দীপ রায়

আরোহী যা জেনেছে
---------------
যে ভাবে বাঁধ ভেঙে পড়ে দোটানায়
যখন ঈশ্বরের ঘুম আসে
তুমি নিভৃতে হেঁটে যাওয়া অমায়িক নতজানু
নিজের অজান্তেই গড়ে তোলো নিস্তরঙ্গ শহরতলি
যেখানে নেই কোনো বিবাদনেই কোনো মতান্তর
যেখানে পুরোনো ক্রেতা পুরো দাম না মেটানোর অপারগতায়অনুভব করেনা কোনো বাড়তি ভার 
যেখানে চেনা দোকানি নিরুত্তাপ দুটাকা কম খুচরোআদায়েও

 

যে ভাবে বাঁধ

সেই সমস্ত ফ্ল্যাশব্যাক
ক্রমাগত রক্তক্ষরণ
যেন বাকরুদ্ধ ক্যানভাসে নিরুত্তাপ জলরং
এবড়োখেবড়ো। যেমন তেমন।
অনিয়মিত। তাক্ষণিক।
অদম্য খেয়ালে যে দিকেই তাকাই না কেন
খেলাশুরু আগের স্থির জলরাশি ও একজন সলিটারী লাইন্সম্যান
যার দু-চোখের ভিতর ঠেলে দিতে ইচ্ছে হয়
যাবতীয় ব্যক্তিগত উদ্বেগ
যাবতীয় ফাঁকা হাত
যাবতীয় জমাট আর্তি
ও যাবতীয় আত্মভোলা ব্যঞ্জন…

জমানো থাকে কিছু আক্ষরিক সম্বল
গুটিকয়েক নির্বাক স্পঞ্জবল
তেমনই থাকে ক্ষেত্র অনুযায়ী
মানানসই একেকটি সমন্বয়
চারটি আঁচড়ের হলদে তটে
আমাদের গলে যাওয়া স্মাইলিজন্ম…
আসলে মানুষ যে নিজের আড়ালে কত বাঁধ পোষে
সে আজও বুঝে উঠতে পারেনি…

 

 

 

ভেঙে পড়ে দোটানায়

যেমন বেলুনপ্রান্তরে চিরন্তন লক্ষ্যভেদের সমীহ
সেই একই পথ হেঁটে কাঁধে তুলে নিয়েছি জংমাখা আর্তনাদ
এয়ারগানের সংস্পর্শে আজ আর স্বপ্নবিলাসী নই
শুধু আবছা শব্দ ভেসে আসার জোগাড়ে যে ব্যাখ্যা তুমি সাজিয়ে তোলো
যতটা…যতটুকু…
ঠিক সামলে ওঠা একরকম
বুঝেছি সাদা সত্য
বেঁচে থাকা আসলে দুইয়ে দুইয়ে সাড়ে চার
সেই পথেই কোনো এক হঠাৎ বৃষ্টির সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায়
অবচেতন জুড়ে এযাবৎ যত ভুল অঙ্ক
ও কাটাকুটির বিনিময়ে এক জোড়া ডানা

আকাশ তুমি তাকে নিশ্চই ধরে রাখতে সক্ষম হবে…

 

যখন ঈশ্বরের ঘুম আসে

যে ভাবে স্নায়ু মাখে হিমশীতল অনুভব
এসব ঠান্ডালড়াইয়ের সমার্থক জ্ঞাপন
যখন ঈশ্বরের ঘুম আসে
আমরা পাল্টে যাই।
ক্ষণিক তফাতে আয়নাবিদ্বেষী
এই সমস্ত বানপ্রস্থ
এই সমস্ত হাত ফস্কে যাওয়া সাবান নীতি
শুধু জেগে ওঠা
সাদা পাতা জুড়ে, অব্যক্ত ফুলঝুড়ি

একবারটি বুকে হাত রেখে নির্দ্বিধায় বলো
অনুভব করোনি কখনো ?

Comments

Popular posts from this blog

মহায়ণ

মরণ vs যৌনতা

আনা কড়া গন্ডা ক্রান্তি