সম্পর্ক

বিয়ের প্রথম বছরটা বিবাহিত জীবনের সব চেয়ে সুন্দর সময় কাটে। এই সময়টাতে দুজন দুজনকে একটু একটু করে আবিষ্কার করতে শুরু করে। বিছানা থেকে টাওয়াল সব কিছু শেয়ার করার মাঝেই এক ধরণের সুখকর আনন্দ মেলে। দুজন দুজনকে মুগ্ধ করার চেষ্টাতেই সময়টা দ্রুত ফুঁড়িয়ে যায়। এর পরের বছরটা দৈনন্দিন অভ্যস্ততায় পরিণত হতে থাকে। আবেগ এর যায়গায়টা দখল করে নিতে থাকে বাস্তবতা।
ছেলেটা তার বাইরের জগতে আনন্দ খুঁজে নিলেও মেয়েটা তার সংসারের ছোট গণ্ডিতে আটকা পরে যায়। এরপর বাচ্চা , সামজিকতার ভীড়ে  এই চলে যাওয়া প্রেম বেশিরভাগ দম্পতির ক্ষেত্রে কখনোই ফেরে না। প্রশ্ন হল কেন ফেরে না ?
কেন মনে হয় সব কিছু ফুরিয়ে গেছে ?
কারণ ছেলেরা তার প্রেমিকাকে বৌ বানিয়ে ফেলে। এই মেয়েটিই যে তার সমস্ত ভালবাসার প্রেরণা ছিল, যার জন্য সমস্ত কষ্ট মেনে নেয়া যেতো , তাকেই নিজের সম্পত্তি বানিয়ে ফেলে। সে ধরেই নেয় যেহেতু মেয়েটা আমার তাই মেয়েটার সব কিছুই আমার। সেখানে ভালবাসাটুকু জয় করার কোন দরকার নেই , ওটা সারা জীবন আমার জন্যই থাকবে ।
স্বামীরা আসলে প্রচণ্ড ভুলের মাঝে বাস করে ,
মেয়েরা সারা জীবন তার স্বামীর মাঝে তার প্রেমিক কে খুঁজে বেড়ায় , যে তাকে রোজ না হোক সপ্তাহে একটা চিঠি লিখবে, তার শাড়ির কুচি ঠিক করে দেবে, তার আত্মভোলা বৌ এর জন্য মানিব্যাগের এক কোনায় একপাতা টিপ কিনে রাখবে আর যখন বৌ বলবে ওহ! টিপ পরতে ভুলে গেছি ছেলেটা মুচকি হেসে বলবে আমি তো জানি তুমি ভুলে যাবে ।
মেয়েটা চায় তার স্বামী তাকে জয় করুক , যে ভালবাসার কথাগুলো প্রথম পরিচয় মন দেয়া নেয়ায় হয়েছিল সেগুলোই হোক আজীবন ।
কিন্তু স্বামী যখন একটুকরো কাগজ দিয়ে বৌ কে সম্পত্তি ভাবা শুরু করে , বৌ তখন সংসারটাকে শুধুই কর্তব্য ভেবে পথ চলে । সেখানে প্রেম থাকে না , থাকে এক ধরণের অভ্যস্ততা আর সামাজিকতার ভয়ে অন্য পুরুষ কে ভালবাসা যাবে না এমন নিয়মের শেকল বেঁধে , মেয়েরা সারাটা জীবন পার করে দেয় । কোন কোন মেয়ে হয়ত অন্য কাউকে ভালবাসার দুঃসাহস দেখায় কিন্তু সংখ্যাটা খুব-ই কম।
খুব গোপন সত্যিটা হল , স্বামী হওয়া সহজ কিন্তু প্রেমিক হওয়া কঠিন ।বিয়েটা শুধু একটা কাগজের টুকরো মাত্র , প্রেমিকার পদবী বদলে স্ত্রী হয়েছে কিন্তু মানুষটা একই । স্ত্রী হলেই যে তার ভালবাসা পাওয়া যাবে এই ধরনা সম্পূর্ণ ভুল। বিয়ের পরেও ভালবাসা জয় করে নিতে হয় । আর যে বিয়ের পরে প্রেমিক হতে পারে সেই সারা জীবনের জন্য একটা প্রেমিকা পায় , যে তাকে সমস্ত ভালবাসা দিয়ে আগলে রাখে ।

এই ভাবনা কিন্তু ছেলে মেয়ে সকলের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য ।

