Holodomore

হলডমোর
=========

হলডমোর ! ইংরেজী অক্ষরে লিখলে holodomore ।

না,  এটা কোন ফ্যান্টাসি সিনেমা বা সিরিয়ালের চরিত্রের নাম নয় । এটা ইউক্রেনীয় ভাষার একটা শব্দ । আর এ শব্দটা তৈরি হয়েছে আরো দুটো শব্দ জুড়ে -  holod ,  মানে অনাহার, আর moryty , মানে হত্যা করা ।

মানে  সোজা বাংলায় মানুষকে না খাইয়ে মেরে ফেলা ।

তেতাল্লিশের মণ্বন্তরের কথা হচ্ছে ভাবলেন বুঝি ? ওই যে সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ সরকার সব চাল-টাল মজুদ করে ফেলছিল, বাংলায় দুর্ভিক্ষ হয়েছিল, সব লাখে লাখে মানুষ না খেতে পেয়ে মারা গিয়েছিল ।

আরে না না । তেতাল্লিশের সেই মণ্বন্তরে তো  লাখ তিরিশেক লোক মারা গিয়েছিল। আসল দুর্ভিক্ষের গল্প শুনতে গেলে আপনাদের একটু ইউক্রেনে আসতে হবে ।

পূর্ব ইউরোপের দেশ ইউক্রেন । তার পূব দিকে রাশিয়া , দক্ষিণে ব্ল্যাক-সী আর পূবে পোল্যাণ্ড আর রোমানিয়া । ইউক্রেনের জমি খুব উর্বর , একসময়ে তাই এর নাম ছিল ইউরোপের রুটির ঝুড়ি – The Bread Basket of Europe ।

তা এই রুটির ঝুড়ির দখল কেই বা আর সহজে ছাড়তে চায় । অতএব নানা  রকম বাদ প্রতিবাদ ডাণ্ডার ঘায়ে ঠাণ্ডা করে দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদের বেড়ি গলায় ঝুলিয়ে ইউক্রেন সোভিয়েত ইউনিয়নের ঘরে উঠল ।

কিন্তু ইউক্রেনের চাষাভুষোগুলো ছিল বড়োই তেঁয়েটে । মানে এই যে সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠার একটা তোড়জোড় হচ্ছে, এই যে কিছুদিনের মধ্যে পৃথিবীতে ইউটোপিয়া নামক স্বর্গ নেমে আসবে, সে সব তারা বুঝলে তো হয়! না কোথায় মাথার মধ্যে জাতীয়তাবাদী চিন্তাধারা, ইউক্রেনিয় কালচার, সব এক্কেবারে গজগজ করছে।

এইসব বেয়াদপি কোন জনগণতান্ত্রিক সরকার সহ্য করতে পারে ?

অতএব চাচা স্টালিন গোঁফ চুমরে তাঁর অমাত্য কাগানোভিচকে দায়িত্ব দিলেনে বেয়াড়া চাষাদের কিঞ্চিৎ শায়েস্তা করতে । কতগুলো ব্যাটাচ্ছেলে সাবড়ে গেলে বাকিগুলো সুড়সুড়িয়ে সাম্যবাদের সড়কপথে নিজে থেকেই সরে আসবে । আর তাছাড়া, খাজনা আদায়ের পরিমানটাও কিঞ্চিৎ না বাড়ালেও চলছে না, গমের বদলে বিলেত আমেরিকা থেকে যন্ত্রপাতি আমদানী করতে হবে, দেশে সিল্প-টিল্প হবে !

খাজনা ?  ভাবছেন খাজনা কোত্থেকে এল ?

আচ্ছা , তাহলে একটু আগের ইতিহাস বলি ।

১৯২৮ থেকে ১৯৩৩ এই পাঁচবছরের জন্যে স্টালিন চাচা যে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা চালু করলেন, তার অন্যতম অঙ্গ ছিল ফার্ম কালেক্টিভাইজেশন বা যৌথ খামার । মানে চাষীদের নিজস্ব যে সব জমি-জিরেত আছে সেগুলো সব কেড়ে নিয়ে একজোট করে এক-একটা খামার তৈরি হবে । সে খামারে চাষারা সব এবার কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তাদের সেই সব কেড়ে নেওয়া জমিতে ‘আয় সাম্য ঝেঁপে, গম দেব মেপে’ গাইতে গাইতে জনগণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্যে ফসল ফলাবে।

অবশ্য কতটা ফলাতে হবে, সেটা রাষ্ট্রই ঠিক করে দেবে। সোভিয়েত সাম্যবাদী সংলাপে সেই পরিমাণের নাম ফসল কোটা ।

দুর্জনে বলে খাজনা ।

১৯৩২ সালের মাঝামাঝি, ইউক্রেনের ৭৫% জমি কালেক্টিভাইজেশনের আওতায় চলে এসেছে । চাষীদের টুঁটি এখন সরকারের মুঠোয় । এর বিরুদ্ধে যেই দাঁড়িয়েছে, তার পুরষ্কার জুটেছে বন্দুক-নল-বটিকা সেবন  কিম্বা সাইবেরিয়ায় ফিরি হলিডে ।

৭ অগস্ট ১৯৩২। আইন বানালেন স্টালিন - সরকারী সম্পত্তি চুরির সাজা মৃত্যুদণ্ড,  কিম্বা কম করে দশ বছরের জেল। চলতি কথায় এই আইনকে বলা হত পাঁচ ছড়া ফসলের আইন  - The Law of 5 ears of corn।

যে জমিতে চাষী বংশানুক্রমে চাষ করে এসেছে, আজ খিদের জ্বালায় সেই জমির ফসলে যদি সে হাত দেয়, তবে তার সাজা মৃত্যু কিম্বা জেল ।

ফসলের কোটা বাড়িয়ে দেওয়া হল আগের বছরের তুলনায় ৪৪% বেশী ।

ধরুন খাজনার, থুড়ি ফসল কোটার লক্ষ্য পূর্ণ হল না , তখন ?

