তৃতীয়ত: আমি

তৃতীয়তঃ আমি _ রাজেন্দ্র ভট্টাচার্য্য
--------------------------------------------------

1

ছোটে যখন অশ্ব আয়ু
লাগাম যে নেই হাতে

ভুলের ভারে নুইয়ে চলা
ভাগ্য ভাঙার সাথে

2

পৃথিবীর আলো সব
মুছে গেছে একসাথে

লেগে আছে ফোঁটা কিছু
ভাঙা শ্লেটের কোণে বিসদৃশ

গুঁড়ো ভালোবাসার চক
যতই ঘষিনা কেন বারবার

তবুও ক্ষয়াটে জীবনে
হাসিমুখে রাত জাগা অহর্নিশ

3

বালিশের চারকোণা
পালা করে মুছে দেয়
গোপন জমাট জল

গুনতে ভুলে গেছি
তা কতবার

চোখে ভাসে
আবছা ভাসা ভাসা
টুকরো টুকরো ভাঙা স্বপ্ন

তবুও আমি জানি
মনে মনে তুমি
একান্তভাবে শুধুই আমার

4

মিশকালো পূতিগন্ধময় জলে
পচা পাটের জীবন

জানি না
বাঁচতে হবে কতদিন আর

হয়তো একদিন স্বর্ণতন্তু হয়ে
বেরিয়ে আসবে আমার
সমস্ত সার

আর আমি পাটকাঠি স্তূপে
থাকবো হেলায় পড়ে

মাটির উনুনে
ছাই হওয়ার অপেক্ষায়

5

কেউ তো ভালোবাসেনি
দেয়নি তো কেউ আমায়
তার রক্তহৃদয়ের ছোঁয়া
যা তুমি দিলে অযাচিত

রক্তগোলাপের নিষ্পাপ পাঁপড়ি যতো
জ্বলে ওঠে তোমার আঙুলের আগায়
বুকভাঙা নক্ষত্রের মতো

যতই দীর্ণ আর ক্ষতবিক্ষত
হই না কেন কাঁটার ছোঁয়ায়
তবুও বড় প্রিয় আমার
এই লাল গোলাপ
তোমার ঘামে ভেজা চুল আর
সাদা বেলে সাজানো খোঁপায়

তোমার ক্ষয়ে যাওয়া লিপস্টিকে
রাতভর হারানো চুমুর মতো
এখন শুধু রয়ে গেছি
শুকনো কিছু কালির আঁচড়ে
ছেঁড়া ডায়েরীর নিঃশব্দ পাতায়

6

কোনও একদিন

কোনও এক ভেজা সন্ধ্যায়

 মনে পড়েছিলে তুমি

 ভালোবাসা ছোঁয়া

কফির উত্তাপ নাকি

গোলাপি ঠোঁটের

বসেছিল সেদিন অন্য কেউ

আমার মুখোমুখি

চেয়ার টেনে

টেবিলের কোণে

আমার হাতের উষ্ণতা

সেদিন বোঝেনি __

যতটা পেয়েছিলে তুমি

অন্তহীন ...

