সচেতন হোন
অনেক মানুষ ভীষণ রকম বিরক্ত হন যখন আমি sex এর সচেতনতা নিয়ে আলোচনা করি। অজস্র মানুষ রাগে উন্মত্ত হয়ে আমাকে message করেন। " কেন আমি sex কে এত focus করি ? মুক্ত ভাবে sex বিষয়ে লিখি ? অনেকে ব্যঙ্গ করে বলেন "আমি নাকি sexologist । আমি নাকি চটি লিখছি" ইত্যাদি ... . তাদের এই অসহায়তাটা আমি বুঝি। এদের প্রত্যেকের মতো গোটা সমাজের focus আসলে sex এর দিকে ,তাই আমার এই সুস্থ আলোচনা ও তাদের বিকৃত লাগে। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো --- আমি অনেক prostitute এর সঙ্গে একান্তে কথা বলে দেখেছি , তারা মুক্তি, জীবন, ঈশ্বর , এই সব নিয়ে কথা বলতে বেশি আগ্রহ দেখায় অথচ আমি বিভিন্ন সাধু সন্ন্যাসীদের সাথে একান্তে কথা বলে দেখেছি তাদের মধ্যে একটা বড় সংখ্যক সন্ন্যাসী প্রতিটা বিষয়ে ঘুরেফিরে sex নিয়েই কথা বলতে বেশি আগ্রহী হয় । আমার পরিচিত এমন অনেক বড়ো বড়ো প্রাতিষ্ঠানিক সন্ন্যাসী কে জানি যারা virtual এ রীতিমতো sex chat করে থাকেন।
আসলে sex কে taboo করে রেখেই গোটা দুনিয়াটাই যৌন বিকৃতির কবলে পড়েছে। প্রকৃতপক্ষে আমাদের অর্থ উপার্জন , অতিরিক্ত চাহিদা , উচ্চাকাঙ্খা, কামনা বাসনা , সম্পর্ক , বিবাহ , fashion , রাজনীতি সব কিছুকেই sex প্রকট বা প্রচ্ছন্ন ভাবে প্রভাবিত করছে। সমস্ত ধর্মীয় নেতারা হাজার হাজার বছর ধরে সমাজকে বুঝিয়ে এসেছে-----" sex একটা পাপ , পশুত্ব। সংসারের মায়া থেকে মুক্ত হবার জন্য যৌনতা কে যেভাবেই হোক প্রতিরোধ বা অবদমন করতেই হবে।" …….কিন্তু মানুষ কোনোদিনই এই শৃঙ্খল থেকে মুক্তি পায়নি। কারণ , approach টাই ভুল।
সচেতন ভাবে acceptance ই উত্তরণের উপায়। sex এর প্রকৃত স্বরূপ জানলেই এর obsession থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তাই sex এর সঙ্গে fight করে নয় , বরং unconditionally ,unbiasly , inhibition ছেড়ে একে গ্রহণ করলে তবেই এর থেকে মুক্তি পাওয়া যায় । sex এর approach মন্দিরে প্রবেশ করার মতোই পবিত্র হওয়া উচিত। এই শিক্ষা কে মানুষের মনে দৃঢ়ভাবে দেওয়ার জন্য একসময় প্রাচীন ভারত মন্দিরের গায়ে যৌন সম্ভোগ ও মৈথুনের ছবি দিয়ে ভাস্কর্য তৈরি করেছিল । কোনার্ক বা খাজুরাহোর (আরো অনেক প্রাচীন মন্দির ) কামচিত্রকলা দেখলে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে , মন্দিরে যৌনতার ছোঁয়া কেন ? এটা অত্যন্ত বেমানান ! এ কিরকম অসভ্যতা ! অনেকেই আমাদের এই অতীত সংস্কৃতি নিয়ে লজ্জায় পড়ে যায় । কিন্তু যিনি শিল্প বোঝেন একটু গভীরভাবে