মোহনদাস করমচাঁদ গাঁন্ধী
মোহনদাস কর্মচাঁদ গাঁন্ধীকে নিয়ে, স্যোসাল মিডিয়ায় পোস্ট করা আমার একটি লেখার পরিপ্রেক্ষিতে বেশ কিছু হুমকি আসছে, তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ওই খেঁটো ধুতির আড়ালে কি আছে তা সর্বসমক্ষে তুলে আনাটা অত্যন্ত্য সময়পযোগী ও জরুরি | এই তথ্যগুলি জানার পর যাদের এলার্জী বেরবে, দয়া করে রাজঘাটের সমাধি থেকে সেক্যুলার মলম এনে লাগাবেন, কিছুটা আরাম পাবেন | প্রয়োজনে পুরোন কিছু লেখা আবার সম্পাদন করতে হয়েছে | লেখার শেষে তথ্যপঞ্জী, যথাসম্ভব দেওয়ার চেষ্টা করেছি, তবুও তাতে যদি কেউ সন্তুষ্ট না হন, বা যাদের আরো জেনে কালিদাসের স্থান বা 'বুকার' পাওয়া বা নিদেন পক্ষে সাহিত্য একাদেমি পাওয়ার ইচ্ছা আছে তারা নিজপ্রতিভায় আরো তথ্য সংগ্রহ করবেন | দয়া করে আমাকে কেউ নৈতিকতার জ্ঞান দিতে আসবেন না, এমনিতেই আমি প্রচুর জ্ঞানী, আর নেওয়ার জায়গা নেই, গিগাবাইট ফুল |
......যখন মুখোশ মুখের থেকে বড়......
১৯৪৭ সালের ১৫ ই আগষ্ট দেশটা স্বাধীন হল বটে, কিন্তু তার সাথে কে জানে কখন কিভাবে কারা স্বাধীন ভারতবর্ষের অগনিত স্বাধীনতা- সংগ্রামীদের একলহমায় ব্রাত্য করে দিয়ে খেঁটো ধুতি আর লাঠি হাতের একটি মানুষকে এই উপমহাদেশের সমগ্র জাতির বাপ আর তাঁর পোষ্যকে চাচা বানিয়ে দিল??? আসুন আজ এই শুভ-অবসরে আমরা আমাদের বাপ- চাচার একটু চরিত্র বিশ্লেষণ করি.........
বাপুর অপকর্ম নিয়ে প্রচুর লেখালেখি হয়েছে তাই পুরোনো কাসুন্দি ঘেঁটে আপনাদের মূল্যবান সময়ের অপচয় করতে চাই না, আজ কিছু নতুন দিকে আলোকপাত করতে চাই |
আমি আমার আশৈশব দেখেছি স্কুল- কলেজের সিলেবাসে, মাঠে- ময়দানের মনিষীদের ক্যাপশানে অতি যত্নের সাথে মহাভারতের একটি শ্লোক ব্যবহ্রত হতে এবং অতি অবশ্যই সেটি ভারতবাসীর বাপ্ গান্ধীর সাথে একযোগে, অর্থাত সেটির সাথে গান্ধীর নাম এতটাই ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছে যে বহু মানুষের ধারণা এটি স্বয়ং গান্ধীর উক্তি কারন গান্ধী এই শ্লোকটিকে তৎকালীন হিন্দু জনমানসে ব্যাপক ভাবে প্রচার করেছিলেন | সেটি হল,..... "অহিংসা পরমো ধর্ম"| কিন্তু এটি তিনি প্রচার করতেন সেইসব হিন্দুদের কাছে, যারা মুসলমানদের কাছে নিজেদের মা- বোনদের ধর্ষিত হতে দেখেছেন, চোখের সামনে বাপ্- কাকা- সন্তানদের মুন্ডু ধর থেকে আলাদা হতে দেখেছেন এবং সেই সব মুসলমানদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, প্রতিরোধ করতে চেয়েছিলেন | এই বিষয়ে জাতীর মহান বাপুর ১৯২৬ সালের ৬ ই জুলাই 'নবজীবন' পত্রিকায় করা একটি অহিংস উক্তি প্রনিধানযোগ্য....."