নির্বাচিত গুচ্ছ কবিতা
নির্বাচিত কবিতাগুচ্ছ ____ রা জে ন্দ্র
********************************
||| এক |||
অন্নচিন্তা চমৎকারা _ রাজেন্দ্র
**************************
পরিচিত মুখ দাদা বৌদি
কামসূত্র ডটেড কিনতে গেলে
মুখ চেয়ে দেখে
হাসতে হাসতে
কুশল জানতে চায়
আমিও বুড়ো আঙুল আর
তর্জনী জুড়ে সঙ্কেতে জানাই
বিনদাস মস্তিতে আছি
চাদরের নীচে
শীতের আমেজে
কোমর দোলাতে
কেমন লাগার কথা
এ কথা নারী পুরুষ
ভালোই বোঝে
আর বোঝে ফুটপাথে
একসাথে গুটিসুটি শুয়ে থাকা
ভিখারী আর নেড়ি গুলো
মাথার উপর আকাশ বা
প্ল্যাটফর্মের শেডে থাকা
একলা অসহায়ের চেয়ে
অনেকটা ভালো
বেঁচে আছি আমি
ওদের রতির আনন্দ
আছে কিনা জানি না
তবে
অবশ্যই আছে
বাচ্চা বিয়োনোর জ্বালা
কথায় শুনি
অন্নচিন্তা চমৎকারা
খাওয়া পরা বাঁচা মরা
এটাই কি তবে
তোমার আমার ওদের
একমাত্র জীবন
তবে আর কেন এত হানাহানি
এত লোকক্ষয় এত ভয়ডর
কেন এত
রাতদিন ক্ষতি চাওয়া অকারণ
||| দুই |||
স্বাধীনতার গল্প _ রাজেন্দ্র
************************
লাল জরদা পানের পিকে
রইল পড়ে তোমার আমার
নাগরদোলার টিকিট খানা
ভেবোনা
কোনও প্রজাপতি এসে
বসবে উড়ে ওতে
দুটো বক
বসে আছে অনেকক্ষণ
ঠোঁটের খোঁচায়
মাছ ধরবে বলে
সোনাঝুরি আর ইউক্যালিপটাস
এখন আর বন্ধু নয় জেনো
কুয়াশার চাদর কাটলেও
রোদ না ওঠা দুপুরে
এখন শুধুই কনকনে হওয়া
মাফলার টা বারবার
বেহায়া নির্লজ্জের মতো
সরে সরে যাচ্ছে
গোমরাথেরিয়াম্ মুখে
এখন আমার হাসতে মানা
কুকুরের মতো শুঁকে চলেছি
তোমার চটিতোলা ধূলোয়
আসা যাওয়ার গন্ধ
মনের বারুদে এখন
রোদ খাওয়ানো দরকার
তোমার আমার সবার
ভিক্ষেয় পাওয়া
ঘষাঘষির স্বাধীন সরকার
||| তিন |||
চিট্ চ্যাট্ _ রাজেন্দ্র
********************
মশারির এককোণা খুলে
বালিশে দেহ ফেলে
মোবাইল বুকে আধশোয়া
অনলাইন বৌদিরা
কামাতুরা সংলাপে ভেজায়
অন্তর্বাস
রাত জেগে শরীর ভাঙে
দুর্বল ঘিলুতে বাসা বাঁধে
পছন্দের যৌনতা
অফিসেও কাজের ফাঁকে
বারবার চ্যাটবক্সে উঁকি
কখনো দেওয়া নেওয়া
করে স্মাইলিরা
কপট মোহের ফাঁদে
ভালোলাগার চকমকি
চোরাবালি টানে
মন খুঁজে মরে
নিষিদ্ধ আবেগ
ভার্চুয়ালেই কাটে
দিন রাত
কখনো বা চ্যাট বক্সে
হাই _ হ্যালো
কখনো মুখোস খুলে
সেল্ফি তোলো
||| চার |||
হারিয়ে পাওয়া _ রাজেন্দ্র
______________________
খানা জংশন পার হলো
তেভাগা এক্সপ্রেসের
মুখ থ্যাবড়া ইঞ্জিন
রাশি রাশি কালো কালো
