মঘদ

একটি কাল্পনিক দৃশ্য

একটা অরণ্যের ভেতর দিয়ে পায়ে হাঁটা সংকীর্ণ পথ ধরে ওরা দুটিতে এগিয়ে চলেছে। দুপাশে বড় বড় গাছ যেন আকাশ ছুঁয়েছে। পাতার ফাঁক দিয়ে সূর্যের আলো এসে এক মায়াময় পরিবেশ রচনা করেছে যেন। ঝরে পড়া শুকনো পাতার ওপর পা ফেলে চলেছে দুটিতে। খসখস শব্দে সাবধানী সরীসৃপেরা সরে যাচ্ছে দূরে। অজানা  অচেনা কীটেরা পাতায় পাতায় হেঁটে  বেড়াচ্ছে।

ছেলেটি পরম যত্নে মেয়েটির হাত ধরে রেখেছে,  আর মেয়েটি খানিক মুগ্ধতা আর নির্ভরতায় এগিয়ে চলেছে। এই পরম পাওয়া মুহূর্তটিকে বিফলে যেতে দিতে চায়না। হ্যা, পরম পাওয়া মুহূর্ত এইজন্য যে, তারা স্বপনেও ভাবেনি কোনোদিন এমন মুহূর্ত আসবে ওদের জীবনে।

মাঝে মাঝে ছোট নদী, ঝরনা, বা গাছের পাশে দাঁড়িয়ে প্রিয়তমার ছবি তুলে রাখছে। কখনো বা সেলফি। জঙ্গলের অজানা কীটপতঙ্গ ওদের গায়ে এসে পড়ছে। মেয়েটি আতঙ্কিত । ছেলেটি ব্যাকুল হয়ে তাদের সরিয়ে দিচ্ছে  প্রিয়তমার গা থেকে। কেউ কোথাও নেই দেখে জডিযে ধরল মেয়েটিকে। নির্জন অরণ্যে প্রকৃতির মাঝে  একটা পুরুষালি ঠোঁট নেমে এলো কোমল ঠোঁটে। সাক্ষী রইলো গাছ পাখি কীটপতঙ্গ সরীসৃপ।

দু একটা কাঠকুড়ুনি তাদের ওভাবে দেখে মুচকি হেসে চলে গেল সেখান থেকে। মেয়েটি ভীষণ লজ্জা পেয়ে মুখ ঢাকলো ছেলেটির বুকে।

অরণ্যের অভ্যন্তরে একখানা ওয়াচ টাওয়ার। স্যাঁতস্যাঁতে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠার পথ। রেলিংএর অবস্থাও তথৈবচ। তবু ওরা সেখানে যেতে চায আরও একটু নিরিবিলি পেতে।

মেয়েটিকে আগে উঠতে দিয়ে ছেলেটি পেছনে পেছনে উঠছে। হাত দিয়ে  আগলে রেখেছে মেয়েটিকে। উঁচু সেই টাওয়ারের মাথায় এখন ওরা। যেন আকাশের কাছাকাছি। কেউ ওদের দেখতে পাচ্ছে না। চারদিকে গাছ আর গাছ। পাখির বাসায় সপরিবারে পাখিরা। মেয়েটি মুগ্ধ হয়ে দেখছে।
ছেলেটি পেছন থেকে জডিযে ধরে রেখেছে মেয়েটির কোমর। কাঁধের কাছে মুখ। পিঠে মুখ ঘসছে। চুমুতে ভরিয়ে দিচ্ছে।

একটা খবরের কাগজ বের করল ব্যাগের ভেতর থেকে। বিছিয়ে দিল টাওয়ারের ছাদে। মেয়েটিকে কোলে নিয়ে বসলো সেখানে। এ এক অনির্বচনীয়  অনুভূতি! 
নির্জন প্রকৃতির মাঝে একাকী দুজনা। ছেলে টি মেয়েটিকে কোলের ওপর নিয়ে আদরে আদরে ভরিয়ে দিচ্ছে ।

Comments

Popular posts from this blog

মহায়ণ

মরণ vs যৌনতা

আনা কড়া গন্ডা ক্রান্তি