প্রিয় কবিতারা - পাঁচ
একশো চার উপগ্রহ এবং ঘেঁটু
----------------------
একশো চারটে উপগ্রহ একদিনে উড়ে গেল আকাশে
শ্রীহরিকোটা কোন দেশে,
ঘেঁটু জানে না
তার দেশ সোনাগাছি
যেখানে তার মা রাতে জাগে, দিনে ঘুমায়
ঘেঁটুর মুশকিল হল,
সেই দিনের ঘুম আর ভাঙছে না
কিছুদিন ধরে মা'র জ্বর হচ্ছিল
গায়ে লাল লাল দাগ
গাঁটে গাঁটে খুব যন্তন্না
শ্যামলী পিসি শিবের থানের ফুল আনল
একদিন বুড়ো অনন্ত ডাক্তারও এল
তবু মা'র কষ্ট কমে না
এই প্রথম ঘেঁটু দেখল
মা'র চোখে কাজল নেই, তবু কত কালি
ঠোঁটে রঙ নেই, চেরা চামরায় রক্ত ওঠে
মা ঘেঁটুর দিকে এক দিষ্টে চেয়ে থাকত
রাতে খদ্দেরের হাত ধরে টানাটানি করত
কেউ আসত না
আজ রাত নেমে গেল
তবু মা"র ঘুম ভাঙে না
উপগ্রহ কী, ঘেঁটু বোঝে না
টিভিতে বলছে তারা নাকি সব উপরে উঠে গেছে
শ্মশানঘাটের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে
ঘেঁটু আকাশ দেখছিল আঁতিপাঁতি
শ্যামলী পিসি বলেছে,
মা'ও নাকি আকাশেই উঠে গেছে
ঘেঁটুর খালি গায়ে বিন্দু বিন্দু ঘাম
ঢোলা হাফ প্যান্ট নেমে নেমে যাচ্ছে
বাঁ হাত দিয়ে শিকনি মুছতে মুছতে ঘেঁটু বোঝে
শুধু নাক নয়, তার চোখেও জল
গঙ্গার জলে আকাশের গোল চাঁদ আবছা হয়ে ভাসছে
ওর মধ্যে ঐ একশোটা উপগ্রহের একটাও না থাকলে চলবে
শুধু মা যদি একটু নেমে আসত!
-----
মাথুর
- জয়দেব বসু
ও দুঃখ, এই বাঙাল প্রাণে সফল হয়ে বাজো
তারে পাইনি খুঁজে আজো,
এক ঋতুতে আর এক ঋতু সন্নিহিত, আমি
কী করব, কোথায় যাব স্বামিন?
যদি অন্ধকার নাচো,
ওগো রহস্যনীল, জানাও আমার ভরবে কিনা আঁচল
কলস ভাসে এ ঘাট থেকে অন্য ঘাটে, প্রভু
জল মেলে না তবু
আমার কন্ঠ পোড়ে তরল সিসার আঁচে,
বুকের আরো কাছে
ও দুঃখ, নীলকান্তমণি, বহন করো ঋত,
অঙ্গে নামুক অনঙ্গ সম্বৃত
অচিন ঘাটে চন্দ্রাবলীর অস্থি পুড়ে খাক
গায় জয়দেব : নন্দদুলাল বহ্নিতে লুকাক
সকাল ১০.৩৪ মিনিট
২৭/৪/৮৭
-----
ঝুমকা গিরা
- সমীরণ ঘোষ
হারানো ঝুমকো, তওবা ভরা বাজার। পালকির বিকেল
দেখছে পোড়ামুখ, কিছুটা গেরুয়া। কিংবা সূর্যই
ঠেলে দিচ্ছে দিন ঘন খাদে...