তখন আর কি ? বিপ্লবী কমরেডরা গণসঙ্গীত গাইতে গাইতে চাষার বাড়িতে এসে খাবার দাবার যা আছে সব বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে যাবে । চালাকি পায়া হ্যায় ? ব্যাটা চাষা , ঘুঘু দেকেচো, সাম্যবাদ দ্যাকোনি ?

আর তাতেও যদি না কাজ হয় তবে  যৌথ খামারের নাম সোজা ব্ল্যাকলিস্টে । যে সব খামার বা চাষা  কোটার টার্গেট মিট করে নি , তাদের কাছে কেরোসিন, দেশলাই, রোজ ব্যবহারের জিনিষপত্র সব বিক্রি বন্ধ! 

আর হ্যাঁ , সে সময়ের সিক্রেট পুলিশের নাম ছিল NKVD – তার ইউক্রেনের বর্ডার দিল সিল করে । চাষাদেরকে ট্রেন কি নৌকোর টিকিট বিক্রির ওপরেও জারি হল নিষেধাজ্ঞা । গ্রাম ছেড়ে কোন শহরে আসাও রোকা হল তাদের । দেখি ব্যাটা চাষা, খাজনা না  দিয়ে যাস কোথায় ।

অচিরেই  সুফল ফলল । বছর খানেকের মধ্যে এক কোটি মানুষ টেঁসে গেল, তার মধ্যে লাখ তিরিশেক শিশু । ১৯৩৩ সালে  যখন দুর্ভিক্ষ চরমে তখন মিনিটে প্রায় সতেরোজন করে মারা যাচ্ছে । ওঃ ! কোথায় লাগে আমাদের হিটুদার কন্সেন্ট্রেশন ক্যাম্প । এতো একেবারে নিখরচায় নিধন যজ্ঞ । যাকে বলে রেভোল্যুশনারী এফিসিয়েন্সি !!

আর সেই সময় ইউক্রেনের সরকারী ডিস্টিলারিগুলোতে বাড়তি শস্য  থেকে তৈরি হচ্ছে মদ – বিদেশে এক্সপোর্ট হবে । সোভিয়েতের স্ট্র্যাটেজিক গ্রেন রিজার্ভে পড়ে  ১৫ লক্ষ টন শস্য ।

তা যাকগে । বেশী কথা বাড়িয়ে লাভে নেই, বাকিটা আপনারা একটু চেষ্টা করলেই ইন্টারনেটে খুঁজে পাবেন। আমি বরঞ্চ টা-টা করার আগে  এট্টু লক্ষী ঠাকুরের কথা বলি।  

অবশ্য আজ লক্ষ্মীপূজোয় আপনাদের অনেকের ঘরে ঘরে ধানের ছড়ার সাথে যে লক্ষ্মী শোভা পাবেন, তিনি নন । ওই যে ছবিটা দিয়েছি সেই লক্ষ্মী । ইউক্রেন স্বাধীন হবার পর হলডমোরে মৃত মানুষদের উদ্দেশ্যে কিয়েভে বসানো একটি স্থাপত্য -  নাম ‘শৈশবের তিক্ত স্মৃতি’

অনাহারে শীর্ণ শরীর, কোটরাগত চোখ, হাতে ধানের বদলে কয়েকটা গমের ছড়া ।

কমিউনিজমের অভিশাপক্লিষ্ট লক্ষ্মী !

আসুন লক্ষ্মীপূজোর দিন এই ভিনদেশের অজানা লক্ষ্মীটির উদ্দেশ্যেও একটা প্রণাম করি।

IN THE YEAR 1936 ,  STALIN CALLED THE " GREAT PURGE" (FAMOUS IN THE HISTORY, 1936 - 1938 ) TO PURIFY THE PARTY (CPSU), actually to consolidate his power in the party , which lead 6 lakhs casualties ..... BUKHARIN, LUNACHARSKY, BOGDANOV, MAXIM GORKY, MAYAKOVOSKY, TROTSKY all were jailed , exiled and killed by STALIN. BUT AFTER ALL THESE , I can say , what thing you can never find out in the internet , JOSEPH STALIN ( THE KILLER ) NOT ONLY SAVED THE RUSSIA INTHE WORLD WAR - 2 BUT HE ALSO SAVED THE DEMOCRACY OF THE EARTH, OTHERWISE THE GEOGRAPHY MIGHT BE CHANGED.

HATE STALIN, BUT DON'T HATE DIALECTICS .

Read MORIS CONFORTH

Comments

Popular posts from this blog

মহায়ণ

মরণ vs যৌনতা

আনা কড়া গন্ডা ক্রান্তি