ঋক _ দুই
____________
দুই এক্কে দুই
--------------
আচ্ছা, কেমন হতো, যদি উন্নয়নের মেকী রাস্তা সব হয়ে যেত গুঁড়ো গুঁড়ো কাঁচের মতোন ? উড়তো সবাই ঝোড়ো কালবৈশাখী তালে । শিলাবৃষ্টির শিলান্যাসে সবাই বালতি মগ জগ হাতে বের হতো পছন্দমতোন শিলা কুড়োতে । আমের মুকুল ভেঙে পড়তো আটপৌরে পাড় ভাঙা শাড়ির মতোন মড়মড় শব্দে । আর শিল পড়ত সারাক্ষণ একটানা, যতক্ষণ না কালশিটে জমত সারা পথ জুড়ে । পথের গর্ত সব উঠত ভরে চারপাশ থেকে ধেয়ে বেয়ে আসা ঘোলাটে কাদায় । নরকের কীটগুলো সব আটকে থাকতো পচা পাঁকালো কাদার ভিতর আর ছুটে আসত দামাল জগন্নাথ রোড রোলার চেপে । গরম গলে যাওয়া কয়লা আলকাতরা ঢেলে দিত মুখের উপর, চেপে পিষে মিশিয়ে দিত গণকবরের ভিতর । মিলিয়ে দিত গর্তের গভীরে । থাকতো ওরা জমে ততদিন, যতদিন না ধ্বংস হতো সব । মরুভূমির তপ্ত বালিতে নিস্ফল আঁচড়ের মতোন প্রবল জলতৃষ্ণায় ধুঁকতো ওরা জিভ ঝোলানো চারপেয়ের মতোন । আর পিঠে পড়ত কাঁটামোড়া চাবুক 'সপাং সপাং' পরাধীনের ঘুম ভাঙা স্বাধীন গণতন্ত্রের । সাথে সাথে কে যেন জোরে একটা ধাক্কা দিল । ঘুমটা ভেঙে গেল ঋকের ।
- ও দাদা, শুনছেন । দেহটা একটু ঝাড়া দেন না গো । একটু বসতাম আপনার এখানে ।
উঠে বসল ঋক ।
- মালদা অবদি যাবেন নাকি ভাই ?
- জি হাঁ, আর আপনি ?
- আমিও তাই । এই ট্রেন তো যাবে আলিপুরদুয়ার পর্যন্ত । অনেকেই তার আগে আপনার আমার মতো নেমে যাবেন ।
- দাদা, বলি কী আপনি ক্যামন করে জানলেন, যে আমি মালদায় নামবো ?
মনে মনে একটু হাসলো ঋক । মালদার মানুষজন যে কথার পিঠে একটা করে 'গো' সাফিক্স লাগায়, যখন যেমন খুশি, সেটা আর খুলে বিশদে জানালো না ও । শুধু মুখে একটু আলগা করে হাসি টেনে এনে ঠোঁটজোড়া নাড়ালো ।
- ও কিছু না ভাই, জাস্ট একটু আন্দাজ আর কী ।
বাকি পথ তা বসে ঢুলতে ঢুলতে আসতে হলো ওকে । ব্যাপক জ্বালা করছে ওর চোখের পাতা এখন । ঘরে ঢুকে একটু গড়িয়ে নিতে হবে ওকে এবার ।
Comments