Poem3
[27/12 2:14 PM] Raj Aircel 9420:
আমার অলস রোদ মুড়েছে গা মেঘের চাদরে ।
ভালোবাসা গা মাখামাখি করে আলতো আদরে ।
[28/12 12:24 AM] Raj Aircel 9420:
সেই সব উটেরা - রাজেন্দ্র ভট্টাচার্য্য
১
কলোনীতে আসে পাথুরে, পেশাহীন বুড়ো উট ।
অপদেবতার পিতৃত্বে চলেছে বেআব্রু আফগানী ।
কল্পনায় রূপান্তরের যোনি পিতৃত্বে অস্ফুট ।
বিশেষণ অব্য়য় ক্রিয়ায় অজাচার শয়তানী ।
২
মুক্তি নেই, উটের মুক্তি নেই ।
নেই তার বীরাচার ।
মহানিশা পরাভূত পৃথিবী, পেয়েছে কি অমৃতপাদ, ভ্রাম্যমান কদাচার ?
পেলোনা ইন্দ্রিয় বোধ উট, মাত্রাহীন মাত্রায় ।
ইচ্ছেপূরণ জাহাজ ভাসে চিল শকুন কব্জায় ।
৩
নেই অনুষঙ্গ সম্পর্কের আবাসস্থলে, নেই বুনো ঔরস ।
নেই বৈধ অবৈধ তোষামোদী খানা ।
ছিব্ড়ে কাঁটায় নিরাময়, উদ্ভিদের ক্লোরোফিল জানে ।
নিরাত্মায় বৃথা পাপ, এতো জাহাজবন্দরও মানে ।
টলমাটাল পাখির ডানায়, কপট ঝাপট মারে বেমক্কা রজঃরস ।
উটের সংসারে ধোঁয়ার কুন্ডলী, দ্রাক্ষার রসে রিপুরাও অবশ ।
৪
বুড়ো উট আনন্দে নীল, আগলে রাখছি আপাদমস্তক ।
বলা হয়েছে যৌনতা, বলা হয়েছে বৈধতা চুম্বক ।
গ্রহণযোগ্য নই, বলব না একথা আবেগে চরম দার্শনিক ।
কৌশলটি জানা, উটের মাস্তুলে বসেছি একলা নাবিক ।
আবেগে মথিত জীবন নাটকে, মুহূর্তেরা রহস্যময়ী ঢেউ ।
বালির চোরাটানে সভ্যতা ঘুমায়, জাগাতে পারেনি কেউ ।
৫
উথলেছিল বালির ঢেউ, রহস্যে মূর্ত হয়ে ।
চমৎকার শরীরী উট, উড়ানে, বাঁশিতে ।
জীবনবাস্তবে না ভাবা, অস্তিত্বের প্রতিফলন ।
রাধারানীর ভালোবাসা মহাসুখলীলায় মুর্ছিত কিছুক্ষণ ।
প্রত্যক্ষ সহজধর্মের ডাকে, সংযোগী অতিন্দ্রিয়, বুনো উটের প্রহর ।
চুম্বন আলিঙ্গন নেই, তবু আয়ু তার সহস্র বছর ।
- রাজেন্দ্র
[28/12 12:26 AM] Raj Aircel 9420:
জর্জরিত বিকার, গুমরে উঠলো গুলিয়ে ।
অবসাদ বোধেরা, মেঘ পালকে ফুলিয়ে ।
মুঠোহাত শিথিল, টুকরো কথা দুমড়ে,
ছুঁড়ে ফেলি দালানে, কানটা রোজ মুচড়ে ।
আনি কুঁড়ো আবার, আধাঁর রূপোলী রাতে,
ভুলে টকে যাওয়া, মেখে ফেলা শেষ পাতে ।
খুঁটে ছিঁড়ি গুঁড়ানো, হেলায় গড়ানো শব্দ ।
কিশোর কাঁচা ভোরে, তারারা সবাই জব্দ ।
[28/12 12:28 AM] Raj Aircel 9420:
আমার রাধা @
রাধার মনে জমাট কালো ব্যথা,
রাতদিন স্তব্ধতায় নিশ্চুপ একা,
সে তো অনেক যুগ আগের কথা ।
দেহ মনে যোগিনীবালার অভাব,
বোঝেনি সংসারী চেতনাচ্ছন্ন মন ।
