নির্বাচিত কবিতাগুচ্ছ

নির্বাচিত কবিতাগুচ্ছ

||| এক |||

অন্নচিন্তা চমৎকারা _ রাজেন্দ্র
**************************

পরিচিত মুখ দাদা বৌদি
কামসূত্র ডটেড কিনতে গেলে
মুখ চেয়ে দেখে

হাসতে হাসতে
কুশল জানতে চায়

আমিও বুড়ো আঙুল আর
তর্জনী জুড়ে সঙ্কেতে জানাই
বিনদাস মস্তিতে আছি

চাদরের নীচে
শীতের আমেজে
কোমর দোলাতে
কেমন লাগার কথা

এ কথা নারী পুরুষ
ভালোই বোঝে

আর বোঝে ফুটপাথে
একসাথে গুটিসুটি শুয়ে থাকা
ভিখারী আর নেড়ি গুলো

মাথার উপর আকাশ বা
প্ল্যাটফর্মের শেডে থাকা
একলা অসহায়ের চেয়ে
অনেকটা ভালো
বেঁচে আছি আমি

ওদের রতির আনন্দ
আছে কিনা জানি না

তবে
অবশ্যই আছে
বাচ্চা বিয়োনোর জ্বালা

কথায় শুনি
অন্নচিন্তা চমৎকারা

খাওয়া পরা বাঁচা মরা
এটাই কি তবে
তোমার আমার ওদের
একমাত্র জীবন

তবে আর কেন এত হানাহানি
এত লোকক্ষয় এত ভয়ডর

কেন এত
রাতদিন ক্ষতি চাওয়া অকারণ

||| দুই |||

স্বাধীনতার গল্প _ রাজেন্দ্র
************************

লাল জরদা পানের পিকে
রইল পড়ে তোমার আমার
নাগরদোলার টিকিট খানা

ভেবোনা
কোনও প্রজাপতি এসে
বসবে উড়ে ওতে

দুটো বক
বসে আছে অনেকক্ষণ
ঠোঁটের খোঁচায়
মাছ ধরবে বলে

সোনাঝুরি আর ইউক্যালিপটাস
এখন আর বন্ধু নয় জেনো

কুয়াশার চাদর কাটলেও
রোদ না ওঠা দুপুরে
এখন শুধুই কনকনে হওয়া

মাফলার টা বারবার
বেহায়া নির্লজ্জের মতো
সরে সরে যাচ্ছে

গোমরাথেরিয়াম্ মুখে
এখন আমার হাসতে মানা

কুকুরের মতো শুঁকে চলেছি
তোমার চটিতোলা ধূলোয়
আসা যাওয়ার গন্ধ

মনের বারুদে এখন
রোদ খাওয়ানো দরকার

তোমার আমার সবার
ভিক্ষেয় পাওয়া
ঘষাঘষির স্বাধীন সরকার

||| তিন |||

চিট্ চ্যাট্ _ রাজেন্দ্র
********************

মশারির এককোণা খুলে
বালিশে দেহ ফেলে

মোবাইল বুকে আধশোয়া
অনলাইন বৌদিরা
কামাতুরা সংলাপে ভেজায়
অন্তর্বাস

রাত জেগে শরীর ভাঙে

দুর্বল ঘিলুতে বাসা বাঁধে
পছন্দের যৌনতা

অফিসেও কাজের ফাঁকে
বারবার চ্যাটবক্সে উঁকি

কখনো দেওয়া নেওয়া
করে স্মাইলিরা
কপট মোহের ফাঁদে
ভালোলাগার চকমকি

চোরাবালি টানে
মন খুঁজে মরে
নিষিদ্ধ আবেগ

ভার্চুয়ালেই কাটে
দিন রাত

কখনো বা চ্যাট বক্সে
হাই _ হ্যালো

কখনো মুখোস খুলে
সেল্ফি তোলো

||| চার |||

হারিয়ে পাওয়া _ রাজেন্দ্র
______________________

খানা জংশন পার হলো
তেভাগা এক্সপ্রেসের
মুখ থ্যাবড়া ইঞ্জিন
রাশি রাশি কালো কালো
ডিজেলের ধোঁয়ার ঝামটায়
আর কানফাটা গর্জনে