ভাস্কর্য গুলো পর্যবেক্ষণ করলে বুঝতে পারবেন যে --- উদ্দাম যৌনতা ও সম্ভোগরত ভাস্কর্যমূর্তি গুলির চোখে কোনো sensuality বা vulgarity নেই বরং আছে গভীর ধ্যান মগ্নতা ! যেন কোনো এক মহানের প্রতি আত্মনিবেদিত হয়ে তাদের শরীর গুলো প্রাকৃতিক ছন্দে কোনো এক ক্রীড়ায় মেতে আছে কিন্তু তাদের অন্তর যেন কোনো এক মহান চৈতন্যে হারিয়ে গেছে, ঠিক যেন কামের মধ্যে দিয়ে মহান প্রেমের দিকে যাত্রা । সেই সব মহান শিল্পের মধ্যে দিয়ে এটা বোঝানো হচ্ছে যে যৌনতা আর অধ্যাত্বিকতা বিপরীত নয় । সংসার (কাম ) আর সত্য আলাদা নয় , বরং এই সংসার ই সত্যের এক প্রকাশ। যে শক্তি ( vitalistic energy) মানুষকে যৌনতার দিকে নিয়ে যায় সেই একই শক্তি সাধক কে সত্যে উপনীত করে। কাম কে শ্রদ্ধার সঙ্গে গ্রহণ করলেই প্রেমের পথে যাওয়া যায়। মুক্তির পথে যাওয়া যায় । তাই sex কে অস্বীকার, অশ্রদ্ধা,অবদমন না করে , এর সঙ্গে লড়াই না করে একে মুক্ত ভাবে গ্রহণ করলে; sex প্রেমে রূপান্তরিত হবে। জীবন থেকে জগৎ থেকে বিকৃতি দূর হয়ে যাবে।
Reply:-
দেহ যতক্ষণ সজীব চেতনাবোধ সম্পন্ন, মন ও পাশাপাশি চিন্তাশীল থাকাটাই স্বাভাবিক । প্রাকৃতিক নিয়মেই জৈবিক ভাবনা চিন্তা (আহার, নিদ্রা, মৈথুন) আমাদের মনে বাসা বাঁধে । আমাদের পঞ্চ ইন্দ্রিয় (রূপ, রস, বর্ণ, গন্ধ, স্পর্শ) সব সময় স্বতঃস্ফূর্তভাবেই সাড়া দেয় । এর থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় অনেকেই বলেছেন অনেক যুগ ধরে । কিন্তু তা কতখানি বাস্তবে পর্যবসিত হয়েছে ? দেখা যাবে সমস্ত ধর্মীয় পুরাণে এবং মহাকাব্যেও এই জৈবিক চেতনা গুলি ঘুরে ফিরে এসেছে । এর থেকে একমাত্র মুক্তির উপায় এই নশ্বর দেহ ত্যাগ । আর সেটা আমাদের পক্ষে কেমন করে সম্ভব ? আমরা কেউ কি দেহ ছেড়ে মনের গহনে, ভাবনার গভীরে প্রবেশ করতে পারি ? যাকে আমরা বলি Spirituality বা আধ্ম্যাতিকতাবাদ, তা আসলে এক ধরণের আত্মসমীক্ষা, আত্মপর্যবেক্ষণ, আত্ম অনুসন্ধান । আমাদের মনই সবকিছুকে নিয়ন্ত্রণ করে । আর আমরা ধ্যান করি সেই মনের গতিবিধি আর ভাবনার পরিধিকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য । সুতরাং এত বড় বিশাল ব্যাপ্তির বিষয়কে এত সংক্ষেপে, এত স্বল্প পরিসরে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করবার অবকাশ নেই । এর জন্যে চাই একে অন্যকে আরও সময় দেওয়া । আরও আন্তরিকভাবে আলাপ আলোচনা । এই পৃথিবীতে ভালো খারাপ বোধ কিন্তু আপেক্ষিক । আমাদেরকে সেই আপেক্ষিক দৃষ্টিভঙ্গির দিকগুলোও মাথায় রাখতে হবে আলোচনার সময় ।
Comments