সন্ধানে রঙিন বাজার। হাই বাপ হাটেও মোড়ল
চেইন উড়ছে পাইপ শটার
তবু পালকির প্রাণ বলে কথা। ঝুমকোর খোঁজে সফেদাবনের
নীচে হতমান। পিছনে পাইক সেপাই মায় নিভুলন্ঠন
ঝুমকো-কথা গানেই বাজলো এযাবৎ। আর বাজারের
দূরে কোণে বৈঁচি ও বনতুলসীর ছায়া
গোসাপের পিঠে এসে তোমার তলাশ...
তথাপি আড়াল ওই গুমনাম। ওই গুপ্ত লেফাফা
খুলিনি এ-যাবৎ, গ্রামপথ, বাংলাবাজারে
-----
কবিতার গভীরে নগ্ন নারী
- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
কবিতার গভীরে একটি মগ্ন নারী
শুয়ে আছে--- শুয়ে থাকে অস্পষ্ট।
কখনো বেশ্যার মতো অশ্লীল
খেমটাপনায় ভ'রে তোলে কবিতার শরীর।
গর্বিত স্তনে হাত রাখতেই দ্যাখায়
নাভিমূল, বলে অন্য কিছু, অসভ্য
ভাষায় যেন সমস্ত কবিতাই
তার নিজস্ব এলাকা---রঙিন বেশ্যালয়।
ধেই ধেই কখনো নাচে আনন্দে
নিতম্বে থলবলে মাংশে ওঠে ঢেউ
উরুর কামনা থেকে খ'সে পড়ে রুপোলি ফুল
মাটি কাঁপে বুঝি বা ভূমিকম্পের সূচনা
থেমে থাকে ঈশ্বরের যাবতীয় কাজ
মৃত্যু এসে ফিরে যায় দ্বিধাগ্রস্ত
প্রসবের অপেক্ষারত জরায়ু খোলে না দ্বার।
হে নারী হে কবিতা তোমার তলপেটে মানবের
কাংখিত ক্ষত আমি দেখতে চাই
তুমি কুয়াশার শাড়ী খুলে ফ্যালো।
১৯.০৫.৭৪ (সকাল) লালবাগ ঢাকা
-----
উড়িয়ে দাও দুপুর তোমার
- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
মেলার মধ্যে একটুখানি খোলামেলা-
একটুখানি কেন ?
খোলামেলা একটুখানি কেন ?
খুলতে পারো হৃদয় তোমার সমস্তটুক,
দেবদারু চুল খুলতে পারো
ভুরুর পাশে কাটা দাগের সবুজ স্মৃতি
স্বপ্ন এবং আগামীকাল এবং তোমার
সবচে’ গোপন লজ্জাটিও খুলতে পারো।
উড়িয়ে দিতে পারো তোমার স্মৃতির ফসিল-
উড়িয়ে দাও দুপুর তোমার শিমুল তুলো,
মেঘের খোঁপায় মুখর বিকেল উড়িয়ে দাও,
উড়িয়ে দাও ব্রীজের নিচের স্বচ্ছ জলে
স্বপ্ন লেখা সবুজ কাগজ।
এ বৈশাখে হাত মেলে চাও ঝড়ের ঝাপটা,
ভেজা মাটির গন্ধে ফেলে পায়ের আঙুল
এ বৈশাখে হাত মেলে চাও জীবন বদল।
-----
বৃষ্টির ভ্রূণ দেখে
- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
