হাট্টি মাটিম টিম
হাট্টি মাটিম্ টিম্ - রাজেন্দ্র
###############
বেচারা "হাট্টিমাটিম্ টিম্" কে বিলক্ষণ সব বাঙালী মাত্রেই কম বেশী চেনে _ নামে, কবিতায়, মাঠে ঘাটে যত্র তত্র ডিম পাড়ায় আর খাড়া শিং বাগিয়ে একে তাকে বাগে এনে ঢুঁ মারায় ।
অবশ্যি স্পেনীয় ষন্ড কুলের প্রতিনিধিত্ব না করেও, কেমন করে যে লাল কাপড়ের টুকরো দেখলেই ওনার ঢুঁ মারবার প্রবণতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেত, তা নিয়ে একটা পৃথক প্রবন্ধ ভাবা যেতে পারে ।
তা সে যাক্ গে _ ওসব ভেবে এখানে সময় আর ঘুম বরবাদ করতে চাইনে ।
তবে এটা ঠিক, যে ওনার এই কাজের ল.সা.গু. গুলোর জন্যই তো বাংলার বুদ্ধিজীবী মানুষগুলো হাঁ করে সকালের বাংলা দৈনিকের পাতায় মুখ গুঁজে রাখতো ।
সময় এগিয়েছে । চেহারা আর ভাবনারাও বড়ো বড়ো পা ফেলে সামনে এগিয়ে গেছে অনেকটা জীবন পথ । আর সেই উনিও কিন্তু আজকাল মাঠে ঘাঠে তেমন ঘুরতে বেড়াতে পারেন না ।
রেগুলার নিয়ম করে আর কিছু করুন ছাই না করুন, বড়োসড়ো গোছের একটা করে ডিম অবশ্যই পাড়তেন ইনি । আর এই ব্যাপারে ওনাকে সাহায্য করতো ওনার পিছনদিকে ঝুলে থাকা নিজস্ব বড় বড়ো সুড়সুড়ি ওয়ালা পালকগুলো ।
এখন ঐ সব পালক বেচারা গুলোও ঝলসিয়ে আধপোড়া গোছের হয়ে গেছে । আর পিছনের আকারটা হয়ে গেছে ঠিক যেন গোবেচারা গোছের পামীর মালভূমি ।
ওনার খাড়া আখাম্বা বিকট শিংগুলোও এখন বেবাক ক্ষয়েটয়ে দুটো ছোট খাটো ঢিবির মত হয়ে গেছে । গোটা দুনিয়া সম্পর্কে আজকাল উনি এখনকার আন্না আর কেজরির মতোই যারপরনাই রকমের বিরক্ত ।
একবার আকাশবানীর কোনও এক মনোজ্ঞ আলোচনায় শুনেছিলাম যে, বৈষ্ণব পদাবলী পাঠ করলে, মনে নাকি জমে ওঠে প্রেম রস । অনেকের নাকি আবার নতুন করে প্রেম করবার বাসনাও জেগে ওঠে ।
আর তত্ত্ব পাঠ করে মানুষ হয়ে ওঠে বিবেকের তার কাটা, গালে খোঁচা খোঁচা দাড়ি না কামানো, উস্কোখুস্কো চুল, বিনা চানে বারোমাস কাটানো আঁতেল আধপাগল তার্কিক । প্রেম রসে তাদের প্রবল আপত্তি এবং অরুচি ।
ঘরের বউ, পরস্ত্রী রাধা, কেমন করে সম্পর্কে মামী হয়েও, বয়সে অনেক ছোট, কানাই এর প্রেমে মজলো, তা অনেকগুলো বৈপ্লবিক থিয়োরীর সৌজন্যে, আইনি পরিভাষায় "নট উইথস্ট্যান্ডিং উইথ" গোছের হয়ে আছে ।
অনেকগুলো সামাজিক আইনের অসামাজিক ধারায়, অকালপক্ক সেকশনে, বিচিত্র রকমের প্রভিসোর গুণে, ঘটে গেছে প্রেম রসালাপের আর.ডি.এক্স. বিস্ফোরণ ।
জীবাত্মা আর পরমাত্মার মিশ্রণে ওনার সব ভাবনা, বিচিত্র রঙ আর উৎকট গন্ধের ফাঁদে ভন্ডুল হয়ে, আগডুম্ বাগডুম্ সলিউশনে পরিণত হয়েছে অনেক আগেই ।
হাট্টিমাটিম্ বেচারাও মনে হচ্ছে প্রেমেই পড়েছেন কোনও পাড়াতুতো গোবেচারাথেরিয়াম লেডির । আসলে এতখানি সিরিয়াস ভাবে ওনাকে এর আগে আর কখনো দেখিনি ।
দেখিনি ওনাকে এত আয়েস করে, বৌদিমনির হাতের বড়ি শুক্তো রান্না খেয়ে, খোলা মাঠে ঘাটে পাঁড় মাতালের মতো, কবিতার লিফলেট বিতরণ করতে ।
বৈষ্ণব ভক্ত শিরোমণিরা যেমন আবেগের সাথে পাঠ করেন পদাবলী সাহিত্য কিংবা চৈতন্য চরিতামৃত, ঠিক তেমন করেই হাট্টিমাটিম্ দাদাটিও কিন্তু পড়তে চেয়েছেন আইনের পাঠ । আর সেই আইনও যেমন তেমন আইন কানুন নয় । সেই আইনের হাত ধরে ওনার পূর্ব ও উত্তর পুরুষেরা বংশানুক্রমে ভিটে মাটি আঁকড়ে ধরে বসে আছেন । সেই আইনের হাত ধরে বেঁচে থাকার অস্তিত্ব, টিকে থাকার লড়াই বজায় রেখেছেন তার অধস্তন কর্মচারীরাও ।
