মেরী খ্রীস্টমাস
সিরিয়ার কচিকাঁচা অপরিণত শরীরগুলো, ক্ষত বিক্ষত যখন, বোমারু বিমান, গোলাগুলি রকেট লঞ্চারে,
তখন, স্যালাইন রক্ত আর অক্সিজেন সিলিন্ডার যেমন দরকার, তেমনি দরকার, সান্টার একরাশ ভালোবাসার, বড়দিন আসার প্রতীক্ষার _
স্কুল আর মাঠের খেলা ফেলে, এখন ওরাও আছে হাসপাতালে দলে দলে,
কাতর দেহে চুপচাপ শুয়ে, সরি সারি বেডে,
রাজপুত্রের মতো ঘোড়ায় চেপে, রাজকুমারীর খোঁজে কখনো যাবে না ওরা, আর কোথাও,
অথচ, কাজল কালো দীঘির ঘাটে, থাকার কথা ছিল ওদেরও,
কিন্তু, সব কথা কি থাকে আর, সময় মাফিক মিলে যাওয়ার,
অনেকেরই হয়তো, কোনওদিন কখনো, ফেরাই হবে না আর, ইস্কুলে বা প্রোমোটারহীন মাঠে,
হয়তো, ফেরাও হবে না আর, মাটিতে মিশে যাওয়া, আধপোড়া বাড়িতে কখনো,
কাল বড়দিনে, তাই, সান্টাক্লজ নিজেই,
ওদের কাছে পৌঁছে যাবেন এবার,
শেষ বেলায়, তাই, তিনি নিজের ঝুলিখানা গুছিয়ে নিচ্ছেন একমনে,
সাদা পাকা চুল দাড়িতে, লেপে সুরভিত শ্যাম্পু আর কন্ডিশনার,
আর শুকনো ফুটিফাটা মুখে কোল্ড ক্রিম মেখে, ধুয়ে নিয়েছেন তিনি তার লাল টুকটুকে জামা আর ফারের টুপিখানাও
গ্যারেজ থেকে স্লেজ গাড়িখানা বের করে, ঝেড়ে নিয়েছেন কাদা বরফ জমাট বাঁধা, সমস্ত ধুলো
এরপর, পঁচিশে ডিসেম্বর, পৌঁছে যাবেন তিনি ওদের কাছে,
নিয়ে ঝুলিভরা একরাশ ভালোবাসা আর আনন্দ উপহার,
হাসপাতালের চত্বর জুড়ে, বেজে উঠবে স্বর্গের জিঙ্গল বেল,
এক ঝাঁক অপূর্ব কিউপিডের কাছে
পৌঁছে দেবেন সান্টা, অপেক্ষার প্রীতি উপহার
"মেরী খ্রীস্টমাস"
Comments