আপনার রাশিচক্র @ রত্নদীপা
নতুন বছরের রাশিফল জানতে চান?
মেষ- এ বছর বাউলরঙ আপনার জন্য শুভ। পাখির কলরব গায়ে না মেখে বাড়ি থেকে বের হবেন না। দীর্ঘদিন চুপ কোরে থাকা মৃদঙ্গ এ বছর কথা বলে উঠতে পারে। যদি আপনি চোখের পাতার ঝড় দু'হাতে লুকিয়ে রাখতে পারেন। আপনার অর্জনের চাইতে নির্জন আর কিছুই নয়। একেবারেই মেঘ আসবে না তা বলা যাচ্ছে না। তবে মেঘবালিকাও আসবে জয় সাথে নিয়ে।
বৃষ- আকাশের রঙ যখন নাবিকের মতো নীল হবে তখন আপনি প্রার্থনায় বসবেন। আপনার সমস্ত ভুল নিজের হাতে ধুয়ে দেবেন তুলসীমঞ্চ। ঘুমের ভেতর থেকে উঠে আসবে পাতার কাহিনী, অঙ্কুরোদ্গমের সকাল। প্লাবনের পর যেমন প্রত্যেক অক্ষাংশে আসে মুগ্ধ আলোর দেবীপক্ষ, আপনার ললাটে রেখাহীন বোধিসকাল। আপনি জানবেন স্বয়ং ঈশ্বর আপনার প্রাণের প্রহরী।
মিথুন- এ বছরের শুরুতে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার একটিও আকাশ জেগে নেই, ভোরের বাতাসে আরও শীত হয়ে উঠছে তারারা। প্রতিদিন সকালে সূর্যের গায়ে আপনি ছুঁড়ে দেবেন সাতখানি নক্ষত্র দ্বিধাহীন স্পর্ধায়। ধীরে ধীরে আপনার করতলে সারা দেবে দিঘী, টগরে ঘোরাঘুরি করবে আনমনা আঙুল। এক একটি মথ উড়ে আসবে, ডানায় অচেনা হাসি । জানবেন, জয় সুনিশ্চিত।
কর্কট- বর্ষার সাথে রঙ মিলিয়ে বৃষ্টি রঙ করুন। দেখবেন সব মেঘ একদিন রাজহংস হবে আর সব দৃষ্টির পাখির মতো উদার। বছরের পুরোটাই আপনার অপক্ষা। তবে ম্লান হবেন না। আকাশের অবস্থা ভালো না বুঝলে বৃষ্টিদেবতাকে মোমশিখা নিবেদন করবেন। জোনাকির তীরে দাঁড়ালে নিজেকে পবিত্র লাগবে। হোমের আগুন হামাগুড়ি দেবে আপনার নিঃশ্বাসে। দেখবেন, কোনো দৃশ্যই বাষ্পের মতো আপনার চোখ থেকে উড়ে যাবে না।
সিংহ- এ বছর আপনি সাদা পোশাকের জ্যোৎস্না। যা স্পর্শ করবেন তাই পূর্ণিমা। আপনার মনের যতো ইচ্ছে, এ বছর শস্যপূর্ণ হবে। শীর্ণ শরীরে কোন ম্লানরোদ ঘরের চৌকাঠে এলে, ফেরাবেন না। ধন ধান্য আর উড়ে যাওয়া পাখিদের বেঁধে দেবেন তার শূন্যআঁচলে। আপনার পথ সুগন্ধ হয়ে উঠবে। দেখবেন, বছরের শেষে ব্রহ্মপুত্র কীভাবে যেন আপনার নিজস্ব নদ হয়ে উঠেছে।
কন্যা- দুখরা ফুটবেই। যেন ফুল। কুয়াশা ঘন হয়ে থাকবে আঙুলের বদ্বীপে। চিন্তিত হবেন না। শুদ্ধ আত্মায় প্রতি পূর্ণিমায় শীতলপাটি বিছিয়ে দেবেন নদীতে। রাতের বেলায় এখানে চাঁদের গায়ে বসবে চাঁদ। শঙ্খলাগা ভোর নাম্বে বাতাসে। দেখবেন, শরতের মেঘের মতো পিচকারি ভ্রা বিষাদ উড়ে গেছে চোখ থেকে। আর আপনার ঘর তখন মক্কা-বৃন্দাবন, উল্লসিত বাঁশীর উদ্ভিদ।
তুলা- এ বছর আপনি স্বয়ং ঈশ্বর। আপনার গভীরে পঞ্চম স্তরের সাধনা। আপনার দুই চোখ মহাবৃক্ষের অন্তরজ্যোতি আর চোখের তারায় দিকচক্রবাল। সূর্যরশ্মি আপনাকে ডানা দেবে, আপনি আঁকবেন নদী, আর মরুতীর্থ নিয়ে আসবে নক্ষত্রের জল। এ বছর আপনার তুলির একটি আঁচড়ে মেঘ-বৃষ্টি-রোদ। আকাশের খুদে বালকবালিকার দল একসাথে বুনবে মহাকাশ নক্সাদার। আপনি শুধু একবার হাঁক দেবেন আজানে, হৃদয়ের দরজা খুলে দেবেন ঈসা মসী।
