ভাবনার আঁচড়ে বোনা শব্দের জালে

কিছু ভাবনা - কিছু শব্দ @ রাজেন্দ্র
--------------------------

কবিতা ব্যাপারটাই আমার কাছে ভারী গোলমেলে একটা ব্যাপার ।

ছোটবেলা থেকেই যেগুলো পড়ে বড়ো হয়েছি, সেগুলো হয় ছন্দে মিল নয় অন্ত্যে মিল নয়তো দুটোই আছে এমন ।

এরপর নিজের মনের কিছু কথা লেখার ইচ্ছে হলে দেখলাম কত মানুষ কত কিছু বলে দিচ্ছেন । আর অধিকাংশরাই বিশেষ পাত্তা দিচ্ছেন না ।

ভাবখানা এমন যেন বিভিন্ন বানিজ্যিক পত্র পত্রিকা আর লিটিল ম্যাগাজিনের সম্পাদক, আবৃত্তিকার (বাচিক শিল্পী) আর কবিতা লেখকেরাই নির্ধারন করে দেবেন, কোনটা কবিতা হলো আর কোনটা হলো না ।

আর এরা তো সকলেই স্ব স্ব ক্ষেত্রে বিদগ্ধ (বিশেষ রকম ভাবে দগ্ধ বা পোড়া) এব প্রায় সকলেই সমালোচনার ক্ষমতায় এবং কাব্য প্রতিভায় নোবেল পদক পাওয়ার সমতুল্য ।

আমি ভেবে দেখলাম, আমি একজন সাদামাটা ছোটোখাটো সরকারী আমলা । কবিতার চাষ করতে চাই । কবিতা পড়তে ভালো লাগে । অথচ কোনটা কবিতা, সেটা এখনো বুঝে উঠতেই পারি না ।

কবিতা লিখে দেশ আর সমাজ উদ্ধার করতে তো আমি আসিনি । আমার যা খুশী মনে চায়, প্রাণে চায় আমি লিখবো ।

আর তা কবিতা হলো নাকি কাঁচকলা, তাই নিয়েও আমার কোনও মাথাব্যথা নেই ।

সুতরাং যাহান্নামে যাক সব ঝাঁটের কবিতা তাত্ত্বিকের দল । আমি আমার মতো করে লিখবো । নিজের মতো করে নিয়ম বানাবো খেয়াল খুশী মতন ।

দুই আর দুই চার বলেই যারা এতকাল মেনেছে, তারা মানুক । আমার লেখায় আমি যা মন চায় আনবো । ভাঙবো, নির্মান করবো ।

তাতে কার বাপের কি খোয়া যাবে ? কি ছেঁড়া যাবে ?

সুতরাং আজ থেকে _ এই মুহূর্ত থেকে সব নিয়মের ক্যাঁতায় আগুন দিলাম ।

কাউকে মাথার দিব্যি দিচ্ছিনা আমার এই ভাটের লেখা পড়বার । যদি কেউ ভুল করেও পড়ে ফেলেন, যা মনে আসে তাই বলে দেবেন অনুগ্রহ করে । মনের ভিতর চেপে রেখে বুকে পেটে গ্যাস অম্বল চোঁয়া ঢেঁকুর জমতে দেবেন না ।

------------------------------
মূল লেখা শুরুর আগে কিছু জরুরী কথাঃ-
------------------------------

যারা কবিতায় একেবারে প্রথম লিখতে আসছে, এ কথা কটি অবশ্যই তাদের মনে রাখা উচিত।

ক) পত্রিকায় ছাপা-না-ছাপা নিয়ে একদম মাথা না ঘামানো।

খ) কবিতা লেখা যাবজ্জীবন ধরে চলা একটি প্রক্রিয়া, দু-দিনে বিখ্যাত হওয়ার চেষ্টা করে কোন লাভ নেই।

গ) লেখার চেয়ে পড়াটা আরও বেশি জরুরী।একাডেমিক পড়াশোনা সম্বল করে চাকরি হতে পারে, কবিতা রচনা সম্ভব নয়।

ঘ) শুরুতে কোন বড় কবির / কবিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতায় না-জড়ানোই ভালো। এতে প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা মারাত্মক। বড় কবি বা পত্রিকা অনেক সময় তরুণ কবিদের নিজস্বতাকে গ্রাস করে। কবিতার তো গুরু নেই, তাই শিষ্য হয়ে লাভ কি!

ঙ)চেষ্টা করলেই কেউ কবি হয় না, কবি জন্ম নেয়। আমরা যারা কবিতা চর্চা করি, তাদের কাজ আমাদের ভিতরে সেই জন্মের বীজ আছে কি না তা খুঁজে চলা। যা নেই তার খোঁজ কী ভাবে পাব! থাকলে একদিন নিশ্চয়ই পাব। কবে? কেউ জানে না।

চ) কাউকে ধরে, তোষামোদী করে কবিতা ছাপানোর চেষ্টা কদাচিৎ করা। কী হবে এভাবে কবিতা ছাপিয়ে? পৃথিবীর ইতিহাসে এমন কবিদের কোন স্থান নেই। কাউকে ইম্প্রেস করার জন্য, বা কালচারাল মানুষ হিসেবে লোকের সামনে তুলে ধরার জন্য আরও অনেক রাস্তা আছে; সমাজসেবা করা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা, টাকা রোজগার করা। সেগুলি করলেই হয়।ভণ্ডামি করে কবিতা ছাপিয়ে কোন লাভ নেই।কারণ অসৎ কাব্য দিয়ে সৎ মানুষকে বেশিদিন ভোলানো যায় না।

ছ) কবিতা লিখে যদি নিজে আনন্দ পাও তবেই লিখো, অন্যকে আনন্দ দেওয়ার জন্য কবিতা লিখতে যেও না। কবিতা কোন এন্টারটেইনার মাত্র নয়; আত্ম আবিষ্কারের মাধ্যম। তাই নিজেকে আবিষ্কার করার জন্যই লেখো।

জ) কবিতা লিখতে হলে আত্ম ধ্বংসের আনন্দে উন্মন হতে পারার সাহস চাই এবং এটিই সবচেয়ে বড় শর্ত। আত্ম ধ্বংসের ক্ষমতা না থাকলে আত্ম গঠনের অধিকার জন্মে না।

ঝ) মনে রাখা, এ পথ সকলের নয়, তারপর এ পথে আসা।

ঞ) কারো মতো করে নয়, নিজের মতো করে নিজের ভাবনায় নিমজ্জিত হয়ে নিজের শব্দে পাতায় আঁচড় কাটো। কবিতার বা ভাবনার ভালো খারাপ হয় না। তারতম্য হয় শুধু প্রকাশভঙ্গিমা ও শব্দচয়নের । কে কোন ছন্দ লয় তাল মাত্রা ধরবে, বা কে কিছুই ধরবে না, এটা সেই কবিতা লেখকের নিজস্ব বিষয়। পাঠকের ভালো লাগলে পড়বে, নয়তো ছাইভস্ম বলে ছুঁড়ে ফেলে দেবে।

#########################

আমি নিজের মতো করে কিছু লাইন লিখেছি এখানে । এগুলো কবিতা না অকবিতা তার বিচার পাঠকের । আমার ভাবা আর সেই মতো লেখাই কাজ । আমি সেটাই করে চলেছি । ফলাফলের আশা ভরসা প্রত্যাশা নেই । নেই ছাপিয়ে প্রচারের ইচ্ছে । এগুলো শুধু আমার বাছাই করা একান্ত অবসরের কিছু মুহূর্তের কোলাজ শব্দের আকরে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা মাত্র । তার বেশী কিছু নয় ।

##########################

অ্যাসাইলামে সন্ধ্যা নামে @ রাজেন্দ্র
--------------------------

-------------
অসীমের ঠিকানা
-------------
সব নদীই বুকের উপর দিয়ে একলা বয়ে যায়
যখন নশ্বর দেহ নিরক্ষরেখা ধরে হেঁটে চলে
আর ফুলে ওঠে চোখের কোণ বাষ্পীয় সোহাগে

কাঁটাতার মাড়িয়ে কৃষ্ণগহ্বরের পথে
এগিয়ে চলে মন আমার বারবার
অফুরান অসীমের ঠিকানায়

--------------
ভাবনার কাটাকুটি
--------------
(এক এক্কে এক)

Far away, crossing the boundary of imagination, my love ushers in the horizon of darkness. However the travesty of injustice is still going on with no temptation attached.

