বঙ্ আঁতেল
বঙ্ আঁতেলদের কেমন করে চিনবেন
********************************
এক।। এনারা নিজেদের নাস্তিক বলে দাবী করেন কিন্তু পরলোক প্রাপ্তির পরে দেহের সৎকার করান নিজেদের ধর্মগত রীতি অনুসরণ করে । এনাদের বাড়ির সদস্যরাও সব রকমের ধর্মীয় সংস্কারে আচ্ছন্ন হন । এরা ভাবের ঘরে চুরি করতে ওস্তাদ ।
দুই।। এই আপাতঃ লোক দেখানো নাস্তিকদের ধর্মগ্রন্থ হলো এনাদের পূজনীয় দেবতার রচিত ম্যানিফেস্টো । এটাই ওনাদের জীবনবেদ স্বরূপ ।
তিন।। এদের ভাবনায় দেশ বা রাষ্ট্র বলে কোনও পৃথক কিছুর অস্তিত্ব নেই । তাই "দেশপ্রেম" বা "দেশভক্তি" বলে কোনও শব্দের প্রতি এদের কোনও আকর্ষণ বা মোহ নেই । তাই দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ হলে এদের কিছু আসে যায় না । তাই এরা ভারতের দেশভাগ বা আজাদ কাশ্মীরের প্রসঙ্গে খুব সহানুভূতি সম্পন্ন । এরা যে কোনও সময় নিজেদের কম্যিউনিটির ভাবনার স্বার্থে দেশদ্রোহিতা করতেও পিছপা হবে না । অর্থাৎ প্রয়োজনে এরাও কম্যুনাল হতে পারে । আবার পাশাপাশি কাশ্মীর থেকে বিতাড়িত হিন্দু পন্ডিতদের পুনর্বাসন নিয়ে এরা কেউ কখনো সোচ্চার হননি । সত্যিই এদের ভন্ডামি আর দ্বিচারিতা প্রশংসার দাবী রাখে ।
চার।। বিশুদ্ধ আঁতেল ভারতীয় বঙ্গীয়রা নিজেদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নিয়ে বিন্দুমাত্রও ভাবিত বা গর্বিত নন । এদের অন্ধ আনুগত্য তথা সমস্ত ভক্তিবাদ ও ভজনা কেবল এবং কেবলমাত্র গলিত বস্তাপচা আদ্যন্ত ইউটোপিয়ান মার্ক্সীয় দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদের প্রতি ।
পাঁচ।। এরা চীনের সাম্রাজ্যবাদ নিয়ে নির্বাক চলচ্চিত্রের দর্শক-শ্রোতা হতে পারেন অথচ এনারাই আমেরিকাকে সাম্রাজ্যবাদীর তকমা সেঁটে দেন নির্দ্বিধায় ।
ছয়।। পুনরায় সেই আমেরিকার অর্থানুকুল্যেই যখন তাদের কূলদীপক রা আমেরিকায় গিয়ে লেখাপড়া বা গবেষণা বা কোনও তথ্যপ্রযুক্তির কর্মসংস্থান কেই জীবনের একমাত্র সারবস্তু বলে কল্পনা করেন, আত্মতুষ্টি লাভ করেন __ তখন বোঝা যায়, ব্যক্তিজীবনে এদের চরম ভন্ডামি ও দ্বিচারিতা ।
সাত।। এরা হিটলার মুসোলিনি দের স্বৈরাচারী / ডিক্টেটর বলেন । আবার মনে মনে চান __ প্রলেতারিয়েত দের ডিক্টেটরশিপ্ __ যা একদিক থেকে কম্যিউনিস্ট পার্টিরই একনায়কতন্ত্র ।
আট।। এরা যে কোনও রকমের বিরোধিতা বা স্বাধীন ভাবনা চিন্তার বিকাশকে ঘৃণা করেন, মনে মনে ভয় পান । তাই বিরোধীদের টুঁটি চিপে মারতে এদের ভারী আনন্দ হয় ।
নয়।। জেনোসাইড - এও এনারা বিশাল পটু । সেটা স্তালিনের আমলের Holodomore (Wikipedia দ্রষ্টব্য) হোক্ বা পশ্চিমবঙ্গের মরিচঝাঁপি ।
দশ।। এরা ইতিহাস বিকৃতিতেও সুনিপুণ রকমের মাস্টারপিস্ । বাস্তব একটা উদাহরণ দিচ্ছি । আমার স্কুলের ইতিহাস বইতে ( তখন পশ্চিমবঙ্গে কম্যিউনিসমের নামে চরম আঁতলামি আর স্বৈরতন্ত্রের রমরমা ) পড়লাম ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের কথা । সেখানে কেরালার মুসলিম মোপলাদের বিদ্রোহ কে দেখানো হলো স্বাধীনতা সংগ্রামের অঙ্গ হিসেবে । অথচ প্রকৃতপক্ষে ওটি ছিল একটি চরম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ।
এগারো।। ভারতীয় বঙ্ আঁতেল সন্তান গণের মুসলমান প্রীতি অনন্যসাধারণ । কারণ মুসলিমদের ভাবাদর্শের সাথে এদের ভাবনার অনেক মিল । মুসলমানেরা চায় গোটা বিশ্বকে দার-উল-ইসলামে পরিণত করতে । বিরোধীতা করলেই তারা জেহাদী রাজনীতি ও গণহত্যা শুরু করে দেয় । আর মাকুরাও চায় গোটা বিশ্বকে ওদের ভাবনায় পরিচালিত করতে । বিরোধীতা করলেই নামিয়ে আনে গণহত্যা (ক্ষমতায় থাকলে) কিংবা গেরিলা আক্রমণ (ক্ষমতাচ্যূত থাকলে) । এরাও মার্ক্সীয় ভাবনার প্রতি একেশ্বরবাদীর সমগোত্রীয় ।
বারো।। ভারতীয় রাজনৈতিক পরিকাঠামোয় এই আঁতেলরা ভয়াবহ রকমের বিষাক্ত আইটেম্ । এদের বিশ্বাস বা ভরসা করা খুব কষ্টকর । এদের কাছে আগে দলের ভাবনার প্রতি আনুগত্য । অর্থাৎ প্রথমে এরা কম্যুনিস্ট । যেমন যে কোনও মুসলিম প্রথমে মুসলমান । এরা যে কোনও সময় দেশদ্রোহীতা করতে পারে দলীয় ভাবনার স্বার্থে ।
এদের ভাবনার সমগোত্রীয় না হলে __ বাকীরা হয় দক্ষিনপন্থী না হয় উগ্র জাতীয়তাবাদী আর.এস.এস.
