার যা খুশী মনে চায়, প্রাণে চায় আমি লিখবো ।

আর তা কবিতা হলো নাকি কাঁচকলা, তাই নিয়েও আমার কোনও মাথাব্যথা নেই ।

সুতরাং যাহান্নামে যাক সব ঝাঁটের কবিতা তাত্ত্বিকের দল । আমি আমার মতো করে লিখবো । নিজের মতো করে নিয়ম বানাবো খেয়াল খুশী মতন ।

দুই আর দুই চার বলেই যারা এতকাল মেনেছে, তারা মানুক । আমার লেখায় আমি যা মন চায় আনবো । ভাঙবো, নির্মান করবো ।

তাতে কার বাপের কি খোয়া যাবে ? কি ছেঁড়া যাবে ?

সুতরাং আজ থেকে _ এই মুহূর্ত থেকে সব নিয়মের ক্যাঁতায় আগুন দিলাম ।

কাউকে মাথার দিব্যি দিচ্ছিনা আমার এই ভাটের লেখা পড়বার । যদি কেউ ভুল করেও পড়ে ফেলেন, যা মনে আসে তাই বলে দেবেন অনুগ্রহ করে । মনের ভিতর চেপে রেখে বুকে পেটে গ্যাস অম্বল চোঁয়া ঢেঁকুর জমতে দেবেন না ।

Comments

Popular posts from this blog

মহায়ণ

মরণ vs যৌনতা

আনা কড়া গন্ডা ক্রান্তি