প্ল্যাটফর্ম জুড়ে উঠলো
জমে থাকা ধূলোর ঝড়

যেমনটা ঠিক উঠেছিলো
তোমায় একলা পেয়ে
প্রথমবারের মতো পাশে

আঙুল দিয়ে ছুঁয়েছিলাম
নিটোল আঙুল তোমার

হাতের সাথে ঘষটে হাত
জানিয়েছিলাম তোমাকে
মনের উষ্ণতার উত্তাপ

বুঝেছিলাম আজকের
তাপমাত্রা বুঝিবা ভেঙেই দেবে
থার্মোমিটারের সীমিত পারদ বন্ধনী

সবাই জানি
ভালো সময় বেশীক্ষণ থাকেনা

আমারও থাকেনি

তোমাকে কাছ ছাড়া করার
যন্ত্রণার ভাগ শুধু নিজের মনেই
স্তরে স্তরে জমাট বেঁধে গেলো

মনে পড়লো

পাতার ফাঁক কেটে
শিশির ভেজা মাটিতে
ঠিকরে পড়া ভোরের আলো

মাটিও বেশিক্ষণ
ধরে রাখতে পারে না

পারে না ইচ্ছে মতোন
যা খুশি গজিয়ে দিতে

পারে না নদীও সব কিছু
সাগর অবদি টেনে নিয়ে যেতে

কিছুটা তো থিতিয়েই যায়
আমার শেষ বেলার হারিয়ে পাওয়া
লুকানো ভালোলাগার মতো

||| পাঁচ |||

ইলিশ নদীর জলে _ রাজেন্দ্র
*************************

ভাবনারা দেয় ধরা সময়ে অসময়ে

কখনো মনের ঘরে কখনো বা
নদীর বুকে জমাট বাঁধা চরের পরে

উদ্বাস্তু প্রেম জল হয়ে জমে
চোখের কোণায় ঊজ্জ্বল তারায়

স্বপ্নরা আসে একে একে
দিকচক্রবালে উঁকি মেরে ডুবে যায়

অবাধ্য বেয়াড়া প্রশ্নমালারা
মাঝে মাঝেই মনে এসে জমে

একতা আর সংস্কৃতি বিস্মৃত জাতি
আমরা সবেতেই বিভাজন চাই

এমনও ভাবেন কেউ কেউ
আমরা ঘরের খেয়ে অকারণ
বনের মোষ তাড়াই

কি আর করা
অপবাদ আর তাচ্ছিল্যমাখা
জীবন কেউ কি যেচে চায়

রোমকূপ থেকে ঘাম ঝরার মতো
দেশ জাতি সংহতির ভূত
দিন রাত তাড়িয়ে বেড়ায়

আমার তোমার আরও অনেকের
মা ঠাকুমারা এখনো মোছেন
শুকনো ভাঙা গাল বেয়ে নামা
লেপের ওমে নোনতা গরম জল

ওপারে সব ফেলে আসা
ভিটেমাটি জমি বাড়ি
পুকুর বাগান ধানক্ষেত
আর ইলিশ নদীর জল টলোমল

এমনটা ভাববেন না যেন
মনে মনে আমি রোজ
প্রতিহিংসার গোখরো পুষি
ধর্মের যন্তর মন্তরে

আমিও তো শুধু চাই
আইসক্রিম চকোলেট খেতে

আর পিৎজাহাটের ঠেকে
হাতে হাত রেখে বসা
ঝাঁ চকচকে মলের অন্দরে

মিলে মিশে ভাই বোন
স্বামী স্ত্রী যেমন থাকে
আত্মীয় অনাত্মীয়
দূরে হোক বা কাছে

কাঁটাতার ভেঙে
আকাশের বুক চিরে
মেঘের মতো বার বার
স্বপ্নরা বৃষ্টি হয়ে বাঁচে

-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-

কবিতাগুচ্ছ _ রাজেন্দ্র
---------------------------------
এক
*****
যতবার ক্লান্ত হয়ে পড়ি
ভাঙতে চাই আত্ম পরিচয়

ভুলে যাই ...
ঘৃণায় নয়, ভালোবাসায়
করতে হবে জয়

তোমার আমার সবার অবক্ষয়
_________________________

দুই
****
চোখের জল এমনই হয় যে
কোনও স্মাইলি দিয়েও
সেই কষ্ট বোঝানো সম্ভব নয়

আমার ভেজা চোখের পাতা
নাই বা দেখালাম তোমায়

বেশ তো আছো
খাচ্ছো ঘুমাচ্ছো
আদরে সোহাগে
ভরে থাকছো খুশীমতো

এমন সোহাগী জীবন ছেড়ে
কেন বারবার আসো
কাছে আমার

এই বুকভাঙা দরবারে
এত কিসের দরকার

জানি না
কি আছে আমার

আর
কীই বা দিতে পারি
আমি তোমাকে

না পেরেছি দিতে তোমাকে রামধনু

না ভিজিয়েছি তোমাকে
আকাশের বুকে
লুকিয়ে রাখা কুয়াশায়

শিলং এর মেঘের ধোঁয়ায়

পাহাড়ী বুনো ঝরণায়

সব সুখ ডুবিয়ে দিক তোমায়

নিয়ে যাক্ কেড়ে
বুক থেকে আমার সবটুকু

হাঁফ ছাড়া
শেষ বেলার নিঃশ্বাসের মতো

আমি জানি
তুমি গোপন মেঘের
না দেখা বিদ্যুৎফলার মতো
একদিন বুক চিরে দেবে আমার

দেখবে সেদিন
ভালোবাসা নিয়ে
কাটাকুটি খেলা বুকে
ঘৃণা আর ভালোবাসা
পাশাপাশি দুটো শব
জমাট বেঁধে আছে
____________________

