একখানা মেঘ

একখানা মেঘ দিতে পারো এনে বাংলা মায়ের বুকে ???

© রাজেন্দ্র

খুঁজে ফেরার গল্প সবার জীবনেই থাকে কম বেশি । "আষাঢ়স্য প্রথম দিবস" অতিক্রম করে, এখন যেমন আমার পিপাসার্ত মন, বৃষ্টিমুখর দিন কিংবা রাত খুঁজে চলেছে, নোনাধরা, প্রায় ভেঙেপড়া, লুকিয়ে রাখা চিলেকোঠার ঘরের ক্যালেন্ডারের পিছনে, প্রদীপ জ্বালা কুলুঙ্গির অন্ধকারের ম্লান আলোয় । ষড়ঋতুর সাংস্কৃতিক ইতিহাস নিয়ে গর্বিত, ছাতি ফোলান বাঙালির ভাগ্য, এখানে দানপত্র করে "এনিথিং" দেখিয়ে দিয়ে চলে গেলেও, আমরা তাকে "নাথিং" দিয়েই বেঁধে রাখতে চাই, আমাদের নামের আদ্যক্ষরের সাথে একান্ত সহবাসে । সপ্তাহের অতিব্যস্ত কাজের দিনে, একটা আস্ত মেঘ ধরে, ঝমঝম করে বৃষ্টি নামানোর কাজটা, একদা যিনি অতি অনায়াসেই করতে পারতেন, সেই মিঞাঁ তানসেনও এখন সম্রাট আকবরের সভা ফেলে, সাড়ে তিন হাত সমাধির ভিতরে গভীর আত্মপ্রসাদ আর পরম প্রশান্তির সাথে সুখের নিদ্রায় মগ্ন । এহেন অবস্থায়, একটা উপায় হলো, মরুপ্রদেশে কৃত্রিমভাবে বৃষ্টি নামাতে ব্যবহার করা, ক্লাউড সিডিং টেকনোলজির সাহায্য নেওয়া, কিংবা প্রচুর পরিমাণে গাছের চারা লাগানো, আমাদের আগামী প্রজন্মের কথা মাথায় রেখেই । নইলে আমাদের ছোটবেলায় ইস্কুলে আসা রচনা "বঙ্গে বর্ষা" আর আগামী দিনের প্রজন্মের কাচ্চা বাচ্চাদের আনন্দ করে লিখতে হবে না । ভাসাতে হবে না কাগজের নৌকা বাড়ির নিকোনো মাটির উঠোনে, কংক্রিটের দালানে, আনাচে কানাচে । সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা বাংলার মানুষ তখন গোবি সাহারার বুকে এক ফোঁটা মেঘ এনে দেওয়ার বাসনায় ফেসবুকে পদ্য লিখবে । তার আরো কয়েক প্রজন্ম পরে, এখানেও হরপ্পা মহেঞ্জোদারো গোছের সভ্যতা আবিষ্কৃত হবে । আর ইতিহাসের পাতা ধরে, পরীক্ষার খাতায় প্রশ্ন থাকবে, "ইতিহাস বিস্মৃত আত্মঘাতী বাঙালি জাতির তথা বাংলাদেশের পতনের ইতিহাস বিবৃত করুন" ।

Comments

Popular posts from this blog

মহায়ণ

মরণ vs যৌনতা

আনা কড়া গন্ডা ক্রান্তি