শহীদ

- "দাদা দেখুন, এই হলো সেই জায়গা । এখানেই শহীদ হয়েছিল আমাদের চারজন তরতাজা যুবক । আমরা ভুলতে পারিনি সেই নরমেধের ইতিহাস । আর এলাকার কাউকে দিইনি তা ভুলে যেতে । ওদের স্মৃতিতে মন্দিরও নির্মান করেছি আমরা ।"
কথা বলতে বলতে গলা ভারী হয়ে আসছিলো বছর আটচল্লিশের রাশভারী মৃত্যুঞ্জয় বাবুর । মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল । আপাতঃ শান্ত নিরীহ মানুষ আসলে একজন অসম সাহসী প্রতিবাদী চরিত্র বিশেষ ।

আমরা নামলাম টাটা সুমো গাড়ি থেকে । চারপাশটা একেবারেই নিঝুম । পৌষ সংক্রান্তির আগের রাত । চারপাশে একটানা ঝিঁঝিঁ ডেকে চলেছে । ঘন অন্ধকারে কুয়াশাটা আলাদা করে ঠিকমতো বোঝা যাচ্ছিল না । সাথে ছিলো জনা দশেক লোকজন । জায়গাটার নাম তিন নম্বর সোনাখালি । এই এলাকাটা সুন্দরবনের বাসন্তী ব্লকে । আমরা এখানে এসেছিলাম কুলতলি গ্রামের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে । এখানে আসার উদ্দেশ্য একটাই । নেতা মন্ত্রী পুলিশ প্রশাসনের হাত ধরে যেই সব দাঙ্গাবাজ ক্রিমিনালরা একটা নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের উপর ক্রমাগতঃ আক্রমণ করে চলেছে দিনের পর দিন, তাদের সংহতি ও প্রতিরোধের শক্তিকে চাক্ষুষভাবে প্রত্যক্ষ করা । দুই হাজার সালে এখানে একটা বড়োসড়ো রকমের ঝামেলা হয়েছিল । চারজন তরতাজা যুবককে ভুল সংবাদ দিয়ে তুলে নিয়ে গেছিলো এলাকার কিছু দুষ্কৃতি আলাপ আলোচনার নাম করে । তারপর কৌশলে কুপিয়ে হত্যা করে লাশ ফেলে দেয় গলদা চিংড়ির ভেড়ীতে ।

গ্রামের ভিতর বেশ কিছু পরিবার মিলে শহীদ মন্দির গড়ে তুলেছে ।

Comments

Popular posts from this blog

মহায়ণ

মরণ vs যৌনতা

আনা কড়া গন্ডা ক্রান্তি