ডিজেলের ধোঁয়ার ঝামটায়
আর কানফাটা গর্জনে
প্ল্যাটফর্ম জুড়ে উঠলো
জমে থাকা ধূলোর ঝড়
যেমনটা ঠিক উঠেছিলো
তোমায় একলা পেয়ে
প্রথমবারের মতো পাশে
আঙুল দিয়ে ছুঁয়েছিলাম
নিটোল আঙুল তোমার
হাতের সাথে ঘষটে হাত
জানিয়েছিলাম তোমাকে
মনের উষ্ণতার উত্তাপ
বুঝেছিলাম আজকের
তাপমাত্রা বুঝিবা ভেঙেই দেবে
থার্মোমিটারের সীমিত পারদ বন্ধনী
সবাই জানি
ভালো সময় বেশীক্ষণ থাকেনা
আমারও থাকেনি
তোমাকে কাছ ছাড়া করার
যন্ত্রণার ভাগ শুধু নিজের মনেই
স্তরে স্তরে জমাট বেঁধে গেলো
মনে পড়লো
পাতার ফাঁক কেটে
শিশির ভেজা মাটিতে
ঠিকরে পড়া ভোরের আলো
মাটিও বেশিক্ষণ
ধরে রাখতে পারে না
পারে না ইচ্ছে মতোন
যা খুশি গজিয়ে দিতে
পারে না নদীও সব কিছু
সাগর অবদি টেনে নিয়ে যেতে
কিছুটা তো থিতিয়েই যায়
আমার শেষ বেলার হারিয়ে পাওয়া
লুকানো ভালোলাগার মতো
||| পাঁচ |||
ইলিশ নদীর জলে _ রাজেন্দ্র
*************************
ভাবনারা দেয় ধরা সময়ে অসময়ে
কখনো মনের ঘরে কখনো বা
নদীর বুকে জমাট বাঁধা চরের পরে
উদ্বাস্তু প্রেম জল হয়ে জমে
চোখের কোণায় ঊজ্জ্বল তারায়
স্বপ্নরা আসে একে একে
দিকচক্রবালে উঁকি মেরে ডুবে যায়
অবাধ্য বেয়াড়া প্রশ্নমালারা
মাঝে মাঝেই মনে এসে জমে
একতা আর সংস্কৃতি বিস্মৃত জাতি
আমরা সবেতেই বিভাজন চাই
এমনও ভাবেন কেউ কেউ
আমরা ঘরের খেয়ে অকারণ
বনের মোষ তাড়াই
কি আর করা
অপবাদ আর তাচ্ছিল্যমাখা
জীবন কেউ কি যেচে চায়
রোমকূপ থেকে ঘাম ঝরার মতো
দেশ জাতি সংহতির ভূত
দিন রাত তাড়িয়ে বেড়ায়
আমার তোমার আরও অনেকের
মা ঠাকুমারা এখনো মোছেন
শুকনো ভাঙা গাল বেয়ে নামা
লেপের ওমে নোনতা গরম জল
ওপারে সব ফেলে আসা
ভিটেমাটি জমি বাড়ি
পুকুর বাগান ধানক্ষেত
আর ইলিশ নদীর জল টলোমল
এমনটা ভাববেন না যেন
মনে মনে আমি রোজ
প্রতিহিংসার গোখরো পুষি
ধর্মের যন্তর মন্তরে
আমিও তো শুধু চাই
আইসক্রিম চকোলেট খেতে
আর পিৎজাহাটের ঠেকে
হাতে হাত রেখে বসা
ঝাঁ চকচকে মলের অন্দরে
মিলে মিশে ভাই বোন
স্বামী স্ত্রী যেমন থাকে
আত্মীয় অনাত্মীয়
দূরে হোক বা কাছে
কাঁটাতার ভেঙে
আকাশের বুক চিরে
মেঘের মতো বার বার
স্বপ্নরা বৃষ্টি হয়ে বাঁচে
-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-
কবিতাগুচ্ছ _ রাজেন্দ্র
---------------------------------
ছয় ।।
*****
যতবার ক্লান্ত হয়ে পড়ি
ভাঙতে চাই আত্ম পরিচয়
ভুলে যাই ...