পায়নি তাকে নপুংসক আইহন
আদরে সোহাগে ভালোবাসায় ।
বোঝেনি অবুঝ স্বামী, পত্নী অভাবী
চেতনায় কি পায়, আর কি হারায় ।
[28/12 12:29 AM] Raj Aircel 9420:
ইলিউশন্ - রাজেন্দ্র ভট্টাচার্য্য
১
জ্বালাপোড়া আধাবোঁজা চোখে, নেমে
আসে ঘুম, হাতে এঁটো ভাত মেখে ।
বিশেষ্য বিশেষণ সর্বণাম অব্যয় ক্রিয়া,
ভেসে আসে পশ্চিমের জানলা
ঠেলে । চাপা পড়ে ইঁদুরের আর্তনাদ,
মেঠো আলের গর্তে, শাঁখামুটি
নিঃশ্বাসে । মৃত গলা ভাসা দেহ
আটকায়, ডুবে ভাসা চরায়,
শকুনের তুষ্টির অপেক্ষায়, রাতভর ।
কুকুরেরা হুটোপুটি করে, গাল হাত
চাটে, ঘেয়ো প্ল্যাটফর্ম ভিখিরীর,
অকুন্ঠ সোহাগে । ঘর ভাঙা মাটি, ধুয়ে
ভেসে যায়, বাঁশিভাঙা বেহাগের সুরে ।
গভীর ইঁদারায় ঝাঁপিয়ে পড়ে মন, ভোর
রাতে সব ক্লেদ ভুলে ।
-
ইলিউশন্ - রাজেন্দ্র ভট্টাচার্য্য
২
সারাদিন ওড়ে ভাসে পার্থেনিয়াম রেণু,
ফুসফুস খুঁড়ে খুঁটে খায়, তিলে তিলে ।
নিকোটিন ধোঁয়া বুক ভরে টেনে রোজ,
পাতাখোর ডোবে অতল খাদের ঢালে ।
ঝিম্ মেরে গোঁজ খাওয়া ছেলেটা, শুয়ে
যায় নর্দমার পাড়ে, আঙুল ডুবিয়ে,
চেখে নেয় চোরা কালো জল, একবুক
মোহে । রোজ এই গল্প, ঘুরে ফিরে
আসে, বাজপোড়া বটতলায়,
অমাবস্যায়, ক্যালেন্ডার ছেঁড়া রাতে ।
-
ইলিউশন্ - রাজেন্দ্র ভট্টাচার্য্য
৩
রাতভোর কুয়াশা মেখে, শুয়েছিলো
কাঁথাছেঁড়া বুড়ি, বাসস্ট্যান্ড মোড়ে ।
পাকস্থলী নাড়িভুঁড়ি, পাক্ খেয়ে
কুঁকড়ে ছিল, আধাখাওয়া, ডাস্টবিন
তোলা, অখাদ্য কুড়ানি যন্ত্রণায় ।
শুকিয়ে কাঠ হওয়া, মড়া দেহ পেয়ে,
লাফাচ্ছিল বস্তির দাদারা । পুঁটুলি
বালিশে, নোটের বান্ডিল পেয়েছিল,
জনৈক কোন্ ছোঁড়া । এখন সে লটারি
কাটতে গেছে ।
-
ইলিউশন্ - রাজেন্দ্র ভট্টাচার্য্য
৪
ব্যারিস্তার কাঁচঘেরা ঘরে মুখোমুখি,
জোড়া জোড়া সারি । চোখে মায়া,
মুখে ধোঁয়া, হাতে আধখাওয়া কফি
মগ । টেবিলে ট্রে টিসু টুকিটাকি,
মারে ঝুঁকিহীন নির্বিষ উঁকি । পুলিশি
অভিভাবকত্ব, চাঁদাতোলা আঞ্চলিক
দাদারাও হাওয়া পশ্চিমী কেতায় ।
নেই বোরখা, নেই ঘোমটা, নেই
হাঁপওঠা হাঁসফাঁস মৌলভী ফতোয়ায় ।
আয় তোরা, সনাতনী অন্ধরা, বুকে
পাথর চেপে, কফি আড্ডার দরগায় ।
এসে তোরা চেখে যা, অমসৃণ চুমু
মাখা, ঠোঁট চাটা কফি, আর দেখে যা
আঙুলের ধরাধরি, এল্.ই.ডি. পর্দায় ।
-
ইলিউশন্ - রাজেন্দ্র ভট্টাচার্য্য
৫
কে জিতল শেষমেষ, কেই বা হারল?
