দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর সভা

(সংগৃহিত)

////
#দ্রৌপদির_স্বয়ংবরসভা

ভীম : ধুর ,একে খিদে পাচ্ছে তার মধ্যে তখন থেকে এসব জটাজুট নিয়ে বসে থেকে থেকে ঝাঁট জ্বলে গেল মাইরি। এসব দেখিয়ে কি মামণি পটে? ওদিকে দেখ দুর্যোধনরা কেমন ঝিনচ্যাক ড্রেস মেরেছে।

নকুল: আরে ড্রেসে কি ছেঁড়া যায়? এখানে তো তীর মেরে মামণি আর মাছ একসাথে গাঁথতে হবে।

ভীম: তাও বটে। যত্তসব চক্রান্ত। হত গদা নিয়ে ক্যালাকেলি দেখতাম কার গাঁ- ইয়ে মানে পিছনে কত দম। এঠিক ওই কেল্টো মালটার কাজ, অর্জুনের প্রতি পক্ষপাত। (গলা নামিয়ে) আচ্ছা মাল দুটো গে নয় তো? সারাক্ষণ লটরপটর করে মাইরি।

যুধিষ্ঠির : কনিষ্ঠ ভ্রাতা বলে কিছু বলি না, নাহলে তোরাই বল আমার ভূমিকায় অভিনয় করে লোকজন ফিল্ম ইন্সটিটিউটের হেড হয়ে যাচ্ছে আর আমি বসে কেশ উৎপাটন করছি।

অর্জুন- (মনে মনে) হু হু বাওয়া, যতই মারো খিস্তি, আমিই দেব কিস্তি। এমনি এমনি কি কষ্ট করে তীরন্দাজিটা শিখলাম? যখন আমি ঘন্টার পর ঘন্টা হিসু পর্যন্ত চেপে তীর মেরে যেতাম কাঠের পাখির দিকে আর তোমরা "উর্বশীর শীৎকার" পড়ে গা গরম করতে তার বেলা?

[ইতিমধ্যে কর্ণ এগোচ্ছে হেভি কেত নিয়ে]

অর্জুন- গাঁ- মানে কেস করেছে! এই মালটার কথা তো ভুলেই গেছিলাম মাইরি।

বাকি পান্ডবগণ- ঠিক হয়েছে, বেশি কেত। এতগুলো উপোসী দাদা-ভাই থাকতে উনি একা মামণি তুলবেন। হুঁহ বাবা, বাপেরও বাপ আছে।

দ্রৌপদি- (বিড়বিড় করে) কর্ণটা হ্যান্ডু আছে মাইরি।

কৃষ্ণ- বেশি হর্নি হয়ো না সখি, অর্জুনের প্রতি মন দাও।

দ্রৌপদি- জানি সখা। (মনে মনে) নিজে তো ১৬০০০ বউকে দিয়ে দিয়ে নিজের নামটাও ১০৮ করে নিলে, আমার বেলা যত্তসব।

[কর্ণ ধনুক তুলে রেডি তীর মারার জন্য]

দ্রৌপদি- দাঁড়াও। আমি হলুম এলিট মামণি আর এ শালা গেঁয়ো ভুত। আমি কিনা করব একে বিয়ে, কভি নেহি।

কর্ণ- (মুচকি হেসে) জানতাম সব গট আপ কেস। স্বয়ংবর না আইপিএল শালা? আরে দেখা আছে এরম মামণি, যাদবপুরের কম্পারেটিভ লিটারেচার আর ইংলিশ এর মামণি নাচিয়ে বড় হলাম আর আমাকে কিনা এলিটিসম চো- ইয়ে মানে দেখাচ্ছে! যাঃ অর্জুন ছেড়ে দিলাম তোকে। এমনিও আমার এসব মাল পোষাত না।