কোন মুসলমান তার ঘরে ঢুকে তার বোনকে ধর্ষণ করলে তিনি তার বোন এর সতিত্ব নষ্টকারী সেই মুসলমানের পায়ে চুমু খাবেন" |....(রেফারেন্স:- এম.কে.গান্ধী, ডি কীর, পপুলার পাব্লিকেশন, পেজ:-৪৭৩) | উফ্ ভাবা যায়!! এর চেয়ে বড় অহিংসার পরকাষ্ঠা আপনারা দেখেছেন কখন??? সত্যি, ধন্য ধন্য ও বলি তারে |
১৯৪৭ সালের ৬ ই এপ্রিল যখন মহম্মদ আলি জিন্নার নেতৃত্ত্বে মহাম্যাডের শান্তিপ্রিয় চ্যালারা পৃথক মুসলিম রাষ্ট্রের দাবীতে হিন্দু-নিধন যজ্ঞ শুরু করেছে তখন এই মহান আত্মার আর একটি পরম অহিংস বানী সাম্প্রতিক ধর্ম-নিরপেক্ষ শান্তিপ্রিয় হিন্দুদের কানে শান্তিসুধা বর্ষণ করবে বলে আশা রাখি |...."মুসলমানরা যদি হিন্দুদের অস্তিত্বকে বিপন্ন করে তোলে, তবুও হিন্দুদের কখনোই উচিৎ হবে না মুসলমানদের প্রতি ক্রোধ প্রকাশ করা, এতে যদি তারা আমাদের সবাইকে তরোয়াল দিয়ে কেটেও ফেলে, তবে আমাদের উচিৎ হবে বীরের মত সেই মৃত্যুকে বরণ করা | আমাদের মৃত্যু তো ভাগ্যের লিখন | তাই এই ব্যাপারে এত মন খারাপের কি আছে ?"-----(মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী)
------ এবারে আসি মূল প্রসঙ্গে.....যে ব্যক্তির প্রতিটি কোষে কোষে এইরকম বিচিত্র মোল্লা- তোষণকারী অহিংস্রতা বর্তমান, স্বাভাবিক ভাবেই তিনি "অহিংসা পরমো ধর্ম" প্রচার করবেন না তো আর কে করবেন ? তবে এখানেই আছে হরিদাসের একটি গুপ্তকথা | তিনি কিন্তু মহাভারতের এই বিখ্যাত শ্লোকটির অর্ধেক অংশই শুধু ইচ্ছাকৃতভাবে প্রচার করতেন | সম্পূর্ণ শ্লোকটি হল..." অহিংসা পরমো ধর্ম: / ধর্ম হিংসা তদৈব চ"..... অর্থাৎ, হিংসা না করা মানুষের প্রকৃত ধর্ম কিন্তু নিজ ধর্ম রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনে হিংসার আশ্রয় তার চেয়েও শ্রেষ্ঠ ধর্ম | হায় হতষ্মি! সেকি কথা কর্তা ? বাপু যে আমাগো বেবাক বুদ্ধু বানাইয়া ফ্যালাইলো ?....... কিন্তু এর পেছনে জাতির বাপের আসল উদ্দ্যেশ্য কি ছিল সেটা আশা করি পাঠকদের কাছে পরিস্কার | বাপুর কীর্তি শুধু এখানেই শেষ নয় | একটি বিখ্যাত ভজন যা সিংহভাগ পাঠক, মহান বাপুর ধর্ম-নিরপেক্ষ ভজন বলে জানেন, কারণ দীর্ঘকাল যাবৎ বংশপরম্পরায় মৌরসীপাট্টার কংগ্রেস সরকার এটিকে বাপুর ভজন বলে প্রচার করেছিল | সেটি হল,.......