বৃশ্চিক- আতসবাজির আয়োজন থাকবে এ বছর। মশাল জ্বল্বে সন্ধ্যাতারায়, তবু সমস্ত পথ হেঁটে যাওয়া হবে অবসাদের ঝরাপাতায়। চাঁদের অসুখে থমকে যাওয়া চলবে না। ক্যানভাস যখন সাদা তখন আপ্নাকেই হতে হবে পোড়ামাটি। আপনার ভেতরে সেই ক্ষমতা আছে। শুধু প্রয়োজন কোলাহলে জেগে ওঠা কালপুরুষকে শান্ত আর সবুজ-নির্জন বানানো। একদিন উদ্যানের বাঁ দিকে নীলকণ্ঠ ফুটবেই আর এক আশ্চর্য বিভাময় সিঁড়ি, যার শুরু থেকে শেষ আপেলফুলের বিকিরণ।
ধনু- আগুন মুঠো করে রাখা আপনার জন্মগত অভ্যেস। নিবু আকাশে দাবানল জ্বালাতে আপনার জুড়ি নেই। তবে এ বছর আপনি অগাধ সরোবর। অনায়াসে ডিঙিয়ে যাবেন সূর্য। আপনার সদ্য কিশোরের মতো আকাশ, হাতের তালুতে গুনবে পাখি। ঝাড়বাতি সাঁতরাবে মনে, ময়ূরে মিশে যাবে উল্কা আর তার ভেতরে আসন পিঁড়ি প্রদীপ দূর্বাঘাসের অলঙ্কার। এতো বছর যা হয়নি, তাই হবে। আল্লাহ আপনার ইচ্ছে-অনিছছের মূল্য দেবেন।
মকর- সূর্যের নিভে যাওয়া দেখে হতাশ হবেন না। আবার গাছেরা উড়বে সবুজের খোঁজে। হাওয়ার আলখাল্লা উড়িয়ে দেবে মেঘ। আপনার কাঁধে ভর দিয়ে উঠে দাঁড়াবে অন্ধনদী। আপনি দেখবেন, বছরের মাঝামাঝিতে কেমনভাবে দীর্ঘ হচ্ছে সমুদ্র, সমুদ্র ঘন হয়ে আসছে, স্রোতের নিঃশব্দে বাড়ছে স্বপ্নমিছিলের সংখ্যা। আপনি আর উদ্বাস্তু নন, আপনার বসতবাটি এখন ঈশ্বরের ড্রইংকপি। তিনি আঁকছেন মোমরঙে... অই যে মাছরাঙা নদী ঠোঁটে আকাশ নিয়ে উড়ছে ... তার পাশে একটা শাঁখ ... ঘরময় কার রূপোলী রিনিঝিনি
কুম্ভ- এ বছর আপনার মনের যাবতীয় অন্ধকার আ ভয় জমা রাখুন আকাশে। মৃগশিরাকে ভাবুন প্রেয়সী। ব্রহ্মকমল ফুলকে দিন পেখমতোলা নৌকো। আপনার শাখা-প্রশাখা জানুক সমর্পণের বেদ, দ্রুতবেগে আপ্নিও ছড়িয়ে পড়ুন বৃক্ষে, নদীতে। পঞ্চতপার শস্য সংগ্রহ করে নিজের সামনে দাঁড়ান। আত্মার মুখোমুখি হন, আবার ফিরে আসুন নিজ নিকেতনে। দেখবেন সমস্ত বিপদ পায়ের পাতার অনেক নিচে নেমে গ্যাছে। আপনার শিয়রে কবচ আর কুণ্ডল। আপনি সফল পর্যটক। সন্ন্যাসীর রঙ আপনার শরীরে লেগে আছে।
মীন - সমুদ্র বিমুখ হবেন না। জলগন্ধময় এস্রাজ সব সময় রাখবেন সাথে। আপনার মনটি বন্ধক রাখা আছে সকালের সাতসূর্যে। জোয়ার আসে আসুক, তটরেখায় আপনি খুঁজে পাবেন স্বপ্নঘোড়া। নালে জড়ানো সৌভাগ্য শুধু আপনার। সুবোধ-বালিকার মতো বৃষ্টি কখনোই আপনার হাত ছাড়বে না। আপনি যতো এগোবেন, তরলরূপো হাতে এগিয়ে আসবে দিগন্ত। তারামাখানো চাঁদ সাঁতরে আপনি পেরিয়ে যাবেন ... আপনার সামনে এখন আকাশমণি গাছ ... প্রজাপতি আপনার সঠিক মুহূর্ত ...
( ব্লাশ on,প্রকাশিত কলকাতা বইমেলা ২০১৩)
Comments