অনিন্দ্য রায়ের কবিতা
অনিন্দ্য রায়
জন্ম : ২৮ জানুয়ারি , ১৯৭১, বাঁকুড়া
লেখালেখির শুরু : নয়ের দশক
প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ :
তিরিশে ফেব্রুয়ারি ( ২০১০ )
স্পার্ক অ্যাভেনিউ ( ২০১৬ )
কাগজের হারপুন ( ২০১৬ )
প্রিয় বই : কসমস , কার্ল সাগান
পেশা : চিকিৎসক
ঠিকানা : প্রণবানন্দ পল্লি
কেন্দূয়াডিহি
বাঁকুড়া পশ্চিমবঙ্গ
কবিতা ভাবনা :
তারপর ঈশ্বর বললেন ," আলো হোক " আর জ্বলে উঠল আলো।
ঈশ্বর সৃষ্টি করলেন মহাশূন্য , বানালেন নেবুলা , নক্ষত্র , গ্রহ। উপগ্রহ ।
বানালেন পৃথিবী। আকাশ। বায়ু । জল ও অগ্নি।
পাহাড়, পর্বত , মহাসাগর , নদী।
বানালেন প্রাণ ,তৃণ থেকে মহীরূহ, অ্যামিবা , মৎস , সরীসৃপ , পক্ষী , পশুকূল ; বানালেন মানুষ ।
মানুষকে দিলেন ইশারা ও ভাষা , প্রেম ও হিংসা , যৌনতা , বিশ্বাস ও সন্দেহ , গণিত ও সঙ্গীত , বিজ্ঞান, সাহিত্য, চারু , কারু , অভিনয় , সকলকিছু।
সবকিছু ।
ঈশ্বর ব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি করলেন ।
তারপর সব শেষে তিনি উঠে দাঁড়িয়ে এই রচনার দিকে তাকালেন। তাঁর মন ভরে গেল। তিনি নিজের হাতের দিকে তাকালেন। দেখন যে , এতোক্ষণ তিনি যা কিছু নিয়ে নাড়াচাড়া করেছেন সেসবের চূর্ণ লেগে আছে তাঁর হাতে।
তিনি হাত ঝেড়ে ফেলতে গেলেন।
তাঁর কেমন একটা মায়া হল।
তিনি তার হাতে লেখে থাকা সমস্তকিছু , এই ব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির সমস্ত দিয়ে বানালেন কবিতা ।
কবিতা :
প্রণয়পয়ার
------------------
১
কমলা রোদের কোয়া , দু ফাঁকে জিহ্বাটি
প্রত্যহ অন্নের খোঁজে গোলাঘর চাটি
তুষে যা মজুত থাকে তিনি তো আগুন
আমাদের লীনচাপে ফেটে যাচ্ছে ভ্রুণ
২
পাতা ঝরে দুগ্ধগীতি মাটিতে ছড়ানো
সুপুরি তরল হলে ডুবে যায় পানও
খয়ের স্বাদের কুঁড়ি, ফুটেছে এতটা
বৃন্ত ধরে ঝুলে আছে আন্ধারের ফোঁটা
৩
নাভি তো আলোর মন্ড , দর্পন প্রাচীর
তাহার খাদ্যের তলে সুষুম্নার ক্ষীর
খিদে তবু অবতল , তুমি শয্যাগত
ক্রন্দন মোছে নি সেই কুঠারের ক্ষত
৪
পিপাসার ছ'টি পৃষ্ঠ জলেরই রচনা
বাষ্প হতে যত সুখ হস্তে ধরব না
উড়ে যা সকলে পক্ষী , সকলের ডিম
বহন করেছে একা অনন্ত কছিম
৫
পুষ্পপথে স্নানজল , অসুখের কীট
দংশন করেছে আর ধমনীর গিঁট
খুলে ধুই তার পক্ষে লজ্জা, ঘৃণা, ভয়
তন্তুতে টেনেছে সেও জন্মের আশয়
৬
তবলা উন্মুক্ত হলে শ্রবনও ন্যাংটো
সমস্ত ফস্কায় যারা স্বপ্ন থেকে ছোটো
কোথায় কুম্ভটি তুমি রেখেছ অস্থির
সলতেই প্রাকৃত যৌন যে কোনো বাতির
৭
জাহাজবাড়িতে চক্ষু ঝাঁপ দিল চোখে
ঢেউ ভেঙে মুর্ছা আসে প্রহার সড়কে
ইঞ্জিনে কাটছে পানি , ছিটকাচ্ছে লোহা
তোমাকে ধরেছি স্তম্ভে শ্বাসের জরোয়া
৮
সিঁড়িদোষে পড়ে যাই , সুতা বেয়ে উঠি
ছড়িয়ে রেখেছ বক্ষে পূর্ণিমার ঘুঁটি
লেগেছে চাঁদের গায়ে চাঁদ ষোলোজন
তোমাকে টুকরো করি , আহার্যের ক্লোন
৯
আঙুল কাগজে চাপি , ছাপে কবুতর
উড়ে যায় , বাতাসের সাত ডিগ্রি জ্বর
ঘাম যত যাতনার , ছেড়ে যাওয়া যত
কেঁদেছি কুহকে গর্তে অভ্যাসবশতঃ
১০
ব্যাঙ্গমা জেগেছে আর শরীরে বিদ্যুৎ
জ্বালা সহজিয়া হয়ে হাওয়ার ব্লু-ট্রুথ
জোর লাগে , ঘোর লাগে , নিদ্রা ফেটে যায়
নাও ডুবে স্বর্গে ওঠে কালো যমুনায়
১১
দন্তের বোতাম ঠুকি , খোলে মহাকাশ
আঁধারে ছেটাচ্ছে থুতু , নক্ষত্রের লাশ
জ্বলে ওঠে , চমৎকার , মাথা ঘোরে , ধরি
তোমার ওষ্ঠের দাগে পরাগ মঞ্জরী
১২
দরজা স্বয়ং যাত্রী , ঢুকি , আরো ঢুকি
একটানে বের হই , পতনের ঝুঁকি
আমাকে দড়িতে বেঁধে গ্রীবা মটকাল
সে ঘরে ধাতুর শয্যা বেসেছিল ভালো?
মতামত:-
কি অসামান্য ছন্দের বাঁধুনি। নিরাকার পাথরে হাতুড়ি-গাঁইতি দিয়ে লিরিক লিখে চলা তন্ময় শ্রমিকটির মত; যার ঠুংঠাং দূরে-বহুদূরে ঠুমরির মত বেজে চলে... র্যাটেল স্নেক এর মতই লেজ গুটিয়ে আলতো ঢুকে পড়ে অশান্ত কর্ণকুহরে - আরাম হয়! পাথরের পাউডার হাতে নিয়ে যখন এক-একটা র্যাপসডির রেণু উনি মাখিয়ে নেন দুহাতে, গাছের পাতায়, তৃণ বল্কলে, দুর্গম বাতাসে - তড়িতের মত সাংঘাতিক অথচ মধুরম স্পার্কলিং আমাদের সুষুম্নাকে ছেয়ে রাখে
Comments