কিভাবে লাইক বাড়ানো যায়

অনলাইন সাহিত্য বিস্তারের সাথে সাথে ফেসবুক নামক সোশ্যাল প্লাটফর্মের গুরুত্ব বেড়েছে। লেখকের লেখার প্রসার ও প্রচারের ক্ষেত্রে শুধু অনলাইন সাহিত্য নয় ছাপা পত্রিকায় প্রকাশিত লেখাকে ছড়িয়ে দিতেও ফেসবুকের জুড়ি মেলা ভার। নিত্য নতুন কবি লেখক ফেসবুকে হক জমাচ্ছেন, তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ লেখার আদান প্রদান, একে অপরের লেখা পড়া, মত বিনিময় এমনকি ব্যক্তিগত সমস্যা সমাধানেও ফেসবুক বন্ধুদের নিরপেক্ষ মতামত সাহায্য জরুরী হয়ে উঠছে। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে রাখা আছে এক বুড়ো আঙুল যাকে আমরা বলি লাইক।
লাইকের পরিমাণের উপর নির্ভর করে একজন প্রোফাইলকারীর প্রাসঙ্গিকতা ও গুরুত্ব। যদিও এর মতবিরোধ আছে। কেউ কেউ মনে করেন লাইক কটা পড়ল সেটা বিষয় নয়, একথা শুনতে আঙুর ফল টকের মত। আসলেই আমরা সকলে প্রত্যক্ষে পরোক্ষে ওই লাইকের পিছনেই ছুটছি। 

কাজেই কিভাবে লাইক বাড়ানো যায় এবিষয়ে চর্চা জরুরী। নতুন লিখতে আসা ফেসবুক প্রোফাইলধারীর জন্য লাইক বাড়াবার কিছু প্রথা রাখলাম।

১। প্রোফাইল শুরুর প্রথমেই যে বিভাগে যিনি লিখতে আসছেন যেমন ধরুন কবিতা বা গল্প, সেই বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ জন পরিচিত মুখগুলিকে তালিকায় যোগ করতে হবে। ব্যক্তিগত পরিচয় না থাকলেও এতে সুবিধে এই পরবর্তী বন্ধু গুলি আপনার লিস্টে সেই সব লেখক কবিদের দেখে আপনাকে সাহিত্যের সাথে যুক্ত এক ব্যক্তি বলেই মনে করবেন। তাই পরে কোনো পাঠানো অনুরোধ বাতিল হবার সম্ভাবনা থাকবে না।

২। নিয়মিত জন পরিচিত মুখগুলির পোষ্টে শুধু লাইক নয় কমেন্টও করতে হবে। কমেন্ট এর সুবিধে এই আপনারে আগে পরের কমেন্ট ধারী সেই কমেন্ট পড়তে নোটিফিকেশন পাবে। শুরুতে আপনার কমেন্টে লেখক কবির লাইক বা রিপ্লাই না এলেও ধৈর্য ধরুন। জানবেন লাইক কমেন্টের গেরো থেকে ওনারাও মুক্ত নন কাজেই একটা সময় ক্রমাগত লাইক ও কমেন্ট পেয়ে ফেরত আসবেই। আর তাতেই বাকী নব্য দের কাছে আপনি গুরুত্ব পাবেন।

৩। এরপর আপনাকে লক্ষ রাখতে হবে কারা কমন ভাবে বেশির ভাগ পোষ্টে লাইক করছে। তাদের রিকোয়েস্ট পাঠাতে হবে। বেশিরভাগ কবি লেখকের দেখবেন বন্ধু তালিকা লুকোনো। এতে কছু যায় আসে না। কারণ লাইক সকলে করে না। যারা করে তাদের আপনি পাবেন লাইক যারা করেছে সেখানে ক্লিক করে আর কমেন্ট বক্সে।পটাপট অনুরোধ পাঠিয়ে দিন।

৪। বিতর্কিত কমেন্ট আপনার গুরুত্ব বাড়াতে পারে। সেখানে খুশি কিছু লিখে আসুন। দেখবেন কিছু নতুন রিকোয়েস্ট আসছে তাদের স্বাদরে গ্রহণ করুন।

৫। ইনবক্স। ফোন। শুধু মাত্র প্রতিদিন কিছু ইনবক্স, ফোন করে লাইক বাড়তে পারে। কারণ এখনো কিছু মানুষ এই ভারচুয়াল পৃথিবীর অভ্যেস করে নিতে পারেন নি। তাদের কাছে ব্যক্তিগত পরিচয়ই আসল কথা।

৬। বাংলাদেশের বন্ধুরা বঙ্গের থেকে কম হিংসুটে তাই বেশ কিছু বাংলাদেশের বন্ধু করা যেতে পারে। তারা আপনি লাইক দিলে নিয়মিত আপনাকে ফিরিয়ে দেবে।

৭। অবশ্যই ঘরোয়া ও সাজসজ্জা বিশিষ্ট ছবিতে লাইক দিতে হবে। এর সাথে সেন্টু জুড়ে থাকে।

৮। মত ও গোষ্ঠী বিষয়ক লাইকঃ আপনার সম মতাবলম্বী ও একই গোষ্ঠীর সাথে যুক্ত প্রোফাইলধারীদের নিজেদের মধ্যে লাইকের আদানপ্রদান চালিয়ে যেতে হবে। এতে সুবিধে এই ২০-২৫ টি লাইক চলে এলেই তা হোমে বেশি বেশি করে দেখাবে তা দেখে আরো কিছু লাইক গড্ডলিকায় জুড়ে যাবে।

৯। লাইক একটি স্বতন্ত্র ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া যার বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে। তাই প্রতিদিন নিয়ম করে আপনাকে কিছু লাইক দিতে হবে।

১০। ট্র্যাডিশনাল লাইকঃ মাঝে মাঝে কিছু সচেতন, ভাব ধর্মী, আবেগমূলক, প্রেম, বিরহী, ও ধর্মীয় পোষ্ট দিতে হবে।

১১। সাধারণত আমি ১০ টা নিয়মই লিখি কিন্তু এই ১০ নিয়মের বাইরেও কিছু লোকজন থাকেন যারা এইসব থেকে একটু হাটকে তাদের পরিচিতি, যারা একটু আলাদা ভাবেন নিজেদের ও আলাদা রকম কাজ করেন বলেই মনে করেন তাদের জন্য কিন্তু আপনাকে নেট সার্চ করে কিছু অন্যরকম কিছু বিদেশী সাহিত্য বা সিনেমা কালচার, অতিভু ছবি পোষ্ট করলে তখনি তাদের লাইক কমেন্ট পাওয়া যাবে।

Comments

Popular posts from this blog

মহায়ণ

মরণ vs যৌনতা

আনা কড়া গন্ডা ক্রান্তি