(দুই এক্কে দুই)

মরার পর পোকার মত হেঁটে যাবে আমার শরীর, পা দুটো তখন হবে রেল লাইনের মতো । খাটিয়ার চার কোণা ধরে থাকবে চারজনের আটখানা পা । পোকা আর মানুষের নীরব সাম্য জন্ম নেবে । আকাশের নীচে প্রতিষ্ঠা হবে অন্তিম সমতাবোধের ।

(তিন এক্কে তিন)

চন্ডীপুরের ব্রীজ ভেঙেছে কাল রাতে, দাশুর মুখে খবর পেলাম । সরকারী ছাড়পত্রের তোয়াক্কা করেনি নদীর জল । প্রবল স্রোতে ভেসে গেছে শ'খানেক গ্রাম, রেয়াত করেনি কাউকে । সব দলের স্থানীয় কর্মীরাও পায়নি পার । কি করে পাবে ? কেনই বা পাবে ? নদী তো আর আম জনতার নির্বাচিত প্রতিনিধি নয় । ভোটব্যাঙ্কের তুষ্টির বালাই নেই তার, নিজের তালে, আপন চালে, চলবে সে স্বকীয় রেলায়, উদাসীন অবহেলায় । সে তার এলাকার রাণী, যেধার দিয়ে বইবে, দুকুল ছেপে ফুলবে । যদি কেউ বাঁধে বাসা তার কোলে, তার কি কিছু আসে যায় তাতে ? কথার স্তাবকতা বালির বাঁধের মতো, জল ঢেলে দিলেই ধুয়ে যায় । মূর্খ নেতারা বুঝবে কবে আর, অভাবী দুনিয়া কী পায় আর কী হারায় ?

(চার এক্কে চার)

অনেককিছুই আমরা মনে রাখি না, মনে রাখতেও চাই না, তবুও হিসেব কষি বাজারের ফর্দ হাতে । আর অতি সন্তর্পণে, সবার অলক্ষ্যে, নিজেকেও আড়াল করি, মুছে ফেলি চোখের জল । বাজারদর বেড়েই চলে, বাড়ে টুকিটাকি ধারদেনা । কপালের ভাঁজ স্থায়ী হয় দুশ্চিন্তা বেড়ে । পরিচিতদের এড়িয়ে যাই, জানাই নিজেকে শুকনো সান্ত্বনা ।

(পাঁচ এক্কে পাঁচ)

কাকভোরে এ্যালার্ম বাজলো । আমার তো ঘুম ভাঙলোই, জেগে গেল বাড়ির সকলে । ভোরে ওঠার অভ্যেস নেই একটুও । তাও উঠতে হলো সকলকেই । উঠতে হয়, শাসনের খাঁড়া নেমে এলে, প্রাণের দায়ে জাগতে হয় । ঘুম হোক, ছাই না হোক, অফিস কাছারী দৌড়তে হয় । দাবী, প্রতিবাদে হারতে হয়, ছাই হয়ে উড়তে হয় । গণতন্ত্রের এঁটো মুখে, মুখোশ এঁটে চলতে হয় ।

(ছয় এক্কে ছয়)

অসহায় মন এখন নিরুপায়, ধাক্কা মেরে চলেছে ক্রমাগত । টলমল করছে আবেগ, গামলার কানা ভর্তি জলের মতো । যে কোনও সময়ে তা গড়িয়ে পড়বে ভরা বর্ষায়, মিশে যাবে মশার ডিম ভরা নর্দমায় । নতুন জল আন্দোলন তুলে ঢুকছে ঘরে ঘরে, যখন ফিরে যাবে, রেখে যাবে শুধু একরাশ কাদা আর কাঁচা ড্রেনের পাঁকে থমকে যাবে ছলকানো আবেগের ভীড় । বাঁধ ভাঙা বানভাসি মন, সহায়-সম্বলহীন, অশান্ত অস্থির ।

(সাত এক্কে সাত)

নকল করতে ভালোবাসি আমি, অভিনয়ে জয় করি মন । নিজেকে একটুও অপরাধী মনে হয়নি মুহূর্তকালের জন্যেও । সজ্ঞানে এড়িয়ে গেছি সবকিছু । খাসা অভিনয় করেছি ভালো মানুষের, মন থেকে প্রতিজ্ঞা করিনি কখনো ভালো মানুষ হওয়ার । আজকাল আমি হাসিটাও করি নকল, জানি হাসির আড়ালেই আছে দুনিয়া ঠকানোর কারবার ।

(আট এক্কে আট)

তুমি তো জানোই আমার অলসতার কথা । তোমার তিলগুলো, আমার অলসতার সাথে জড়াজড়ি করে ঘুমায়, যখন মেঘেরা এসে ভিড় করে, আমার বিছানার চাদরে । আজ অনেকদিন পরে, তোমার ঐ কালো তিলগুলোকে জড়িয়ে ধরে, আমি চুমু খেলাম, রাতভর পৃথিবীর সমস্ত আলোকে আড়াল করে ।

(নয় এক্কে নয়)

চড়াই এর চাহনি নিয়ে এক পা, দুই পা ফেলে, পথ খুঁটে খুঁটে চলি । মনে মনে কাঠবেড়ালীর মতো পুষে রাখি ভয় আর অগুনতি সংশয় । সাপের পাল্লায় কেই বা পড়তে চায় অকারণ ? শিকারীর জালে ধরা পড়ছে প্রতিদিন কেউ না কেউ । ক্ষমতার গন্ধ আর স্বাদ নেতাদের বাঁচতে শেখায় নতুন করে । কেমন হতো, যদি ভোট চাইতে আসা ভিখারীর বাচ্চা গুলোও বাঁচতো এমন করে ?

(দশ এক্কে দশ)

ভালো নেই আমরা কেউ । তবুও, ভালো থাকার কথা মুখে বলি প্রতিবার, হাসি হাসি মুখ করে । আমরা সবাই পরে আছি একটা করে হাসিমুখো মুখোশ । সম্ভব হলে কালো চশমা দিয়ে চোখটাও ঢেকে রাখি ।

(এগারো এক্কে এগারো)

এখন শুধু পড়ে আছে প্রোফাইল পিকচারের আলোটুকু, সামনে আর পিছনে জমাট বাঁধা অন্ধকার । চলার পথে গাড়ি উল্টানো গর্তগুলো ড্যাব্ ড্যাব্ করে চেয়ে, কখন আসবে আবার গাড়ি সওয়ার শিকার, ছিনিয়ে নেবে বুকের ধ্বক্ধকানি যমদূতের মতো । ভেবেছি অনেকবার, ইহকালে নয়, পরকালে হবেই দেখা একবার । প্রশ্নগুলো জমিয়ে ফাইলবন্দী করে তুলে রাখলাম সবকিছু, ব্লগারের ব্লগে, যা কিছু ছিল জানবার ।