ঘৃণায় নয়, ভালোবাসায়
করতে হবে জয়
তোমার আমার সবার অবক্ষয়
_________________________
সাত ।।
****
চোখের জল এমনই হয় যে
কোনও স্মাইলি দিয়েও
সেই কষ্ট বোঝানো সম্ভব নয়
আমার ভেজা চোখের পাতা
নাই বা দেখালাম তোমায়
বেশ তো আছো
খাচ্ছো ঘুমাচ্ছো
আদরে সোহাগে
ভরে থাকছো খুশীমতো
এমন সোহাগী জীবন ছেড়ে
কেন বারবার আসো
কাছে আমার
এই বুকভাঙা দরবারে
এত কিসের দরকার
জানি না
কি আছে আমার
আর
কীই বা দিতে পারি
আমি তোমাকে
না পেরেছি দিতে তোমাকে রামধনু
না ভিজিয়েছি তোমাকে
আকাশের বুকে
লুকিয়ে রাখা কুয়াশায়
শিলং এর মেঘের ধোঁয়ায়
পাহাড়ী বুনো ঝরণায়
সব সুখ ডুবিয়ে দিক তোমায়
নিয়ে যাক্ কেড়ে
বুক থেকে আমার সবটুকু
হাঁফ ছাড়া
শেষ বেলার নিঃশ্বাসের মতো
আমি জানি
তুমি গোপন মেঘের
না দেখা বিদ্যুৎফলার মতো
একদিন বুক চিরে দেবে আমার
দেখবে সেদিন
ভালোবাসা নিয়ে
কাটাকুটি খেলা বুকে
ঘৃণা আর ভালোবাসা
পাশাপাশি দুটো শব
জমাট বেঁধে আছে
____________________
আট ।।
*****
সুনাগরিক
--------------
ঝাঁ চকচকে রেস্তোঁরায়
বন্ধ কাঁচের কপালে
এখন আপাততঃ স্ট্রাইক
/
মাছ মাংস পিৎজা পোলাও
বিরিয়ানি কিমাও এখন
জলের দরে গড়াচ্ছে
/
নামজাদা নার্সিংহোমের
হারামজাদারাও আজকাল
পেশেন্ট ফেরাচ্ছে
/
ধার করে টাকা দিয়ে
মরুক না হতভাগ্য রোগী
বিনা চিকিৎসায়
/
ডাক্তারদের এতে
কীই বা আর এসে যায়
/
গাড়ির তেল না ভরলেও
মন কখনো সাঁইবন
কখনো বা নালন্দায়
/
চলো না 'রু' ...
ঘুরতে বেড়াতে যাবো
/
মনের সব প্রয়োজন
রোজ রোজ মেটাবো
/
আর না মিটলেই
ক্ষোভ করে বলবো-
কি হচ্ছে এটা ?
এরই কি নাম আজাদী ?
/
আরে ধুররর্ _
আজাদী ফাজাদি বাদ দাও
/
এখন শুধুই টাকা হাতে
আসার অপেক্ষা
/
সু-সময়টা আসতে দাও
/
সব ভোগ আর দরকারী
অদরকারী কাজ এখন
আটকে আছে উৎকন্ঠায়
/
সুদিন আসছে নাকি দুর্দিন
এর জন্যে এখনো নাকি
বঙ্ আঁতেলরা অপেক্ষায়
/
এসেছে আমার তোমার
সকলের অবাধ স্বাধীনতা
দয়ার দানপত্রে ভিক্ষে করে
/
আর সংবিধানও দিয়েছে
অবাধ বিচরণ অধিকার
কথায় আর কাজে
/
এখন আমরা গরু শুয়োর
মৌলবাদী টিকি দাড়ির তালাক
উগ্রপন্থী হামলা বেকার যন্ত্রণাও
বসেছি একরকম ভুলতে
/
অনেক প্রশ্নচিহ্নের ভীড়েও
ভাবনা শুধু একটাই
/
আমার টাকা আবার আমি
কখন হাতে পাবো
আর খরচ করবো
দুই হাত উপুড় করে
/
সাদা কালো খয়েরী
গোলাপী লাল গেরুয়া
এতসব ভাবার সময়
বা সবুর কোথায়
/
দেশকে কি দিলাম
কি কি দেব বা
কি ভাবে কতটা দেব
এসব তো আজকাল
বই বা ক্লাসনোটেও থাকে না
/
নাগরিক অধিকার সচেতন
আত্মসুখীর দল এখন নেমেছি
পথে ঘাটে এটিএম এর দরজায়
/
কে জানে ...
আবার কখন সরকারের
ভাবনা আর অবস্থান
কখন কি ভাবে বদলায়
_______________________
______
নয় ।।
*****
একরাতের মাদক ঘুম
নিমেষে উবে যায়
পাহাড়ের অতল অন্ধকারে
সীমানারা দিক পাল্টায়
স্থান কাল পাত্র
জর্জরিত আপেক্ষিকতায়
ছবি যখন নেমে আসে মাটিতে
জীবন্ত সাজে ... বসে .. তাকায় ..
