কথা রাখিনি, রাখতে পারিনি // রাহেন্দ্র প্রসাদ
কথা রাখিনি, রাখতে পারিনি কথা আমি রাখিনি, রাখতে পারিনি। কথা কেউ রাখেনা, রাখতে পারেনা। শুন্তে খারাপ লাগে, তাইনা? তবুও কথাটা সত্যি। গল্পটা তবে বলি। তখন আমি খুব ছোট, পাঁচ কি ছয় হবে। চারিপাশের পরিবেশ আবছা, আলো-আধাঁরি ভাসা ভাসা মনে আছে। বাড়ির চারিপাশে ছিল অসংখ্য গাছ, জেলেরা ভোর রাতে জাল ফেলত। আমি ঠায় দাঁড়িয়ে দেখতাম। কত মাছ, কত রং, কি আনন্দ তাদের! কাঁচের মতন জল আমার কী দারুণ ভালোলাগত। ভালো লাগত পুকুর পাড় দিয়ে বয়ে যাওয়া মিষ্টি হাওয়াকে, মনটা এক পলকে ভিজে যেত। আবার ভয়ও পেতাম অজানা শঙ্কায়, সাঁতার কাটতে আরো ভয় লাগত, কম্প দিয়ে যেন জ্বর আসত। কত বন্ধু ছিল আমার! বিকাল হলেই ছুটে যেতাম আমবাগানে, পুকুর ঘাটে। ব্যাঙমাছি খেলা, রঘু ডাকাত, রামায়ণের হনুমান, রবিনহুড, সবাই মিলে মিশে এক হয়ে যেতাম। কখনো পিঁপড়ে ধরে শিশিতে ভরতাম। আমবাগান, কলাবাগান, বাঁশবাগান, সবার রাজা ছিলাম আমি। সবাই ছিল আমার প্রজা। সময় থেমে রইলনা, আমিও থেমে থাকতে পারিনি। যারা আমার একমাত্র সাথী ছিল, সেই বাগান, পুকুর আর বাকি সবাইকে ফেলে রেখে এলাম অতীতের...