টুসু

টুসু  উত্সব __দীর্ঘ একমাস ব্যাপী  এঊঃ উত্সব পালিত  হয় !যার শুরু আঘ্রাণ সংক্রান্তি র দিন আর শেষ পৌষ সংক্রান্তির দিন !এই উত্সবে কোন  social  ট্যাবু বা সামজিক বাধা নিষেধ থাকেনা !সাধারণত মেয়েরা এই উত্সব পালন করে !তবে tusu ভাসানের  দিন ourus রা ও যায় !মেয়েরা sudhya সত্ব  হয়ে একটি নতুন সরার মধ্যে katuli বাছুরের গোবরের গুলি রেখে ধানের তুষ দিয়ে ভরে দেয় !তারপর সরাটিকে  চাল গুড়ি দিয়ে রাঙিয়ে সিঁদুরের দানা  দিয়ে তার উপর একটি নতুন সরা  দিয়ে রেখে দেয় !টুসুর  কোন মূর্তি পূজা হয় না !বন্দনা হয় !প্রতি রাতেই মেয়েরা একত্র হয়ে টুসুর  জাগরণের গান গেয়ে বন্দনা করে !ব্রত চারিণী  রা tusu কে সখী রূপে !বন্ধু রূপে !!মাতৃ রূপে কন্যা রূপে.অ঵িসারিকা  রূপে বন্দনা করে !তাদের দুঃখ কষ্ট মান অভিমান  অভিযোগ অনুযোগ সব তার কাছে নিবেদন করে !এ যেন মনের মধ্যে জমে থাকা khov  কষ্ট যন্ত্রণা কে আপনজনের কাছে প্রকাশ করে হালকা করে দেয়া !উল্লেখ করা অপ্রাসঙ্গিক হবেনা 1956 সালে পুরুলিয়া বঙ্গ ভুক্তির প্রাক্কালে যে আন্দলন হয়েছিল এবং যে আন্দলন টি একক ভাবে পরিচালনা করেছিলেন লোক সেবক সংঘ তারা টুসু  গানের মত একটা শক্তিশালী মাধ্যম কে ব্যবহার করেছিলেন সাধারণ মানুষের গণ চেতনা কে উদ্বূদ্হ্য  করতে এবং তা  ব্যপক ও অভূতপূর্ব সাড়া  জাগিয়েছিল !গান গুলির মধ্যে সেইসময়ে র সমকালীন রাজনীতিক পটভূমির ছবি পাওয়া যায় !

আসানসোলমহকুমা ও তত্সংলগ্ন  অঞ্চলে  টুসু বড়ু ঝুমুর গানগুলি কে দুভাগে ভাগ করা যায় !এক ট্রডীশনল বা পুরাতনী  দুই কনটেম্পোরারি বা সমকালীন !যেসব গান গুলি আগে থেকেই প্রচলিত ছিলো বা লোকের মুখে মুখে বাহিত হয়ে এসেছে তাদের puraatani আখ্যা দেওয়া যেতে পারে !আপাত দৃষ্টি teete গভীরতা নেই কিন্তু ব্যঞ্জনা অসাধরণ !যেমন পূরূল্যা  তে দেখে আলম  ব্যাঙের  হাতে কাছারী  সাপ দেখে ব্যাঙ  পালাই  গেল রইল পরে কাছারী !তখন লালমুখ দের শাসন এবং সশস্ত্র বিপ্লবীদের আন্দলন ও তুঙ্গে !তাদের ভয়ে সাহেবদের পালিয়ে যাওয়ার প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে এতে !

Tusu যখন জননী _আমার টুসুর  এ্যাতই ছেলে কুল তলে বই খেলেনা কোন সতীনে ধুলা দিল ধূলার  চিন্হ গেলোনা !

: টুসু  যখন কন্যা _টুসু  তুমি মাগো  আলতা পরা  পা গো

: টুসু  যখন ঘরের বৌ _ হলুদ বনের টুসু  তুমি হলুদ কেনো মাখ না !শাশুড়ি ননদের ঘরে হলুদ মাখা সাজেনা !

: টুসু  যখন মানিনি_আমার টুসু  মান করেছে মানে গেল সারারাত   !খুল্ অ টুসু  মানের কপাট  আসছে তোমার প্রাণ নাথ !