7

টাউনহলে সন্ধ্যা নামে
আলোর চাদরে

বিস্ফারিত চোখ
কখনো গোল পর্দার ফাঁকে

কখনো দু মুঠো বাদাম পপকর্ণ
আর ঝালমুড়ির স্বাদে

খুঁজে ফেরে
প্রেমের বৈধতার টাইমপাস

ভদকার ঝাঁঝ
মেরে দেয় মুখের ঝাল

অনায়াসে মেশে মুখ
স্প্রাইটের ছকভাঙা বুদবুদে

চারদিক বেয়ে
নেমে আসে মায়া

পথ ভুলে ঘুরে ফেরে
দেওয়ালের নোনাধরা ছাপ

দলে দলে তোলে ঝঙ্কার
রুদ্রবীণারা তারে তারে

মিশে যায় ঝুমুর গম্ভীরা
খ্যামটা আর আলকাপ

শব্দের মৃত শবে

আর ক্ষমাহীন
দর্শক কলরবে

8

লালন সাঁই এর একতারা
স্বপ্নে দেখলাম কাল

কেউ যেন রেখেছিল টাঙিয়ে
মাথার উপর

খোলা জানালা বেয়ে
চাঁদের আলো মেখে
গিয়েছিল উড়ে জোনাকিরা
গত রাতে দল বেঁধে

নাগকেশর আর ছাতিমের
উগ্রতা লেপ্টে গেছিল
একে অপরের সহবাসে

ইন্দ্রিয় সচেতন আত্মসুখ
তখনও হন্নে হয়ে খুঁজে ফিরছিল
ভাবনায় হারানো মানুষ

আমার "মনের মানুষ"

9

একটা নয়
অনেক গুলো কাগজের নৌকো হয়ে
ভেসে যাব তোমার ধারায়

তোমার গভীর ভেজা নিঃশ্বাসে
বারবার ভিজে যাব

ডুবে যাব

ছিঁড়ে তলিয়ে যাব
সোঁদা পলির গভীরে

আবার জন্ম নেব
তোমার আঙুলে

সিগারেটের আগুনে
কঠিন নিকোটিনে
পুড়তে পুড়তে

ভালোবাসার সমস্ত গলনাঙ্কের
সীমান্ত ভেঙে

অশান্ত বৃষ্টির ফোঁটায় ফোঁটায়

ঘামের সুবাসে
মিশে যেতে যেতে

10

রাতের একলা ভেজা বালিশ শুধু জানে
তোমাকে ভালোবেসে হারানোর মানে

11

বছরে দুটো দিন ..

মাত্র দুটো দিন
বাতাসে ভাসে
আবেগ আপ্লুত গান

কতটা মন থেকে বাজে
সেই দেশাত্মবোধ ..
জানা নেই

টিভির পর্দায় দেখি
দোর্দণ্ডপ্রতাপ সেনা
কুচকাওয়াজ
সামরিক আস্ফালন

নির্বাচিত প্রতিনিধি
দেখায় স্বপ্ন আগামীর
জ্বলজ্যান্ত দিনে

রাত ঘনিষ্ঠ হলেই
আবার ফিরে আসা
বাস্তবতায়

পথে ঘাটে আবর্জনা সেজে
নেতিয়ে থাকে
ফিকে হয়ে আসা তিরঙ্গা

গঙ্গা সিন্ধু নর্মদার জলে
গড়িয়ে গেছে সত্তর বছরে
কত হাজার কোটি দুর্নীতি
দুর্বিনীত মনের সাথে
ভাসতে ভাসতে

তবুও
কয়লার রঙ না ওঠা
মানসিকতার দোহাই কেটে
আমরা গর্বিত হয়ে বলে উঠি

সারে জাঁহান সে আচ্ছা

12

যেই দিকে যাই,
শুধুই ফোঁস ফোঁস।

হাত দিলেই
শুধু কামড়।

যাই করতে চাই,
সবেতেই আফশোস।

মন বাড়ালেই
সপাটে চাপড়।

13

সামশুলদের আমবাগানের
পুরানো দরমা ঘরের খুপরির ভিতর

বসুন্ধরা বীরের ভোগ্য নাকি ভোগ্যা

এ নিয়ে গুরুমশাই বেত ভেঙেছেন
বছরের পর বছর

এখনও ভাঙছেন কখনো
চশমার ডাঁটি খুলে
নিরীহ চপেটাঘাতে

কখনো বা মিড ডের
লাঞ্চ মেরে শেষ পাতে

ভাবনারা তবু হয়নি
এখনো শেষ

এই আমি সবকিছু
অবহেলায় ফেলে যেমন
বাঁচতে শিখছি বেশ

14

আমার রোজকার দেখা
আধভাঙা ব্রীজের উপর
হেলায় দাঁড়িয়ে থাকা তুমি
একদিন প্রশ্ন ছুঁড়েছিলে
আমার না পোষা কাঠবিড়ালীর
নিষিদ্ধ ওমের পরশ ছুঁতে