চলাফেরা করে .. অবস্থান বুঝে
ঘোরে ফেরে ..
অবুঝ অভিমানী মন
অব্যক্ত সংলাপ চিনতে ভুল করে
আত্মমগ্ন অজানা অতীতচারীতায়
নিজেরাই নিজেদের সমাহিত করে
আলুথালু বিন্যাসেও লাগে ঘোর
শব্দেরা ভাষা হারায়
হারায় চেতনা বোধ
অসম্পূর্ণতা বড়োই নীরব
প্রতিবাদহীন প্রত্যাশী
অতিরিক্ত ভালোলাগা
হতে চায় সর্বনাশী
কবিতায় শব্দে অনুভূতিতে
জব্দ ভাবনারা যতো
নীরবে একা বেঁচে থাকে
গর্ভসিক্ত অভিমন্যুর মতো
_____
দশ ।।
---------
তোমার সাথে
পথ হারাতে চাই
আর চাই
আঙুল ছুঁয়ে থাকতে
আর চাই
মুঠো করা শিউলি শিশির
তালুর মুঠোয় রাখতে
জানি
লোকে বদনাম দেবে
বলবে শরম নেই
তবুও বাতাস চাইবো ছুঁতে
খোলা চুল হাওয়াতেই
_________
এগারো ।।
---------------
যাব একদিন সব ফেলে
উচ্ছ্বাসী তুঙ্গভদ্রা তীরে
যেখানে রোজ রামধনু মেশে
লন্ডভন্ড করে চলে গেলে
অযুতলক্ষ আলোর ভীড়ে
বহুদূরে নক্ষত্রের দেশে
_______
বারো ।।
-----------
বোঝার ভুল
পাতার ফাঁকে ঠিকরে আসা
ইঁট পাতা বেঞ্চ সাজানো পথে
পোষ্টের আবছা আলোয়
খোলা চুলে ভাসা ভাসা
শ্যাম্পূর মাদকতা ভালো
নাকি
পেয়ালার তলানি পড়ে থাকা
স্কচের উগ্রতার নিরাপদ আশ্রয়
তা জানে
রাতের জলে ভাসা ভুটভুটি
আর জানে
ওই পাড়ের জলে ভেসে থাকা
উদাসী নরম আলো
|
জানি
গভীর চোখে লেগে থাকা
মুহূর্তের ভালোলাগা
আর লেপ্টে থাকা স্কার্ফে
দুরদুর করে বুকখানা
মুঠোফোনের ভেসে আসা কলে
আঙুলে নেলপালিশের ছোঁয়া
আর ওপারে চেয়ে থাকা
হরিণীর আধাখোলা চোখে
স্বপ্নরা আসা যাওয়া করে
জড়ো করা কাগজ আর
জ্বলে ওঠা পাতার ধোঁয়ায়
মনের সাথে মন
এখনো একলা কথা বলে
|
পাওয়া না পাওয়ার ঘোর
আর জীবনে কতটা কী ভালো
এসব আকাট ভাবনারা
খেয়ে নিয়েছে অনেকটা অবসর
চারদেওয়ালে কংক্রীট ঘরাটোপে
যতবার পাহাড়ের কোলে
জেগে থাকা সূর্য্যের উঁকি
মাতিয়ে রাখে আমাদের
আর ভাঙা ফ্রেম
ক্যামেরা লেন্স বদলে চলে
জীবনের সব না দেখার কথা
জীবনকে খুঁজে ফেরা
ছোট্ট কুকুর ছানার মতোন
ঘ্রাণ নিতে নিতে
জীবনকে ঘষে মেজে
গভীর রাতে গুটুলি পাকিয়ে
জড়াজড়ি করে শুয়ে থেকেও
একলা বাঁচে না ওরা
লেপ তোষকের নীচে
গরম তালুর ওমে
সার্টিফিকেটে শিক্ষিত সেজে
|
বুকভাঙা শালিকের আর্তনাদ
আজও দেয়নি মুছে
পারফিউম স্নিগ্ধ সুবাস
কখনো ভিজে ওঠে মন
কখনো বা বুকের
পেকে ওঠা চুলে
নতুন ভাঙা অন্তর্বাস
|
মন বলে
রাতের একলা তারাই একমাত্র জানে
মুগ্ধতা আর ভালোবাসায়
তোমাকে বারবার হারানোর মানে
________
তেরো ।।
-------------
মন দিয়ে
মরতে গেল সে
শিশির সুবাস
ভুলতে পারেনি বলে
অতল টানে
তলিয়ে গেল দেহ
চাঁদের আলোয়
মেঘের ছায়ায় গলে
______
চোদ্দ ।।
----------
যদি কাউকে পেতে চাই
বালিশের পাশে
নিজের একান্ততম কাছে
তবে রাখতে হবে ধরে
তার তার চুলের সুবাস
আর মুঠোভর্তি হাসি
সময়ে অসময়ে
আর যোগাতে হবে তাকে
আনন্দ গান অফুরান
যেন সবকিছু বেশ ভালো আছে
কারণ সত্যি তো এটাই যে
চোখের আপনতম জলের ফোঁটাও
থাকার অনুমতি পায় নি কখনো
নিজের চোখের এক কোণে
একটু বিচলিত হলেই
তাকে গড়িয়ে চলে যেতে হয়
অসীমতার বাষ্পে
গালের উষ্ণ উত্তাপে মিশে
ঘর ভাঙা তোমার আমার মনে
_________
পনেরো ।।
---------------
নিকোনো উঠোনে
ধূলো মাটি ওড়ে
ইঁটের ঘরে টালির চালায়
যুদ্ধ শেষে
এখন শুধুই ঘরে ফেরা
বেলা যে পড়ে এলো বন্ধু
এবার শুধু একলা চলো
________
ষোলো ।।
-------------
বন্ধু ...
তুমি কি আদৌ
শব্দ খরচ করতে জানো
নাকি মন থেকে নির্লিপ্ত
নীরবতা পালন মানো
অন্যের সাঁটা ছবি
আর ভিডিও ফরোয়ার্ডে
হবে কি আদৌ
ভাবের আদান প্রদান
বুঝবে তো সে
কি বলতে চাও তুমি তাকে
ভাবনারাও কেন তবে
যাবে ভেসে অকারণ
তবে কি
কথা বলা লেখালেখি
একেবারেই বারণ
মন তো শুধু
ছবি চায় না জীবনের
তোমার আমার সবার
জানো তো বন্ধু
মাঝে মাঝে
শব্দ খরচ করাও
একান্তই দরকার
যদি শুধু একটা ফুল বা ছবি
পাঠাতেই হয় আমাকে বা
আমার মত দশ বিশজন
অন্য কাউকে দিনে রাতে
নিয়ম মেনে
তবে যাও না কেন ফেসবুকে
দেখবে কত শত পথিক ভার্চুয়াল
বিপরীত লিঙ্গেরা
দল বেঁধে আছে
এমনই অপেক্ষায়
কখন তোমার একটি ছবির বার্তা
আসবে তাদের টাইমলাইন দরজায়
কথার মায়াবী জাদু ভরা রূপকথার দেশে
কখনো গিয়েছিল
চটপটে মন ছোটবেলায়
জীবনকে অনাবিল
অনেকখানি ভালোবেসে
আমার সমস্ত ভাবনার আবেগে
উপচে পড়ে বরফ গলা জল
আর তোমার শব্দের
অযাচিত কার্পণ্যে
তিলে তিলে জমা হয়
তাদের সমস্ত উত্তাপ
গলনাঙ্কের নীচে
দেখবে আর একটানা
বিকিনি সাজে পার্টি করবে
গোয়া কিংবা পাটায়ার সী বিচে
__________
সতেরো ।।
---------------
ফাঁকি
♡♡♡
তোমার কাছে আছে সব
শুধু নেই ঐ বুলবুলির ছানা
যে তোমার ঘরের ঘুলঘুলিতে
চুপটি করে এসে বসে
খুদের গন্ধে মাতাল যেমন
এক বুক রোদ মেখে আসে
বৃষ্টিভেজা কানাগলির শেষে
কোনও এক রঙচটা আকাশভাঙা দিনে
যেখানে আজও রামধনুও যখন খুশি মেশে
ও তোমার হাতের তালু চায়
চায় তোমার নরম বুকের ওম
তোমার গালে গাল লাগাতে চায়
আর চায় একটু আলতো আঙুল ছোঁয়া
ওর পালক ওঠা ডানার ক্ষতে
তোমার ঠোঁটের লালচে আভায়
শিউরে ওঠে বুলবুলিটা