তিন
*****

সুনাগরিক
--------------
ঝাঁ চকচকে রেস্তোঁরায়
বন্ধ কাঁচের কপালে
এখন আপাততঃ স্ট্রাইক
/
মাছ মাংস পিৎজা পোলাও
বিরিয়ানি কিমাও এখন
জলের দরে গড়াচ্ছে
/
নামজাদা নার্সিংহোমের
হারামজাদারাও আজকাল
পেশেন্ট ফেরাচ্ছে
/
ধার করে টাকা দিয়ে
মরুক না হতভাগ্য রোগী
বিনা চিকিৎসায়
/
ডাক্তারদের এতে
কীই বা আর এসে যায়
/
গাড়ির তেল না ভরলেও
মন কখনো সাঁইবন
কখনো বা নালন্দায়
/
চলো না 'রু' ...
ঘুরতে বেড়াতে যাবো
/
মনের সব প্রয়োজন
রোজ রোজ মেটাবো
/
আর না মিটলেই
ক্ষোভ করে বলবো-
কি হচ্ছে এটা ?
এরই কি নাম আজাদী ?
/
আরে ধুররর্ _
আজাদী ফাজাদি বাদ দাও
/
এখন শুধুই টাকা হাতে
আসার অপেক্ষা
/
সু-সময়টা আসতে দাও
/
সব ভোগ আর দরকারী
অদরকারী কাজ এখন
আটকে আছে উৎকন্ঠায়
/
সুদিন আসছে নাকি দুর্দিন
এর জন্যে এখনো নাকি
বঙ্ আঁতেলরা অপেক্ষায়
/
এসেছে আমার তোমার
সকলের অবাধ স্বাধীনতা
দয়ার দানপত্রে ভিক্ষে করে
/
আর সংবিধানও দিয়েছে
অবাধ বিচরণ অধিকার
কথায় আর কাজে
/
এখন আমরা গরু শুয়োর
মৌলবাদী টিকি দাড়ির তালাক
উগ্রপন্থী হামলা বেকার যন্ত্রণাও
বসেছি একরকম ভুলতে
/
অনেক প্রশ্নচিহ্নের ভীড়েও
ভাবনা শুধু একটাই
/
আমার টাকা আবার আমি
কখন হাতে পাবো
আর খরচ করবো
দুই হাত উপুড় করে
/
সাদা কালো খয়েরী
গোলাপী লাল গেরুয়া
এতসব ভাবার সময়
বা সবুর কোথায়
/
দেশকে কি দিলাম
কি কি দেব বা
কি ভাবে কতটা দেব
এসব তো আজকাল
বই বা ক্লাসনোটেও থাকে না
/
নাগরিক অধিকার সচেতন
আত্মসুখীর দল এখন নেমেছি
পথে ঘাটে এটিএম এর দরজায়
/
কে জানে ...
আবার কখন সরকারের
ভাবনা আর অবস্থান
কখন কি ভাবে বদলায়
_______________________

চার
*****

একরাতের মাদক ঘুম
নিমেষে উবে যায়

পাহাড়ের অতল অন্ধকারে
সীমানারা দিক পাল্টায়

স্থান  কাল  পাত্র
জর্জরিত আপেক্ষিকতায়

ছবি যখন     নেমে আসে মাটিতে
জীবন্ত সাজে ...        বসে .. তাকায় ..
চলাফেরা করে ..       অবস্থান বুঝে
ঘোরে ফেরে ..

অবুঝ অভিমানী মন
অব্যক্ত সংলাপ চিনতে ভুল করে

আত্মমগ্ন অজানা অতীতচারীতায়
নিজেরাই নিজেদের সমাহিত করে

আলুথালু বিন্যাসেও লাগে ঘোর

শব্দেরা ভাষা হারায়

হারায়   চেতনা বোধ

অসম্পূর্ণতা  বড়োই নীরব
প্রতিবাদহীন  প্রত্যাশী

অতিরিক্ত ভালোলাগা
হতে চায় সর্বনাশী

কবিতায়   শব্দে   অনুভূতিতে
জব্দ ভাবনারা যতো

নীরবে একা বেঁচে থাকে
গর্ভসিক্ত অভিমন্যুর মতো

@ রাজেন্দ্র

ঠিকানা - 154, মিশন পাড়া,
রহড়া, কলকাতা - 700118
মোবাইল - 9830202175

Comments

Popular posts from this blog

মহায়ণ

মরণ vs যৌনতা

আনা কড়া গন্ডা ক্রান্তি