স্থান মাহাত্ম্য

স্থান মাহাত্ম্য
© রাজেন্দ্র

ক্রমাগত দুধ ঘি ডাবের জল ফুল পাতা ঢালা, দেবস্থানের পাথরের, প্রায় গোপন আপাত অদৃশ্য ভাঁজে, সংসার পাতা ব্যাকটেরিয়াই একমাত্র পারে, স্বপ্ন আর বাস্তবের মাঝের দেওয়ালে, আকাশরেখার শূন্যতা দখলের অধিকারে, স্থগিতাদেশ দিতে, এপিডেমিক এনে ।

পাথর একবার মন্দিরে গেলে, কল্পিত মহিমা, স্থানমাহাত্ম্য বেড়ে যায় । দশচক্রে মানুষের ভরসা, দুনিয়ার ভগবান হয়ে যায় । মানুষও প্রাপ্তির আশায় মন্দিরে যায়, পাথরের কাছে কিছু না কিছু চায় ।

প্রার্থনার শব্দ কি আদৌ ব্যাকটেরিয়ারা শুনতে পায় ? পাথর অবশ্য দিনশেষে পাথরই থেকে যায় । ধর্মের ব্যবসা ভয়ে ভক্তিতে বেড়েই যায় ।

দুধ ঘি ডাবের জল ফুল পাতার কল্যাণে, পাথুরে কলোনিতে ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধি পায় । ওরা নির্ভয়ে আকাশের রেখার শূন্যতা দখল করে বানিজ্যিক বিজ্ঞাপনের হোর্ডিং ছাড়াই ।

দেবস্থানের পাথর, জনস্বার্থ মামলার বিচারক হলেও, চোখে কালো কাপড়ের ঠুলি বেঁধে, ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধিতে প্রতিবেদন আর সমীক্ষা ছাড়াই রায় দেয়, তেলা মাথায় তেল দেয় । গরীবের অন্নে কাঁকর পোকা আর ধনীর চালে ঘি মাখন পনীর ঝরে পড়ে ।

ভাগ্যহীন গরীব বেচারা কম পায়, হাত উপুড় করে বেশি । আর ধনবানেরা পায় বেশি, কিন্তু উজাড় করে কম । তবুও এলাকার স্থান মাহাত্ম্য প্রচারে, ব্যানারে ব্যানারে ব্যবসা বেড়েই চলে, ব্যাকটেরিয়ার কলোনির সাথে পাল্লা দিয়ে আর "বাবা" রাও একে একে ভক্তদের ঘরে ঘরে পৌঁছে যান ।

Comments

Popular posts from this blog

মহায়ণ

মরণ vs যৌনতা

আনা কড়া গন্ডা ক্রান্তি