Commune Communal Communist
ইতিহাস পড়তে পড়তে Commune / কম্যিউন এর ভাবনায় আচ্ছন্ন Communal / কম্যিউনাল দেশদ্রোহী বিভীষণ Communist / কম্যিউনিস্ট দের প্রতি আমার ঘৃণা দিন দিন প্রবলতর হয়ে উঠছে ।
মানবেন্দ্র নাথ রায়ের হাত ধরে এদেশে এদের জন্ম । তবুও আমার মতে ভারতীয় কম্যিউনিস্টরা আজন্ম বিশ্বাসঘাতক । এরা ব্রিটিশ শাসন কবলিত ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রশ্নে কখনোই ভারতের মানুষের পাশে এসে দাঁড়ায়নি ।
এমনকি স্বাধীনতা পরবর্তী অধ্যায়েও এদের প্রতিষ্ঠান বিরোধীতা মূলক রাজনীতি দেশের মানুষের প্রতি এদের দায়বদ্ধতা নিয়ে বার বার প্রশ্ন তুলেছে ।
এরা বিশ্ব রাজনীতির আঙিনায় নিজেদের মতামত ও ভাবনাগত আদর্শকে বার বার তুলে ধরার চেষ্টা করেছে, যার সবটাই লোক দেখানো ।
ভারতের চিরশত্রু রাষ্ট চীনের সাথে এদের সংযোগ, মতাদর্শগত নির্লজ্জ ধৃতরাষ্ট্র সম সমর্থন প্রমাণ করে যে এরা শুধুমাত্র এবং শুধুমাত্রই নিজেদের স্বার্থরক্ষা ছাড়া আর কিছু বোঝেনা ।
মানুষকে এরা ভুল বোঝায় । আর নিজেরা আমেরিকায় গিয়ে সেটেলড্ হয়, নিজেদের সন্তান সন্ততিকেও বিদেশে পাঠিয়ে দেয় সুযোগ পেলেই ।
কিছু ব্যতিক্রমী মহান নেতা অবশ্যই ছিলেন । কিন্তু অধিকাংশরাই ছিলেন আপাদমস্তক ভন্ড ।
এদের ক্রমাগতঃ জঙ্গী আন্দোলনে এই রাজ্যের অধিকাংশ কল কারখানা বন্ধ হয়ে যায় । এরা মালিকের মুনাফার চরম বিরোধী । অথচ মালিক তার মুনাফা ঘরে না তুললে তিনি কেন এবং কি ভাবে পুনরায় মূলধন বিনিয়োগ করবেন নতুন নতুন ক্ষেত্রে জীবিকা ও ব্যবসায়ের সূত্রে _ এই সহজ প্রশ্নের উত্তর কিন্তু এদের কাছে নেই ।
এরা নাকি ধর্মকে জনসাধারণের আফিম বলে মনে করে । অথচ নিজেদের বাড়িতে সব রকমের আচার অনুষ্ঠান পূজা পার্বন পালন করেন ।
শ্রমিক দরদী বলে এদেরকে আমরা অনেকেই বেশ শ্রদ্ধার নজরে দেখি । এর ভিতরে আমার মতো একদেশদর্শী একপেশে ভাবনার মানুষও আছে । তবে দুঃখের বিষয়, এরা শুধুই শ্রমিক মালিকদের অর্থনৈতিক দিকটা নিয়েই চিরকাল ভেবে এসেছে । তার বাইরে আর বের হতে পারেনি ।
গোটা দুনিয়া জুড়ে এমনকি ভারতেও যখন কম্পিউটার প্রবেশ করলো, তখন এরাই সবচেয়ে বেশী বিরোধীতা করেছিলো, যার ফলশ্রুতি হলো পশ্চিম বাংলা সর্বভারতীয় স্তরে ক্রমশঃ পিছিয়ে গেল ।
