জ্যোতির্ময় মুখার্জীর কবিতা

এক রাত কবিতা

তখন মাঝ রাত। আর এক প্রহর অপেক্ষার পর ফিকে হবে কালো। ঘরের মধ্যে মেয়েটি একা। আলো এসেছিল সে রাতে। আলুথালু সাজে। রাতের আয়নায় সে চোখ রাখল। হঠাৎ ভালোবেসে ফেলল সে নিজেকেই

চুল বেঁধে আর একটু সাজুগুজু। মায়ের পুরনো শাড়ি জড়িয়ে যুবতী শরীর নতজানু শরীরী ব‍্যাকারণে। সেজে ওঠা রাত একলা আগুনে। এলোচুল ধুয়ে বেদুইন ধুনুচিয়া। ল‍্যাপটপের মসৃণ স্ক্রিনে সেভ হল কিছু প্রাচীনতম পিছুটান

সাবলীল ঝকঝকে শরীর তখন সবেমাত্র আদল ভেঙেছে। হারিয়ে যায় সবটুকুই। হারিয়ে যাওয়া সবটুকুই। কিছুটা লিপিবদ্ধ লিপস্টিক কিছুটা অলস ব্লাউজ। লুকানো রাতের ময়লা। নাভির আশেপাশে আঁকা বাসি সর্বনাশ

মশারি ভেঙে আয়না আদরে হঠাৎ অভিসার। নিজেকে লুকিয়ে খোলা বুকে, পেটে বা ঠোঁটে। লিখে রাখা কৌতূহল বা এঁকে রাখা কিছু ছবি। এই ভাবেই আত্মসমর্পণ শেষে চোখের ভূগোল বা নেতিয়ে যাওয়া শরীর বেয়ে নেমে এসেছিল পুন‍্যিপুকুর

হয়তো গাছেরা কবিতা লেখে এই ভাবেই। হয়তো আকাশের গায়ে তীব্রতর হনন ছুঁয়ে জেগে থাকে রাত পেঁচা। মেয়েটি টের পায়নি। মেয়েটি টের পায়নি কখন সে নিজেই নিজের শরীরে লিখে ফেলেছিল এক রাত কবিতা

© অপাংক্তেয়

(‘সৃজন’-এ প্রকাশিত, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮)

Comments

Popular posts from this blog

মহায়ণ

মরণ vs যৌনতা

আনা কড়া গন্ডা ক্রান্তি