শুনেছিলাম আমি সেদিন
বুনো হাঁসের ডানার ঝাপট
কপট বাতাসের ফাটলে

বাস লরির চাকায় ওড়া
ঝাপসা ধূলোয় মিশে যাওয়া
নেলপালিশের ধারালো রঙিন গন্ধ
এখন তো অনেকটাই মলিন

শুনেছি দ্য ভিঞ্চির বুভুক্ষু
এখন নাকি গ্রাস করেছে
তোমার সমস্ত কলরব

আর এখন শুধুই রয়ে গেছে
আমার সমগ্রতার একলা বিপ্লব

15

ভাবছি রু ...

কেন এমন করে বারবার

আমি শুধু তোমাকেই চাই

কুহকী বন্ধন পাশে

কবিতার আকাশে বাতাসে

রাঙামাটি জুড়ে শিকড় গজানো

ভেজা কাশ আর সবুজের দেশে

16

মন আমার বিরামহীন
কলমের খচখচে আর
উদয়াস্ত ফোন কলের তাড়নায়
বনবাসী রামচন্দ্র হতে চায়

কোর্ট কাছাড়ি অফিসের স্টাফ
আর মুহুরীর তাড়নায় শুধু
ধোঁয়া আর ঘামে ভার বয়ে যায়

নিজেকে মালবাহী গাধা ভাবলেও
মনে মনে সুখী হতাম একদিন
দায়ভার এড়িয়ে যাব বলে

জানি গিলোটিনে হাত রেখে
কাজ করি সব দোষ মেনে
জিভকেটে দুই কান মলে

17

বসে আছি
প্ল্যাটফর্মে

নিরালা নির্জনে
ভৌতিক স্টেশনে

এক্সপ্রেস ট্রেনের
জেনারেল কামরায়

একটা আপার বার্থ
খুঁজে নেওয়ার
অনিশ্চিত অপেক্ষায়

ভাগ্যবান কি
শুয়ে শুয়ে যায়
ঐশ্বরিক ভালোবাসায়

কাল ভোরে
পা রেখে দোটানায়
যাব বেআক্কেল অফিসে

আক্কেল গুড়ুমের
মিসফরচুন অভ্যাসে

স্মার্টনেসের তালিম দিতে
তালিবানি ভাবনায়

জিহাদের দোটানায়
কানকাটা কামরাঙা মনে

ভীমরুল শাণ দেয়
কোণ ভাঙা হুলে

ফুটো ফুসফুসে
গোঙাতে গোঙাতে

18

ভাবনারা আঁকড়ে ধরে
মাছের আঁশের মতো
সময়ে অসময়ে

আঁশ তো ছাড়ানো হয়
প্রতিবার ব্যারন বারের
নীলচে আলোছায়া জালে

তবুও
পুরানো চাওয়ার ঘেরাটোপে
গন্ধরা লেপ্টেই থাকে
কুহকী মায়ায়

দরমা কাটা হুলো বিড়াল
স্বভাবে বাইরে চরে
কখনো বা হতাশায় মরে

কখনো পাতের মাছ
কখনও বা
পোষা পায়রা ধরে

19

 যখনই খনিজ লবণ ঝরে
সনাতন ধর্মের কলেবরে
পোয়াতি মেঘের আলোড়নে
বৃষ্টি এখানে তখনই নামে