এদের আরো একটি হঠকারী সিদ্ধান্ত হলো বাংলার বিদ্যালয় গুলিতে প্রাথমিক স্তর থেকে ইংরাজী ভাষা শিক্ষা তুলে দেওয়া । যার ফলশ্রুতি হিসেবে সর্বভারতীয় পরীক্ষা গুলিতে বাঙালীদের চরম ব্যর্থতার যুগ শুরু হলো । পর পর অনেকগুলি জেনারেশনের ছেলে মেয়েরা ইংরাজী ভাষায় ভালো ভাবে লিখতে বলতে পড়তে না পারায় জীবিকার প্রশ্নে বিরাট রকম ভাবে মার খেতে লাগলো । অথচ সিপিএম এর পলিটব্যুরো সদস্যদের নেতাদের সন্তানরা কনভেন্ট মিশনারি স্কুলে লেখাপড়া করতে লাগলো ।
এরা গোর্খাল্যান্ড, কামতাপুর, আজাদ কাশ্মীর _ প্রভৃতি প্রশ্নেও দেশের সংহতিগত ভাবনার মূলে চরমভাবে কুঠারাঘাত পর্যন্ত করতে কোনও রকমের দ্বিধা দ্বন্দ্ব করেনি । আবার চীন বা পাকিস্তান যখন ভারতের সীমানায় আঘাত হানে বা সমরসজ্জার প্রস্তুতি করে, তখন এরা নির্লজ্জের মতো নীরবতা পালন করে । আবার আমেরিকা যখন ভিয়েতনাম বা ইরাকে আক্রমণ শানায়, তখন এদের ক্ষুরধার প্রতিবাদ দেখে অবাক হতে হয় ।
এদের একটি ছাত্র সংগঠন এস.এফ.আই. যাদের আন্দোলনের মূলমন্ত্র নাকি _ "স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র" । অথচ এরা চরমভাবে ব্যক্তি স্বাধীনতার বিরোধী, গণতন্ত্রে বিন্দুমাত্র বিশ্বাসী নয় ( স্তালিনের মত একনায়কের পুজারী ) ।
এরাই আবার দেশের অন্যতম দেশপ্রেমিক সুভাষচন্দ্র বসুকে "তোজোর কুকুর", গুরুদেব কবিগুরু রবীন্দ্রনাথকে "বুর্জোয়া কবি", ঋষি অরবিন্দ ঘোষ ও দেশপ্রেমিক সন্যাসী বিবেকানন্দ কেও ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেছে । কুৎসা রটিয়েছে ভগিনী নিবেদিতার মত মহাপ্রাণা মহিয়সী আত্মাকে নিয়েও ।
এদের ভুল অন্তহীন এবং প্রতিবারেই তা তাদের ভাষায় ঐতিহাসিক । এরা বাংলার বাঙালীর কৃষ্টি সংস্কৃতিকে ক্রমাগত ভাবে অবহেলা করেছে । যদিও এরা গণসঙ্গীত, পথনাট্য, মুক্তমঞ্চ ধারার প্রবক্তা, তবুও এরা চেয়েছে বাংলা আর বাঙালী যেন শুধুমাত্র মার্কসবাদের আফিম সেবন করে একটা ইউটোপিয়ান সাম্যের ঘোরে বিচরণ করে ।
যে সব রাজ্যে এরা ক্ষমতাসীন ছিলো, সেখানকার স্কুলপাঠ্য গুলিতেও এরা প্রচ্ছন্নভাবে তাদের আপাতঃ সাম্যবাদী ভাবনাকে শিশুমনে ও মননে ভরে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে গেছে, যাকে ওরা ওদের ভাষায় বলে মগজ ধোলাই । ইতিহাসের ঘটনাতেও এরা তথ্যের বিকৃতিসাধনের কম চেষ্টা করেনি ।
Free Thought বা স্বাধীন চিন্তার মানুষ বা ছাত্ররা এদের কাছে বরাবরই খুব বিপদজনক । এদের সাথে ভিন্নমত পোষণকারীদেরকে একঘরে করে বিপর্যস্ত করে তোলাও এদের একটি অন্যতম লক্ষ্য ।
ইসলামিক জেহাদী গোষ্ঠীদের মতো এরাও একজাতীয় জেহাদী । সর্বস্তরেই এরা চায় মার্ক্সবাদের জেহাদ । এর জন্যে তারা পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন অঞ্চলে মরিচঝাঁপির মতো দ্বীপে অসহায়দের উপর Genocide / জিনোসাইড সংঘটিত করেছিল ।