বছর গুনে চলেছেন তিনি অনেক বছর ধরেই, কবে তার লটরপটর লালচে ঝুঁটিখানা পেখমের মত বিস্তার নেবে ।
সমালোচকরা মসকরা করে বলবেন এসব কি হচ্চে ! সে বলতেই পারেন ! বাক্ স্বাধীনতার দেশে স্বাধীন চিন্তা ভাবনা প্রকাশের দেশে এই অধিকার তো জনগণের ভালোবাসার ফসল সংবিধান প্রদত্ত ।
বাজারে বলির পাঁঠা খুব সহজেই পাওয়া যেত আদি অনন্তকাল । এখনো সেই সংখ্যাটা কিন্তু মোটামুটি একই আছে । আর জীবনের জন্যে জীবন খোঁজার পালাগানে অনেকেই কম বেশী ক্ষত বিক্ষত জখম হয় ।
তবুও প্যাঁচ কাটা ঘুড়ির পেছনে ঝোলা লম্বা সূতো ধরবার জন্যে, তার দোলায় তালে লাফাতে লাফাতে, লড়াই এর মাঠ ঘাট জমি বেড়া পার করে টপকে যেতে এবং শেষমেষ সব হারিয়েও ভো-কাট্টা অসীমকে সীমানা পেরিয়ে ধরতে পারার আনন্দ সীমাহীন ।
যাই হোক, আমাদের এই মালদা জেলার ভূমিদপ্তরের হাট্টি মাটিম্ শ্বেত শুভ্র মর্মর দাদাটিও সব বিষয়েই সবেধন নীলমনি হতে চাইলেও, সংগঠনের হ্যাজাকের মরা আলোকে টিম্ টিম্ করে হলেও কম বা বেশি জ্বালছেন, বেশ ভালোই আছেন ।
নিতম্বের চেয়ার খানা যে কোনও মূল্যে ধরে রাখার জন্যে এনারা আজকাল উপরওয়ালার অন্ডকোষের থলিতে পিপে উজাড় করে তৈল মর্দন করতে জানেন ।
আর জানেন কেমন করে আঙুলের খোঁচা মেরে নাক খুঁটতে হয়, নাকের পোঁটা টেনে কাচিয়ে নামাতে এদের জুড়ি মেলাও ভার । কারণ একটাই _ কুটনীবাজি করে আজকাল যে কোনও মূল্যেই ধরে রাখতে হবে পৈতৃক সম্পত্তির ঐ আরাম কেদারা আর সেটার অভাবে বাঁচাতে হবে নিজের পিছনে ঝাঁটার বাড়ি খাওয়া কিংবা বরাদ্দ না থাকা আধভাঙা চেয়ার ।
এমনি একজন হাট্টি মাটিম্ টিম্ কে আমি বিলক্ষণ ভাবে চিনি । হাবে এবং ভাবে তিনি সুকুমার রায়ের কবিতার সবজান্তা ।
নিজের থেকে বড়ো সিনিয়র দাদাদের প্রাপ্য সম্মানটুকু অবদি দিতে জানেন না তিনি । তাঁদের সরাসরি নাম ধরে দুমদাম ডেকে দেন, ভাবখানা এমন যেন ওনাদের ছোটবেলার চান খাওয়া হাগু মুতু সব কিছুই তিনি নিজে হাতে করিয়ে এসেছেন ।
আর ররকারে শুধু নিজের পিঠ বাঁচানো ছাড়া আর কিচ্ছুটি বোঝেন না তিনি । তৈল মর্দনে চরম পর্যায়ের বিশারদ শিল্পী ইনি ।
কোন সময়ে উপরওয়ালার অন্ডকোষ কতখানি শুষ্ক ঊষর থাকবে এবং সেই অবস্থায় ঠিক কতখানি পরিমান তেল মালিশ করতে হবে ঐ শুষ্ক ত্বকের স্বাস্থ্য ফেরাতে _ এই বিষয়ে তার উপরে বুৎপত্তি আর কোনও সহকর্মী সিনিয়রের নেই ।
প্রয়োজনে পায়ে পড়ে যাওয়া আবার সুবিধা বুঝে কাঁধে ঘাড়ে হাত দিয়ে তর্জনী ঘুরিয়ে নাচানো _ এই সবটুকুই ওনার কাছে মহাকালের মাদারী খেল গোছের ।
স্বার্থপরতার চূড়ামনি এই সব ধান্দাবাজেরাই আজকাল নেতার শিরোপা অর্জন করছেন জেলা আর রাজ্যস্তরে, এটাই যা চরম দুর্ভাগ্যের । শুধুমাত্র নিজের স্বার্থ সিদ্ধি হলেই এনারা তৃপ্ত । আর অপরকে বিপদে ফেলে রস নিংড়ে নিতেও এনারা হেব্বি ওস্তাদ ।
এমন হাট্টি মাটিম মালদের ধরে নিয়ে গিয়ে গুছিয়ে বাটাম দিলেই ব্যাটারা ঠিকঠাক হবে বলে আমার ধারণা ।
আর কতদিন যে চলতে হবে আমাদের এই সব পচা আম-কাঁঠাল-তরমুজ নিয়ে, তা একমাত্র এনাদের নির্মাতা ইষ্টদেবতা ব্রহ্মদেব ই জানেন ।
Comments