---------------
হ্যালুসিনেশন - এক
---------------
লুটিয়ে পড়া চাঁদের আলোয়
ঢেউ ভাঙা ভেজা বালির নীচে
ঘুমিয়ে ছিলো বহুধা বিভাজিত
আধা অসংযমী মনের স্বাধীনতা

একটানা দীর্ঘশ্বাসে বেপরোয়া
পরকীয়া মহুয়ার রসে উত্তাল
জারিত সুখে ভেসে উঠলেন
মাইকেল অ্যাঞ্জেলো

আর মুখ বুঁজে নীরবে
উই কাদা মাখা প্রস্তর দেহ
কাটতে লাগলেন যখন তখন

---------------
হ্যালুসিনেশন - দুই
---------------
মাছের আঁশেরাও
কানে কানে কথা বলে

তেতে ওঠে রোদ্দুরে
হিলহিলে সাপেরা

দরাদরি করে এক জাত
অন্য জাতের দাম

কুয়াশায় ঘাসে
আড়মোড়া ভাঙে নদী

পায়ে পায়ে ঝগড়াতে
এ দেশের মানুষ
মানুষ খানকীর সমান

---------------
হ্যালুসিনেশন - তিন
---------------
গন্ধেরা আনাচে কানাচে বসে
অপেক্ষায় আবহমান

এক টুকরো মাছ বেশী পেলে
গলির নেড়ি মাদীর লেজ
নড়তেই থাকে

বোঁটকা গন্ধে উড়ে যায় চিল
শকুন খাওয়া প্রাণ

গত রাতে এক টুকরো মাছ
বেশী খাওয়া আর না খাওয়া নিয়ে
কুকুর বিড়ালের লড়াই জমেছিলো বেশ

৫০ টাকার পিস্ খাওয়া ভালো
নাকি
অ্যান্টিবায়োটিক চুষে খাওয়াটাই
সবচেয়ে খাসা বদ অভ্যেস

এ নিয়ে আর কথা বলতে চাইনা

তবে ঘেন্না ধরে গেছে
ছাই পোড়া এই ঝাঁটের সংসারে

বুড়ো শকুনের মত
মড়া খুঁটে খাওয়ার তাগিদে
কেন জানিনা বেঁচে আছি
এই পোড়ামাটির দেশে

যেমন করে বেঁচে আছে ছিনে জোঁকেরা
গরম রক্ত চুষে নেওয়ার অপেক্ষায়

-------
৩৪ ডিগ্রী
-------
৩৪ ডিগ্রীর আধ পোড়া সিগারেট সকালে
কাশফুল ধোওয়া টলোমলো বন্যার জল
নেমে গেছে নদীর কোলে বিনা নুপূর পায়

ফুটে উঠেছে ফোঁটা ফোঁটা ঘাম
ঢাকীর তালু রেখায় আর
নাকের সেঁটে বসা চশমায়

রেলগাড়ির টয়লেটের দেওয়ালে সাঁটা
সিকিউরিটি হেল্পলাইন নম্বরখানা
মূর্তির বুকের খাঁজে আর
শাড়ি গয়না আঁচলের ভাঁজে
বেমালুম ঝাপসা হয়ে যায়

--------
পেটমোটা
-------
ছুটন্ত ট্রেনের দুলতে থাকা কামরায়
ভিখারিনী এসে হেঁকে ডেকে বলে যায় -

" এখানে হেলান দিয়ে বসে আছে যারা
একশব্দে প্রায় সকলেই 'পেটমোটা" তারা

ব্যাঙ্কে জমিয়ে রেখেছে তারা কত শত নোট "

কারখানায় তালা বন্ধের বছরে
বুদ্ধিমান মুকুলেরা ঝরে পড়লেও
রোজ দশ'টা পুজোর ফিতে
দিদির হাতে কাটা হয়

আর লক্ষ্যে থাকে
শুধু সংখ্যালঘু ভোট

------
সরীসৃপ
------
আমার না করা অবহেলার তর্পণে
মেখে থাকেনা সমুদ্রের নোনা নীল রঙ

খসে পড়া খোল খোসা আর
নিংড়ানো তেলের ঝাঁঝেও
সমস্ত দিনের ভাবনারা
হারিয়ে যাওয়া ফেনার মতো
পথ ভুলে ভেসে যায়

আমবাগানের মেঠো রাস্তা বেয়ে
কুরে কুরে ভেসে আসে
অবিন্যস্ত ঝিঁঝিদের ডাক

অনভ্যস্তদের পায়ে চলার খসখস
মনে পড়ায় ঘন সরষে ফুলের স্বাদ

ক্ষয়াটে শুকনো চাঁদের চারপাশে
মরা খাদে কাঠ হয়ে শুয়ে থাকে
ছোট বড় সরীসৃপ আঁশেরা

ওদের ঘাম শুধু ক্লান্ত করে মগজ
আর শ্রান্ত করে রতির আবেগ

চরম মুহূর্তে ছিটকে বের হয়ে আসে তারা
পরম ঘনত্বের গাঢ় আবেশ ভেঙে

ফেটে যাওয়া নিরোধ সন্তানের
অবাধ্য "না" বলা ইচ্ছের অধিকারকে
তছনছ করে

------------------
তবে জেনে রাখা ভালো
------------------
মেরুদন্ডহীন আত্মসুখী গোলাম কাঁকড়া যদি হঠাৎ কাছা খুলে স্বাধীন হয় আর শিয়ালেরা যদি পায় তাদের কামড়ে চুষে ছিবড়ে করে খাওয়ার
একচ্ছত্র অধিকার তবে জেনে রাখা ভালো সেই হতভাগ্য পানা পুকুরটা আসলে তোমার আমার সকলের একলা ডুবে মরবার ভারতবর্ষ ।

গূহ্যদ্বারের কৃমিরা যখন খুশী তখন এবং যাকে খুশী তাকে চুলকানোর অভিপ্রায়ে যখন একতরফা সংবিধানের অধিকার ভোগ করে আর অনাহারে আধপেটা খেয়ে গেঁড়ি গুগলি শাপলা কচু ঘেঁচু খুঁজে মরে আধা উলঙ্গ ছেলেমেয়েরা তবে জেনে রাখা ভালো সেই ডাকিনীর জঙ্গলটাই তোমার আমার অসহায় ভারতবর্ষ ।

বিদেশীদের হয়ে দালালির দেশভাগে লুঠেরাদের ক্ষমতা দখল এবং বংশ পরম্পরায় শোষণ আর গুন্ডামিকে অতঃপর মেনে নেওয়া আমরা তাদের পাছায় বুড়ো আঙুলের ছাপ দিয়ে চলেছি দশকের পর দশক বিনা দ্বিধায় বিনা প্রশ্নে ।

আধপেটা খেয়েও মুখ বুঁজে ঝিমিয়ে থাকি আমরা । কাজ না পেলেও রোজগার না থাকলেও বন্যায় ডুবে মরে গেলেও ভেসে উঠে পচে গলে কাক শকুনের খাবার যোগাই । কিন্তু ভোটটা সময় করে দিতে একবারও ভুলি না । ঐ দিনটা শাসক দলের মন যোগালে ভালো নয়ত ছাপ্পা ভোটকেই হাসিমুখে বরণ করে নিই ।

প্রতি পাঁচ বছরে একবার কোটিপতি বড়লোক নেতারা একদিনের জন্যে গরীব সেজে ভোট ভিক্ষায় পথে নামেন । রোদে পোড়েন । জলেও ভেজেন । মাটির ঘরে ঢুকে মুড়ি বাতাসা খান । হাঁচেন কাশেন খোলা মাঠে হাগেন বাতকর্ম করেন । কারণ দেশ আমার মহান । আমার নেতা নেত্রীরা কেউ আম আদমী সাধারণ নন, তারা ভগবান ।

