কবিতা নিয়ে

যারা কবিতায় একেবারে প্রথম লিখতে আসছে,এ কথা কটি অবশ্য তাদের মনে রাখা উচিত।

ক) পত্রিকায় ছাপা-না-ছাপা নিয়ে একদম মাথা না ঘামানো।

খ) কবিতা লেখা যাবজ্জীবন  ধরে চলা একটি প্রক্রিয়া,দু-দিনে বিখ্যাত হওয়ার চেষ্টা করে কোন লাভ নেই।

গ) লেখার চেয়ে পড়াটা আরও বেশি জরুরী।একাডেমিক পড়াশোনা সম্বল করে চাকরি হতে পারে,কবিতা রচনা সম্ভব নয়।

ঘ)শুরুতে কোন বড় কবির/কবিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতায় না-জড়ানোই ভালো।এতে প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা মারাত্মক।বড় কবি বা পত্রিকা অনেক সময় তরুণ কবিদের নিজস্বতাকে গ্রাস করে।কবিতার তো গুরু নেই,তাই শিষ্য হয়ে লাভ কি!

ঙ)চেষ্টা করলেই কেউ কবি হয় না,কবি জন্ম নেয়।আমরা যারা কবিতা চর্চা করি,তাদের কাজ আমাদের ভিতরে সেই জন্মের বীজ আছে কি না তা খুঁজে চলা।যা নেই তার খোঁজ কী ভাবে পাব! থাকলে একদিন নিশ্চয়ই পাব।কবে? কেউ জানে না।

চ) কাউকে ধরে,তোষামোদী করে কবিতা ছাপানোর চেষ্টা কদাচিৎ করা।কী হবে এভাবে কবিতা ছাপিয়ে? পৃথিবীর ইতিহাসে এমন কবিদের কোন স্থান নেই।কাউকে ইম্প্রেস করার জন্য,বা কালচারাল মানুষ হিসেবে লোকের সামনে তুলে ধরার জন্য আরও অনেক রাস্তা আছে;সমাজসেবা করা,সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা,টাকা রোজগার করা।সেগুলি করলেই হয়।ভণ্ডামি করে কবিতা ছাপিয়ে কোন লাভ নেই।কারণ অসৎ কাব্য দিয়ে সৎ মানুষকে বেশিদিন ভোলানো যায় না।

চ) কবিতা লিখে যদি নিজে আনন্দ পাও তবেই লিখো,অন্যকে আনন্দ দেওয়ার জন্য কবিতা লিখতে যেও না।কবিতা কোন এন্টারটেইনার মাত্র নয়; আত্ম আবিষ্কারের মাধ্যম।তাই নিজেকে আবিষ্কার করার জন্যই লিখ।

ছ) কবিতা লিখতে হলে আত্ম ধ্বংসের আনন্দে উন্মন হতে পারার সাহস চাই।এবং এটিই সবচেয়ে বড় শর্ত।আত্ম ধ্বংসের ক্ষমতা না থাকলে আত্ম গঠনের অধিকার জন্মে না

জ) মনে রাখা,এ পথ সকলের নয়,তারপর এ পথে আসা।

Comments

Popular posts from this blog

মহায়ণ

মরণ vs যৌনতা

আনা কড়া গন্ডা ক্রান্তি