"রঘুপতি রাঘব রাজা রাম / পতিত পাবন সীতা রাম / সীতারাম সীতারাম / ভজ প্যারে তু সীতারাম" ঠিক এর পরেই মূল ভজনটিকে অত্যন্ত ধূর্ততার সাথে পরিবর্তন করে বাপু জুড়ে দিলেন ..." ঈশ্বর অল্লাহ তেরে নাম / সবকো সন্মতি দে ভগবান" | কিন্তু কেউ জানলোই না 'শ্রী নম: রামনায়নম' নামের একটি হিন্দু গ্রন্থ্যে শ্রদ্ধেয় শ্রী লক্ষ্মনাচার্যের রচিত ' রামধুন ' নামের এই ভজনটি কখন তার স্বকীয়তা হারিয়ে ধর্ম-নিরপেক্ষ 'বাপুর ভজন' হয়ে গিয়েছে | শ্রী লক্ষ্মনাচার্যের মূল ভজনটিকে আপনাদের জন্য তুলে ধরা হল......" রঘুপতি রাঘব রাজা রাম / পতিত পাবন সীতা রাম / সুন্দর বিগ্রহ মেঘশ্যাম /গঙ্গা তুলসী শালগ্রাম / ভদ্রগিরীশ্বর সীতারাম / ভজন জনপ্রিয় সীতারাম / জানকীরমণ সীতারাম / জয় জয় রাঘব সীতারাম" ||
প্রতিভাবান মানুষের পেটেন্ট রাইট্ ঝেপে দেওয়া জোচ্চর বাপুকে, যারা এখন মহান বলে, হৃদয়ের নাগরদোলায় ফটো ফ্রেমে বাঁধিয়ে রেখেছেন আর তার নাম উচ্চারনের আগে, জাতীর জনক ও মহাত্মা (মহান আত্মা) শব্দ দুটি ব্যবহার করেন, তাদের জ্ঞাতার্থে আরো দুইখান কথা কই |
সমগ্র বিশ্বে, গান্ধীর পরিচিতি ‘জাতির জনক’ হিসেবেই। কিন্তু প্রশ্ন হল, ‘জাতির জনক’ উপাধিটি তাকে দিল কে?
এই প্রশ্নই তুলেছিল, ঐশ্বরিয়া পরাশর নামে এক ১০ বছরের মেয়ে। ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে লক্ষ্ণৌয়ের এই মেয়ে প্রধানমন্ত্রীর অফিস বা পিএমও-তে আরটিআই (রাইট টু ইনফর্মেশন) করে জানতে চায়, গান্ধীকে কবে এবং কে দিয়েছিলেন জাতির জনক উপাধিটি। সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই পিএমও আবিষ্কার করে এক চমকপ্রদ তথ্য।
জানা যায়, সরকারিভাবে গান্ধীকে এই উপাধি দেয়ার কোনো দলিল নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয় ও জাতীয় সংরক্ষণাগার জানায় যে, গান্ধীকে জাতির জনক উপাধি দেয়া হয়েছিল বলে কোনো তথ্য তাদের কাছে সংরক্ষিত হয়নি। প্রশ্ন হল, তাহলে গান্ধী ‘জাতির জনক’ নামে পরিচিতি পেলেন কীভাবে?
ইতিহাস ঘাঁটতে গিয়ে দেখা যায়, সুভাষচন্দ্র বসু ১৯৪৪ সালের ৬ই জুলাই সিঙ্গাপুর রেডিও থেকে দেয়া একটি ভাষণে গান্ধীকে প্রথমবারের জন্য ‘জাতির জনক’ বলে উল্লেখ করেন। এরপর ২৮ এপ্রিল ১৯৪৭-এ একটি সম্মেলনে সরোজিনী নাইডুও গান্ধীকে ‘জাতির জনক’ বলে অভিহিত করেন। সেই থেকেই ‘জাতির জনক’ নামে খ্যাতিমান হয়ে ওঠেন গান্ধী।
ঐশ্বরিয়া তার আরটিআই আবেদনে এই প্রশ্নও রেখেছিল যে, সরকারিভাবে গান্ধীকে কি ‘জাতির জনক’-এর উপাধি প্রদান করা যায় না? তার উত্তরে পিএমও জানায়, ভারতীয় সংবিধানে পড়াশোনা ও সামরিক ক্ষেত্রের বাইরে কোনো ব্যক্তিকে কোনো উপাধি দেয়ার নিয়ম নেই। কাজেই মহাত্মা গান্ধীকে আপাতত সরকারিভাবে জাতির জনক উপাধি দেয়া সম্ভব নয়।