যাঁতাকলে আমাদের মগজ ধোলাই করে দালালদের কেউ হয়ে ওঠেন দেশ-জাতির জনক, কেউ বা চাচা, কেউ আম্মা, কেউ পিসি কেউ ভাতিজা । আর দেশের জন্যে যাবজ্জীবন জেল খেটে প্রাণ দেওয়া বিপ্লবীরা পেনশনের টাকার খোঁজে দপ্তরে দপ্তরে দৌড়ে ঘুরে মরেন । বিনা চিকিৎসায় মারা যান । আর আমরা তাদের অবদান ভুলে গরু শুয়োর খাওয়া নিয়ে লড়তে থাকি । যারা খেতে পড়তে ঘুমোতে দেবেনা, তাদের নামে জয়ধ্বনি দেই ।

হায় রে আমার দেড়শো কোটির অভাগা ভারতবর্ষ । দেশ ভাগ করে স্বাধীনতা পেয়েও শান্তি নেই । ভাগের মা'কে তারকাঁটার বেড়া দিয়ে বেঁধেও শান্তি নেই । কাগুজে স্বাধীনতা এখন সত্তর বছরের থুরথুরে জরাজীর্ণ বৃদ্ধ । সীমান্ত সুরক্ষার পিছনেই চলে যাচ্ছে দেশের প্রায় সমস্ত রাজস্ব ।

স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রযুক্তি গবেষণায় কতখানি এগোলাম বা পিছোলাম, তার হিসেব তো গুগলই বলে দেবে । পণপ্রথা বধূনির্যাতন কন্যাভ্রূণ হত্যা ধর্ষণ খুনের হিসেবও হয়তো রাজ্য ধরে জেনে নেব । কিন্তু একটা প্রশ্নের উত্তর কি জানা যাবে ? বলে দেবেন কেউ ? আমরা কিসের স্বাধীনতা পেলাম ? কতখানি পেলাম ?

না না । এখন আবার সংবিধান দেখে কপি পেস্ট মারাতে যাবেন না যেন । সেটা তো এই অধমটাও পারবে । উত্তরটা আপনি আপনার মন থেকেই বলুন তো দেখি । একবার তো বই ছাড়া নিজের মতো করে ভেবে জবাব টা দিন ।

আর যদি তা না পারেন, তবে ঐ হারামিদের পাছায় আদি অনন্তকাল ধরে বুড়ো আঙুলের ছাপ্পা মারতে থাকুন । আর বলতে থাকুন, "বন্দে মাতরম্" । স্যরি, একটু ভুল হয়ে গেলো । বলুন, "কমরেডস্, বিপ্লব দীর্ঘজীবি হোক্ । ওহ্ নো । আবার ভুল বলে ফেললাম । বলুন, "জয় শ্রী রাম" ।

পুনশ্চঃ- (বলতে ভুলে গেছিলাম) আগামীকাল আমাদের স্বাধীন বৃদ্ধা ভারতমাতা সত্তর বছর পূর্ণ করবেন । আপনারা অবশ্যই আর বাকি বছর গুলোতে যেমন করে (একটা ছুটির দিনে যা যা করা সম্ভব) এই দিনটি কাটিয়ে এসেছেন, তেমন করেই দিনটি যাপন করবেন ।

বেশি ইমোশনাল হবার কিছু নেই । এই দেশটার জল মাটি আকাশ বাতাস পাহাড় পর্বত সমুদ্র মরুভূমি - সবটাই বিক্রি হয়ে যাবে আগামী দিনে । আর আমরা বা আমাদের পরবর্তী আগামী প্রজন্মেরা উদ্বাস্তু হয়ে আবার ক্রীতদাসের মতো বাঁচবো । এটাই মেরুদন্ডহীন আত্মসুখী গোলাম কাঁকড়া জাতির একমাত্র নিয়তি । সকলে জাতির জনকের ভাষায় তিন বাঁদর সেজে চুপচাপ নীরবতা পালন করুন । আর মনে মনে বলুন,  " জয় শ্রী রাম । হুপ্ হুপ্ !!! "

------
কসমিক
------
অনন্ত মহাকাশের নক্ষত্রমালায়
শিবানীর একান্ত আপন তানপুরায়
বেজে চলেছে কসমিক সুর

বুকের গভীরে বিনা আকর্ষণে
ঘুরেই চলেছে ওজনশূন্য অর্বাচীন পৃথিবী

মাটি খুঁড়ে জলের গভীরে খুঁজে ফেরা ব্রহ্মান্ড
দুই হাতের তালু মেলে আঁকড়ে ধরে জীবন

আর জ্বলে ওঠে
সর্বনাশী পরমাণু ভালোবাসারা
একে একে চকমকি পাথরে

-----------------
কথা শহরের কথকতায়
-----------------
কথা শহরের কথকতায়
নোঙর ফেলতে ভুলে যায়
একান্ত নিভৃত স্তব্ধতা

আজও বুকপকেট আর নোটবুকে
আগলে রাখি বেপরোয়া অযথা
কথাহীন সমস্ত ব্যথা

তবুও ভেসে আসে
কলপাড়ে কথার কোলাহল
বন্দরের অন্দরমহল জুড়ে

-----------
কাক-জোছনা
-----------
ইচ্ছেরা কাক-জোছনায়
শেকড়ে ভাঙছে আঁধার
ব্যাঙ ডাকা ভোরের
ঢেউ খেলা তোড়জোড়ে

জমাটি দুধের
পুরু সরের স্তরে
বারবার নিটোল ভাঁজ পড়ে
অসময়ের নিকোনো
কপাল জুড়ে

-------
কাটাকুটি
-------
অসময়ের ঘোরে
বেঘোর পায়ে
ঘিরে রাখা আলতার
আলতো পরশে
স্বপ্নে বিভোর ঠোঁটেরা
বিস্তর মাপকাঠি মেনে
কাটাকুটি খেলে
বুড়ো কলম্বাসের সাথে
পথ হারা নাবিকের
ভাঙা কম্পাস হাতে
ভোর রাতে

--------
ওজন শূন্য
--------
লাটিম প্যাঁচানো সমুদ্র মন্থনের ছায়া
পাক খায় শেষনাগের অনন্ত গভীরে

বুকের গভীরে গভীরান্তরে
ওজন হারায় গ্রহেরা

আমরা সকলেই
কমবেশী স্বজন হারানো
ওজনশূন্য বাস্তুহারা

---------
সোহাগী চাঁদ
---------
ক্লান্ত দিনের শেষে
অবচেতন বই খাতার ভাঁজে
যখন চুপটি করে নীরবে
নত হই একান্ত স্তব্ধতায়

আর তোমার ছবি আঁকি
অবগুন্ঠন তুলে মনে মনে
গাঢ় ঘন নিবিড় প্রশান্ত গভীরে
কাজল কালো হরিণীর
চোখের পাতায়

তোমার সুরেলা সুরে
ভেসে আসা এলাচ দারুচিনি
আর নাভি থেকে ভেসে আসা
ছাতিমের সুবাস
গোলাপের পাপড়ির মত
স্নাত হয় পশ্চিমের সূর্যে
রক্তিম আভায়

আর একে একে নিঃশব্দে
ফুটে ওঠে বিন্দু বিন্দু ভালোবাসারা
রাতজাগা ভোরের রজনীগন্ধায়

যেমন করে
শিশির মাখে শিউলিরা
হেমন্তের ভেজা সবুজ
ঘাসের মাথায়

আর রূপকথারা জেগে ওঠে
একে একে বার বার
মায়াজাদুর পরশে
হাস্নুহানা ডালিমের
আলিঙ্গন অপেক্ষায়