দাঁড়িয়ে পড়লে কেন? বাঁক পেরোলেই ঝর্ণা,
আর ঝর্ণা মানেই তোমার চুল, কালো জল।
থামলে যে? পাড় ধ'রে হেঁটে যেতে থাকি,
জানি না কি ফুল, তার নাম, তবে আছে
অচেনা অনেক ফুল।
অচেনা ইচ্ছার মতো ফুটে থাকে বুকের বাগানে-
দাঁড়ালেই থেমে যাবে, ভালোবাসা হাঁটি চলো।
হাঁটতে হাঁটতে ভালোবাসা, চলমান স্মৃতি,
হাঁটতে হাঁটতে কিশোরের গোলাপি মার্বেল
কুড়িয়ে পাবার মতো সুখ।
হাঁটতে হাঁটতে সুদূরের নিবিড় দিগন্ত,
যেন এগুলেই ছোঁয়া যাবে নরোম আঙুলে তার
নিভৃতের দুঃখ কষ্ট,
নিরালোকে ফুটে থাকা স্বপ্নময় হৃদয়-গোলাপ।
আসলে তো পরস্পর পরস্পরের দিগন্তে দেখি মেঘ,
আমরা বৃষ্টির ভ্রূণ দেখে চৌচির প্রাণের জন্যে,
শস্যহীন হৃদয়ের জন্যে আশাবাদী হয়ে উঠি-
পরস্পরের দিগন্ত ছুঁতে চাই, ছুঁতে চাই
দিগন্তের মেঘ।
হৃদয়-দিগন্ত ছুঁতে চেয়ে একদিন জেগে উঠে দেখি
ছুঁয়ে আছি পরস্পর আমাদের নশ্বর মাংসের দেহ।
------
দেখি তোমার ভালোবাসা
- শরৎকুমার মুখোপাধ্যায়
'তোমাকে ভালোবাসি'- এই কথা অমন সহজে
বলার নয়।যুক্তাক্ষর নেই বলে এই দুটি শব্দ উচ্চারণ
মেয়েদের পক্ষে সোজা, যেমন 'খিদে পেয়েছে' যেমন 'বাড়ি যাবো'।
তবু হঠাৎ 'তোমাকে ভালোবাসি' শুনলে আমার বুক
কেঁপে ওঠে, মিথ্যে কথা, এ তোমার মিথ্যে কথা-
দেখি, তোমার চোখ দেখি, আমার মুখের দিকে তাকাও-
দেখি, তোমার করতল মুষ্টিবদ্ধ হতে চাইছে কি না,
তোমার পা কাঁপছে কি না, দেখি দেখি,
তোমার স্তনের আড়ালে হৃৎপিণ্ডটা-
তোমার সর্বস্ব আমার হাতে দাও, আগে দেখি তোমার ভালোবাসা।
কী চাও স্পষ্ট করে বলো-
আমি এখনো সক্ষম, এখনো একাধিক রমণী
আমার কাঁধে মাথা রেখে দাঁড়াতে পারে, নির্ভরতা
আমার বাহুতে বৃক্ষের মতো অটল, বলো কী চাও,
বলো, 'তোমাকে ভালোবাসি'- এ ছলনা।
ভালোবাসা প্রকাণ্ড ব্যাপার, ভালোবাসা পথ বুলিয়ে দেয়
আয়ু নষ্ট করে, ভালোবাসা ঘরের মানুষকে চুলের মুঠি ধরে পথে নামায়-
অত সহজে ও-কথা বলতে নেই, আমার মাথা ভর্তি নেশা,
এখন যা বলবে বিশ্বাস করতে ইচ্ছুক,- কারণ সারা শরীর ক্লান্ত...