হায় আল্লাহ, অহন কি হইব কর্তা ? প্রশ্ন হল, ৬০ বছর ধরে যে কংগ্রেসী সরকার দেশ চালাল, তারা কি জানত না এই সত্যটা ? যদি তারা না জানার ভান করে তবে পেছনে লাথি মেরে বঙ্গপোসাগরের জলে ফেলে দেওয়া উচিৎ | হ্যা তারা খুব ভাল ভাবেই জানতেন, তবুও সমস্ত সরকারী নথি, অনুষ্ঠান, স্মারক সবকিছুতেই ইচ্ছাকৃত ভাবে এই মিথ্যাচার করে গেছে, যেটা অপরাধের পর্যায়ে পড়ে | আজ আমার কথাতে জানি তাদের ফোস্কা পড়ছে | অবশ্য এরা নির্লজ্জ, দুকান কাঁটা | যে দল আর তার দলপতিরা দূর্নীতির পাঁকে ১০০ ফুট নিমর্জিত, তারা আর তাদের দলদাসরা গায়ে কাদা লাগার ভয় পায় না | গান্ধী নাকি ভারতের জাতির পিতা ? কোনও মতেই না। গান্ধী বরং পাকিস্তানের জাতির পিতা বা জাতির জনক। কারন পাকিস্তান রাষ্ট্র গান্ধীর সৃষ্টি। স্বাধীনতার প্রাক্ মুহূর্তে গান্ধী কংগ্রেস তথা জিন্নার মুসলিম লীগের মধ্যে শাসন ক্ষমতার বাটোয়ারা হিসেবে ভারতবর্ষেকে দুই ভাগে বিভক্ত করে পাকিস্তান করেছিলেন। সেহেতু গান্ধী পাকিস্তানের রাষ্ট্রপিতা। আর গান্ধী ভারতের জাতির জনক হতে যাবেন কেন। ভারতের অস্তিত্ব হাজার হাজার বছরেরও আগের,পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন রাষ্ট্র।। ভারতবর্ষের শ্রেষ্ঠ মহাপুরুষ, ভগবান রাম বা কৃষ্ণকেও এই ভারতের মানুষ জাতির পিতার উপাধি দেয়নি তাহলে গান্ধী কোন ক্ষেতের মূলো ? ভারতের বাবা গান্ধী না স্বয়ং বিধাতা( ঈশ্বর)।।
এর পর আসি মহান রুপান্তরকামী বাপুর মহান আত্মায় রুপান্তরিত হওয়ার মহান কাহিনীতে |
গান্ধি কে মহাত্মা উপাধি কে দিল ?
ভারতীয় ইতিহাস থেকে জানা যায়, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গান্ধীজিকে ‘মহাত্মা’ উপাধি দেন ১৯১৫ সালে। এত দিন পর্যন্ত এই তথ্য নিয়ে কারও মনেই কোনো ধরনের প্রশ্ন ছিল না। তবে এবারে এ তথ্যটিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে গুজরাটের সরকার। তাদের দাবি- রবি ঠাকুর নয়, গান্ধীজিকে ‘মহাত্মা’ উপাধি দিয়েছিলেন গুজরাটেরই তৎকালীন এক অখ্যাত সাংবাদিক। এ খবর দিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া। খবরে বলা হয়, গান্ধীকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘মহাত্মা’ উপাধিতে ভূষিত করার প্রচলিত ঐতিহাসিক তথ্যটি ভুল দাবি করেছে গুজরাট সরকার। রাজকোটের জেলা পঞ্চায়েত শিক্ষণ সমিতি এই বিষয়ে প্রখ্যাত গান্ধীবাদী গবেষক নারায়ণ দেশাইয়ের গবেষণাকর্মকে প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। এতে বলা হয়েছে, সৌরাষ্ট্রের জেতপুরের এক নাম না জানা সাংবাদিক এক চিঠিতে প্রথম গান্ধীকে এই উপাধি দেন। ওই সময়ে গান্ধী দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থান করছিলেন। গুজরাট হাইকোর্টে জেলা পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে একটি হলফনামাও দাখিল করা হয়েছে। এতেও ওই সাংবাদিকের নাম জানা যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই বিতর্কের শুরু অবশ্য একটি নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে। রাজকোটসহ আশপাশের আরও কয়েকটি জেলার রাজস্ব বিভাগের একটি নিয়োগ পরীক্ষায় ‘গান্ধীকে ‘মহাত্মা’ উপাধি কে দেন?’ প্রশ্নটি আসে। এমসিকিউ পদ্ধতির এই প্রশ্নের সম্ভাব্য চারটি উত্তরের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম ছিল শুরুতেই। শেষের সম্ভাব্য উত্তরে ছিল এক অজ্ঞাত সাংবাদিক। এই প্রশ্নের উত্তরে শুরুতে রবীন্দ্রনাথকেই সঠিক উত্তর হিসেবে গণ্য করা হয়। পরে তা বদলে দিয়ে অজ্ঞাত সাংবাদিকের অপশনটিকে সঠিক বলে ঘোষণা করা হয়। কেন এমনটি করা হয়েছে, তা জানতে চেয়েই গুজরাটের হাইকোর্টে একটি পিটিশন দায়ের করেন ওই পরীক্ষায় অংশ নেয়া এক চাকরিপ্রার্থী। সন্ধ্যা মারু নামের ওই শিক্ষার্থী পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে এমন আরও কয়েকটি বিতর্কের কথাও উল্লেখ করেন। পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক জে বি পারদিওয়ালা ক্ষুব্ধ হন এবং জেলা পঞ্চায়েতের আইনজীবী এইচ এস মুনশ’র কাছে জানতে চান তিনি এই প্রশ্নের উত্তরে কী লিখতেন। মুনশ জানান, তিনি এই প্রশ্নের উত্তরে রবীন্দ্রনাথের নামটিই লিখতেন। কারণ, তিনি ছোটবেলা থেকেই এই উত্তর জেনে এসেছেন বলে জানান বিচারককে। এরপর বিচারক পারদিওয়ালা নিয়োগকারী সংস্থার কাছে জানতে চান, স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা না দিয়েই কেন এই উত্তর বদলে দেয়া হয়েছে। প্রশ্নোত্তরে কোনো ধরনের অস্পষ্টতা না রেখে পরীক্ষা গ্রহণের জন্যও নির্দেশনা দেন তিনি।
এই প্রসঙ্গে সাংবাদিক প্রিয়াঙ্কা দাশগুপ্ত ১৬ ই ফেব্রুয়ারী ২০১৬ তে, রবীন্দ্রনাথ বিশেষজ্ঞ ও জ্ঞানপীঠ পুরুস্কারে ভূষিত কবি শঙ্খ ঘোষকে প্রশ্ন করলে, তিনি টাইমস্ অফ ইন্ডিয়াকে বলেন, গাঁন্ধী ও রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে দুটি ভুল ধারনা প্রচলিত আছে | প্রথমটি হল, রবীন্দ্রনাথই সর্বপ্রথম গাঁন্ধীজীকে "মহাত্মা" বলে সম্বোধন করেন আর দ্বিতীয়টি হল, রবীন্দ্রনাথকে, "গুরুদেব" সম্ভাষণটি গাঁন্ধীজীই দিয়েছিলেন |
এই প্রসঙ্গে কবি শঙ্খ ঘোষ জানান, ১৯১৪ সালের ১২ ই জুলাই, দক্ষিন আফ্রিকার ডারবান হলে উপস্থিত জনতার দ্বারাই প্রথম "মহাত্মা" নামে ভূষিত হন গাঁন্ধীজী এবং ভারত সরকার এই ঘটনাটি "মহাত্মা গাঁন্ধী এ ক্রোনলজী" নামক পুস্তকে প্রকাশও করে | রবীন্দ্রনাথ এই 'মহাত্মা' উপাধিটিকে জনপ্রিয় করেন |
তিনি আরো বলেন, সমাজ সংস্কারক সি এফ এন্ড্রুজকে লেখা একটি নির্দিষ্ট পত্রে, ১৯১৫ সালে রবীন্দ্রনাথ প্রথম গাঁন্ধীজিকে "মি: গাঁন্ধী" বলে সম্বোধন করেন | এই নির্দিষ্ট পত্রটি রবীন্দ্রভবন আর্কাইভে স্বযত্নে সংরক্ষিত আছে | কিন্তু ১৯২৮ সালে এই পত্রটি যখন "লেটার্স টু এ ফ্রেন্ড" নামে পুস্তক আকারে প্রকাশ হয় তখন দেখা যায়, শেখানে "মি: গাঁন্ধী" এর পরিবর্তে সম্ভাষণের জায়গায় " মহাত্মা " শব্দটি বসানো | যতগুলি পত্র রবীন্দ্রনাথ, গাঁন্ধীজীকে লিখেছিলেন, তার মধ্যে ১৯১৫ ও ১৯১৮ এর দুটি পত্রতেই তিনি "মি: গাঁন্ধী" বলে সম্বোধন করেন কিন্তু ২০১৯ সালের ১২ ই এপ্রিলের একটি পত্রে তিনি প্রথম "মহাত্মা " বলে সম্বোধন করেন |
