কবির প্রকৃত মৃত্যু
কবির প্রকৃত মৃত্যু
-------------
কবি- আমি কতদিন আগে মারা গেলাম?
পাঠক- সরকারি নথিতে দুই বছর আর পাঠকের হিসেবে দেড় বছর।
কবি -মাত্র ছয় মাস বেঁচে থাকার কারণ?
পাঠক- কারণ আপনি নিজের সময়ে এত কাঠি, ছক, আর তেল মেরেছিলেন যে মৃত্যুর পর আপনাকে বাঁচিয়ে রাখার কেউ ছিল না।
কবি- কেন যে সব অনুজদের পত্রিকায় লেখার সুযোগ করে দিয়েছিলাম তারা?
পাঠক- তারা এখন নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত। আর আপনার পাঠ নিয়ে ছক আঁকছে।
কবি- এত কাজ করলাম এত পত্রিকায় লিখলাম একটাও উঠে আসছে না?
পাঠক - না। কে ওঠাবে। আর তাছাড়া পত্রিকা টত্রিকা এখন বাণ্ডিল হয়ে গেছে। জিও তো আরো সস্তা এখন।
কবি- আর বইগুলো?
পাঠক- আপনি টাকা দিয়ে যা বই করেছিলেন তার বেশিরভাগই তো চেনা পরিচিত লোকজন, কবি আর পুরস্কার পাবার জন্য বিভিন্ন দপ্তরে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন, আমাদের হাতে আর এলো কই।
কবি- আর যেগুলো অমুক থেকে বের হল?
পাঠক- আরে নাম ই বলুন না রেকমেন্ডেশনের কথা কেউ শুনতে পাবে না।
কবি - ওই হল। ওগুলোর কি হল?
পাঠক - সে সময় বিক্রি হত এখন আর হয় না দেখে নতুন সংস্করন বার করে নি।
কবি- আমার ঘরের লোকজন ছেলে মেয়ে কিছুই ব্যবস্থা নিচ্ছে না?
পাঠক- আপনি তাদের নিয়েছিলেন? তারা বেশ সুখেই আছে চাকরি বাকরি করছে। এসবের ঝামেলায় নেই।
কবি - আহ। যাক শান্তি পেলাম।
জানালার কাচ সশব্দে ভেঙে কি যেন একটা চলে গেল। পাঠক আর কবিকে কখনো দেখতে পায় নি।
----------
কবির বিচার ২
চিত্রগুপ্ত - আপনি প্রেম করেছিলেন?
কবি- কবি তো প্রেমিক। তার প্রেম সদা চঞ্চল। বেশ কিছু করেছি। আমার তো প্রায় প্রেম হত।
চিত্রগুপ্ত- তার মানে আপনি বহুগামী ছিলেম। এক স্ত্রী তে মন ভরেনি।
কবি- ঠিক সেরকম নয় হুজুর। কাব্যি করতে গেলে প্রেম দরকার, বিরহ দরকার, এমনকি নারী শরীরের রূপ জানতে হয় দেখতে হয়। তবে খারাপ চোখে না স্যার।
চিত্রগুপ্ত- মাই লড যম কবি নিজেই স্বীকার করছেন কবিতা লেখার জন্য বাস্তবে অবাস্তবে বহু প্রেম করেছেন এমনকি নারী শরীরও নিজের কাব্যে ব্যবহার করেছেন।
মর্তে যেখানে তাকানোই শ্লীলতাহানি সেখানে উনি নিজের প্রয়োজনে তাকে নিজের মত সাজিয়েছেন। মাই লড নোট করবেন।
যম- নোট হল। আগে
চিত্রগুপ্ত- আপনি কি রচনা করতেন একটু ডিটেলে বলুন
কবি - আমি প্রেম বিরহ যন্ত্রণা সমাজ প্রকৃতি সবকিছু নিয়েই লিখেছি
চিত্রগুপ্ত- এই যে বললেন প্রেম বিরহ যন্ত্রণা এগুলো কি আপনার নিজস্ব পর্যবেক্ষণ?
