সাফ কথা
সাফ কথা
-------------
* আমি দুইমুখো ভন্ডদের সাথে মেকী লোক দেখানো সেক্যুলার হতে পারবো না ।
* আমি জন্মসূত্রে মনে প্রাণে ভারতীয় বাঙালী হিন্দু সন্তান ।
* এই দেশে আমাদের অস্তিত্ব নিয়ে যে সব হিন্দুরা আজ ব্যঙ্গ করছে, একদিন সেই হিন্দুরাও পস্তাবে ।
* আমি মুসলিম বিরোধী নই । মুসলিম মারার পক্ষপাতীও নই । আবার ওদের তোষণ করতেও চাই না । আর কেউ ওদের তোষণ করুক, তাও চাই না ।
* আমি শুধুমাত্র চাই, আমার দেশের হিন্দুরা সংঘবদ্ধ হোক, ঐক্যবদ্ধ হোক । নিজের ভাষা সংস্কৃতি সংস্কার নিয়ে চর্চা করুক ।
* আর বাকী সব ধর্মের সাথে মিলেমিশে ভাব ও ভাবনার আদান প্রদান করুক ।
* শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব বলে গেছেন সর্বধর্ম সমন্বয়ের কথা । মিশনেও তাই শিখেছি আমরা ।
* এই দেশে যাদের জন্মভূমি, তাদের সকলের এই দেশের জল মাটি বাতাস ও প্রাকৃতিক সম্পদের উপর পূর্ণ মাত্রায় অধিকার আছে ।
* তবে কেউ যদি মনে করে, আমরা বংশবিস্তার করে সংখ্যা বৃদ্ধি করবো, আর বাকিরা এখান থেকে মুছে যাবে, যা কাশ্মীর, বাংলাদেশে হয়েছে, তা কিন্তু এই বাংলার মাটিতে করতে দেবো না । এই পশ্চিমবঙ্গ কে কাশ্মীরে পরিণত করতে দেবো না কিছুতেই ।
* আমি যেই জেলাতে আছি কর্মসূত্রে, সেখানে হিন্দুরাই সংখ্যালঘু । আমার মনে হয়, একদিন গোটা পশ্চিমবঙ্গেই হিন্দুরা এমন করে সংখ্যালঘু হয়ে পড়বে । তার জন্যে আর খুব বেশী বছর অপেক্ষা করতে হবে না আমাদের ।
* সব ধর্মেরই ভালো মন্দ দিক মিলে মিশে আছে । আছে অনেক রকম ভ্রান্ত ধারণা, বিশ্বাস আর সংস্কার । সেটা স্থান কাল পাত্র আর সময় ভেদে পরিবর্তন সংশোধন হয়েছে, হচ্ছে এবং হবেও । এই নিয়ে যুদ্ধ না করে আলোচনা করতে হবে ও সংস্কারের পথকে প্রশস্ত করতে হবে । হিন্দু ধর্মের এই জাতীয় সংস্কার শুরু হয়ে গেছে সেই গৌতম বুদ্ধ, মহাবীরের আমল থেকেই, বা তারও আগের থেকেই । হিন্দু দের থেকেই বের হয়ে এসেছে বৌদ্ধ, জৈন, শিখ এবং নবী হজরত মহম্মদের ধর্ম । শুনেছি পয়গম্বর মহম্মদের পিতা মাতা নাকি পৌত্তলিক ছিলেন ।
* আমার মনে হয় সকলের সমান অধিকার আপন আপন ধর্ম ও সংস্কৃতি রক্ষার । এই নিয়ে বাক্ বিতন্ডা অশান্তির কোনও অবকাশ থাকার কথা নয় ।
* তবুও এই রাজ্যে গত কয়েক বছরে স্থানে স্থানে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়েছে । সরকার এ নিয়ে উদাসীন । প্রশাসন রাজনৈতিক দলের পদলেহন করতেই ব্যস্ত । নেতা দাদা দের মুখে কুলুপ ।
* আমার প্রতিবাদ এই নিস্পৃহতা থেকেই শুরু ।
* বাংলার রাজনৈতিক দলগুলি, মিডিয়া গোষ্ঠীরা কেন এই নিয়ে আলাপ আলোচনা করছে না ? সবাই কেন এত নীরব ? এর অর্থ খুব ভয়াবহ । তারা কি চাইছেন, এই রাজ্যটা পুরোপুরিভাবে মৌলবাদী দাঙ্গাবাজদের কবলে চলে যাক্ ? কেন তারা দাঙ্গাবাজদের মুখোশ গুলো খুলে তাদের কে গোটা দেশবাসীর সামনে চিহ্নিত করছে না ? কেন তাদের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছে না ? কেন ? কেন ? কেন ?
* কেন বারবার এ কথা বলা হচ্ছে যে সন্ত্রাসবাদী দের কোনও ধর্ম হয় না ? আমার সরাসরি প্রশ্ন তাদের কে __ তবে কি দাঙ্গাবাজদের মা - বাবা - পরিবার - বন্ধুবান্ধব - শিক্ষা অঙ্গন ___ এই সব কিছুর কোনও ভূমিকা নেই, তাকে দাঙ্গাবাজ ও দুষ্কৃতিকারী করে তোলার জন্য ? তবে কেন একজন ডাক্তার, ইন্জিনিয়ার, গবেষক, প্রশাসক, বৈজ্ঞানিক, প্রফেসরের সন্তান দাঙ্গাবাজ হন না ????? তবে দেশের আইন কানুন বিচারব্যবস্থা প্রশাসন কি চাইছে ?
__________ আমার মনে হয় সকলের আবার নতুন করে ভাবা শুরু করা উচিৎ ____ বাংলা ও বাঙালীর সংস্কৃতির স্বার্থে ___ আর নয়তো জাতীয়তাবাদ, মানবতাবাদ, দেশপ্রেম ___ এই সব শব্দ সমূহ কে মুছে ফেলা উচিত ।
*** জাতীয় সংহতি আর পরমতধর্মসহিষ্ণুতা র অর্থ কিন্তু কোনও নির্দিষ্ট একটি ধর্মীয় দলকে ভোটবাক্সের জন্য তোষণ করা নয় । এমনটা চললে একদিন কিন্তু এই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যটিও কাশ্মীরে পর্যবসিত হবে । বাঙালী হিন্দুদেরও কাশ্মীরের ও বাংলাদেশের হিন্দুদের মত জন্মভূমি ছেড়ে ভবঘুরে হয়ে ঘুরে ঘুরে মরতে হবে উদ্বাস্তুর মতো __ এটা আমার দৃঢ় এবং স্থির বিশ্বাস ।
Comments