****************************

প্রেমিকা তার প্রেমিক কে জিজ্ঞেস করলো-
আচ্ছা অন্য কারো সাথে আমার বিয়ে হয়ে গেলে কি করবে ?
-ভুলে যাবো, ছেলেটা উত্তর দিলো।
.
ছেলেটার উত্তর শুনে মেয়েটি রাগে অন্যদিকে মুখ ঘোরালো।
.
ছেলেটি আবার বলল...
- তুমিও আমাকে ভুলে যাবে, সবচেয়ে বড় কথা l আমি যত দ্রুত তোমাকে ভুলে যাবো, তার চেয়েও বেশি দ্রুত তুমি আমাকে ভুলে যাবে।
: কিরকম? প্রেমিকা প্রশ্ন করলো।
.
ছেলেটি বলতে শুরু করল...
.
"মনে করো বিয়ের প্রথম তিনদিন তুমি একধরনের ঘোরের মধ্যে থাকবে । শরীরে গয়নার ভার, মুখে মেকআপ এর প্রলেপ, চারদিকে থেকে ক্যামেরার ফ্লাশ, মানুষের ভিড়, তুমি চাইলেও তখন আমার কথা মনে করতে পারবে না।
.
'আর আমি তখন তোমার বিয়ের খবর পেয়ে হয়ত কোন বন্ধুর সাথে উল্টাপাল্টা কিছু খেয়ে পরে থাকবো l আর একটু পর পর তোমাকে হৃদয়হীনা বলে গালাগাল দেবো, আবার পরক্ষনেই পুরাতন স্মৃতির কথা মনে করে বন্ধুকে জড়িয়ে ধরে কাঁদবো।"
.
"বিয়ের পরের দিন তোমার আরো ব্যস্ত সময় কাটবে। স্বামী আর মিস্টির প্যাকেট, এই দুটো হাতে নিয়ে তুমি বিভিন্ন আত্মীয় স্বজনের বাসায় ঘুরে বেড়াবে।"
.
আমার কথা তখন তোমার হঠাৎ হঠাৎ মনে হবে।
.
এই যেমন স্বামীর হাত ধরার সময়, এক সাথে রিকসায় চড়ার সময়।
.
'আর আমি তখন ছন্নছাড়া হয়ে ঘুরে বেড়াব, আর বন্ধুদের বলবো বুঝলি দোস্ত, জীবনে
প্রেম ভালোবাসা কিছুই নাই, সব ধোঁয়া, সব বুংগা, বুংগা।"
.
পরের একমাসে তুমি হানিমুনে যাবে, নতুন ঘর পাবে, শপিং, ম্যাচিং, শত প্লান, আর স্বামীর সাথে হালকা মিষ্টি ঝগড়া।
.
তখন তুমি বিরাট সুখে, হঠাৎ আমার কথা মনে হলে ভাববে, আমার সাথে বিয়ে না হয়ে বোধহয় ভালোই হয়েছে।
.
'আমি ততদিনে বাপ, মা, বন্ধু কিংবা বড় ভাইয়ের ঝাড়ি খেয়ে মোটামোটি সোজা হয়ে গিয়েছি।'
.
ঠিক করেছি কিছু একটা কাজ পেতে হবে, তোমার চেয়ে একটা সুন্দরী মেয়ে
বিয়ে করে তোমাকে দেখিয়ে দিতে হবে।
.
সবাইকে বলবো, তোমাকে ভুলে গেছি...
কিন্তু তখনও মাঝরাতে তোমার এসএমএস গুলো বের করে পরবো আর দীর্ঘশ্বাস ছাড়বো।
.
"পরের দুই বছর পর, তুমি আর কোন প্রেমিকা কিংবা নতুন বউ নেই। মা হয়ে গিয়েছো, পুরাতন প্রেমিকের স্মৃতি, স্বামীর আহ্লাদ, এসবের চেয়েও বাচ্চার ডায়াপার, হামেরটিকা এসব নিয়ে বেশি চিন্তিত।
.
অর্থাৎ তখন আমি তোমার জীবন থেকে মোটামুটি পারমানেন্টলি ডিলিট হয়ে যাবো।
.
'এদিকে আমিও একটা কাজ পেয়েছি...
বিয়ের কথা চলছে। মেয়েও পছন্দ হয়েছে। আমি এখন ভীষণ ব্যস্ত। এবার সত্যিই আমি তোমাকে ভুলে গিয়েছি। শুধু রাস্তা ঘাটে কোন কাপল দেখলে তোমার কথা মনে পড়বে । কিন্তু তখন আর দীর্ঘশ্বাসও আসবে না . . .
-
-
এতদূর পর্যন্ত বলার পর ছেলেটি দেখল প্রেমিকা ছলছল চোখ নিয়ে ছেলেটির দিকে তাকিয়ে আছে।
.
মুখে কোন কথা নেই। ছেলেটি ও চুপচাপ।
একটু পর প্রেমিকা বললো,
"তবে কি সেখানেই সব শেষ??
-ছেলেটি বলল, "না।
.
কোন এক মন খারাপের রাতে তোমার স্বামী নাক ডেকে ঘুমুবে। আমার বউও ব্যস্ত থাকবে নিজের ঘুমরাজ্যে। শুধু তোমার আর আমার চোখে ঘুম থাকবে না, সেদিন অতীত আমাদের দু'জনকে নিঃশব্দে কাঁদাবে। সৃষ্টিকর্তা ব্যাতিত যে কান্নার কথা কেউ জানবে না, কেউ না।
.
ভালোবাসা ঠিক, যতটা সত্যি, বাস্তবতাটা তার চাইতেও অনেক বেশী সত্যি!! তাই বাস্তবে আমরা যেমনই আছি যাই আছি, সুখী আছি।

Comments

Popular posts from this blog

মহায়ণ

মরণ vs যৌনতা

আনা কড়া গন্ডা ক্রান্তি