কবিতা
মাঝরাতে বাথরুম চাপে
বিছানা ছেড়ে উঠে
আকাশের জানলা
আমি সেই বিষণ্ন পংক্তিগুলো লিখে উঠতে পারি।
লিখতে পারি, যেমন ধরা যাক: 'এই রাত তারকাখচিত ঘন নীল আর ওরা দূরে বসে কাঁপে।'
রাতের বাতাস আকাশে ঘুরপাক খায় আর গান করে।
আজ রাতে আমি সেই বিষন্ন শব্দগুলো লিখে ফেলতে পারি,
আমি ভালোবাসতাম, আর সে-ও, সময় পেলে,
আমায় ভালবাসতো।
আজকের মতন এরকম রাতে আমি তাকে আলিঙ্গন করেছিলাম
চুমু খেয়েছিলাম অগণ্য অসংখ্য বারবার সীমাহীন আকাশের নিচে দাড়িয়ে।
সে ভালোবেসেছিল, কখনো আমিও ভালোবেসেছিলাম তাকে
তার গভীর স্থির চোখদুটিকে কে না ভালোবেসে পারে?
আজই রাতে আমি লিখবো সেই বিষন্ন পংক্তিগুলি
এই ভেবে যে আমি তাকে পাইনি, এই জেনে যে আমি তাকে হারিয়ে ফেলেছি।
এই অসামান্য রাত শুনবে, তুমি ছাড়াও এই রাত অসামান্য
আর আমার কবিতা আত্মার উপর ঝরে পড়বে
যেভাবে শস্যক্ষেতে শিশির ঝরে পড়ে
কী এসে যায়, যদি আমার ভালোবাসা তাকে
টেনে রাখতে না পেরে থাকে!
রাত বড় নক্ষত্ররচিত আর সে আমার কাছে নেই।
এইই সব, আর কিছু নেই। দূরে কে যেন গাচ্ছে গান। ঐ তো দূরে।
তাকে যে হারিয়েছি, এ কথায় মনের ঠিক সায় নেই।
আমার চোখদুটো তাকে খুঁজছে, যাতে করে সে কাছে আসে
হৃদয় তাকে হাতড়ে বেড়াচ্ছে আর সে আমার কাছে নেই।
সেই রাত, সেই সেই গাছগুলোকে প্রত্যক্ষ করে তুলছে
কিন্তু সেদিনকার সেই আমরা আজ আর নেই।
আমি আর তাকে ভালোবাসিনা, একথা ঠিক, কিন্তু
কীভাবে ভালোবেসেছিলাম!
আমার স্বর বাতাস খুঁজে মরেছে তার শ্রুতি ছুঁতে পাওয়ার জন্যে।
অন্যের। অন্যের হবে সে। আমি চুমু দেবার সময়টা
যেমন মনে হয়েছিলো
তার স্বর, তার দেহরত্নখানি, তার গভীর চোখ!
আমি আর তাকে ভালোবাসি না, একথা ঠিক, তবে হয়তো আমি একদিন ভালোবেসেছিলাম
প্রেম ব্যাপারটা এতই ক্ষণিক, ভুলে যাওয়া কিন্তু বেশ সময়সাপেক্ষ।
কারণটা হলো, আজকের মতন ঠিক এমন রাতগুলোতেই
তাকে বাহুবুকে ধরে থাকতাম
সে যে এমনি করে হারিয়ে গেলো, তাতে আমার মন
এক্কেবারেই সায় দেয় না।
তবু, এই হলো শেষ ব্যথা যাতে সে আমাকে বেদনাহত করে গেলো
আর এই শেষ কবিতারাশি যা তার জন্যে রচনা করে গেলাম।
Comments