আমার নগ্নতা@রত্নদীপা দে ঘোষ

http://baak105.blogspot.in/2016/12/blog-post_98.html?m=1

বাক্ ১০৫

।।বাংলা কবিতার প্রথম ব্লগজিন।। পুনরাধুনিকের পথে।। সম্পাদক - অনুপম মুখোপাধ্যায় ।

আমার নগ্নতা : রত্নদীপা দে ঘোষ

সাদা / কালো

ফরসা / ফলসা

মাইযুক্ত

শক্ত বোঁটা / মাঝারি মোটা

দুধেল / সেমি এঁটেল

গ্রীলড গ্রীন / চিলড ক্রিম

ঝাল / ঝোলের লাক্সারি

সব

সবকুছ

তবে

থপথপে / থলথলে মাইগুদ

সবকিছুই যাদের অ্যাসিডিক

আর ঢিলেঢালা কামিজঝোলা

তারা বিক্রয়যোগ্য নহে

সোজাসুজি জাতকের গস্পেল থেকে উঠে আসছি সতীবেহুলা আর

সীতাসুজাতার ইনবাক্স থেকে গোসল সেরে আজানে রমণে

চ্যাটসেক্স ছাপিয়ে দাপিয়ে

আমি হে

দ্রৌপদীর চাইতে থেকে কম কোথায়

তার দুই বুক এক গাঁড় পাঁচ ভাতার

আমি দুই বুক এক গর্ত বারো ভাতার

কোথায় কম

  