আর ওদের ভাবনায় মাতৃসম চীন যখন তিয়েনমেন স্কোয়্যারে একদিনে দশহাজার প্রতিবাদী ছাত্রকে কামানের মুখে ফেলে গণহত্যা করেছিলো, তখনো এরা কোনও প্রতিবাদ মিছিল বের করেনি । আবার এরাই যখন বাবরী মসজিদ ভাঙা আর গুজরাটের দাঙ্গা নিয়ে সমালোচনা ও প্রতিবাদ জানায়, তখন সত্যিই অবাক হয়ে যেতে হয় ।
শ্রমিক কৃষক দের সংগঠিত ও সংঘবদ্ধ করা অবশ্যই একটি অত্যন্ত জরুরী অত্যাবশ্যকীয় কর্ম । তবে তার জন্যে বাকী সকলের ভাবনাকে অবৈজ্ঞানিক ভেবে নেওয়া, তাদের সংস্কৃতিকে হেয়জ্ঞান করা, অন্য বাকী সব মতবাদকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য জ্ঞান করা _ এ যেন মনে করিয়ে দেয় বাঙালীর অতীতের ঐতিহ্য থেকে সরে আসার মতো এক চরম আত্মবিস্মৃতি ।
বাঙালীর গর্ব করবার মতো, চর্চা করবার মতো অনেক কিছুই আছে । তবুও এরা মনে করে, মার্ক্সবাদ _ হ্যাঁ, একমাত্র মার্ক্সবাদই নাকি বেঁচে থাকার একমাত্র পথ, মানব মুক্তির একমাত্র পাথেয় ।
সনাতন ভারতীয়রা কখনোই বস্তুবাদ কে পাথেয় করে চলেনি । তাদের কাছে ভাববাদই ছিলো প্রধান পাথেয় । ভারতীয় ধর্ম, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞান সনাতন এবং বহুত্ববাদী । এখানে নানা ভাষা, নানা মত, নানা পরিধান । এই দেশ বিবিধ ভাবনার সংস্কৃতির মিলনস্থল ।
আর এই বাংলা হলো ভারতের ক্ষুদ্র একটা সংস্করণ বা মিনিয়েচার । "শুধুমাত্র মার্ক্সবাদই পরম সত্য, কারণ ইহা বিজ্ঞান" _ এমন ভাবনায় জারিত যাদের মানসিক গঠন, তারাও আমার মতে এক ধরণের কম্যুনাল বা সাম্প্রদায়িক । কারণ এরা প্রতিপদে বার বার প্রমাণ করেছে এটাই যে এরা শুধুমাত্র বাংলা তথা বাঙালীর শিক্ষা সংস্কৃতির শত্রু নয়, এরা সর্বভারতীয় স্তরে হিন্দু সংহতিরও চরম শত্রু ।
এদের মত কম্যুনাল বিভীষণ সম্প্রদায় এই দেশে থাকলে আর আলাদা করে পাকিস্তান বা চীন কে শত্রু ভাবার কোনও প্রয়োজন নেই । এরা নিজেরাই এক একজন যথেষ্ট রকমের আত্মঘাতী বোমার মত ভয়াবহ ।
আরও অনেক কিছুই লেখার ইচ্ছে ছিলো । কিন্তু এদের ভুলের এবং অন্যায়ের তালিকা এতটাই দীর্ঘ যে দেশের বিখ্যাত জি.টি.রোড যা কিনা চট্টগ্রাম থেকে পেশোয়ার পর্যন্ত একটানা চলে গেছে, তার দৈর্ঘ্যও এদের কৃত তালিকার কাছে ফিকে পড়ে যাবে ।
সকলে ভাবুন । বিচার করুন । এই দেশের সবচেয়ে বড়ো শত্রু কারা এবং কেন ?
(সমাপ্ত)
@ রাজেন্দ্র
Comments