অকারণ বাঁচার পরিণাম
জানা আছে কি
অমেরুদণ্ডী দেবশিশুর
বুকের রোমে লবণাক্ত ঘামে

সবুজ ঘাসের লোভ
মেটেনি কখনো
একথা আছে ছাপা
ইতিহাসের হলুদ পাতায়

শব্দের কোলাহলে
এখনো ঝরে
উদাসীন মাদকতা
ছেঁড়া দিনলিপি
সিঁথির মাথায়

প্লেটে সাজানো
ব্যক্তিগত ব্যর্থতা
ভরেছে বাঁকাচোরা গর্ত
পর্বতের আঁকে বাঁকে

এখন আর
একটুও নেই সময়
সব কিছু বোঝানোর
স্বল্পবাক চিত্রপটে
অনিশ্চিত দোটানার ফাঁকে

20

ভাঙা হিমোগ্লোবিন আর প্লাজমায়
মিশে জেরবার
অক্সিজেন অভাবী ঠুনকো জীবনের রাশ

পাসওয়ার্ড কেটে স্প্যাম মেল ছিঁড়ে
উবে যায় চুমু খাওয়ার আবেগ
লাল মেঘ মুখো সূর্যাস্তের দেশে

বৃষ্টির জলে ঝরা কান্নার ফোঁটা
ভিজিয়ে দেয় হেমন্তের কুয়াশাভরা ওম
একমুঠো আদরের লোভে

আমার একমাত্র দাবী এখন
এগারোটা বছর আগের আমিতে
একবার ফিরে যাওয়া

নিজেকে আয়নার মুখে ফেলে
এবার একটাই প্রশ্ন ___
কেন বেঁচে আছি

21

তুমুল বৃষ্টি নামুক
সঙ্গে কফি প্রেমালাপ

এসো ভাসি
ভালোবাসায়

কানে বাগেশ্রী আলাপ

22

বৃষ্টি দেবতার রিমোট কন্ট্রোলে
যেন কেউ খেলার ছলে
উল্টে দিয়েছে জলের কলসি হঠাৎই
বাদুড়ের ডিগবাজি
খাওয়ার তালে

সকাল থেকেই তাই
সব কেমন ভিজে ভিজে

ভিজে দুধওয়ালা
ভিজে খবরওয়ালা
ভিজে কাজের মাসি

জানলার পিঠে ভেজা
মাকড়সার জালের
জালিয়াতিও এখন শেষ

পোকা মাকড়ের আনন্দ
আর দেখে কে বলো

আমরা সবাই মেঘেই নিরুদ্দেশ

23

স্মৃতিরা ক্ষত বিক্ষত পাঁপড়ি হয়ে
পড়ছে ঝরে ভেজা মনের
স্যাঁতসেঁতে বারান্দায়

রাতভর বর্ষার পরোয়া না করেই
জলফড়িঙের পায়ের ছাপ
অনুসরণের খেয়াল হল সৌদামিনীর

তার ছেঁড়া গীটারের খোলে
ঘর বেঁধে সুখে আছে
প্রজাপতির অনুরাগ

এখনও কি আছে সময়
অকারণ ভালোবাসার

সম্পর্কের রথযাত্রার দড়ি টেনে
দিশেহারা অনেকেই

শুধু একরাশ হাসিমুখ করে
মিথ্যে মিথ্যে কথার খেলা -
"ভালো আছি"

24

বিশ্বাস রোজ পড়ছে ঝরে
মেঘ ভাঙা জলের ফোঁটায়

মনের চোখে কখনো বা
তা আচমকাে দেখা যায়

মানুষের মন জয় করে
কুরবানি চলে বিশ্বাসের

চলে অন্তর্ঘাত
পর্ব ছেড়ে পর্বে

এভাবে রোজ জর্জরিত ক্ষতে
শুয়ে থাকি পাশবালিশ ছাড়াই

রু ...
জানিনা ..
কেন জীবন ছেড়ে
বারবার পালাতে চাই

25

মাঝে মধ্যে
যন্ত্রণা বোধের তৃপ্তিও
অবস্থার গুণ বিশেষে
উপভোগ্য হয়

একটু অবসর ভোগের সুবাদে
বেটার হাফের বাঙ্ময় রূপ ধারণও
অসহনীয় বোধ হয়

সাইবেরিয়া গামী বাতাসের সুবাদে
মেঘ ভাঙার আগেই
ভালো সময় পরিযায়ী হয়েছে

এখন কাগজের নৌকা
আর চায়ের পাতারাও
ভাসতে শিখেছে

26

হৃদয় গহ্বরে নিঃশব্দ কাটা ছেঁড়া
আর শব্দ বন্ধনীর রোমন্থনে
এখন শুধুই তস্করের ধৃষ্টতা