আরেকটি জনশ্রুতি হল, রবীন্দ্রনাথকে, "গুরুদেব" উপাধিটি গাঁন্ধিজীর দেওয়া | কিন্তু সত্যিটা হল এই উপাধিটি দিয়েছিলেন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম পুরোধা ব্রহ্মবান্ধব উপ্যাধ্যায় ১৯০১ সালে এবং তিনি রবীন্দ্রনাথের সমসাময়িক ছিলেন | এই বিষয়টি স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ তার " আশ্রমের রূপ ও বিকাশ " নামের পুস্তকে উল্লেখ করেও গিয়েছেন |
এত বড় একটা মিথ্যে কি করে এতদিন সত্যি বলে জনমানসে জনপ্রিয় হয়ে থাকল ? এই প্রশ্নের জবাবে কবি শঙ্খ ঘোষ বলেন, একটি গুজব বা জনশ্রুতি দীর্ঘকাল ধারাবাহিক ভাবে প্রচার হতে থাকলে একসময় তা সত্যঘটনা হয়ে দাঁড়ায় |
কবি শঙ্খ ঘোষের এই উক্তি আমাদের "পোস্ট ট্রুথ" শব্দটিকে মনে করিয়ে দেয় |
আমাদের কাছে পোস্ট ওয়ার (যুদ্ধোত্তর), পোস্ট মডার্নিজম (উত্তর আধুনিক), পোস্ট স্ট্রাকচারালিজম (উত্তর অবকাঠামোবাদ) ইত্যাদি শব্দ পরিচিত হলেও পোস্ট ট্রুথ (উত্তর সত্য) বিষয়টি একেবারেই নতুন। সম্প্রতি ব্রিটিশ ডিকশনারি অক্সফোর্ড ‘পোস্ট ট্রুথ’ ২০১৬ এর বর্ষসেরা শব্দ হিসেবে ঘোষণা করেছে।
পোস্ট ট্রুথ শব্দটির মানে হচ্ছে- আপাতভাবে সত্য বা ফ্যাক্ট হিসেবে যা মনে হচ্ছে সেটি ছাপিয়ে জনগণের আবেগ বা মতামতে প্রাধান্যের মধ্য দিয়ে আরেকটি সত্য উপস্থাপিত হওয়া। ১৯৯২ সালে পোস্ট ট্রুথ শব্দটি প্রথম ব্যবহৃত হলেও চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বহুল ব্যবহৃত।
যাই হোক ২০১৬ সালের ১৯ শে ফেব্রুয়ারী গুজরাট উচ্চন্যায়ালয়, মাননীয় বিচারক জে বি পার্দিয়ালার এজলাসে, রায় দেন যে, গাঁন্ধীজীকে মহাত্মা উপাধি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দিয়েছিলেন এর স্বপক্ষে কোন জোরালো প্রমান নেই, কিন্তু ব্যাপক জনশ্রুতি ও অধিকাংশ পাঠ্যপুস্তকে এটি রবীন্দ্রনাথের সম্ভাষণ বলেই লেখা আছে, তাই এটিকেই মেনে নেওয়া হোক | আরো বলা হয় যে,
ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে এ কথাই প্রচলিত রয়েছে যে, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভারতের জাতির পিতা মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীকে ‘মহাত্মা’ উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন। আর এ নিয়ে এই বিতর্কের প্রেক্ষাপটে রবীন্দ্রনাথের পক্ষেই রায় দিলো গুজরাট হাইকোর্ট।
তাই সবশেষে বলতে হয়, দশচক্রে ভগবান ভূত হয়ে যায় নাকি দশচক্রে ভূতও ভগবান হয়ে ওঠে | বাবা পোস্ট ট্রুথের চরনের সেবা লাগে বাবা পোস্ট ট্রুথ |
...সুন্দর গিরী মহারাজ...
Comments