তেমন করেই
একেবারে হারিয়ে যাবো
তোমার সুবাসিত চন্দনে
ঘামের বিন্দুতে বিন্দুতে

আর ভেসে উঠবে
একাকী সোহাগী চাঁদ
ভরিয়ে অনন্ত আকাশ
তারায় তারায়

-----------
তুমি কার নেতা
-----------
অবনত হও

আরো নত হও

আর উটপাখির মতো
মুখ তুলে গট গট করে হেঁটো না

সহজ সরল বিশ্বাস ভাঙানো
ভুল পথে চালিত করা
হাব ভাব দেখানো নেতা তুমি

ভুলে যেওনা

একটা ক্ষয়াটে হলুদ চাঁদের
মরে যাওয়া অন্ধকার আলোয়
আবছা আপাতঃ দৃশ্যমান
সংগঠনের অংশের
আংশিক ছায়া তুমি

বটবৃক্ষ নও

নও তুমি জল মাটি বাতাস

নও তুমি বেঁচে থাকার
একমাত্র রসদ

তোমার কাজকর্মেরাও
তোমার মতই স্বার্থপর
আর তোমার মতোই একান্ত আপন

সহজ স্বাভাবিক ভাবেই
আখেরটুকু গুছিয়ে নেওয়া
রসটুকু নিংড়ে নেওয়া

একে তাকে ধরে
অপরকে বঞ্চিত করে

ছলে বলে কৌশলে

ঘরের কাছে যে কোন ভাবে
কঠিন আঠার মতো টিঁকে যাওয়া

তোমাকে ঘৃণা করে "ছিঃ" বলে
থুতু ফেলি নেতা

ছিঃ

লজ্জা করেনা তোমার
নিজেকে নেতা বলতে

মনে মুখে বিপরীত মেরু হতে

তোমার কথা ভাবলেই
কেন ঘৃণা হয় আমার

কেন বমির ফোয়ারা
উঠে আসে মুখে

আর কিছু লিখলেই দেখি
জ্বালা ধরে তোমার মত
বাদবাকী নেতাদের
বরফ শীতল
"মুরোদ" হীন বুকে

আর কতকাল গ্যাঁট হয়ে
কুনোব্যাঙের মতো ঘরে বসে
ঘরের খেয়ে রাজনীতির মোষ তাড়াবে

তুমি তো আসলে একটা চরম ধান্দাবাজ

শুধুই তো একে ওকে তাকে
হাতে পায়ে বা অন্যকোথাও ধরে
নিজের পিঠ বাঁচাও

এবার তো আর নিস্তার নেই তোমার
আর তোমার মত বাদ বাকী নেতার

হাড়ে হাড়ে চিনে ফেলছি
তোমার মুখোশধারী স্বরূপ আমরাও

এখন যেমন করেই হোক
সম্ভব হলে আয়নার সামনে বসে
নিজের নোংরা মুখটা পাল্টাও

-------
"এহ বাহ্য"
-------
পরিধি বলয়
ছোট হতে হতে

বিন্দুর শেষ সীমানায়
মিশে যেতে যেতে

এখন এসে আটকে গেছি
সীমানার এই পাড়ে
আকাশের কোণে
হলুদ ঘাসের মাথায়

যেখানে রোজ বার বার
আমার ছোট ছেলেটা
পূর্ণিমার জোছনা মেখে
অপলক চোখে তাকায়

জমি বাড়ি
ঘটি বাটি পুকুর ফেলে
পালিয়ে চলে আসাটা
বোধকরি ভুল ছিলো

অনেক যুগ ধরে
জমে থাকা পলিমাটির রঙে
আর ঘ্রাণে ভালোবাসারা
শিশির ছুঁয়ে নেমে এসেছিলো

কিন্তু
বাঁচার লড়াই আর
টিকে থাকার অফুরাণ জেদ
গতসু হয়েছে আগেই

কে কত ফায়দা পাবে
তার হিসেবও হয়ে গেছে
ক্ষমতার রাজপাট ভাগেই

চশমা সেঁটে
বোকা বাক্সের সামনে
মিডিয়ার সেক্যুলার বিশ্লেষণে
কলম ঝেড়ে তারিফ করেছি
আহা রে বাবা রে করেই

"সত্যি সেলুকাস্
কি বিচিত্র এই দেশ"

এখনো অনেকেই
কাঁটাতার ছিঁড়ে
দুই বাংলা জুড়ে দেওয়ার
অলীক স্বপ্নে বুঁদ

তবুও এই পারের বাঙালীদের
দেখিয়ে দিলো ঐ পারের
মৌলবাদীরা

কেমন করে রাতের আঁধারে
চুপিচুপি ভাঙতে হয় মন্দির

আর কেমন করে
সেক্যুলার আমরা
ভেজা চোখে মুখ লুকিয়ে
খুঁটে খাব ভাঙা খুদ

এক বাবরি নিয়েই
কত লাফালাফি চলেছিলো
এখানে সেখানে
বুদ্ধিজীবি আবেগিদের

তবে এখনও কেন
তাদের সবার মুখে কুলুপ
তা জানতে ইচ্ছে করে

ধর্মের পাগলামো কেমন করে
অমানুষ করে তোলে
মন্দির আর মূর্তি ভাঙায়

রোজকার প্রতিবেশিকে
ধর্মাচরণে বার বার বাধা দেয়
দেখতে ইচ্ছে করে

আর শেষমেষ
আবেগের গামছা গলায় বেঁধে
ডুবে মরে যেতে ইচ্ছে করে

কেউ বা বলতে পারেন
ঐ বাংলা যে
এখন আর তোমার নয়

তবে কেন এত কিছু
এসে যায় আমার

কথাটা কি তবে শুধুই
আমার এবং তোমার

তবুও যে জানতে ইচ্ছে করে
কি ভাবছে আমার
ধর্মনিরপেক্ষ দেশের
ভোটবাক্সখেকো লোভীরা

বার বার হাতছানি দেয়
অসহায় একঘরে
হেরে যাওয়া ঐ পারের
বাঙালী সংখ্যালঘুরা

ডেকে দেখাতে চায়
চোখের জলের
না মোছানো নুন সাদা দাগ

যেখানে মাঝে মাঝেই
নোনা জলের জোয়ার
ছুটে আসে

আর ডুবে হারিয়ে যায়
কলমের শব্দেরা

দেখতে থাকি পড়তে থাকি
খবর খাওয়ানো বাজারি পত্রিকা

জানতে পারিনা লুকিয়ে রাখা
ইচ্ছে করে চেপে রাখা
না লেখা ইতিহাস

এখন ক্রমাগতঃ বিলুপ্তির পথে
জমে থাকা শত কোটি দীর্ঘশ্বাস

চোখে ভাসে
তরবারির আঘাতে মুন্ডহীন
পোকা আর মাছি বসা
না শুকানো পচা গলা
দেহের ভাইয়েরা

জানি
একমাত্র যন্ত্রণা বুঝবে
সন্তান আর লজ্জা হারানো
অতীত বাংলার
বাপ বোন মায়েরা

----------------
ভালোবাসার উপপাদ্য
----------------
ভালোবাসার উপপাদ্যগুলো একে একে
কতখানি স্বচ্ছতার সাথে
স্কেল পেনসিল চাঁদা ফেলে
কাটাকুটি খেলতে খেলতে
ভাবনার গভীরে উপগত হয়ে
এক একটা চতুর্দশপদী কবিতার অন্তরে
যেমন করে দ্রবীভূত হয়েছে
তার হিসাব পান সিগারেট খৈনীতে ভরা
গাছের জ্যামিতিক হিসেবের সংসারে
কেমন করে হবে

----------
একলা তারা
----------
তবুও তো
জোনাকির আলো মেখে
কাটাকুটি খেলি
কাগজে কলমে

