poem4
কবিতা সপ্তক - রাজেন্দ্র ভট্টাচার্য্য
১
জমতে দিওনা আকাশে মেঘ,
ভরা পূর্ণিমা রাতে জোছনায় ।
ঢেকোনা সবুজ ঘাস, আলোছায়া
অপরূপ ভেজানো মায়ায় ।
থাক্ রাস্তারা ধুলোমাটি মাখা,
কাদাময় এলোমেলো ।
সাজিওনা টুকরো বৃষ্টি, কোলাজে
হারানো আদরগুলো ।
টিপ্ টিপ্ ঝরা জলে, ভিজে যায়
সমস্ত চুল, বোতামের নীচে ।
মাটির আগুনে পোড়ে ভালোবাসা,
মুছে দেওয়া কাজলের টিপে ।
চলো, কুয়াশা হয়ে যাই, চাঁদোয়া
তলায়, চাদরের তলে ।
বেহুলারা ভেসে গেছে, রাতের
আঁধারে, গাঙুরের জলে ।
২
অসময়ের আলো এখন নিরক্ষরেখা
জুড়ে । ছাতা নিতে ভুলো না, ভুলো
না টিপে টিপে চলা পাতা মুড়ে ।
এক হাঁটু পিছল কাদার মধ্যে,
হাঁটার অভ্যাসটা, সেরে নেওয়াই
ভালো । কেউ কি জানো, আমার
ঝুপড়ি ভাঙা চালে, ভাসে রোজ
একমুঠো চাঁদের আলো ?
৩
উষ্ণতা পাঠিয়ে দিলাম শীতের সাইবেরিয়ায়, পাখির ঠোঁটে ঘন চুমুর রেশে ।
ঘুঙুর পরিয়ে দিলাম রাতের পায়ে, ভেঙে ভালোবাসার নীরবতা, আলতো হেসে ।
ঊষর প্রান্তরে, প্রজাপতির ঘুমে আঁকবো সঙ্গমসুখ, শরীরের হাহাকারে ভেসে ।
রতিমুদ্রা আসে নেমে চোরপথে, মোহ ভাঙা চোখ বেয়ে, খাজুরাহো যোগাসন বেশে ।
৪
ঘনবিনুনির ঢালে, পৃথিবীর পিঠ বেয়ে, নিঃশব্দ অজগর সেজে, রাত নেমে আসে হিমশীতল বিছানায় ।
প্রবোধ গোনে প্রহরাধীন কাল, ভালো মন্দে অবোধ বিচারের আশায়, চোখ জ্বালা, ভারী জল ফোঁটায় ।
৫
কুয়াশা পেলে তোমার চুলের আগায়, আসে ফিরে শীতকাল অবহেলায় ।
জমিয়ে রাখো বিন্দু বিন্দু রোদ, জাগাও পরিযায়ী পাখির ঠোঁটের পারদ ।
৬
আঁজলা ভরে চুমুক দাও এক অরণ্য ভালোবাসা, আজ যাব ফিরে নিজ পৃথিবীতে । রেখো তুলে এক সূর্য রোদ ।
ডানা মেলে করো স্নান ঝর্ণার আদরে । এসেছে সময় পালক গুলো ঝেড়ে ফেলার, বুকে থাক্ ফিনিক্সীয় বোধ ।
৭
সাধারণ শব্দ কিছু, হয়ে ওঠে অসাধারণ কিছু কথা, ব্যবহার চেতনায় ।
কিছু হয়ে যায় অশালীন গালি, বাকী মিশে যায়, অনুপম কবিতায় ।
Comments