মননে দর্পণে আত্মসমীক্ষণে
শুধুই বেঁচে থাকার অঙ্গীকার

রু
কি মনে হয়
ক্ষীণজীবি সম বাঁচা কি
একান্তই দরকার

27

বদলিয়ে যাচ্ছে সময়
আর তার সাথে চোরা মন

কখনো অবুঝ সবুজে

কখনো বা অসমীকরণের
সর্বহারা আবীর মেখে

রু ...
জানো তো
এখনও তো পাল্টাচ্ছে দেশ
ভেঙে কাঁটাতার বেড়া

নেই আর অযথা
রক্তক্ষরণ

28

আকাশটা মিশেছে পাহাড়ে
আর পাহাড় যত জলে

গুলেছে রঙেরা আপন মনে

চোখ জোড়া দিয়েছে উঁকি
বুনো ঘাসের ঝোপে

ফড়িং ঝাপটেছে ডানা
তালে তালে

রু ...
জানো তো
মাছেরাও চোখ মেলে
একা একা কথা বলে

29

ফিকে কালি আর
হলুদ পাতায়
সুখ নেই লিখে
মনের কথা

পারলে এনো
রঙিন কালির কলম

রু ...
জানো তো
জ্বলাপোড়া মনের
নেই কোনও
ইউনিভার্সাল মলম

30

ভাবছি
বিয়ে করবো আবার

যৌতুকে চাইবো
একটা গোটা দেশ

আগের বউ
ভেগে গেছে

সম্পর্ক সব শেষ

সাথে যৌতুকে পাওয়া
আগের দেশটাও

31

নিজের তাপে গলি নিজেই
আবার উঠি জমাট বেঁধে
পুনরায় গলার অপেক্ষায়
রু ...
জানো তো
ভালোলাগারা ক্ষণে ক্ষণে
বদলায়

32

শেষ কবে দেখেছি কবিতার স্বপ্ন মনে নেই
তবে মনে আছে দেশলাই আবিষ্কর্তার মোজার সাইজ
আর মনে আছে নীলনদের তীরে নীলকুঠি মেমের সূর্যস্নানের কথা
কবে নাগাদ পাঠোদ্ধার হবে হরপ্পা লিপি জানা নেই
তবে জানতে পেরেছি সংবিধানী ধারাপাতের শব্দকল্পদ্রুম্
আর জেনেছি পৃথিবীর যাবতীয় জঞ্জালের ইতিবৃত্ত
বুক পেট এখন মরুময় পামীর মালভূমির প্রশস্ত হিমঘর
ওর ভিতর তুমি পরমাণু বর্জ্যও রেখে দিতে পারো অনায়াসে
বারুদ তো ভিজে গেছে সেই কবেই
আর শ্রমিকেরাও ভুলে গেছে ঝান্ডার কলরব কথা
এখন তো মে দিবস পালন করি ঠান্ডা ঘরে বসে
ফলের রস লস্যি হাতে
কাজু কিসমিস খেতে খেতে

33

মনের ঘরে খুঁজি দশ বাই দশ ঘর

সাথে এক চিলতে গ্রিল বারান্দা অতীত

চেতনা রোদ্দুরে ফেনায় ধুতাম তাকে

সাবানের শেষ ক্লান্তিটুকুও নিঃশেষে ডুবে গেলে

কড়াইয়ের সব ভুসো কালি একলা ফুরিয়ে এলে

হুলভাঙা ভ্রমরের আশাবরী রাগ প্রার্থনা ভুলে

ভেঙে পড়ে ধুসর বাদলেরা রাতের হাফ্ এগরোলে

শুরু হত দোলরাঙা হাঁড়িয়ার বুকভাঙা মাদলের রাত

দেবতারাও শোনেন সেই অলীক গুন্ গুন্

তারিফ ইয়ে কাবিল

কেয়াবাৎ কেয়াবাৎ !!!