রাত জাগা অপলক
কাজল ভাঙা
একলা তারার দিকে
বিরামহীন বিশ্রামে
চুপটি করে চেয়ে থাকি

অযুত কোটি আলোকবর্ষ ছুঁয়ে
আমার ঠোঁটের কোণ ঘেঁষে
ভেসে আসা একফোঁটা
আলোক বিন্দুর অপেক্ষায়

------
অছিলা
------

তোর "চিক্ চিক্" ডাকে
এখনো অনেক কিছুই আসে যায়

সেই একটানা ডেকেই চলেছিস

ডানার ঝটপটি

পাড় ভাঙা পুকুরের টলটলে জল

আয়নায় মুখ দেখার মত সকালে

রোদ মেখে ভাঙা পাড়ে
মাথা নিচু করে বসে আছি

জলফড়িং গুলো পিছলে পিছলে
কোথায় যেন চলে যাচ্ছে

মাছগুলোও মেরে চলেছে ঘাই

প্রতিমা নিরঞ্জন শেষে
ফেলে যাওয়া বাঁশের খাঁচায়
বসে আছে মাছরাঙা

ও জানে ওর লক্ষ্যবস্তু কী

অথচ আমিই জানি না
কী লক্ষ্য আমার

দুই পা দুলতেই থাকে আপনমনে

হাওয়াই চটিরা আলগা হয়ে যায়

তবুও নাচতে থাকে পায়ের তালে

কুয়াশা ভেজা সবুজ পাতারা
এখনো চোখ ধাঁধানোর স্বপ্নে মশগুল্

আর চুপ করে থেমে আমিও

বাড়ি না ফেরার অছিলায়

----------
ঐশ্বরিক দিন
----------

কথার পিঠে কথাপুলিরা বসে যায়
অ্যান্টিবায়োটিক চেপে বসার মতো

বড়ো অনিশ্চিত এই বসে থাকা

মন যুঝে চলে ভাব ভাবনার মাঝে

দোল খায় পাক খায় ঠেলা খায়
খাবি খায় কিল চড় লাথি ঘুঁষি
সব খায়

দোকানটা বন্ধ হলেও ক্ষতি নেই এখন

একদিন ফিরে আসবেই আসবে
একান্ত সেই সন্ধিক্ষণ

যখন

তোমার জন্ম তারিখ মাস আর বছরের যোগফল
নতুন বছরে অশ্বডিম্ব প্রসব করবে

আর ফেসবুক ইনবক্স
প্রসব বেদনায় কাতরাবে

ফুটে উঠবে বিরক্তিকর সব নাম আর
স্ট্যাটাস বার জুড়ে বার বার
আসবে নোটিফিকেশন

শেয়ার বাজারেও ধ্বস নামবে

যুদ্ধ যুদ্ধ খেলার কলরবে
নাভিশ্বাস আর বাতকর্ম
মিলেমিশে একাকার হবে

শুষে নেবে একে একে
এক একটা রাতের আলোক বিন্দু
এক একটা রামধনু রঙের মত

রঙেরা সব মিলেমিশে
কালোর প্রত্যয় জমাট হয়ে উঠবে

আর
ঐশ্বরিক দিন হয়ে
ফুটে উঠবে ভালোবাসারা একে একে
গোলাপী লাল রক্তের অক্ষরে

-----------
জলবিন্দু হয়ে
-----------
জোনাকি বসা
আলো-আঁধারি পাতায়

ভালো না লাগার নজরে

আচ্ছন্ন মুখোশের সহবাসে

অপলক মাছের মতো
কাজল কালো হরিণী চোখে

রজনীগন্ধার স্নিগ্ধতা আর
রাতের আধফোটা হাস্নুহানার
মায়াবী ঘ্রাণে মিলে মিশে

গোলাপের পাঁপড়ি খসা
শিউলি উপচে পড়া
ভোর রাতের সবুজ ঘাসে

শিশিরের টুপটুপ ঝরে পড়া
আশ্চর্য শব্দের মতো

হলুদ পাখির দিকে ভেসে চলা
অজানা পারফিউম সুবাসে

মাঝে মাঝেই সব কেমন
গুলিয়ে ফেলি

নিজেকে আরও অচেনা লাগে
মিঠা পানে দারুচিনি এলাচের
স্বাদ আর গন্ধের টানে

তোমার ঘামে ভেজা এলো চুলে
এয়োতির মতো অতল চাপে
মাতাল হয়ে মেতে উঠি

আজন্ম আভোগী আমি
জরায়ুজ কামনা মাখি

ধূমায়িত পাহাড়ী চা আর
আতপ চালের গন্ধের মতো

রাজহাঁসের পালকে
ঠোঁট ডোবানো বুকে

মন কেমনের টানে

জলবিন্দু হয়ে জেগে থাকি

-------------
বৈষয়িক তাড়না
-------------
সময়টা তেইশ হোক
অথবা তিপ্পান্ন

এখনো আকাশের লালে নীলে
কুয়াশা মাখা চোখে চোখ রেখে
রূপকথার ছবিকে তিলোত্তমা ভাবতে
বেশ লাগে

ঝরণার শিরশিরে জলকণায়
ভিজে থাকার পাতার উপর
ঠিকরে পড়া পোয়াতি আলোর দানায় দানায়
ভিজে থাকা অপর্যাপ্ত চুলের কোণে কোণে
আঙুল নেড়েচেড়ে ঘ্রাণ নিতে
মন কেমন করে

উড়ে আসা ভিনদেশী পাখিরা
শেষবারের মতো ডানা ঝাপটে
বিকেলকে বিদায় জানিয়ে
যে যার নির্দিষ্ট পথে চলে যায়

আটকা পড়ে যায় পশ্চিমের সূর্য
লাল পশম পাতা সবুজের গালিচায়
খেজুর আর তালের পাতায়

যদিও এত সব ভালো লাগার কথা
চলমান শহরের বুকে
বেলা বাড়বার সাথে সাথে
একেবারেই বেমানান

টিউবওয়েলের পেট মুচড়ে
উঠে আসা কবোষ্ণ জলের গায়ে
কিংবা বাথরুমের চুনকাম খসে পড়া
নোনা ধরা দেওয়াল জুড়ে
ভালোলাগার নাম লিখে এঁকে দিলেও

এখন আর এসব পড়া হয় না
বৈষয়িক তাড়নায়

শোনারও তো নেই অবসর

তবুও অবুঝ পরিযায়ী মনে
চুপচাপ পায়ে পায়ে চলার শব্দ
একটানা শুনতে পাই

শুনতে পাই কাঁধের দুপাশে
লেপ্টে থাকা নরম ডানার ঝটপট শব্দ

হঠাৎ বাসের হর্ণে
স্বপ্ন ঘোর ছিঁড়ে আলগা হয়ে
ভাসতে ভাসতে জানলা বেয়ে
পিছনের চায়ের দোকানের
ধোঁয়ায় মিলিয়ে যায়