বোকাবাক্স, গ্যালারি দর্শক, নাকি নাট্য
পরিচালক কর্মকর্তার বিনিয়োগ, নাকি
সত্যিকার খেলা? বিনিয়োগি ব্যবসায়,
খেলোয়াড় কেনাবেচা আর নিলামের
মুনাফা, গুনে চলেছে কিছু হাত । বাকি
হাতে শুধুই তালি, আবেগি আস্ফালন
আর ক্ষুরধার গালি । উৎসব খেলায়
বিপননে, মেতেছে সারা দেশ । শুধু
তালি দিতে শেখেনি কিছু হাত, যারা
ভোর রাতে, আস্তাকুঁড়ে খোঁজে, ছুঁড়ে
ফেলা অতিরিক্ত খাবারের কণা । যারা
ভাঙে উইঢিবি, ভাঙে পিঁপড়ের ঘর ।
পরম আয়েসে খায় ভাতের মাড়, গেঁড়ি
গুগলির সাথে গোগ্রাসে । রাতের
আলোয় খুঁজে ফেরে সোনার ব্যাঙ ।
স্টেডিয়ামের মায়াবী আলোয়, লাফানো
স্বল্পবসনারাও পায়, লেন্সের লোভী
ফোকাস্ । বঞ্চিত শুধু বস্তার,
কালাহান্ডি, আমলাশোলের হাঘরে
হাভাতে, জিরজিরে হাড়, কাঙালী
কালীর দল । আমরা করবো, লড়বো,
জিতবো কবে, জানিনা । তবে হারছি
আমরা রোজ । শিখে ফেলেছি আপোস
করা, মেনে নেওয়া আর নত মাথায়
মোবাইলে ঝুঁকে গেম্ খেলা, এককোষী
অমেরুদন্ডীর মতো । ব্র্যান্ড আমাদের
মোক্ষ, ভার্চুহীন ভার্চুয়ালেই ঝরঝরে
আমাদের ভবিষ্যৎ ।
[28/12 12:30 AM] Raj Aircel 9420:
ঈশ্বর নাকি বোবা এবং কালা,
ইদানিং শুনি অন্ধও হয়েছেন ।
ভেটে চড়ছে রক্তমাখা মালা,
ভীমরতিতে স্মৃতিও খুইয়েছেন ।
আমরা সবাই ভয়ের চাপে জুজু,
পূণ্যলোভে শাস্ত্র মানতে চাই ।
হূরপরীরা স্বপ্নে সোহাগ ঢালে,
আফিম টেনে স্বর্গে চড়ে যাই ।
- রাজেন্দ্র
[28/12 12:31 AM] Raj Aircel 9420:
এক দম্ কুয়াশা রোজ জমে বুকে,
নিঃশ্বাসে ঝরে বিষমাখা চেতনা ।
বন্ধুরা শত্রু হয় রাতের অসুখে,
থিতিয়ে তলিয়ে যায় সম্পর্ক ঠিকানা ।
[28/12 12:32 AM] Raj Aircel 9420:
উষ্ণতায় সেঁকে নে স্বপ্ন যত
তোর, আর কত চাপ নিবি ব্যস্ত
শহর ? নিঃশ্বাস ধরে আসে, কাটেনা
প্রহর । আর কত ঝাঁঝ খাবি, অভাগী
শহর ? খুবলে সবুজ খায়, কংক্রিট
বহর । দিনে পোড়ে, রাতে ভাসে বস্তি
নগর । পথশিশু ভিখারীও খোঁজে
অবসর । মানে যশে ইতিহাসে আমার
শহর ।
[28/12 12:33 AM] Raj Aircel 9420:
এখনো আছি বেঁচে, আশ্চর্য এক
ছন্নছাড়া দ্বীপে । সেই মেষ শাবকের
মতো, গায়ে পায়ে যার, নেকড়ের
দাঁত নখের ক্ষত । চুপি চুপি উঁকি
দেওয়া, ভ্যাংচানো চন্দ্রবিন্দু
মুখে, কতনা ছাগল দাড়ি বিলি কাটা,
প্রেমার্ত মুখ, থালা ভরা জলে,
আন্তাক্ষরি খেলে, সারহীন দেহে ।
এখনো আছি বেঁচে, আশ্চর্য এক
ছন্নছাড়া গলিতে, নিরুপায় শর্বরীর
মতো, চরম কামনার পরমরতিতে ।
উদ্ধত বুকে দোলা চাঁদ খাবি খায়,
অনাবিল বাষ্পীয় সোহাগে, বোকা
পাঁঠা সুখী কল্পনায় । অভাবে নষ্ট
হওয়া স্বভাব তখনো খোঁজে
স্বর্গপথের পিছল সিঁড়ি,
হড়কে পড়েও যে হারতে জানেনা ।
[28/12 12:34 AM] Raj Aircel 9420:
কাশির দমকে, শব্দ যাচ্ছে ছুটে ।
অব্যয় যত, ভাঙছি খুঁটে খুঁটে ।
শ্বাসের টানে, বাতাসটা বেশ ভারি ।
ভোরের কুয়াশা, তোর সঙ্গে আড়ি ।
[28/12 12:35 AM] Raj Aircel 9420:
শুকনো এঁটো ভালোবাসা,
বাসি পান্তার লোভে,
চিটচিটে রস হাতড়ে ফেরে,
দলা পাকানো, আটকানো গলায় ।
আহত অসুখে, চোখফোলা
পাতা ভেজে, পাঁজর ভাঙা, হাড়
জিরজিরে অমাবস্যায় ।
আঙুল, রুমাল, চাদর,
বালিশের খুঁট মানে হার,
ঠোঁট কামড়ানো,
অবাধ্য ভালোবাসায় ।
স্মৃতির ল্যাপটানো কাজল,
আবছা দাগ গেছে ফেলে,
ভাঙা ল্যাপটপ,
ছেঁড়া তানপুরা জলসায় ।
Comments