যুবক হতে চায় তোমার সুবাসে
আর তুলে নিতে চায় তোমাকে
তার শক্ত পিঠের মজবুত ডানায়
তোমার পরশে সে হয়ে যায়
ফিনিক্স __ ভালোবাসার আগুনপাখি
ও জানে, বিশ্বাস আর ভাবনারা
সবটাই শুধু ওর একার
আর বাকি সবটাই দেদার ফাঁকি
___________
আঠেরো ।।
------------------
ভাবনারা দেয় ধরা বর্ণ আর অক্ষরে
কখনো শিশির ধরা চোখের তারায়
কখনো বা
সময়েরা অসময়ে সীমানা আঁকড়ে ধরে
_______
উনিশ ।।
------------
মন থেকে একবার
♡♡♡♡♡♡♡♡♡♡
গাউন পরে দাঁড়িয়ে থাকা
পাথরের মূর্তিটার সামনে
হাঁটু মুড়ে বসেছিলো ছেলেটা
অকাতরে সবকিছু ছেড়ে
দুই হাত শক্ত করে ধরে
কখনো আদুরে বাহুডোরে
দু চোখে শুধু করুণ আকুতি
কাকুতি মিনতি তার
এবার দাও গো আদর তুমি বধূঁ
দেহ মন প্রাণ থেকে
আমি-তুমি চাওয়া-পাওয়া
শুধু একটি বার
গালের টোলে আর তিলে
সুরে তালে ছন্দে মিলে
আলতো আদুরে পরশে
দুলে ওঠে মৃতপ্রায়
প্রস্তর শর্বরী মন
মনে মনে সেও কি তবে
দিতে চায় উষ্ণতায় সাড়া
ভালোবেসে ডুবতে চায় এখন
উঠলো কেঁপে মূর্তির চোখের পলক
পড়লো গড়িয়ে শুকনো গাল বেয়ে
দু ফোঁটা গরম নোনতা জল
এবার ভালোবেসে সে
রাখলো সলজ্জ দুটি হাত
মূর্তির শক্ত কঠিন পায়ে
জঙ্ঘা উরু নিতম্ব
কেঁপে গেলো থরথরিয়ে
জলের ঢেউয়ে ডিঙি টলোমল
ধীরে ধীরে পা বেয়ে
উঠতে থাকলো সে উপরে
আরো উপরে
রোমকূপ থেকে রোমকূপ জুড়ে
ছড়িয়ে গেল মৃতপ্রায় আবেগ
মূর্তির প্রতিটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গে
ঠোঁট গাল বুলিয়ে
দিলো এঁকে সমাদরে
চিহ্ন শুধু আমরণ ভালবাসার
পড়ে থাকা ধূলোমাখা মূর্তি
কাঁপলো বারবার
ঝনঝন্ করে ভেঙে গেল
জমে থাকা আর না পাওয়ার
সমস্ত হাহাকার
বিদ্যুতের ঝিলিকে থরোথরো রক্তিম
যেন তার আধফালি দুইখন্ড চাঁদ
নদীর জোয়ার জল
উল্টে পাল্টে দিয়েছে
মাছ ধরা আর মারার
বুকভাঙা আর্তনাদ
বিদীর্ণ পাথর ভেঙে খন্ড বিখন্ড
ভেসে গেল সব টুকু
আনন্দের অলকানন্দা জলে
আদর পান করে তৃপ্ত মধুকর
চুপটি করে রইলো পড়ে
প্রতিমার অঙ্গ সুষমা মেখে
আঘ্রাত আনত বুকের 'পরে
এখনও তো বাজছে
একটানা বেজেই চলেছে
সারেঙ্গির প্রতিটা রাগিণী
রাগমোচনের তালে তালে
নিস্তব্ধ পাথর প্রতিমার অন্তরে
সত্যিকারের জমাট নিটোল
ভালোবাসা যে
পারলে পাথরেও প্রাণ সঞ্চরে
_______
কুড়ি ।।
-----------
ভর দুপুরের আগুন মেখে
বুক পেতে চুপচাপ ছিলো
রঙ চটা জংলা বাড়িটা
কংক্রিট আকাশের
সমস্ত ধূলো মাখছিল একা
আসছিলো ভেসে
ডিম ফোটা মেঘেরা
দল বেঁধে
জানত সে
প্রোমোটার বাবু,
বাড়ি আছেন নাকি ?
Comments