বুঝলাম _
আপাততঃ গন্তব্যে চলে এসেছি

এবার সীট ছেড়ে নামতে হবে

-----
বুভুক্ষু
-----
চুল্লি ভয় পায়নি আগুনের মুখরেখা

রাতের নাভির গভীরে
স্বেচ্ছাচারী চোখ হারিয়েছিলো
ঘরে ফেরার ঠিকানা

চুমু খাওয়া জোনাকির মতো
ফ্লুরোসেন্টের স্বেদ বিন্দু জুড়ে
জ্বলেছিলো যৌনতার আগুন

মাদল হাতে বাজাবো বলে
মেতেছিলো নশ্বর দেহ
বুনো দাঁতাল মাতাল হাতির মতো

সমুদ্র ঢেউয়ে সাঁতার কাটবো বলে

ভূমিকম্পের তারাখসা হননের রাতে
সুখের শহীদ মিনারে চড়বো বলে

ডাকবাংলোর চাঁদের আলোয়
মহুয়ার ঘোরে ডুবে মরবো বলে

কখনো টলমলে পা'য়ে
কেয়ারটেকারকে অনুরোধ করিনি

বলিনি তাকে ঘর পরিবার ফেলে
লন্ঠন জ্বেলে রাত জাগার কথা

বেহস্ত ঝেঁটিয়ে সব সুখ জড়ো করে
রঙ বেরঙের হূরপরীরা সেদিন

হিলহিলে সাপের মতো
খিলখিল করে বলে উঠেছিলো _

আমাকে ওরা সব দিতে পারে

--------
ক্যারিশমা
--------
তুমি একবার ডাক দিলেই
চশমা খুলে আমি বেড়িয়ে পড়ি

বন বাদাড় শ্মশান কবরস্থান
নদী নালা সাঁকো সেতু
ঘাস মাটি নুড়ি বালি পাথর
পার করে

অ্যাকুইরিয়ামের আলোর রঙে বন্দী
মাছের ঘোরে সাঁতার কাটতে কাটতে

ঝরণা বেয়ে পাহাড়ে চড়তে থাকি
রামধনুর রঙিন ধাপে ধাপে

শীতের ভোরে হাই তুলতে তুলতে
গায়ে হাতে পায়ে
তেল মাখতে ভুলে যাই

মেঘের আড়াল উপেক্ষা করে
আম কাঁঠাল কলাবাগানের পাতার ফাঁকে
পুকুর পাড়ে বসা হাঁসের পাশে
একমনে বুনো রোদ্দুর পোহাই

যদিও তোমার ধোপ দুরস্ত
কেতাবী অবয়ব নেই

নেই উদাত্ত শব্দের বাচিক আকর্ষণ

নেই পলকহীন মায়াপুরীর
সুগন্ধী আতর পরশ

তবুও খাঁটি মাটির ঘ্রাণে
তোমার গাড়ির চাকার থেকে
উঠে আসা ধূলোর পিছনে
একনাগাড়ে ছুটে চলি

দম হারানো বোহেমিয়ান
পালছেঁড়া বোধ হারানো
উদ্বাস্তু নাবিক মাস্তুলের মত

মাটির মানুষের ঘাম গায়ে মেখে

কিছু একটা আছে বোধহয় তোমার

কিসের বিশ্বাসে কোন আশ্বাসে
আমি আর আমার মতো
হাজারে হাজারে
কাতারে কাতারে
তোমার ডাকে জড়ো হয়

কে জানে ?

হয়তো এরই বাজারি নাম 'ক্যারিশমা'

চুম্বক বোধকরি সকলেই দেখেছে

অনুভব করেছে তার আকর্ষণ

পরখ করেছে তার অমোঘ টান

আর তোমার শক্তির পরীক্ষা নিয়ে চলেছে
হেরে যাওয়া পিঠ দেখিয়ে পালিয়ে বেঁচে থাকা
কিছু মুষ্টিমেয় চার অক্ষর বোকার দল

ওরা ভুলে গেছে হিটলার মুসোলিনির কথা

ওরা ভুলে গেছে চেঙ্গিজ খান তৈমুর লঙের কথা

ওরা ভুলে গেছে জার আর বাস্তিলের
অসহায় পতনের কথা

এখন তো ওরাও পতিত

তবুও জানিনা কেন
ওরা পতনের কথা বার বার ভুলে যায়

আর শুধুই অভ্যুত্থানের দিবাস্বপ্ন দেখে

টিকি দাড়ি টুপি পৈতের দেশে

অম্ল অজীর্ণে ধর্মান্ধ জরাজীর্ণ দেশে

পচে গলে ক্ষয়ে হারানো শতছিন্ন দেশে

বিভাজনে বিশৃঙ্খলায়
দেশ ভাগের লুন্ঠন দাঙ্গায়

জালিয়ানওয়ালাবাগের লজ্জায়

খুনে ধর্ষণে নির্যাতনে
লুন্ঠিত নির্ভয়ার দেশে

জেগে আছি অর্ধমৃত আমরা

পরের শেখানো পড়ানো বুলি
আউড়ে আউড়ে
কাকাতুয়ার মতো

আমি জানি

আমরা জানি

একদিন আমাদেরও
দিন আসবেই আসবে

একজোট হতেই হবে আমাদের

নয়তো এই দেশটাকে ছিবড়ে নিংড়ে
ফেলে দেবে কিছু ইতর নষ্ট ভ্রষ্ট লোক

এই 'কিছু' রাই এখন সংখ্যায় অনেক

তারাই এখন তোমার পতাকার ভার বইছে

বইছে তোমাকেও

আর নর্দমার জলে ভাসছে
ভাঙাচোরা আধমরা বিশ্বাস

কারণ সত্যিটা তো আমরা সবাই জানি _

একদিন তোমাকেও অতীত হতেই হবে

হতে হবে হলুদ পাতার মতো

অসংবাদিকতার ইতিহাস

-------
অষ্টম গর্ভ
-------
(স্থান - শ্রীক্ষেত্র)

হে প্রভু...
হে স্বামী আমার
জগতের একমাত্র নাথ...

আজন্ম তোমার সেবায়
নিয়োজিত দেবদাসী জীবনটা
ব্যর্থ বয়ে যায়

জানিনা তোমার দেহরক্ষক
আর পান্ডা পূজারীরা
কি মনে করেন আমাদের মতো নারীকে

আমরাই তো প্রকৃত ঈশ্বর পূজারী ...

দেহ মন জীবন যৌবন সঁপেছি মন্দিরে

মা বাপের অন্ধ ভক্তি ইচ্ছাকে
কেমন করেই বা অসম্মান করতে পারি

আমরাও বা কম যাই কিসে
ভয়ে ভক্তিতে শ্রদ্ধায় ভালোবাসায়

আমাদের ননীতুল্য নধর পূর্ণকলা পুরুষ্টু দেহটা
তো তোমারই দেওয়া অসামান্য দান

চাঁদের কমা বাড়ার মতো প্রকৃতির নিয়মে
তারাও তো তোমার মতো সেবা সুখ চায়

আর তারপর মহাভোগ শেষে
ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয়

কেটে ফেলা হয় আমাদের
গর্ভে আসা নারীত্বের প্রমাণ

আস্তাকুঁড়ে ফেলা হয় ছুঁড়ে
কামনার একমাত্র ধন
আমার গর্ভের সন্তান

কেন প্রভু এমন নিষ্ঠুরতা

কি ওদের দোষ বলতে পারো

ওরা তো অষ্টবসুদের কেউ নয়

কেন ওরা ভেসে যাবে জন্মলগ্নেই
পাতালঘরের নরক নোংরা জলে

কেন ওরা উঠবেনা বেঁচে

কেন ওরা ডাকবেনা কখনো আর 'মা' বলে

আমরা তো বন্ধ্যা রুক্ষ উষর নই কেউ

তবু কেন মরতে হবে আমাদের চোখের জলে

কেন এই পাপের বিরুদ্ধে উঠবেনা আন্দোলনের ঢেউ

এরা তো কংসের চেয়েও খারাপ

রাবণের চেয়েও বড়ো ব্যভিচারী

আমরা একলা নিরুপায় অসহায়
কেমন করে অসম লড়াই লড়তে পারি

হে প্রভু ... হে স্বামী আমার জগতের নাথ ...