অত সহজে হাত থেকে ফেলে দিও না আধুলিটা।
তোমার ঘর জোড়া শোবার খাট, রাখার আলমারি, লুকোবার তোরঙ্গ
ঠাকুরপুজোর সিংহাসন--- না, এত আসবাবের তলায় হামাগুড়ি দিয়ে
পয়সা খোঁজার কষ্ট থেকে আমাকে বাঁচাও।
------
আলোর কাক
- পুণ্যশ্লোক দাশগুপ্ত
ধীরে ধীরে সেই অক্টাভিয়া সম্পর্কের উপর ঝুপ করে বসে পড়লো
চড়ুইপাখির ডানায় ডানায় খুব নিচু স্বরে কথাযা তোরা ঠান্ডা অন্ধকারে যা,বোকা কোথাকার, তুমি কোথায় তুমি কোথায় ধুলো উড়িয়ে,উত্তেজিত কাক।
অক্টাভিয়ার সাথে আমার নতুন পরিচয়,সৌজন্যমূলক,
আসলে অরুন্ধতী, সুদৃঢ নীরবতা,ফুলের বাগান নতুন রসায়ন।
পাখি,ডায়মন্ডহারবার,রোম থেকে বুলবুলি শালিখ পায়রা
কী সুন্দর গুছানো বৃক্ষের সারি,বাঁশঝাড়,উপত্যকার ঝিল
সেসব খালবিলে টিলার মাথায় টংঘরে আমি রোজ
হিসেব মেলাই,কি হলো কেমন করে হলো
যা তোরা ঠান্ডা অন্ধকারে যা,বোকা কোথাকার
শিশির ভিজিয়ে নিলাম শিশিরে
মা মাখনের প্রতি হাত বাড়ালেন আর কিছুতেই তার মন নেই
কাঁচা লঙ্কায় ভিজিয়ে নিলেন ভাতের প্রদাহ
আমার ইচ্ছে করে না মাকে ছেড়ে দূরে কোথাও যাই
তবু যাই তবু যেতে হয় মাকে ভালো রাখবো বলেই তো
মা তা কিছুতেই বোঝে না
যাস না যাস না তুই আমি একা
কাকেরা পাহাড়া দেয় মাকে
মা ওদের ভাত বেড়ে দেয় চৌকাঠে
ঝাঁকে ঝাঁকে পাখিরাও আসে
মা ওদের দানা দিয়ে বলে যাবি না কোথাও
-----
বারবার আপনার চোখ
- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
আপনি বারবার ভুল করছেন।
বারবার আপনার চোখ বিশ্বাসঘাতকতা করছে আপনার সাথে।
আপনার শ্রবণ আপনার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছে।
আপনার জিহ্বা আপনার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছে।
আপনার স্পর্শ আর আপনাকে
সঠিক অনুভব দিতে পারছে না।
আপনি ভুল করছেন ...
সুবর্ণলতা ভেবে আপনি যাকে জড়িয়ে ধরেছেন
সে তো সাপ-আপনি ভুল করছেন।
মুদ্রা না-এনে আপনি এক ব্যাগ নক্ষত্র নিয়ে এলেন।
আপনি পাথরের কাছে জল চেয়ে নতজানু হয়ে আছেন...
আপনি ভুল করছেন। ওরা কেউ কিশোরী নয়,
ওরা সব হাঁস-ধবল নরোম ডানা, শাদা হাঁস,
ইটের কলমিদামে সারাদিন ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত এখন।
আপনার স্নায়ু আর আপনাকে সঠিক সিদ্ধান্ত দিতে পারছে না-
আপনি যন্ত্রের নাম দিয়েছেন ভালোবাসা,
আর হৃদয়কে আপনি ডাকেন পর্যটন বোলে।
আপনি ভুল করছেন।
বারবার আপনার চোখ বিশ্বাসঘাতকা করছে
আপনার সাথে,
বারবার...
