সেই সব উটেরা

সেই সব উটেরা - রাজেন্দ্র
----------------------
কলোনীতে আজ জমায়েত
বুনো পাথুরে ভগ্ন মুখ ঘষটানো উটেরা

নাক বেয়ে গড়িয়ে নামে ফেনা
পেটের চুল্লীতে শতাব্দীর লালা ঝরা

মেখে যায় শুকানো ঘাম আর বালি
চুন ভেজা গলার দড়িতে

মরুভূমি ফিরে যাবে ওরা
একটু পরেই একসাথে সবাই
ঝুলি টানতে টানতে

দলে দলে এই প্রান্ত ঠেলে
যাবে ছুটে পাশের মফস্বলে

ঘড়ির কাঁটার মতো
টিক টিক করে মনে মনে

দম দেওয়া চাবিওয়ালা
কোমর নাচুনি পুতুলের মতো
চলতে শুরু করে একে একে
ডাকাডাকি করে জনে জনে

ওদের নিঃশ্বাসে ওঠেনা তেমন ঝড়
শুধু একটু চলকে ওঠে বালি

আর দুলে ওঠে এক চিলতে আকাশ
রাবেয়ার ভাঙা জানলার এক কোণে

উঠেছে ঝড় এর আগেও অনেকবার
এবারেও হয়নি ব্যতিক্রম তার

উটেরা জানে
কেমন করে বালির ভিতরে
লুকাতে হবে মুখ আর
গোটা দেহটা বাইরে থাকবে তার

চাদরে মুড়ে সহিসেরা
ঘিরে বসে গোল হয়ে
খেতে থাকে জল আর
শুকনো রুটির খাবার

ভাঙা কাঁচের কোণে
ছড়িয়ে পড়ে আমেনার
টুকরো টুকরো হাসি

ঠিক যেমন করে
কচুপাতা বেয়ে ঝরে পড়া জল
অজান্তে একলা ভালোবাসি

পায়ের অসাড় আঙুল আর উটের খুরে
এখন কোনও তফাত নেই আর

দিনের শেষে ওদেরও দেহে
এক ঝলক বিরাম দরকার

কাঁটা ঝোপ কুচো কুঁড়ি আর
ছাল ওঠা আধ মরা ডালেই
ভরে যাবে ওদের পেট

পোড়া রুটি ছুঁড়ে ফেলা হলে
বন্ধ হতো সিংহবাড়ির
ধূলোজমা দক্ষিনমুখো গেট

আমি কিন্তু জানতামই না
ঈশ্বরও আজকাল খেয়ে ফেলছেন বাসি

অথচ বাড়ির লোকেরা কিন্তু
আজকাল আর টাটকা খান না

না বলে কয়ে যখন তখন
ছুটি নিতে চান না কাজের মাসি

উটেরা তখন কানে কানে কথা বলে
যখন ঝড়ো হাওয়া বালি মুখ ঘষটে যায়

সঙ্গমকালে মরুভূমির সমস্ত প্রাণ
জাদুটানে রজস্বলা হয়ে যায়

খুরের মাঝে আটকে থাকে ফলা
চোরকাঁটা মুখে ফোটে রক্ত ঝরে

ময়ূরেরা পেখম মেলে ডাকে
সঙ্গিনীদের বারবার ভালোবেসে ধরে

কালপুরুষের আলো ছিটকে এসে পড়ে
আলেয়ার চকচকে আদুরে ঠোঁটে

ছিঁড়ে পড়ে চামড়ার থলেভরা জল
শিকড়ের টানে ক্যাকটাস ফুটে ওঠে

@ রাজেন্দ্র / ২৪ জুলাই, ২০১৭

Comments

Popular posts from this blog

মহায়ণ

মরণ vs যৌনতা

আনা কড়া গন্ডা ক্রান্তি