কবি - নিশ্চয় স্যার কবির নিজস্ব ভাবনা
চিত্রগুপ্ত- তাহলে মনে করুণ কেউ আপনার লেখা পড়ে আনন্দ পেয়েছে কেউ কষ্টও পেয়েছে?
কবি- হ্যাঁ স্যার। একজন তো আমাকে বলেছিল কবি আপনার লেখা পড়ে চোখে জল এসে গিয়েছিল। আর একজন বলেছিল মানসিক যন্ত্রণায় ছিলাম আপনার লেখা পড়ে কষ্ট যন্ত্রণা কমে গিয়েছে
চিত্রগুপ্ত- কথাগুলি ভালকরে শুনবেন মাই লড
এই কবি নিয়তি ও কর্মফলে প্রাপ্ত যন্ত্রণা বা আনন্দে থাকা জীব কে শুধুমাত্র কয়েক পাতা পড়িয়ে যন্ত্রণা প্রাপ্ত জীবকে আনন্দ, আর আনন্দে থাকা জীবকে যন্ত্রণা দিয়ে সুখ দুঃখের ভারসাম্য নষ্ট করেছে
যম- কথা ঠিক। নোট হল। আগে
চলবে))
কবির বিচার ৩
চিত্রগুপ্ত- ফেসবুক আসার পর আপনি তো বেশিরভাগ সময় ফেসবুকে থাকতেন। সকলের লেখা পড়তেন নাকি শুধু প্রচারে থাকার জন্য
কবি- ফেসবুকের লেখা কে পড়ে যখন আমার লেখা পত্রিকায় বের হচ্ছে তবে কিছু ভাল লেখা দেখলে কপি করে রাখতাম। আর কে কোথায় লাইক দিচ্ছে কমেন্ট করছে দেখে গোলঘাট বোঝার চেষ্টা করতাম। আমাকেও তো টিকে থাকতে হত বাজারে
চিত্রগুপ্ত- তারমানে টিকে থাকার জন্য আপনি ফেসবুক করতেন। আর ভাল লেখাগুলো চুপি চুপি টুকতেন।
কবি- না স্যার টুকবো কেন। ভাল লেখাগুলো বাদ দিতাম। মানে কবিতার নিয়মই হচ্ছে যা একবার লেখা হয়ে গেছে তা আর লেখা যাবেনা।
চিত্রগুপ্ত- ভাল লেখা বাদ দিতে দিতে আপনার লেখায় কী পড়ে থাকত?
কবি- যা থাকত সেটাকেই কবিতা বলে চালাতে হত নাহলে তো আমার লেখা টিকবে না স্যার
চিত্রগুপ্ত- পাঠকের কাছে কখনো জানতে চেয়েছেন আপনার লেখা ভাল লাগছে কিনা?
কবি- না স্যার আমার লেখাই যে ভাল সেটা বোঝানই আমার মোটো ছিল।
চিত্রগুপ্ত- আচ্ছা আপনি তো বেশ পরিচিত ছিলেন পাঠক মহলে তাহলে ফেসবুকে যখন sarsha এলো আপনি রেজিস্টার করলেন না কেন?
কবি- মাথা খারাপ গাল মন্দ খাব নাকি। আর ফেসবুকে লিখতাম বটে সমালোচনা শুনতে হয় কিন্তু সমালোচক যত কম হয় ভেতরে তাই চাইতাম।
চিত্রগুপ্ত- আপনি তো বিভিন্ন সভা, মোড়ক উন্মোচন, কবিতা পাঠ এ যেতেন তা থেকে আপনার কি প্রাপ্তি?
কবি- প্রাপ্তি অনেক তবে মেইন ছিল তরুণরা আমাকে সাথে নিয়ে ছবি তুলত
চিত্রগুপ্ত- আপনার পাশে ছবি তুলে তারা ফেসবুকে নিজের একটা প্রচার পেত?
কবি- আজ্ঞে না। প্রচার হত আমার। অনেকসময় আমিই বলে দিতাম ট্যাগ কোরো কিন্তু
চিত্রগুপ্ত- মাই লড
যম- লিখতে শুরু করলেন
চলবে( ধৈর্য থাকলে))
Comments