জুকারবার্গ এর প্রতি

জুকারবার্গের প্রতি ____

মোবাইলে তোলা, পাহাড় কোলে – নদীর ধারে – সমুদ্র তীরে – বন্দর বুকে .. সূর্যাস্তের আকাশ, শখের টবে বৃষ্টি ভেজা পাতার _ সবুজ ক্লোরোফিল মাখা একটু হিমেল জলো বাতাস, কারো না কারো টাইমলাইনে আসা শুভেচ্ছাবার্তা জন্মদিনের, কারো কাছে জমাট বাঁধা কচুরিপানার না বলা গল্প বহুদিনের, কারো কারো কাছে এক বছর আগের অনুষ্ঠানের ঝলমলে ছবি, কারো কারো বিষ ছড়ানো রাজনৈতিক কড়চায় জড়িয়ে পড়া লেখক বুদ্ধিজীবী কবি, কারো দুই বছর আগের লেখা রিপোস্ট কবিতার, কারো আবার বিনা অনুমতিতেই অন্যের তোলা ছবি বা লেখা চুপচাপ শেয়ার, এইসব নিয়েই তো চলছে ফেসবুকের টাইমপাস _ হ্যাঁ .. 'টাইমপাস' ই লিখলাম .. আর কি কারণ আছে আমাদের বা আপনার, ফেসবুক করবার ? আমি না হয় হাবিজাবি লিখি, আপনি একটু ভ্যান গখের মত করে না হলেও, মডার্ন আধুনিক হিকিবিজি ছবি আঁকেন, পাশের বাড়ির বৌদি কুকুরছানা বাঁচাও আন্দোলনের তাগিদে মাদার টেরেসার মতো সোস্যালওয়ার্ক নিয়ে ছবি আর ইভেন্ট আপলোড করেন, কেউ শাকিরার মতো খানিকটা নাচেন, কেউ তবলা বাজান, গান করেন, আবৃত্তি করে আপলোড করেন, কেউ কেউ আবার যখন তখন বান্ধবীদের সাথে সহিত্যবাসরে দুম দাম কিটিপার্টি করেন, কেউ সিনেমা নাটক থিয়েটার নিয়ে মতামত দেন, কেউ বা আবার সপরিবারে শপিং মলে কেনাকাটা খাওয়া দাওয়া করে শান্তি পান, কেউ কেউ তো আবার বেড়াতে গিয়ে হরেক রকম ভাবে ঘাড় হেলিয়ে দাঁত কেলিয়ে সেলফি ছাড়েন, কেউ কেউ আবার নিজের না হজম হওয়া বিদ্দে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে টাইমলাইনের ক্ষেতে আইনস্টাইনের থিওরিকে চ্যালেঞ্জ করবার মতো করে ফলান, কেউ বিশাল আকারের ভাটের পরিসংখ্যান কুড়িয়ে এনে অপ্রয়োজনীয় তাত্ত্বিক প্রবন্ধ লিখেই শান্তি পান __ এইভাবে অধিকাংশরাই তার তার মতো করে এক একটা গোষ্ঠী তৈরি করে ফেলেন । সেই গোষ্ঠীর ভিতরেও মতানৈক্য, অশান্তি, ঝামেলা, রাজনীতি । সেখান থেকে আবার একটা গোষ্ঠীর জন্ম । এইভাবেই চলতেই থাকে চেইন রিয়েকশন । কি হবে বলুন তো এই সব হাবিজাবি করে ? আপনি কি দিতে পারেন, কতটা দিতে পারেন আর আমরাই বা কতটা ঠিকঠাক করে সবকিছু নিতে পারি ? আর নিলেও কি নেব, কতখানি নেব, কেমন করে কোন সময়ে নেব __ হ্যাঁ ... এই সবকিছু নিয়েই তো ফেসবুক এর  প্রেম ভালোবাসা লড়াই গালমন্দ খিস্তি খেউর __ একে অন্যকে শেয়ার, কারো উপরে কারো একটু অতিরিক্ত কেয়ার, এর বেশি আর কিইই বা আছে বলুন তো দেওয়ার, মিস্টার জুকারবার্গ ? আপনার ব্রেন চাইল্ড ফেসবুক এখন আর আপনার নেই । এখানে কি না হয় । নেতা, রাজনৈতিক দল, প্রেশার গ্রুপ, এমনকি প্রাতিষ্ঠানিক মিডিয়াকেও, এখানে এসে সমঝে চলতে হয় । এখন আর মানুষ শুধুমাত্র বাজারি পত্রিকার তৈরি করা শব্দের গালগল্প খায় না । এখন সকলেই কমবেশি ফেসবুক নির্ভর একটা জগতে কমবেশি বসবাস করে, ইন্টারনেট ঘাঁটতে ভালোবাসে । আমি জানিনা পৃথিবী আর তার সমগ্র সৌরজগৎ এর সৃষ্টিকর্তা কে । কিন্তু এই ফেসবুক নামের ভার্চুয়াল জগৎকে যদি একটা সৌরজগতের সাথে তুলনামূলক ভাবে আলোচনা করি, তাহলে বলবো, ফেসবুকের মতো ভার্চুয়াল জগতের সৃষ্টিকর্তা হিসেবে আপনিও ছোটোখাটো কম কিছু নন । মানছি, ব্যবসার খাতিরেই আপনার এই নির্মাণ । তবুও বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, আপনার তৈরি এই ব্রহ্মাণ্ডে নীহারিকা, গ্রহ, নক্ষত্র, উপগ্রহ, ধূমকেতু, ব্ল্যাকহোল, সবকিছুরই উদাহরণ আছে । আর সবাই তো এখানে যার যার নিজের ঢাক পেটাতেই ব্যস্ত । আমিও তাই করে এসেছি এতকাল ধরে । আজ আপনার জন্যে আমার দু চার কথা লিখতে ইচ্ছে করলো । তাই একটু কসরত করলাম আর কি । ব্যাস । এইটুকুই বলবার ছিল । ভালো থাকবেন ফেসবুক জগতের মাননীয় সৃষ্টিকর্তা জুকারবার্গ মহাশয় ।

Comments

Popular posts from this blog

মহায়ণ

মরণ vs যৌনতা

আনা কড়া গন্ডা ক্রান্তি