তৈমুর

তৈমুরের ইতিবৃত্ত ( আংশিক বংশলতিকা )

           রামমণি ঠাকুর
        _______|_________
        |                            |
দ্বারকানাথ            গিরীন্দ্রনাথ
        |                            |
দেবেন্দ্রনাথ           গুনেন্দ্রনাথ
        |                            |
রবীন্দ্রনাথ            গগনেন্দ্রনাথ
                                     |
                            কণকেন্দ্রনাথ
                                     |
                            গীতিন্দ্রনাথ
                                     |
                       পাতৌদি + শর্মিলা
          ( বেগম আয়েশা সুলতানা )
                                    |
         সঈফ আলী খাঁন + করীনা
                                    |
                               তৈমুর

●  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দাদুর ভাইপোর নাতির দৌহিত্রীর নাতি "তৈমুর"।

কলকাতার ঠাকুর পরিবারের কন্যা শর্মিলা ঠাকুরের নাতি হয়েছে। নাতির নাম "তৈমুর"।

    পৃথ্বীরাজ কাপুর - রাজ কাপুরের বংশধর করিনা কাপুর মা হয়েছে। সন্তানের নাম "তৈমুর"।

     শিশুর নাম "নাদির শাহ" হতে পারত, "ঔরঙ্গজেব" হতে পারত, "সুলতান মামুদ" হতে পারত, "লাদেন" বা "দাউদ ইব্রাহিম" হলেও আবাক হতাম না।

    কি বলছেন?

    নামে কি আসে যায়?

    অনেক কিছু আসে যায় মশাই। মীরজাফর নাম শুনেছেন? কোনো বাবা মা তার সন্তানের এই নাম রাখে এখন?

    না। রাখে না। কারন মীরজাফর বলতেই প্রথম মনে হয় সে বিশ্বাসঘাতক।

তেমনি, রাবণ বললে প্রথম মনে হয় সে দুস্কৃতকারী ও পরস্ত্রী হরনকারী।

    তেমনি, "তৈমুর"-এর প্রথম পরিচয় সে লক্ষ হিন্দুর নরমুন্ড দিয়ে পিরামিড রচনাকারী। একটু তৈমুরের কাহিনী শুনুন ----

           তৈমুর লং। ইতিহাসখ্যাত খুনি। যে স্থানই জয় করত সেখানেই ধ্বংসযজ্ঞের প্রলয় তুলত। এই সৈন্যদলের হাতে ১৭ মিলিয়ন মানুষ নিহত হয়। যা  ছিল সেই সময়ের পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার শতকরা পাঁচ ভাগ। হিটলারের আগমনের পূর্বে তৈমুরই ছিল বিশ্বের সবচাইতে বড় ত্রাস। ভারতে কয়েক লক্ষ হিন্দুকে কচুকাটা করেন তিনি!