বিজ্ঞাপন  

কভার পেইজ বনাম স্যানিটারি

ন্যাপকিন

ম্যুরাল অথবা মুগালাল

প্যান্টিকালার পিরিয়ডকালীন

ভিজে

ভিজেলাল

এগ আর স্পার্মের ছিটে

সেফ সেফ সেফ

সেই আনন্দে এক গানবিশারদ

আমায় গান করেছে র‍্যান্ডম রঙ

ডবকা বুকদুটো দ্যাখা

চুষিফুল চুষিকাঠি চুষিপাতা

চাকুম চুকুম ইতালিয়ান ব্রা

মাইরির জিভ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে

গানবাজ শোনাচ্ছে song

শালি খানকি মাগি

চোষ এবার আমারটা

কৃষক বিক্রি করলো  – ৫৫  টাকা কেজি
দালাল বিক্রি করলো  – ৯৫ টাকা কেজি

আড়তে এনে বেচলো আড়কাঠি

১০৫  টাকা প্রতি কেজি

জমির দাম আকাশ ছোঁয়া

জমির দামে যোনি

যোনির নাম মাদার মা মার্থা মেরি

ফাকারের রাজত্বে

এক গ্রাম খুকু = প্রতি কেজি + ইনফিনিটি

করার পর

ভেতর থেকে

যে আঠা বেরোয়

তা দিয়ে তৈরি হয় বেলুন

এই বেলুন সাত নম্বর স্বর্গে পৌঁছে

এই বেলুন হাহাকারের খুশিতে চুবিয়ে

এই বেলুনের এজলাসে ঈশ্বর থইথই

এই বেলুন মানুষকে

সমস্ত ধর্মবাহিত তামাকু থেকে রক্ষা করে

আমি বললেন

কোন জায়গায় ঢোকাবেন

সামনে না পেছনে

বুকে না মুখে

দেবতা বললেন

যে কোন জায়গায়

যে কোন ফুটোতে

তুই রাধা আমি মাধব

জানিস তোকে আমি

কল্পনাতেও ঢুকতে পারি

কল্পলোকেও চুদতে পারি

কিন্নর অথবা কৈলাস

শক্তমধুর অথবা অম্লকেলাস

তুই-ই  বল

আমাকে আজ কোন রূপে চাস

মন্ত্রশক্তির বিচি নাকি

ফুঁসমন্তরের ধ্বজ উড়িয়ে

দেবতার রমণ-প্রস্তাব আমি ফেরাতে পারিনে

চুষে চুষে খাল খসিয়ে

দেবতার দুর্মূল্য ঠোঁটে

একটা দুরারোগ্য চুমু

মাখিয়ে

আমার আগে যে লাইনে ছিল

সে ঠিক আমার মতই

আমার পরে লাইনে যে আসবে

সেও ঠিক আমার অথবা

আমি আমার মায়ের একদা ব্রেসিয়ারে ফেঁসে আছি

আমার মা তার মায়ের আগের সাইজে ফিরে গেছে

আমার মেয়ে তার দিদিমার পরের ব্রা ত্যাগ

বর্তমানের হুক আঁটোসাটো শেপ

এইসব বক্ষবন্ধনীর জিপ্সি থেকে

এখন আমরা প্রত্যেকেই

একটি নতুন নগ্নতার আবেদন জানাচ্ছি

মহামান্য

***************
সম্পাদকের কথা _

।। রত্নদীপা দে ঘোষের কবিতায় এই মুহূর্তে পঠনসংখ্যা ৫৯৩১। গতকাল যেভাবে চলছিল, মনে হচ্ছিল ১০০০০ হয়ে যাবে। অনেকেই অভিনন্দন জানাচ্ছেন। কটূক্তিও কানে আসছে। এই যে এতজন রত্নদীপার কবিতাগুলো পড়ল, তার কারন শুধু কবিতা নয়, বা উত্তীর্ণ কবিতা পড়ার আকাঙ্ক্ষা নয়। কবিতাগুলোর শিরোনামই তাদের টেনে এনেছে। তাদের বেশির ভাগই একজন নারীর মুখ থেকে তার যৌন ব্যাপার-স্যাপারগুলো শোনার লোভে লিংকে ক্লিক করেছে। এতে কবিতার কি জয় হোল? আমি বলব, জয়-পরাজয় নয়। বাংলা কবিতার একটা প্রবণতার হদ্দ হয়ে গেল 'বাক্ ১০৫'-এ রত্নদীপার কলমের দ্বারা। এর পর আর কোনো মেয়ের কবিতাকে শুধু যৌন অনুষঙ্গের কারনে 'সাহসী' বলা যাবে না। ওই সাহস ভাঙিয়ে অনেক সো কলড ফিমেল কবি নাম কিনেছেন, এবং কিনছেন। বেশ কিছু পত্রিকায় কবিতার সে-সব সফট পর্ন বেশ চালু এবং সুখপাঠ্য। একটা 'যোনি' বা 'স্তন' লিখলে পুং সম্পাদক এবং ক্ষুধার্ত পাঠকের কাছে একটা সুবিধা পাওয়া যায়। সেই সুবিধাটা পাওয়ার জন্যই যে কিছু মেয়ে কবিতায় ওগুলো লেখেন, সেটাও দীক্ষিত পাঠকের সামনে আড়াল হয় না। কিন্তু এই প্রবণতা মেয়েদের যৌন পরিচয়কে অপমান করে, কারন সেই সুবিধা পুরুষের সামনে একটি মেয়ের নিজের খাদ্য-পরিচিতিকেই মান্যতা দ্যায়। রত্নদীপা যে তীব্র এবং উন্মুক্ত কবিতাগুলো লিখেছেন, সেগুলো কবিতা হিসেবে সার্থক হয়েছে কিনা, সময় বলবে। কিন্তু এই সময়ে দাঁড়িয়ে আমি সম্পাদক হিসেবে এই কবিতাগুলোকে ছেপেছি পর্নমোচী টেক্সট হিসেবে। চেয়েছি বাংলা কবিতায় মেয়েদের 'সাহস'-এর নতুন এবং সৎ সীমা নির্ধারিত হোক। পড়ুন কবিতাগুলো-

@ সম্পাদক _ বাক - অনুপম মুখোপাধ্যায় ।

Comments

Popular posts from this blog

মহায়ণ

মরণ vs যৌনতা

আনা কড়া গন্ডা ক্রান্তি