শুনতে কি পাওনা প্রভু আমাদের আর্তনাদ

শুধু কি দেখে যাও অত্যাচার নীরবে সৃষ্টির সময় থেকে

আবার কবে নেমে আসবে তুমি এই মাটিতে

আর কবে করবে তুমি আমাদের উদ্ধার

বসে আছি আমরা তোমারি অপেক্ষায়

এসো প্রভু ...
তুমি নেমে এসো আবার
আমাদেরই অষ্টম গর্ভে

সাথে এনো তোমার মোহন বাঁশিটি
যেমনটি এনেছিলে তুমি গোকুলে

আর সাথে এনো তোমার রাধাকেও
তাল তমাল তরু মোহন কুঞ্জ ফুলে

----
বুদ্বুদ
----
ভাবনার মৃত্যু নেই,
নেই কর্মেরও,
যদি তারা এক হয় ।

ভাবনারা আসে যায়,
ডুবে যায়, ভেসে যায়,
বুদ্বুদ্ ফেটে যায় ।

ভোর রাতে বেঁচে ওঠে,
রাত শেষে মরে যায় ।

-----
নৈঋত
-----
মন্ত্র থেকেও মূর্ত মনের ভাব

মনের থেকেও শুদ্ধ আমার প্রেম

আমি জানু পেতে নৈঋতে বসে
অবহেলা আর তাচ্ছিল্য মেখে
মাথা নত করি নৈঃশব্দের কোলে

তৃপ্তি আর অতৃপ্তি মিলেমিশে
আমার জন্মদাগে রেখে যায়
গোধূলির উষ্ণ দীর্ঘশ্বাস

বিবাগী মুহূর্তরা হারিয়ে যায়
ছায়াপথের আলোকবর্ষ ভুলে

এখন ট্যাবে গুগল সার্চ খুলে
বসে আছি কালপুরুষের পায়ের কাছে
নীরবে একান্তে

উত্তর ফাল্গুনী জেগে আছে
কান পেতে অধীর অপেক্ষায়

আমি পারবো কিনা
হাজার বছর পরে
ওর বুকে মিশে যেতে __
জানতে

-------
নিবিড় হও
-------
সূর্যাস্তের শেষ আলো ছিটকে এসে
নেমেছিলো ঘাসে পড়ে থাকা কদম
আর লাইনের গায়ে এলিয়ে থাকা
আধশোয়া শিউলির কাছে

নিবিড় হও মন

আরও একান্তে ঘনিষ্ঠে এসো

আরও ঘনিয়ে এসো কাছে

রেখে দাও ঠোঁটে
ভেজা ঠোঁট দুটো
পারো যতক্ষণ

যেমন করে
জড়িয়ে ধরে সাপেরা

মাটির গন্ধে উষ্ণতায় বাঁচে

----------
শব্দ কোলাজ
----------

বিভ্রান্ত পাললিক শিলার ভাঁজে
লুকিয়ে রাখা কাজলের কোণে
শব্দের সহবাসে সুখে থাকে মন


বামপন্থায় বিশ্বাসী বিপ্লবী বিভীষণ বাঙালীরা বোমাবাজিতেই বোধিজ্ঞানের বটবৃক্ষ খোঁজে


বুঝতে না চাওয়া অবুঝ মন বোঝা হয়ে ওঠে


দিনের শেষে ভদকা রাম হুইস্কি কিংবা দেশী

বাবা মা বউয়ের চেয়েও ওদের দরদ বেশী


রক্তক্ষরণের নীরবতায়
উঁকি দিয়ে যায়
নোনা নিঝুম নগ্নতা


চেনা রিং টোনের সম্পর্কে চোনা পড়ে গেছে


ভালোবাসা নিরুদ্দেশ হলে
"চুমু" রাও হারিয়ে যায়
মন খারাপের ঠিকানায়


কাটাকুটি খেলেই চলেছে প্রহরীর প্রহর আর প্রতীক্ষা

এখন শুধুই শিউলি কাশফুল আর ঢাকীর অপেক্ষা


বর্ষায় বর্ষাতি আর
অন্ধকারে মোমবাতি
না থাকলে
ঝাড়বাতি কিন্তু অনন্তকাল
আপনার পিছন ছাড়বে না

১০
ইরেজারে কালি মোছে
অভিমান নয়

বলিরেখা চামড়ায় পড়ে
হৃদপিন্ডে নয়

১১
মনে ধরলে 'সাঁইয়া'
নয়তো "টা টা, ভাইয়া"

১২
রূপান্তরে শুঁয়োপোকা হয় প্রজাপতি
আর রত্নাকর হয়ে ওঠেন বাল্মিকী

১৩
সব ধর্ষকই দিগম্বর হয়

সব দিগম্বর ধর্ষক হন না

১৪
ঘোর কাটতে
ভোর হয়ে গেল

১৫
পুজোটা মূর্তির হোক
বা ভাবমূর্তির

ব্যাপারটা একই

১৬
লুঙ্গি খুলে নামলাম জলে
আমাকে কুমীরে নিয়ে গেল
আর ওটা ছাগলে

১৭
ঘুড়িকে ভালোবাসতে হলে
আকাশ হয়ে ওঠো

১৮
শব্দেরা আজকাল
মন ক্যামনের গন্ধ বেয়ে
উবে যায়

অসীমের ঠিকানায়

১৯
সেটাই সেরা জাদু
যখন যাদুকর
যাদু হয়ে যান

২০
দুর্বলেও সুযোগ নিতে চায় দুর্বলতার

২১
ভুলভাল "চাট" এ নেশা
আর মাথায় "চাঁটি" সমান

২২
শতছিন্ন অন্ধকার ঘরে
কলঙ্কও থাকতে চায় না

২৩
"লিমিটেড" ইচ্ছেরা স্বপ্নে এসে
"আনলিমিটেড" হয়ে যায়

২৪
আজকাল শুধু
ভেসে থাকতেই মন চায়
কখনো বাতাসের ভাঁজে
কখনো ভাঙা মেঘের ঠিকানায়

২৫
অমরত্ব পেলাম

আজ ঘাসের ফুল
কানে কানে জানালো
সে ভালোবেসেছে আমাকে

২৬
কিছু শব্দ রয়েই যায়
না বলা ভাষায়
কাজল জলের ফোঁটায়
ওরা ধুয়ে মুছে মিলিয়ে যায়

২৭
তুমি সইতে পারো সব

আঘাতের প্রতিলিপি থাক
বা নাই থাক

২৮
গাঁজা মহুয়ার
মিশেলে টাল
মন আজ
উদাম মাতাল

২৯
চশমার জলছবিতে
বিন্দু বিন্দু মেঘ
কাঁচপোকার পায়ের ছাপে
বুদ্বুদের অসহায় বিষণ্ণতায়
জমে যায়

৩০
অনুমান আর অনুভবের তফাৎ খুব সামান্যই
প্রথম জন মগজের আর পরের জন হৃদয়ের

৩১
আলিঙ্গনে যৌনতায়
ঈশ্বর পরকীয়া হন
তখন তুমিই ঈশ্বরী

৩২
বিন্দু বিন্দু ভাবনারা
ইচ্ছাপত্র ছাড়াই
পরকীয়া হয়ে যায়

৩৩
একমাত্র উত্তর ফাল্গুনী জানে
অনন্তকাল ধরে আদ্রা চেয়ে আছে
তার পথের আলোয়

মহাবিশ্বের সব জাগতিক আলোকে
অতিক্রম করেও ফুরিয়ে যায়নি
তার একান্ত চাওয়া পাওয়া

৩৪
এদেশে 'লাদেন' কিংবা 'লেনিন' নয় আর
এখন আমার 'লালন' কে দরকার

Comments

Popular posts from this blog

মহায়ণ

মরণ vs যৌনতা

আনা কড়া গন্ডা ক্রান্তি