এহ বাহ্য
সূত্র - (মাস খানেক আগে বাংলাদেশে মৌলবাদীদের হাতে রাতের অন্ধকারে ভাঙা পড়েছিলো বেশ কয়েকখানা শিব মন্দির)
"এহ বাহ্য আগে কহ আর" @ রাজেন্দ্র
________________
পরিধি বলয়
ছোট হতে হতে
বিন্দুর শেষ সীমানায়
মিশে যেতে যেতে
এখন এসে আটকে গেছি
সীমানার এই পাড়ে
আকাশের কোণে
হলুদ ঘাসের মাথায়
যেখানে রোজ বার বার
আমার ছোট ছেলেটা
পূর্ণিমার জোছনা মেখে
অপলক চোখে তাকায়
জমি বাড়ি
ঘটি বাটি পুকুর ফেলে
পালিয়ে চলে আসাটা
বোধকরি ভুল ছিলো
অনেক যুগ ধরে
জমে থাকা পলিমাটির রঙে
আর ঘ্রাণে ভালোবাসারা
শিশির ছুঁয়ে নেমে এসেছিলো
কিন্তু
বাঁচার লড়াই আর
টিকে থাকার অফুরাণ জেদ
গতসু হয়েছে আগেই
কে কত ফায়দা পাবে
তার হিসেবও হয়ে গেছে
ক্ষমতার রাজপাট ভাগেই
চশমা সেঁটে
বোকা বাক্সের সামনে
মিডিয়ার সেক্যুলার বিশ্লেষণে
কলম ঝেড়ে তারিফ করেছি
আহা রে বাবা রে করেই
"সত্যি সেলুকাস্
কি বিচিত্র এই দেশ"
এখনো অনেকেই
কাঁটাতার ছিঁড়ে
দুই বাংলা জুড়ে দেওয়ার
অলীক স্বপ্নে বুঁদ
তবুও এই পারের বাঙালীদের
দেখিয়ে দিলো ঐ পারের
মৌলবাদীরা
কেমন করে রাতের আঁধারে
চুপিচুপি ভাঙতে হয় মন্দির
আর কেমন করে
সেক্যুলার আমরা
ভেজা চোখে মুখ লুকিয়ে
খুঁটে খাব ভাঙা খুদ
এক বাবরি নিয়েই
কত লাফালাফি চলেছিলো
এখানে সেখানে
বুদ্ধিজীবি আবেগিদের
তবে এখনও কেন
তাদের সবার মুখে কুলুপ
তা জানতে ইচ্ছে করে
ধর্মের পাগলামো কেমন করে
অমানুষ করে তোলে
মন্দির আর মূর্তি ভাঙায়
রোজকার প্রতিবেশিকে
ধর্মাচরণে বার বার বাধা দেয়
দেখতে ইচ্ছে করে
আর শেষমেষ
আবেগের গামছা গলায় বেঁধে
ডুবে মরে যেতে ইচ্ছে করে
কেউ বা বলতে পারেন
ঐ বাংলা যে
এখন আর তোমার নয়
তবে কেন এত কিছু
এসে যায় আমার
কথাটা কি তবে শুধুই
আমার এবং তোমার
তবুও যে জানতে ইচ্ছে করে
কি ভাবছে আমার
ধর্মনিরপেক্ষ দেশের
ভোটবাক্সখেকো লোভীরা
বার বার হাতছানি দেয়
অসহায় একঘরে
হেরে যাওয়া ঐ পারের
বাঙালী সংখ্যালঘুরা
ডেকে দেখাতে চায়
চোখের জলের
না মোছানো নুন সাদা দাগ
যেখানে মাঝে মাঝেই
নোনা জলের জোয়ার
ছুটে আসে
আর ডুবে হারিয়ে যায়
কলমের শব্দেরা
দেখতে থাকি পড়তে থাকি
খবর খাওয়ানো বাজারি পত্রিকা
জানতে পারিনা লুকিয়ে রাখা
ইচ্ছে করে চেপে রাখা
না লেখা ইতিহাস
এখন ক্রমাগতঃ বিলুপ্তির পথে
জমে থাকা শত কোটি দীর্ঘশ্বাস
চোখে ভাসে
তরবারির আঘাতে মুন্ডহীন
পোকা আর মাছি বসা
না শুকানো পচা গলা
দেহের ভাইয়েরা
জানি
একমাত্র যন্ত্রণা বুঝবে
সন্তান আর লজ্জা হারানো
অতীত বাংলার
বাপ বোন মায়েরা
Comments