ভালোবাসার ঈশ্বর

ভালোবাসার ঈশ্বর
~~~~~~~~~~

জিয়নকাঠির খোঁজে মরণের সাথে আমরণ সখ্যতায়, পিঁপড়ে বসা হলুদ ঘাসের উপর শিশিরের জমাট বাঁধায়, ডোবা থেকে কাঠামো তুলে খড় মাটি মাখা ঠাকুরের ঘ্রাণে রঙের প্রলেপ দেওয়ায়, মুখের উপরে এসে আছড়িয়ে পড়া ভোরের প্রথম আর সূর্যাস্তের শেষ আলোয়, ভালোবাসা পরমাণুকণার শেষ বিন্দুটুকুও কুয়াশা ভেজা অন্তর্বাসের ওম শুষে নেওয়ায়, ফেলে যাওয়া মৌচাক খোপের কিছুই আর যায় আসে না । তবুও এদের তুলনায়,  কম্বল জড়িয়ে, ফুটপাতের ভিখিরীর পাশে, রাতভর কুঁকড়ে কুন্ডলী পাকিয়ে থাকা, কুকুর ছানার মতো অসহায় শীতকাতুরে জীবনে একফোঁটা রোদ্দুর কণাই বিলাসিতা হয়ে যায় । অঙ্কুরিত হয় চন্দন সুবাস নেশাতুর ঘাসের দানায়, ফুটে ওঠে স্বেদবিন্দুরা ছোলার বৃন্তে
নাভিমূলে, ভগাঙ্কুর ভোগবতী হলে । তাও সবকিছুর মাথা চিবিয়ে, ছিবড়ে হয়ে যাওয়া ফুসফুসের দেহ বেয়ে, ছড়িয়ে গজিয়ে ওঠা বাষ্পের অভিমুখে, লজ্জাহীন ভাবে বলি - "ভালো লাগে" । যদিও এই ভালোলাগাটা আর পাঁচটা ভালো লাগার থেকেও অনেক বেশী । এই ভালোবাসাটুকু নামমাত্রই । কামনা বাসনাহীন নয় একেবারেই । ধূপ আর ফুলের গন্ধকে ভালোবাসার মতোনই এই ভালোবাসার আবেশ । প্রজাপতি আর পাখির রঙিন ডানা ঝাপটানো দেখে আনন্দ পাওয়ার মতোন আমার এই ভালোবাসার জারণ বিজারণ । এই ভালোবাসাকে কখনো কখনো ঠিক নলেন গুড়ের মতো ঋতুকালীন বলে ভ্রম হয় । কুয়াশামাখা শীতের সকালে কম্বল জড়িয়ে খেজুর রসের স্বাদ নেওয়ার মতো । শরতের হাওয়ায় দুলতে থাকা কাশফুলের মতো । পুজোর প্যান্ডেলে বা নদীর পাড়ে শেষবারের মতো বাজতে থাকা বিসর্জনের ঢাকের বাজনার মতো । এই ভালোলাগা গুলো উদ্দাম, উন্নাসিক, বল্গাহীন । সীমানাবোধ হীন । কাঁটাতারকে উপেক্ষা করার মতো মনোবল, সাহস আর শক্তি ধরে এই ভালোবাসা । যাক । আমার সব কিছু চলে যাক । শুধুমাত্র রাঙা মেঠো ইঁটভাঙ্গা পথের উপর, দুইপাশ দিয়ে নুইয়ে পড়া বাঁশঝাড়ের পাতার ফাঁক দিয়ে চুঁইয়ে পড়া চাঁদের মায়াবী আলোর বিন্দুর ভিতর, জমাট বেঁধে থাকা আমার এই ভালোবাসার কণাটুকু, একান্তভাবেই আমার ভিতরে থাক ।

© রাজেন্দ্র

Comments

Popular posts from this blog

মহায়ণ

মরণ vs যৌনতা

আনা কড়া গন্ডা ক্রান্তি