: কয়লা খনিতে জল সর্বদাই বিপর্যয় ডেকে এনেছে তারি প্রতিফলন টুসু  গানে __চল টুসু  খেলতে যাব  রানীগঞ্জের বট তলা !আসবার সময় দেখা ই আসব  কয়লা খাদের  জল তুলা !           যেখানে টুসু  কে নিয়ে রেষারেষি __আমার টুসু  মুড়ি ভাইজছেন চুড়ি  ঝন ঝন করে !উয়ার টুসু  গর্বাখাকি আঁচল পেতে  ধরে !!মোদের টুসু  ম্যাট্রিক পাশ !শিল !উযদের  টুসু  নদীর ধারের চিল !আমাদের টুসু র দুহাত ভরা চুড়ি !তালা !উযদের  টুসু মস্ত বড় কালা !      নেহাত ই রঙ্গ রসিকতা !সহজ সরল খুনসুটি !কিন্তু এরই মধ্যে একটা চিত্রে কল্প লুকিয়ে আছে !যা চোখ বুজলেই মনস্ পটে ভেসে ওঠে !

: শশুর বাড়িতে  লাঞ্ছিতা বধূর খেদ _আলতা পায়ে চালতা  পাতে বিনোদ  পাতে মিশেছে !টুসু  নাকি রাজার বেটি সই পাতাতে  এসেছে !বাপের ঘরে ছিলাম ভালো !কাঁখে গাগরা চাল ভাজা  !শশুর ঘরের বড় জ্বালা  মন বুঝতে যায় বেলা !

: বাপের বাড়িতে বিরহিণী টুসুর  মর্ম ব্যথা _ বাড়ির nasoy  নারকেল গাছ  বতী ভরে জল দিব !একটি নারকেল পড়লে পরে তাঁকে চিঠি পাঠাইব !চিঠি পড়াই.ঘোড়া পাঠাই তবু জামাই আসেনা !জামাই আদর বড় আদর তিনদিন বই থাকেনা !

: রাম সীতা র গান গুলি ভাদু টুসু  দুই উত্সব এই গাওয়া হয় !অশোক  বনে পাতার কুঁড়া সীতা পাশা  kheilche !যোগী র বেশে রাবণ এসে সীতা হরে নিইছে !

: সমকালীন টুসু  গান _অর্থাত  যে সব গানে সমাজের চিত্রে ফুটে উঠেছে _মরদ আমার খাদা নে যায়  দিন পলি রাত পালিতে  !টুসু  বসেন তুলসী তলে সাঁঝের প্রদীপ জ্বালিতে    অথবা_টুসু  গৈছে কয়লা কাটতে অজয়ে বান পৌইরেছে !আমার মরদ আনতে তারে লরি পাড়ে  দাইরেছে !

: দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ র আগে পর্য্যন্ত মহিলারা খাদে র নীচে  কাজ করতে যেত !সেখানে তাদের নানা রকম অবস্থার মধ্যে পড়তে হতো !তাদের দুঃখের  পাঁচালী __ টুসু মনি টুসুমনি  khadaane যাব না আর !সেকোরিটির  মরদ গুলান করে ভারী অত্যাচার !

: খনি অঞ্চলে বাসস্থান এর চির সমস্যা _এক কুঠুরি র খুপরি ঘরে দশ টি প্রাণী বাস করি !দিনের বেলা যেমন তেমন রেতে যে লাজে মরি !

: খনি শ্রমিকদের উপর মহাজনের অত্যাচার অবর্ণনীয় !ঋণ শুধতে সারা জীবন কাটলেও  ঋণ শোধ  হয়না !বংশ  পরম্পরায় চলে ঋণের বোঝা !-_ছ্যাঁকা ?র ভয়ে দেশ ছাড়ি লাম তেঁতুল তলায় বাস !মহাজনের সুদএর  ভারে গলায় ওঠে শ্বাস !সুদের হিসাব টাকায় টাকা !লাফায় যেন রেলের চাকা   এক জনমে  হয় না যে শোধ  এমনই ঋণের ফাঁস !  কি করুন আর্তি  তাদের টুসু  র কাছে !এক মাস ধরে জাগরণ উত্সবে তাদের যত মনের কথা অভিযোগ সব উজাড় করে মকর সংক্রান্তির দিন বাঁশের  টুকরো আর রঙিন কাগজ দিয়ে toiri  ( অনেকটা আকাশ বাতির মত দেখতে ) tusuke স্থাপন করে মেয়ের দল দামোদর বরাকর  বা অজয়  নদীর বা কোন জলাশয় এ বিসর্জন দিয়ে আসে !এই দিন মুখে মুখে গান বাঁধে  মেয়েরা  যাকে তরজা  বলে !এই ভাবেই সাড়া বছরের দুঃখ যেন তারা বিসর্জন দিয়ে উত্সব মানায় !তাদের একান্ত আপন সুখ দুঃখের সাথী টুসুর  সাথে !

