সোজা লেখা

আমার মনে আসা কিছু শব্দকে সাজালাম । এগুলো কবিতা কিনা জানি না __________


বিভ্রান্ত পাললিক শিলার ভাঁজে
লুকিয়ে রাখা কাজলের কোণে
শব্দের সহবাসে সুখে থাকে মন


বামপন্থায় বিশ্বাসী বিপ্লবী বিভীষণ বাঙালীরা বোমাবাজিতেই বোধিজ্ঞানের বটবৃক্ষ খোঁজে


বুঝতে না চাওয়া অবুঝ মন বোঝা হয়ে ওঠে


দিনের শেষে ভদকা রাম হুইস্কি কিংবা দেশী

বাবা মা বউয়ের চেয়েও ওদের দরদ বেশী


রক্তক্ষরণের নীরবতায়
উঁকি দিয়ে যায়
নোনা নিঝুম নগ্নতা


চেনা রিং টোনের সম্পর্কে চোনা পড়ে গেছে


ভালোবাসা নিরুদ্দেশ হলে
"চুমু" রাও হারিয়ে যায়
মন খারাপের ঠিকানায়


কাটাকুটি খেলেই চলেছে প্রহরীর প্রহর আর প্রতীক্ষা

এখন শুধুই শিউলি কাশফুল আর ঢাকীর অপেক্ষা


বর্ষায় বর্ষাতি আর
অন্ধকারে মোমবাতি
না থাকলে
ঝাড়বাতি কিন্তু অনন্তকাল
আপনার পিছন ছাড়বে না

১০
ইরেজারে কালি মোছে
অভিমান নয়

বলিরেখা চামড়ায় পড়ে
হৃদপিন্ডে নয়

১১
মনে ধরলে 'সাঁইয়া'
নয়তো "টা টা, ভাইয়া"

১২
রূপান্তরে শুঁয়োপোকা হয় প্রজাপতি
আর রত্নাকর হয়ে ওঠেন বাল্মিকী

১৩
সব ধর্ষকই দিগম্বর হয়

সব দিগম্বর ধর্ষক হন না

১৪
ঘোর কাটতে
ভোর হয়ে গেল

১৫
পুজোটা মূর্তির হোক
বা ভাবমূর্তির

ব্যাপারটা একই

১৬
লুঙ্গি খুলে নামলাম জলে
আমাকে কুমীরে নিয়ে গেল
আর ওটা ছাগলে

১৭
ঘুড়িকে ভালোবাসতে হলে
আকাশ হয়ে ওঠো

১৮
শব্দেরা আজকাল
মন ক্যামনের গন্ধ বেয়ে
উবে যায়

অসীমের ঠিকানায়

১৯
সেটাই সেরা জাদু
যখন যাদুকর
যাদু হয়ে যান

২০
দুর্বলেও সুযোগ নিতে চায় দুর্বলতার

২১
ভুলভাল "চাট" এ নেশা
আর মাথায় "চাঁটি" সমান

২২
শতছিন্ন অন্ধকার ঘরে
কলঙ্কও থাকতে চায় না

২৩
"লিমিটেড" ইচ্ছেরা স্বপ্নে এসে
"আনলিমিটেড" হয়ে যায়

২৪
আজকাল শুধু
ভেসে থাকতেই মন চায়
কখনো বাতাসের ভাঁজে
কখনো ভাঙা মেঘের ঠিকানায়

২৫
অমরত্ব পেলাম

আজ ঘাসের ফুল
কানে কানে জানালো
সে ভালোবেসেছে আমাকে

২৬
কিছু শব্দ রয়েই যায়
না বলা ভাষায়
কাজল জলের ফোঁটায়
ওরা ধুয়ে মুছে মিলিয়ে যায়

২৭
তুমি সইতে পারো সব

আঘাতের প্রতিলিপি থাক
বা নাই থাক

২৮
গাঁজা মহুয়ার
মিশেলে টাল
মন আজ
উদাম মাতাল

২৯
চশমার জলছবিতে
বিন্দু বিন্দু মেঘ
কাঁচপোকার পায়ের ছাপে
বুদ্বুদের অসহায় বিষণ্ণতায়
জমে যায়