34

আকাশকে বললাম,
"আগুন কই ?
কই তোর দধীচির অমোঘ ?"
আকাশ শোনেনি ।
ঢেলেদিলো গামলা গামলা জল,
উপস্থ উপুড় করে ।

35

আবেগের জল শিশিরবিন্দু,
নাকি বুদ্ধি ঘাঁটানো ঘামের ফোঁটা,
এ নিয়ে বোদ্ধারা ব্যস্ত বোধি বিনিময়ে ।
বাকি শুধু মিডিয়ার
দই-চিঁড়ে ভোগের প্যাকেট বেচা ।
আজকাল ফসল কাটা অহল্যারা
নাকি সবাই ফসিল হয়ে যাচ্ছে ।

36

ছৌয়ের মুখোশ খসেছিলো মাঝরাতে ।
পেতেছিল দুই হাতে আলোর কুসুম,
মধ্যবিত্যের বৃত্ত ভেঙে ।

37

মেঘের আবির্ভাব চেনা যায়,
রোদের হলুদ খেলার পর ।

38

আমপাতার কাজল লেপ্টে গেছিলো
অন্তরীপের সজলতায়, শেষ বেলায় ।

39

প্রতিবাদী কৃমিরা গুহ্যদ্বারে
সুড়সুড়ি দিচ্ছে তাড়ির তাড়নায়,
মাছিদের ভনভন যাতনায় ।

40

দাঁতের ফাঁকে লটকে থাকা
টুকরো মাংসের মত
সেঁটে গেছে বাসি ভালোলাগা

সেভেন্টি দিয়ে কুলকুচি মেরে
গালের ব্যাথা সেঁধিয়েছে
তলপেটের কোণে

তবুও বেয়াদপ চুলকুনি সারানো
কাঁচা বাংলার মলমে
নরম করছি বেওয়ারিশ মন

আর গোঁজামিল গাঁজাখুরি মেরে
চুলকাবো কতক্ষণ

41

হাওয়াই চটির ফট্ফট্ তালে
উঠে আসা ছিটে কাদার মত
সেঁটে বসে প্যান্টের ফোল্ডিং ভাঁজে
ভালোবাসাবাসির উচ্ছিষ্ট যত

42

ছেঁড়া ফাটা ডেনিমে
সেটিংয়ে আটকা পড়ে
ভালোবাসার মিহিদানা

খাবি খাওয়া ডিটারজেন্ট জলে
মেশিনী থাপ্পড়ে নিরুপায় হার মানা

43

দেখলে তোমায় কেমন করে মন
জানিনা কেন এই মায়াবী বন্ধন
খুঁজি ভীড়মাঝে
কোথায় আছো এখন
জানি বহুদূর তুমি
তবু ভাবি প্রিয়জন

44

পড়ন্ত সূর্য দিয়ে যায়
শেষ চুমু দিগন্তের গায়ে
এখন শুধুই গাঢ় অন্ধকার
মুখোমুখি বসবার
পিদিমের ছায়ে
আকাশের গায়ে
নুনভাত মাখা কুচো তারা
মিটিমিটি হাসে যারা
মাঝি মাল্লা নায়ে
বসে ঘেমে দিন সারা
ভিক্ষাহীন সর্বহারা
বেঁচে আছে সামাজিক দায়ে