টুসু পরব –একটি যথার্থ হৃদয়ের উৎসব

  শহুরে মানুষদের কজনই বা খোঁজ রাখেন টুসু পরবের কথা, যে উৎসব রাড় বাংলার একটা বিরাট অংশের মাটির সঙ্গে জুড়ে থাকা মানুষদের কাছে শুধু ধর্মীয় রীতিনীতির আবদ্ধতার বাইরে গিয়ে একটি যথার্থ হৃদয়ের উৎসব।

‘আমাদের’ বলতে এই আমরা যারা নিজেদের ভদ্রলোক শ্রেণির মধ্যে পড়ি বলে মনে করি তাদের ‘টুসু ’ নামে কোনো আরাধ্য দেবী নেই। এক মাস ধরে এই রাঢ় বাংলার, বিশেষ করে মানভূম অঞ্চলে পূজিত হবার পরে মকর সংক্রান্তির দিন যে টুসু প্রতিমাকে কে খড়কাই , সুবর্ণরেখা , কাঁসাই , গেঁদাই , শীলাই নদীতে বিসর্জন দেওয়া হবে তার সঙ্গে আমাদের তথাকথিত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সম্পর্ক আমরা তেমন করে স্বীকার করি না। সুরেন্দ্র মোহন ভট্টাচার্য মহাশয় রচিত সাম , যজু ও ঋক বেদের থেকে সংগৃহীত সর্ব প্রকার পূজাপাঠের যে একমাত্র ম্যানুয়ালটি পাওয়া যায় তাতে এই টুসু পূজার জন্যে কোনো মন্ত্র নির্দিষ্ট করা নেই। কারণ টুসু উৎসব এক অবৈদিক, অস্মার্ত, অপৌরাণিক এবং অব্রাহ্মণ্য উৎসব। আমাদের পাঁজিতে এ উৎসবের নির্ঘণ্ট দেওয়া থাকে না।

টুসু নামের উৎপত্তি নিয়ে একাধিক গল্প প্রচলিত আছে। তার মধ্যে একটা হচ্ছে ধানের তুষ , শীতের সময় যা জ্বালিয়ে আমাদের গ্রামে গঞ্জে লোকেরা আঁচ পোহায় , সেই তুষ থেকেই টুসু নামটি এসেছে।ফুল বেল পাতা নয় এই তুষ দিয়েই এ পূজার ডালি সাজানো হয়।

টুসু এক কুমারী কন্যা। এর পূজাও করেন কুমারী কন্যারা। আমরা যাদের নিম্নবর্গের মানুষ বলি সেই তাদের বাড়ির কুমারী কন্যারা। কিন্তু এ পূজার কোনো মন্ত্র তন্ত্র , নেই নির্ধারিত ক্রিয়া-কর্ম , কোনো বিশেষ উপাচারও নেই। অঘ্রান মাসের শেষ দিন থেকে পৌষ মাসের শেষ দিন অবধি রাঢ় বাংলার প্রত্যন্ত গ্রামে গ্রামে এই টুসু পূজিত হন ।যে হেতু মন্ত্র তন্ত্র নেই , তাই এ পূজায় কোনো ব্রাহ্মণের প্রয়োজন হয় না। সন্ধ্যাবেলায় গ্রামের ‘অশিক্ষিত’ মেয়েরা নিজেদের সাজানো রঙিন কাগজের চৌদলের উপর প্রতিষ্ঠিতা পোড়ামাটির টুসুর মূর্তির সামনে বসে নানা রকমের গান বাঁধেন আর সেই গান করেন কখনো সম্মিলিত কখনো একক কণ্ঠে। সে গানে টুসুর মহিমা কীর্তন শুধু নয় , থাকে তাদের যাপিত জীবনের সাধ আহ্লাদ , আশা নিরাশা , ঠাট্টা তামাশার কথা। এবং তাতে ছায়া ফেলে তাদের ঘিরে থাকা আধুনিক সময় , এবং তাদের গাঁ-ঘরের পারিপার্শ্বিক। কখনো থাকে ক্ষোভ প্রতিবাদ , কখনো থাকে দুঃখ বিষাদ।এক মাস ধরে এই মন্ত্রহীন পূজার শেষে মকর সংক্রান্তির দিন ব্যথিত হৃদয়ে তাদের ঘরের মেয়ের প্রাণের প্রতিমা কে তারা বিসর্জন দিয়ে আসে তাদের কাছের কোনো এক নদী অথবা পুকুরে। কোল, মুন্ডা, ওরাওঁ, সাঁওতাল, মুন্ডা, ভূমিজ, ভুঁইয়া, কুর্মি, মাহাতো ,বাউরী বাগদী মহিলারা এই পুজো করেন। কিন্তু আশ্চর্য লাগে এই ভেবে গোটা পূজার্চনার ব্যাপারটা পরিচালিত হয় এই শ্রেণীর মহিলাদের দ্বারা আর এই উৎসবের প্রধান আকর্ষণ এই মেয়েদের তাৎক্ষনিক ভাবে রচিত রচিত গান। নতুন ফসল ঘরে আসার খুশি উদযাপনের এর চেয়ে সুন্দর রূপ আর কি বা হতে পারে।