আর.এস.এস - এর জন্ম গান্ধীজীর খিলাফৎ - অসহযোগ আন্দোলনের বিরোধীতার সূত্রে । এই বিরোধীতা শুধু আর.এস.এস একা করেনি । করেছিলেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (যাকে মাকুরা অভিহিত করে বুর্জোয়া কবি বলে)
এই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখায় পাই ____
(ক) ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসনের পূর্বে হিন্দু ও মুসলমানের কোন বিরোধ ছিলনা, ইংরেজই এই বিরোধের জন্মদাতা, বিভেদনীতির সাহায্য নিয়ে ভারত শাসনের পথকে মসৃণ করতে চেয়েছে-- মেকী উদারপন্থী ইতিহাসের এমন বিকৃত সরলীকরণে, রবীন্দ্রনাথের সমর্থন ছিল না। তার মতে....
" একথা আমাদের সম্পূর্ণ নিশ্চিতরূপেই জানা আবশ্যক ছিল, আমাদের হিন্দু ও মুসলমান যে পৃথক, এই বাস্তবটিকে বিস্মৃত হইয়া আমরা যে কাজ করিতেই যাই না কেন, এই বাস্তবটি আমাদিগকে কখনোই বিস্মৃত হইবে না। একথা বলিয়া নিজেকে ভুলাইলে চলিবে না যে, হিন্দু-মুসলমানের সম্বন্ধের মধ্যে কোন পাপই ছিল না। ইংরেজই মুসলমানকে আমাদের বিরুদ্ধ করিয়াছে।"
_____ রবীন্দ্র রচনাবলী জন্মশতবার্ষিকী সংকলন, ১২খন্ড, পৃষ্ঠা ১০০১, রাজাপ্রজা ।।
(খ) মুসলমানদের, ভারত আগমনকে ইতিহাসের এক মহান ঘটনা আখ্যাত করে, উদ্বাহু তথাকথিত পণ্ডিতমন্যদের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের ভাবনার আদৌ কোন মিল নেই। এই বিষয়ে রবীন্দ্রনাথের মত আজো ভীষনরকম প্রাসঙ্গিক, এবং মেকি উদারবাদীদের ভাষায় বললে, বলতে হয়, ভয়ঙ্কর রকম *সাম্প্রদায়িক* ....
" মুসলমানকে আমরা দেখি সংখ্যারূপে; তারা সম্প্রতি আমাদের রাষ্ট্রিক ব্যাপারে ঘটিয়েছে যোগ-বিয়োগের সমস্যা। অর্থাৎ, এই সংখ্যা আমাদের পক্ষে গুণের অঙ্কফল না কষে ভাগেরই অঙ্কফল কষছে। *দেশে এরা আছে, অথচ রাষ্ট্রজাতিগত ঐক্যের হিসাবে, এরা না থাকার চেয়েও দারুণতর*, তাই ভারতবর্ষের লোকসংখ্যা তালিকাই তার অতিবহুলত্ব নিয়ে সব চেয়ে শোকাবহ হয়ে উঠল।"
-- রবীন্দ্র রচনাবলী জন্মশতবার্ষিকী সংকলন, ১৩খন্ড, পৃষ্ঠা ২১০, কালান্তর।
________ কম্যিউনিস্টরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে তাই "বুর্জোয়া কবি" বল অসম্মান করতেও ছাড়েনি । অগ্নিযুগের বিপ্লবী ঋষি অরবিন্দ ঘোষ কেও উগ্র হিন্দু জাতীয়তাবাদী বলে গালমন্দ করেছে । দেশের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক দেশনেতা সুভাষচন্দ্র বসুকে বলেছে "তোজোর কুকুর" । স্বামী বিবেকানন্দ এমনকি তাঁর গুরুদেব শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবকে নিয়েও রয়েছে তাদের অশ্লীল কুৎসা ।
______ সুতরাং, আমার মনে হয়, এই কম্যিউনিস্ট সম্প্রদায়ই দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি প্রতিক্রিয়াশীল দেশদ্রোহী ।
পারলে সতীনাথ ভাদুড়ীর রাজনৈতিক উপন্যাস __ "জাগরী" পড়ুন । মাকুদের প্রকৃতি ও চরিত্র বিশেষভাবে অনুধাবন করুন । আর যদি আপনাকে আমাকে তারা উগ্র জাতীয়তাবাদী বলে বা আর.এস.এস. বলে ট্যাগ্ করতে চায় ___ ইতিহাসের রেফারেন্স তুলে ধরুন । ওদের দ্বিচারিতা আর ভন্ডামির মুখোশ টা সকলের সামনে উন্মোচন করুন । মানুষ বুঝবে, কে বা কারা দেশদ্রোহী ____
রচনাঃ রা জে ন্দ্র
Comments