45

পাথুরে তারা চাইনি হতে
তারাও কখনো নয়
জানি
অনেকেই ভাবেনা ভালো
মন জুড়ে সংশয়

46

বিলীয়মান বর্ণচ্ছটায়
মিশছে অক্ষর
শব্দ ভাষা সময়ের
অনুভূতি দোলায়

ভালোবাসার মিথ্যে গল্পগুলো
সব হয়ে ওঠে সত্যি
বিবর্ণ রঙ গোলায়

47

স্বপ্নরা চলে বুকে হেঁটে ফেরে দিনরাত
ভালোবাসা খুঁড়ে কবর উপড়ে উৎখাত
তবু গোলাপটা রক্তে ভেসেছে রাতদিন
মড়া পচে গলে ভালোবাসা ঝরে সঙ্গীন
অঘোরী সাধনে প্রসাদের বাসি গন্ধ
হাড় জিরজিরে অভাবের দান বন্ধ
দেবী ভেটে চায় রক্তবলির আয়োজন
দেওয়া নেওয়াতেই ভক্তের মেটে প্রয়োজন
তবু ভালোবাসামরে বুক চেপে গুমরে
ফুসফুস চেপে আসে নিঃশ্বাস চুমরে
এসো করি গড় নই কেউ পর
দেই ভালোবাসা বিলিয়ে
নষ্ট ছেলের কষ্টে বাঁচা
কেউ কি দেবে ভুলিয়ে

48

মগা নক্ষত্রে এলেন বাৎস্যায়ন ভোর রাতে
সপাটে এক চড় ঠেসে মধ্যমা দেখালেন বাজারি বিজ্ঞাপনে
বললেন,
"পড়তে হয় । নয়তো অ্যা করে পিছন মুছতে হয় । চোষট্টি কলাও শিখতে হয় । নইলে জাপানী তেলে নাইতে হয়" ।

49

মুছে দিলে সব অঙ্গ প্রত্যঙ্গ
বেড়াব ভেসে নৌকার মত
মোমেরা ঝরে পড়বে গলে
ভরবে পুকুর ছাঁচের ক্ষত

50

রেল লাইনের ধারে
আলুথালু বসে থাকা দিনভর
যেন কেউ ভার বয়ে চলে শবের উপর
টাটকা মাংসের মত জেগে থাকে
কাটা বেনামী মুহূর্তেরা
দল বেঁধে হাজার বছর
প্রেত জাগা ভয়
সাঁঝের ফাঁকে করে ভর
জোনাকির মায়াবী আলোয়
কাটে অবসর
তবুও মেখে থাকে সুখেরা
হাতের এঁটোয় তালুবন্দী
মাটির সরায় অজানা প্রহর

51

আবেগের জল শিশিরবিন্দু নাকি
বুদ্ধি ঘাঁটানো ফোঁটা - এ নিয়ে
বোদ্ধারা বোধি বিনিময়ে ব্যস্ত

বাকি রইলো শুধু মিডিয়ার
দই-চিঁড়ে ভোগ বিতরণ

শুনলাম অহল্যারা সব
ফসিল হয়ে যাচ্ছে

52

খুঁজে ফিরি আমার দেশটাকে ।

খাল, রেল লাইনের ধারে গজিয়ে ওঠা
বস্তির আনাচে কানাচে,

প্ল্যাটফর্মে, শহরের ফুটপাথ জুড়ে,

ভিক্টোরিয়া, সেন্ট্রাল পার্কের গাছের
নীচে, ছাতার তলায় ।

শপিং মলে, নাইট ক্লাবের মায়াবী
আলোয় ঘুরে ফেরে ক্লান্ত চোখ ।

কানে বাজে স্কুলে পড়া দেশের কথা,
দেশ গড়ার কারিগরী স্বপ্নে মন বিভোর
হতে চায় ।

চন্দ্রায়ণের চাকচিক্যে গর্বিত ছাতি, অনুন্নয়নের
অবিচারের বঞ্চনায় নেমে যায় গোড়ালির নীচে ।