: কয়লা খনিতে জল সর্বদাই বিপর্যয় ডেকে এনেছে তারি প্রতিফলন টুসু  গানে __চল টুসু  খেলতে যাব  রানীগঞ্জের বট তলা !আসবার সময় দেখা ই আসব  কয়লা খাদের  জল তুলা !           যেখানে টুসু  কে নিয়ে রেষারেষি __আমার টুসু  মুড়ি ভাইজছেন চুড়ি  ঝন ঝন করে !উয়ার টুসু  গর্বাখাকি আঁচল পেতে  ধরে !!মোদের টুসু  ম্যাট্রিক পাশ !শিল !উযদের  টুসু  নদীর ধারের চিল !আমাদের টুসু র দুহাত ভরা চুড়ি !তালা !উযদের  টুসু মস্ত বড় কালা !      নেহাত ই রঙ্গ রসিকতা !সহজ সরল খুনসুটি !কিন্তু এরই মধ্যে একটা চিত্রে কল্প লুকিয়ে আছে !যা চোখ বুজলেই মনস্ পটে ভেসে ওঠে !

: শশুর বাড়িতে  লাঞ্ছিতা বধূর খেদ _আলতা পায়ে চালতা  পাতে বিনোদ  পাতে মিশেছে !টুসু  নাকি রাজার বেটি সই পাতাতে  এসেছে !বাপের ঘরে ছিলাম ভালো !কাঁখে গাগরা চাল ভাজা  !শশুর ঘরের বড় জ্বালা  মন বুঝতে যায় বেলা !

: রাম সীতা র গান গুলি ভাদু টুসু  দুই উত্সব এই গাওয়া হয় !অশোক  বনে পাতার কুঁড়া সীতা পাশা  kheilche !যোগী র বেশে রাবণ এসে সীতা হরে নিইছে !

: সমকালীন টুসু  গান _অর্থাত  যে সব গানে সমাজের চিত্রে ফুটে উঠেছে _মরদ আমার খাদা নে যায়  দিন পলি রাত পালিতে  !টুসু  বসেন তুলসী তলে সাঁঝের প্রদীপ জ্বালিতে    অথবা_টুসু  গৈছে কয়লা কাটতে অজয়ে বান পৌইরেছে !আমার মরদ আনতে তারে লরি পাড়ে  দাইরেছে !

: দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ র আগে পর্য্যন্ত মহিলারা খাদে র নীচে  কাজ করতে যেত !সেখানে তাদের নানা রকম অবস্থার মধ্যে পড়তে হতো !তাদের দুঃখের  পাঁচালী __ টুসু মনি টুসুমনি  khadaane যাব না আর !সেকোরিটির  মরদ গুলান করে ভারী অত্যাচার !

: খনি অঞ্চলে বাসস্থান এর চির সমস্যা _এক কুঠুরি র খুপরি ঘরে দশ টি প্রাণী বাস করি !দিনের বেলা যেমন তেমন রেতে যে লাজে মরি !

: খনি শ্রমিকদের উপর মহাজনের অত্যাচার অবর্ণনীয় !ঋণ শুধতে সারা জীবন কাটলেও  ঋণ শোধ  হয়না !বংশ  পরম্পরায় চলে ঋণের বোঝা !-_ছ্যাঁকা ?র ভয়ে দেশ ছাড়ি লাম তেঁতুল তলায় বাস !মহাজনের সুদএর  ভারে গলায় ওঠে শ্বাস !সুদের হিসাব টাকায় টাকা !লাফায় যেন রেলের চাকা   এক জনমে  হয় না যে শোধ  এমনই ঋণের ফাঁস !  কি করুন আর্তি  তাদের টুসু  র কাছে !এক মাস ধরে জাগরণ উত্সবে তাদের যত মনের কথা অভিযোগ সব উজাড় করে মকর সংক্রান্তির দিন বাঁশের  টুকরো আর রঙিন কাগজ দিয়ে toiri  ( অনেকটা আকাশ বাতির মত দেখতে ) tusuke স্থাপন করে মেয়ের দল দামোদর বরাকর  বা অজয়  নদীর বা কোন জলাশয় এ বিসর্জন দিয়ে আসে !এই দিন মুখে মুখে গান বাঁধে  মেয়েরা  যাকে তরজা  বলে !এই ভাবেই সাড়া বছরের দুঃখ যেন তারা বিসর্জন দিয়ে উত্সব মানায় !তাদের একান্ত আপন সুখ দুঃখের সাথী টুসুর  সাথে !

Comments

Popular posts from this blog

মহায়ণ

মরণ vs যৌনতা

আনা কড়া গন্ডা ক্রান্তি