        তৈমুর লংয়ের নাম শোনেনি এমন মানুষ আজকের পৃথিবীতে বিরল। জন্ম ১৩৩৬ সালে আর মৃত্যু ১৪০৫ সালে। মোগল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট বাবরের দাদার দাদার দাদা ছিলেন এই দুর্ধর্ষ মুসলিম শাসক। ইতিহাস মূল্যায়নে তৈমুর সর্বাধিক স্বীকৃতি পেয়ে থাকেন মুসলিম  ইতিহাসে। এখানে তাকে দেখানো হয় ইসলামের প্রতি সমর্পিত ধর্মপ্রাণ এক বীর যোদ্ধা হিসেবে। অথচ ভারতে তার মূল্যায়ন ঠিক এর উল্টো। এখানকার একাধিক শহরে  তৈমুর রেখেছেন তার নৃশংসতার নজির। দিল্লী দখলের উদ্দেশ্যে তৈমুর তার অভিযান শুরু করেন ১৩৯৮ সালে। মসনদে তখন শাসন করছেন তুঘলক বংশের সুলতান নাসির উদ্দীন মেহমুদ। সেপ্টেম্বর মাসের ৩০ তারিখ তৈমুরের রক্তপিপাসু বাহিনী পার হলো সিন্ধু নদ। দখল করে নেয় মুলতান। দিল্লীর প্রতি রোষের পেছনে তৈমুরের রাজনৈতিক অজুহাত ছিল এটিই যে,  সেখানকার মুসলিম সুলতানরা তাদের হিন্দু প্রজাকুলের ব্যাপারে 'মাত্রাতিরিক্ত' উদার। যদিও দিল্লীর ঐশ্বর্য দখল করাই ছিল তার মূল লক্ষ্য। সালতানাতের মালিকানা নিয়ে প্রাসাদ ষড়যন্ত্রে এমনিতেই টালমাটাল ছিল মসনদ। ডিসেম্বরের ১৭ তারিখ তৈমুরের বশ্যতা স্বীকার করে নিল সুলতানের বাহিনী। এ যুদ্ধে উপস্থিত বুদ্ধির জোরে জয় নিশ্চিত করেন  তৈমুর।  দিল্লী পদানত হলো তৈমুরের। আর এর নগরবাসীর কপালে জুটল চরম পরিণতি। ঐতিহাসিক সূত্রমতে, দিল্লীর পতনের পর এক সপ্তাহ ধরে চলতে থাকা হত্যাযজ্ঞে প্রায় এক লাখ হিন্দুর (বিধর্মীর) শিরশ্ছেদ করেন তৈমুর। তাজক-কি-তৈমুরী বা তৈমুর স্মৃতিকথনে নিজের ভাষায়  দিল্লীর ঘটনার বয়ান করেছেন এভাবে “মাসের ষোড়শ দিবসে এমন কয়েকটা ঘটনা ঘটল যার পরিণতিতে ধ্বংস হলো দিল্লী। তরবারির নিচে কাটা পড়ল অনেক বিধর্মীর মস্তক। ভয়ানক একদল তুর্কি সৈন্য নগরীর কোনো এক ফটকের কাছাকাছি ঘুরে বেড়াচ্ছিল আর ফুর্তি করছিল। এ সময় তাদের কেউ কেউ কাছের লোকজনের ঘরবাড়িতে হামলা চালায়, তাদের নারী এবং সম্পদ লুটপাটের চেষ্টা করে। খবর কানে আসামাত্র আমি শৃঙ্খলা বিধানের নিমিত্তে একদল সৈন্য পাঠাই সেখানে। এরপর আমার হারেমের কতিপয় মেয়েছেলে দিল্লীর সম্রাজ্ঞী মালিকি জৌনার দুর্গ জাহান-পানাহ দর্শনের সাধ প্রকাশ করে। আমি একদল সৈন্যের পাহারায় তাদের নগরে পাঠাই। এরপর জালাল আহমেদ ও তার লোকজন নগরে গিয়ে সেখানকার বিজিত অধিবাসীদের ওপর আরোপিত কর আদায়ের কাজ শুরু করে। এছাড়া খাদ্যশস্য, তৈল, চিনি এবং ময়দা জোগাড়ের লক্ষ্যে আরও এক সহস্র সৈন্য নগরে প্রবেশ করে। এছাড়া আমার কাছে সংবাদ এলো, আশপাশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পালিয়ে বিপুল পরিমাণ ধনসম্পদ এবং স্ত্রী-পুত্র-পরিজনসহ একদল অভিজাত হিন্দু আশ্রয় নিয়েছে শহরে। তাদের ধরে আনার জন্য আরও কিছু সৈন্যসহ বেশ কয়েকজন সেনাপতিকে পাঠালাম নগরে। এতগুলো কাজ সম্পাদনের জন্য পর্যাপ্ত তুর্কি সৈনিক তখন অবস্থান করছিল ভেতরেই। পলাতক হিন্দুদের ধরার জন্য সৈন্যরা যখন অগ্রসর হলো সে মুহূর্তে বিধর্মীদের কেউ কেউ তরবারি হাতে আক্রমণ করল তাদের। মুহূর্তের ভেতর জ্বলে উঠল সংঘাতের আগুন। খুন আর ধ্বংসের নেশায় মাতোয়ারা হলো তুর্কি দল। ধর্ষণ ও দাসত্বের হাত থেকে পরিত্রাণের পথ নেই দেখে হিন্দুরা নিজের হাতেই আগুন দিয়ে নিজেরাই পুড়িয়ে মারল নিজের বিবি-বাচ্চাদের। এরপর তরবারি হাতে ছুটে এলো যুদ্ধে আর মারা পড়ল মাছির মতো। হিন্দু বিধর্মীরা যথেষ্ট শৌর্যের পরিচয় দিয়ে লড়াই করে গেল। সারাদিন ধৈর্যসহকারে নগর ফটক পাহারা দিল সেনাপতিরা। সৈনিকদের নিবৃত্ত করল শহরে ঢুকতে। ওইদিন ছিল বুধবার। পরদিন বৃহস্পতিবার সারাদিন এবং সারারাত পর্যন্ত চলতে থাকা এই লুটপাট, ধর্ষণ, হত্যা আর ধ্বংসযজ্ঞে অংশ নেয় প্রায় ১৫ হাজার তুর্কি সৈনিক। শুক্রবার ভোর এলো। সৈন্যদের মধ্যে কোনো শৃঙ্খলা নেই। আমার নির্দেশ ছাড়াই তারা সব ছুটে চলে গেছে নগর অভ্যন্তরে। প্রতিটি সৈন্যের হাতে খোলা তরবারি, চোখে খুন আর ধ্বংসের নেশা। যাদের খুন করা হলো না, তাদের ধরে আনা হলো বন্দি হিসেবে। পরদিন শনিবারও চলল এই জের। দিনশেষে প্রতিটি সৈন্যের ভাগে পড়ল নারী-শিশু মিলিয়ে শতাধিক বন্দি। এমনকি বাবুর্চির ভাগেও পড়ল কমপক্ষে কুড়িজন বন্দি। লুণ্ঠিত দ্রব্যের মধ্যে পাওয়া গেল বিপুল পরিমাণ রুবি, হীরা, চুনি, মুক্তা ও অন্যান্য দ্যুতি ছড়ানো দামি পাথর; সোনা-রুপার অলঙ্কার, আশরাফি বা বাদশাহি মুদ্রা, টাকা আর অমূল্য সিল্ক। দিল্লীর বাসিন্দাদের মধ্যে হাতেগোনা কয়েকজন ওলামা, মাওলানা আর সাঈদী ছাড়া সব নাগরিককে কতল করা হলো। দুর্ভাগ্যের লিপি মাথায় নিয়ে এভাবেই ধ্বংস হলো এ নগর। আল্লাহর ইচ্ছা, এভাবেই ধ্বংস হবে দিল্লী। ১৩৯৮-এর ডিসেম্বরে মিরাটের উদ্দেশে দিল্লী ছাড়েন তৈমুর। পরের বছর যান হরিদ্বার, যথারীতি লুটপাট, হত্যাযজ্ঞ শেষে শহরটি মিশিয়ে দেন ধূলোর সঙ্গে। একই বছর আগের অভিযান স্থগিত রেখে ফিরে যান আমু দরিয়ার পাড়ে তার রাজধানীতে। সঙ্গে নিয়ে যান লুণ্ঠিত বিপুল সম্পদ আর হাজার হাজার ক্রীতদাস। এসব মালামাল বহন করতে কাজে লাগানো হয় শতাধিক রাজকীয় হাতি। ঐতিহাসিক সূত্রমতে, ভারতবর্ষ থেকে লুণ্ঠিত এ সম্পদ দিয়েই গড়ে উঠেছে সমরখন্দের নয়নলোভা বিখ্যাত মসজিদ- বিবি খানমের মসজিদ!!!

আজ সত্যিই সাইফ আলী খানরা ভারতে আবারও তৈমুর লংয়ের খুন-ধর্ষনের ধ্বংসযজ্ঞ ফিরিয়ে আনার স্বপ্ন দেখেন! আর এ কাজে সঙ্গী কারিনা কাপুরের মতো কিছু পথভ্রষ্ট চরিত্রহীন ভারতীয় হিন্দু!

( তৈমুরের কাহিনীটি সংকলিত। )

Comments

Popular posts from this blog

মহায়ণ

মরণ vs যৌনতা

আনা কড়া গন্ডা ক্রান্তি