মুরারী দাদা vs Me

Whats App এ কবিতা পাক্ষিক গ্রুপে conversation _

[06/11 6:27 pm] মুরারী সিংহ:

বন্ধুরা একটা কথা কথা খুব স্পষ্ট  করে বলি... আমাদের আশপাশের বেশিরভাগ কবিই দেখি কবিতার সুখি-সংসারে বসবাস করতে চায়... গতানুগতিকতাকে মেনে নেয়... তারা কমফোর্ট জোনের বাইরে পা রখতে রাজি নয়... প্রতিষ্ঠানও সেটাই পছন্দ করে। আমরা কিন্তু ভবিষ্যতের কথা ভাবি। গতানুগতিক সৌন্দর্য-ভাবনা ও মিথগুলোকে ভাঙতে চাই। কবিতাকে আপডেট করতে চাই। যার জন্যে দরকার দুঃসাহস। তাতে কেউ যদি অস্বস্তি বোধ করেন আমরা নিরুপায়। কারণ আমরা বিশ্বাস করি একজন কবির একমাত্র কাজ আপডেটেড কবিতা লেখা।

[07/11 7:10 am] রাজেন্দ্র:

মুরারী দাদা, আপনার কথা যেমন সত্যি _ তেমনি কারো লেখা কবিতা টি কবিতার মতোই হতে হবে _ এটাও সত্যি । মিথ্ ভাঙবো, তাই বলে কবিতার একটা নিজস্ব ছন্দময়তা থাকবে, যার জন্যে সে অনুগল্প বা পরমাণু গল্প না হয়ে কবিতা হলো _ সেটাও দেখতে হবে । নইলে কবিতা তার নিজস্বতা হারিয়ে রম্য রচনা হয়ে যাবে ।

[07/11 8:57 am] মুরারী সিংহ:

রাজেন্দ্র তোমার মতকে শ্রদ্ধা জানিয়েও বলি এই ধরণের ভাবনাগুলো আমার কাছে বেশ পুরোনো লাগে। লেখাটি কবিতার মতো হতে হবে...  কবিতার একটা নিজস্ব ছন্দময়তা থাকবে এসব পূর্বতনদের আরোপ করা কমফোর্ট জোন। শকভ এসব কথা কেমন সেকেলে মনে হয়। নিজের অনুভূতিকে প্রকাশ করার জন্যে মানুষ যাই বলুক তার মধ্যে এমনিতেই একটা ছন্দ চলে আসে... রবীন্দ্রনাথের লিপিকা পড়ো বা সুভাষ মুখুজ্জের কবিতা পড়ে দেখো সেখানে ছন্দর প্রচলিত ভাবনা কোথায় উবে গেছে... আর গল্প অনুগল্প রম্য-রচনা এসবের মধ্যেও কি ছন্দময়তা থাকে না... এখন তো কবিতা গল্প অনুগল্প রম্য-রচনা এসবের সীমানাও ক্রমশ বিলুপ্ত হয়ে সবকিছুই টেক্সটে পরিণত হচ্ছে... যাকে বলা হচ্ছে বাকশস্য... সুতরাং এই দ্রুত বদলে যাওয়া সময়ে আপ্তবাক্য বলে আর কিছু থাকছে না সব ভাবনাই ভঙ্গুর... তার সঙ্গে তাল মেলাতে না পারলে আমরাও একদিন তামাদি হয়ে জীবন্ত ফসিলে পরিণত হব...

[07/11 9:33 am] রাজেন্দ্র:

আপনার ভাবনা অবশ্যই ভাববার মতো । কিন্তু আপনার ভাবনা বা ধারণাও তো এক প্রকারের আরোপিত করাই । যিনি গড়বেন তিনিই ভাঙবেন । হয়তো এমন দিনও আসবে যেদিন দেখব সংবাদপত্রের বা দেওয়ালে সাঁটা বিজ্ঞাপনের শব্দবন্ধনীকেই কবিতা বলে তকমা দেওয়া হবে । সেটা অবশ্যই শকিং হবে আমাদের প্রথাগত প্রচলিত ভাবনায় ।

[07/11 9:39 am] রাজেন্দ্র:

ক্ল্যাসিক বা ধ্রুপদী ভাবনার খোলস ভেঙে আমরা অনেক আগেই বের হয়ে এসেছি । শস্য তো অনেক রকমের । চাল ডাল তৈলবীজ । সবাই কিন্তু সবার চেয়ে স্বাদে গন্ধে আর খাদ্যগুণে আলাদা । রান্নার পদ্ধতিও আলাদা । তবে সেটা সাহিত্যে কেন হবেনা ? কেন কবিতা, অনু বা পরমাণু গল্প, রম্যরচনা বা প্রবন্ধরা একে অন্যের চেয়ে আলাদা হবে না ।

[07/11 9:44 am] রাজেন্দ্র:

তবে এই classification আর বিভাজন ভেঙে সব মিশিয়ে একটা mixed curry বানানো হোক । signature বা hallmark writing বলে আর কিছু থাকার কোনও প্রয়োজন নেই । সবার লেখা ভাবনা এক হয়ে যাক । কিন্তু তা হবেনা । শস্য রাও যেমন আলাদা, রন্ধনশৈলী ও আলাদা হবে । আর সব পাচকের হাতও সমান হবে না । কারণ এই বিভেদ মুছে গেলে মানুষ আর সাহিত্যপাঠে আগ্রহী হবে না । শুধু সংবাদপত্র পড়েই সাহিত্যস্বাদ মেটাবে ।

মুরারী সিংহ:

হা হা হা... রাজেন্দ্র আমি একবারও বলিনি আমার বালা কথাগুলো আপ্তবাক্য... বরং বলেছি আপ্তবাক্য বলে কিছু হয় না... ভবিষ্যতের কথা কে কখন বলতে পেরেছে... সবই অমীমাংসিত... আমিও সেটাই বলতে চাইছি... তবে মজার কথা কী জানো এত কিছুর পরেও কিন্তু ভাবনা চিন্তার ক্ষেত্রে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ থাকবেই , কেউ সেটা চাক বা না চাক, নানা বিপরীত বা বিরুদ্ধ ভাবনার মধ্যে সংঘাত থাকবে থাকবে সমন্বয় ... এই প্রক্রিয়া মেনেই নানা পরিসরে তৈরি হবে নতুন নতুন সংলাপ... সেই সংলাপ থেকেই পরবর্তী নতুন ভাবনার ক্ষেত্র তৈরি হবে... এটাই চলিষ্ণুতা... সুতরাং শেষ নেই যার শেষ কথা বলিবে কে...

Comments

Popular posts from this blog

মহায়ণ

মরণ vs যৌনতা

আনা কড়া গন্ডা ক্রান্তি