শোষণ অপশাসনের বল্গাহীন দৌড়ে, অজুহাত
অনুযোগের নির্লজ্জ প্রতিযোগিতায়, স্বপ্নের দেশে
সূর্যাস্ত নেমে আসে ।

রাতের অন্ধকারে অচেনা লাগে মানুষ ।
জল মাটি বাতাসে ভাসে মৃত্যুর হ্রেষা ।

লাল মাটির কাঁকর পাথরে, শাল পলাশের বনে
বন্দুকের নল গুমরে মরে রাজরোষের তন্ত্র মন্ত্রণায় ।

মিড্ ডে মিলের খুদকুঁড়ো খেয়ে বেঁচে থাকে
আশা, শারদের শেষে ঢাকের কান্না শুনে ।

শৈশব, নারীত্ব খোলা বাজারে ওঠানামা করে
চাহিদা আর সুযোগের পাটিগণিতের হিসেবে ।

স্বপ্নের ফেরিওয়ালারা রাজনৈতিক রূপকথার
হকারি করে মেঘের আড়ালে ।

দেশ কি তবে স্বপ্ন দিয়েই তৈরী ? স্মৃতি দিয়েই
ঘেরা ? সত্যিই কি এমন একটা দেশ আর কোথাও
পাবোনা খুঁজে ?

বিভেদ বেড়েছে, আবেগ কমেনি ।
শক্তি বেড়েছে, শান্তি আসেনি ।

অজানা মানুষ, অচেনা দেশ ।
যতই ভাবি, ততই ক্লেশ ।

53

চলো না
একটু হাঁটি পাশাপাশি

জোনাকির আধমরা আলোয়
গায়ে গায়ে মিশে

আঙুলের সাথে হোক্ না
আঙুলে হাসাহাসি

চাঁদের গা ধোয়া জলে
একটু ভালোবেসে

54

তুমি যে আমার কে
তা জানে একমাত্র নীলকন্ঠ পাখি

রোজ ও জানলার ধারে এসে বসে

তোমার অগোছালো স্বপ্নের কথা
নিজের মতোন করে বলে চলে

ডানার ঝাপটে লাগায় হাওয়া
তোমার ভেজা খোলা চুলে

পাড়ভাঙা কাশফুলের দোলায়
অপার্থিব কোজাগরী জোছনায়

যখন তুমি সমস্ত দিনের শেষে
এসে চুপ করে বসো আনমনা

আমার খোলা ভাঙা বারান্দায়
পড়ন্ত রোদ মেখে ঠোঁটের
লালচে তিলে

আমার ঘুমন্ত চোখের পাতায়
টুপ্ করে ফেলে যায় ওরা

তোমার কুড়িয়ে পাওয়া
সমস্ত শিউলি আর পদ্মের ঘ্রাণ
একসাথে মিলে

55

আমার জলতরঙ্গ ভাঙায়
যদি যেত ছুঁয়ে তোমার শব্দরা
চুম্বকের সমস্ত কলরব কেটে

দেখা যেত দিকচক্রবালে
তোমার লিপস্টিকের দাগ
গোধুলীর আধোঘুম মায়ায়

56

পুরানো তানপুরাটা
রাখা ছিলো এক কোণে
এক যুগ ধরে

জমা পুরু ধূলো মেখে
ঢিলে ঢোলা তারে
বাজেনি প্রিয় রাগিনী

একরাতে এলে ক্ষণপ্রভা
তারগুলো টেনে দিলে
ধূলো মুছে নিলে হাতে

এখন ফুটেছে মঞ্জরী
আবারো একবার

শুনছি কখনো
ভৈরবী আশাবরী

আর ভোর রাতে
দরবারী কানাড়া

Comments

Popular posts from this blog

মহায়ণ

মরণ vs যৌনতা

আনা কড়া গন্ডা ক্রান্তি