৩০
অনুমান আর অনুভবের তফাৎ খুব সামান্যই
প্রথম জন মগজের আর পরের জন হৃদয়ের

৩১
আলিঙ্গনে যৌনতায়
ঈশ্বর পরকীয়া হন
তখন তুমিই ঈশ্বরী

৩২
বিন্দু বিন্দু ভাবনারা
ইচ্ছাপত্র ছাড়াই
পরকীয়া হয়ে যায়

৩৩
একমাত্র উত্তর ফাল্গুনী জানে
অনন্তকাল ধরে আদ্রা চেয়ে আছে
তার পথের আলোয়

মহাবিশ্বের সব জাগতিক আলোকে
অতিক্রম করেও ফুরিয়ে যায়নি
তার একান্ত চাওয়া পাওয়া

৩৪
এদেশে 'লাদেন' কিংবা 'লেনিন' নয় আর
এখন আমার 'লালন' কে দরকার

-----------------------------

আসলে কবিতা ব্যাপারটাই আমার কাছে ভারী গোলমেলে একটা ব্যাপার ।

ছোটবেলা থেকেই যেগুলো পড়ে বড়ো হয়েছি, সেগুলো হয় ছন্দে মিল নয় অন্ত্যে মিল নয়তো দুটোই আছে এমন ।

এরপর নিজের মনের কিছু কথা লেখার ইচ্ছে হলে দেখলাম কত মানুষ কত কিছু বলে দিচ্ছেন । আর অধিকাংশরাই বিশেষ পাত্তা দিচ্ছেন না ।

ভাবখানা এমন যেন বিভিন্ন বানিজ্যিক পত্র পত্রিকা আর লিটিল ম্যাগাজিনের সম্পাদক, আবৃত্তিকার (বাচিক শিল্পী) আর কবিতা লেখকেরাই নির্ধারন করে দেবেন, কোনটা কবিতা হলো আর কোনটা হলো না ।

আর এরা তো সকলেই স্ব স্ব ক্ষেত্রে বিদগ্ধ (বিশেষ রকম ভাবে দগ্ধ বা পোড়া) এব প্রায় সকলেই সমালোচনার ক্ষমতায় এবং কাব্য প্রতিভায় নোবেল পদক পাওয়ার সমতুল্য ।

আমি ভেবে দেখলাম, আমি একজন সাদামাটা ছোটোখাটো সরকারী আমলা । কবিতার চাষ করতে চাই । কবিতা পড়তে ভালো লাগে । অথচ কোনটা কবিতা, সেটা এখনো বুঝে উঠতেই পারি না ।

কবিতা লিখে দেশ আর সমাজ উদ্ধার করতে তো আমি আসিনি । আমার যা খুশী মনে চায়, প্রাণে চায় আমি লিখবো ।

আর তা কবিতা হলো নাকি কাঁচকলা, তাই নিয়েও আমার কোনও মাথাব্যথা নেই ।

সুতরাং যাহান্নামে যাক সব ঝাঁটের কবিতা তাত্ত্বিকের দল । আমি আমার মতো করে লিখবো । নিজের মতো করে নিয়ম বানাবো খেয়াল খুশী মতন ।

দুই আর দুই চার বলেই যারা এতকাল মেনেছে, তারা মানুক । আমার লেখায় আমি যা মন চায় আনবো । ভাঙবো, নির্মান করবো ।

তাতে কার বাপের কি খোয়া যাবে ? কি ছেঁড়া যাবে ?

সুতরাং আজ থেকে _ এই মুহূর্ত থেকে সব নিয়মের ক্যাঁতায় আগুন দিলাম ।

কাউকে মাথার দিব্যি দিচ্ছিনা আমার এই ভাটের লেখা পড়বার । যদি কেউ ভুল করেও পড়ে ফেলেন, যা মনে আসে তাই বলে দেবেন অনুগ্রহ করে । মনের ভিতর চেপে রেখে বুকে পেটে গ্যাস অম্বল চোঁয়া ঢেঁকুর জমতে দেবেন না ।

Comments

Popular posts from this blog

মহায়ণ

মরণ vs যৌনতা

আনা কড়া গন্ডা ক্রান্তি