-----
স্বপ্নগুলো
- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
আমাদের স্বপ্নগুলো
এইভাবে ঠুকরে ঠুকরে খাবে কাক ও শকুন।
আমাদের আকাংখারা
মুখ থুবড়ে পড়বে জমকালো পিচের রাস্তায়।
একাকি বান্ধবহীন আমাদের হৃদপিন্ড জুড়ে ধংশস্তুপ
জ'মে উঠতে থাকবে ব্যাংকে সঞ্চিত টাকার মতো।
আমাদের চরমপন্থি ফুসফুসের জন্যে প্রয়োজন
আজ একটু নির্মল বাতাসের ছোঁয়া,
প্রয়োজন এক টুকরো সজীব ভালোবাসা।
আমাদের সন্ত্রস্ত, সশস্ত্র মস্তিষ্কের জন্যে প্রয়োজন
সামান্য আশ্রয়,
অমলিন, একটু স্নেহের টোকা।
না আমাদের স্বপ্নকে, না সংবিধানকে
আমরা কিছুই, কাউকেই বাঁচিয়ে রাখতে পারছি না।
আমরা ধ'রে রাখতে পারছি না আমাদের
সময়ের বেগবান স্রোতগুলো,
স্বপ্নবান প্রাণবন্ত আত্মাগুলো-
কবরের সুবিশাল নির্জনতা আজ নেমে এসেছে এখানে,
এই গ্রহে।
আমাদের স্বপ্নগুলো অপ্রচলিত পথে ছুটতে চায়,
তাই রক্তাক্ত তার পা,
আঘাতে বিক্ষত দেহ,
তবু সে ছুটছে-
প্রতারণাহীন আমাদের বিশ্বাসের বিক্ষুব্ধ আগুন,
অন্ধকার পোড়াতে পারেনি বোলে আজ
নিজেই সে নিজেকে পোড়ায়।
প্রলোভনহীন ভালোবাসা আমাদের
প্রতিবার রক্তাক্ত হচ্ছে বিত্তের বিনাশী চাকায়।
আমাদের রক্তস্রোতে প্রবাহিত হচ্ছে
পল্যুটেড পৃথিবীর ক্ষমাহীন বিষ।
এ্যালকোহল ঝাঁপিয়ে পড়ছে যকৃতে,
নিরন্ন পাকস্থলিতে।
নিকোটিনে সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে
রক্ত প্রবাহিণী নালীগুলো।
আমাদের স্বপ্নময় আন্দোলনগুলো
বারবার বুটে ও বুলেটে, আপোসে ও ষড়যন্ত্রে
ঝিমিয়ে পড়ছে।
শাদা একটি গোলাপ আমাদের অন্তর্গত স্বপ্ন,
সমতার এক নীল আকাশের স্বপ্ন আমাদের,
আমাদের স্বপ্ন শ্রমময় একটি দিনের,
সম্মিলিত নৃত্য আর গানে উন্মাতাল
একটি সন্ধ্যার স্বপ্ন আমাদের,
আমাদের স্বপ্ন এক প্রশান্ত নিদ্রার রাত-
অথচ কোথাও তার কণামাত্র ছায়া নেই, চিহ্ন নেই,
স্বপ্নের সূচনা নেই এখনো কোথাও।
আমাদের স্বপ্নগুলো ঠুকরে ঠুকরে খাচ্ছে কাক ও শকুন।
------
টের পাই
- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
তুমি এলে টের পায় নিখিল, নীলিমা, মেঘ
দেবদারু পাতার বিজন,
নির্জন নিমগ্ন রাত জেগে ওঠে পূর্ন কোলাহলে।
কানায় কানায় জল ভ'রে ওঠে দামাল দরিয়া,
জ্যোৎস্নার আলোকচূর্ণ মাখে সারা গায়ে চিতল হরিণ---
টের পায় নোনা জল, প্রকৃতির প্রাণীকুল, বনের আঁধার,
তুমি এলে টের পায় সভ্যতার সাজানো নগর।
মৃন্ময় চিবুক বেয়ে ঝ'রে আসে চোখের শিশির
ঝ'রে আসে স্বপ্ন-আর্দ্র জল, বিহ্বল, ব্যাকুল বাসনা।
আমি কি পাই না টের?
আমি কি পাই না টের এইসব, নিসর্গ, নগর জুড়ে
তোমার ভ্রমণ-ধ্বনি বেজে ওঠা সুনিবিড় পাতার মর্মর?
তবে এ কান্না কিসের, এই জল, ব্যথার শিশির?
এই মত্ত গাঙের তুফান বুকের ভেতরে কেন বাজে!
টের পাই।
নিসর্গে, নগরে তনু রয়েছে ছড়ানো
হৃদয়ের মর্মে খোলা রয়েছে হৃদয়---
টের পাই--- ভেতরে সাজায়ে রাখি প্রতীক্ষার পরম পিপাসা,
তুমি এলে টের পাই, শোনিতে শিরায় বাজে ভ্রমনের ধ্বনি।।
Comments