নতুন কিছু লেখা
আঠাশ
অন্যের সাথে তুলনায়
সাফল্য ব্যর্থতা
লাভ লোকসান
বোঝা যায়
সাতাশ
একটা অন্ধকার ঢাকতে
নির্মাণ করি
আরো অসংখ্য অন্ধকার
ছাব্বিশ
রাত গভীর হলে
———————
রাত গভীর হলে
বিছানা ফেলে
চলে যাওয়া আঁচল
মুখ ঘুরিয়ে নেয়
আর ঘুমিয়ে পড়ে
একলা নীরবে
ঝরাপাতার দলে
একাকীত্বের চরম ঘুমে
পঁচিশ
আবার সেই গঙ্গার বুকে
একলা চরে
বারবার রাজমহলের কথা
মনে পড়ে
চব্বিশ
ঊষ্ণতারাও
কখনো কখনো
শীতলতার গভীরে
হারিয়ে যায়
অতলান্তিক হতাশায়
তেইশ
সকলেই চলেছে
এগিয়ে
সময়ের সাথে
গতি মন্থর হোক
বা দ্রুত
কিছু আসে যায় না
পরমের পথে
বাইশ
বিশ্বাসের জন্ম আছে
আছে তার বড়ো হয়ে ওঠা
আবার তার ভেঙ্গে পড়াটাও একান্তই নশ্বর
একমাত্র উপরওয়ালাই জানেন
কে ভালোবাসার ঈশ্বর
একুশ
পাণ্ডুলিপির কালির আঁচড়ের কোণে
শব্দ আর বাক্যেরা
ঘুরপাক খাচ্ছে
রোটেশনাল ডাইনামিক্সের
নিয়ম মেনে
কুড়ি
হাঁটি হাঁটি পায়ে
এগিয়ে চলে অবুঝ মন
ভালোলাগা কেই
ভালোবাসা ভেবে
উনিশ
কোন লেখাটা গদ্য ?
আর কোনটা কবিতা ?
কোনটা যে আসলে কি, সেই বিচারের দায়ভার কার ? এবং কতখানি ?
এ যুগের ভাষার
দেব দেবীরা কিন্তু
কেউ এখনো
নোবেল পাননি
আঠের
দেখার চোখ
অনুভবের হৃদয়
দুইয়ের মিলনে
মন সদয়
সতেরো
চলে যেতে হয়
সকলকেই
একে একে একসময়
একাকী নির্বাণের পথে
ষোলো
পার্কের দেবদারু আর
তোমার ঘুম ঘুম চোখের পাতায়
হলুদ ফ্লোরোসেন্ট আলো
নীরবতায় ছুঁয়ে যায়
পনের
অন্ধের চোখ নেই
তাই লাঠিই সম্বল
তার চলার পথে
আমাদের অন্তর্দৃষ্টি নেই
তাই পথপ্রদর্শক গুরু দরকার
জীবন সংগ্রাম রথে
চোদ্দ
হারানো সময়ের ভাঁজে
অনুভূত হয়
বৃষ্টিভেজা চুমুর
একান্ত পাগলামি
এক সৌরজগৎ স্বপ্নের
নিবিড় সহবাসে ডুবে
তেরো
নিকোটিন ধোঁয়া মিলিয়ে যায়
শুক্তির খোঁজে
এক সমুদ্র নিটোল চুমুর
অতল গভীরে
মুক্তির স্বাদ নিতে নিতে
বারো
পরিচিত যন্ত্রণাগুলোকে
রোজ গিলে ফেলতে হয়
অপরিচিতের মতো
এগারো
সময় হারিয়ে যায়
জলের উপর
ভেসে ওঠা বুদবুদে
বাতাসে মিলিয়ে যাওয়া
চৈত্যের ধোঁয়ায়
দশ
সময় সময়
অসমাপ্তি আর অপূর্ণতাই
জীবনের উপলক্ষ্য হয়ে ওঠে
নয়
তীক্ষ্ম নিষাদ বাণও
পথভ্রষ্ট হয়
হারিয়ে যায়
সিক্ত জর্জরিত হৃদয়ের
রিক্ত ভালোবাসায়
আট
উপেক্ষার রাত দিন নেই
অপেক্ষার আছে
উপেক্ষার ক্রমঃদীর্ঘতা
ভুলিয়ে দেয়
অপেক্ষার অবসন্নতা
জন্ম হয়
অবিরাম বিচ্ছিন্নতাবোধের
সাত
আত্ম অনুসন্ধানের
উৎস পথে
নিজেকেই জারণ করি
প্রতিদিনের বিজারণের পথে
ছয়
স্কচের উত্তাপে যখন
বরফ গলতে চায়
জলের সাথে তখন কি
কোনো কথা বলার থাকে
গোলাপ রেণুরা
বৃষ্টি সুখে ভেসে যায়
শুধু কাঁটার ভয়
পাঁপড়ির স্তন ছুঁয়ে রাখে
পাঁচ
এপারের জল
ওপারে যায় কিনা ...
তা বলতে পারে
একমাত্র আমার
একলা নদীর ঢেউ
চার
প্রতিপদের
একফালি জোছনায়
ফুটে ওঠা
ছাতিম হাস্নুহানায়
একলা বাঁচার
অহং অন্ধকার
সেরে যায়
তিন
জন্মদাগ
********
আমার কখনো কোনও
জন্মদাগ ছিল না
তবে
পথ চলতে চলতে
বেশ কিছু দাগ
একে একে জড়ো হয়েছে
আমার চৌহদ্দির চারপাশ ঘিরে
নিক্তি মেপে মেপে
একটু একটু করে
আমি ওদের তুলে রাখি
আমার শব্দের চিলেকোঠায়
আমার ভাবনার বারান্দায়
বুকের পাঁজরের খাঁচায়
যন্ত্রণার শিরায় উপশিরায়
মাঝে মাঝে শ্যাওলা ভরা
পুকুরের জলের ডাকে
আম আর বাঁশ বাগানের পাশ বেয়ে
জলের ধারে
পুকুর পাড়ে যাই
বক মাছরাঙার মতো
চুপটি করে বসি
নিজেকে দেখি জলের আয়নায়
দাগগুলো দেখা যায় কিনা
দেখি, ওরা আমার সাথে নেই
আমি ভালোবেসে
নিজের একান্ত গোপনে
ওদের তুলে রাখলেও
ওরা কখনোই আমার ছিল না
আমার সাথে ছিলো না
আসলে, আমার
কখনো কোনো
জন্মদাগই ছিল না
দুই
হলুদ চালের ভাত
***************
আমার ঈশ্বর
যেন আমারই মতো
সংখ্যা আর রঙের বাক্সেরা
ইচ্ছেমতন বদল করে হাত
বন্ধ্যা মাটিও যে
বারবার হয় রজস্বলা
ডুবে থাকা কবিতার রসে
কবিরা বারবার হেরে গেলেও
কবিতা হারে না কখনো
যেন অনেকদিন পরে একটু ফুটিয়ে খাওয়া
মায়ের হাতের ঘিয়ে মাখা
হলুদ চালের ভাত ।
এক
নষ্ট চাঁদের মতো ভ্রষ্ট হৃদয়ে
ফুরিয়ে যেতে চাই
আত্মহননকে শিল্প করে তোলার অভিপ্রায়ে
Comments