অর্জুন- যাক বাবা, বাঁচলাম।

[ এবার অর্জুন যাচ্ছে। অর্জুন ধনুকে গুণ পরিয়ে নিখুঁত নিশানায় মাছে চোখ গেঁথে দিল। দ্রৌপদি সেক্সি ভাবে ঠোঁট কামড়ে তাকালো, ব্যাকগ্রাউন্ডে জয়ধ্বনি। ]

ভীম: জানতাম মালটা ঠিক পারবে। ছোটবেলায় শালা গাছের উপর থেকে হিসি করে ঠিক গাছের নিচে বসে থাকা কাঠবেরালির মুখে মারত। তখনই বুঝেছিলাম, এ শালার টিপ হেভি।

সহদেব- পুরো আওয়ার গ্লাস ফিগার গো ভীমদা। নাঃ, বাকি জীবনটা বৌদিবাজি করেই কাটবে মনে হচ্ছে। 😕
///
# দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ

[পাশা খেলায় হেরে যাবার পর পান্ডব রা চুপচাপ মাথা নীচু করে বসে আছে। কৌরব রা নিজেদের মধ্যে হাসি ঠাট্টায় ব্যস্ত। বাকিরা হয় উপর দিকে তাকিয়ে আছে নয়তো মোবাইলে টেক্সট করতে ব্যস্ত। দুর্যোধন দুঃশাসন কে পাঠিয়েছে দ্রৌপদীকে অন্দরমহল থেকে ধরে আনার জন্য। হঠাৎ দ্রৌপদীর গলার আওয়াজ পেয়ে সবাই সিঁড়ির দিকে তাকালো। ]

দ্রৌপদী : ছেড়ে দে আমায় পাপিষ্ঠ! আমার চুলটা ছাড় নরাধম!

দুঃশাসন : মুখে যতই অরুন্ধতীর বুলি কপচাস না কেন আজ আমি তোকে ছাড়ছি না।

দ্রৌপদী : ( দাঁতে দাঁত চেপে) আমার চুলটা ছাড়। কালকেই কেয়া শেঠ থেকে কাটিয়ে এনেছি।

দুঃশাসন : ( অট্টহাসি করে উঠে) হু হু বাওয়া ওই সব ছেঁদো কথায় এ শর্মা ভুলছে না। আমি হস্তিনাপুরের মাল। তোর সব্যসাচীর ডিজাইন করা ওই শাড়ি আজ আমি খুলেই ছাড়ব।

যুধিষ্ঠির : (খুব নীচু স্বরে) দ্রৌপদী কে ছেড়ে দে শালা থুড়ি ভাই। আসলে আমার ব্রেনে যখন অক্সিজেন কম যায় তখন এসব বলে ফেলি ।

ভীম : ( মনে মনে) আজ যুধিষ্ঠির দা বাজি না ধরলে একটাকেও ছেড়ে দিতাম না। সবকটার পিন্ডি চটকাতাম।

অর্জুন : ( চিৎকার করে) ওকে ছাড় শুয়ার। তোর গলার ভোকাল কর্ড ছিঁড়ে জুতোর লেশ বাঁধবো শালা!

দ্রৌপদী : ( পান্ডব দের দিকে তাকিয়ে মনে মনে) মিনশে গুলোর কাজ কারবার দেখলে গা পিত্তি জ্বলে যায়। সেক্স করার সময় খুব নোলা আর এখন দেখো এমন ভাবে বসে আছে যেন ভাজা মাছটি উল্টে খেতে জানে না। এর থেকে ওই গেঁয়ো ভূত কর্ণটাকে হাবি বানালেই ভালো হত মাইরি।

দুর্যোধন : নিয়ে আয় ওকে দুশু। এই ভরা সভায় টেনে খুলে দে ওর ডিজাইনার শিফন শাড়ি। ওকে আমি এই জঙ্ঘায় বসাতে চাই।

ভিম : তোকে শালা আমি পুঁতে ফেলব। সাহস থাকে তো গদা নিয়ে আয় না। দেখি কার গাঁ ইয়ে মানে পেছনে কত দম! তোর ওই জঙ্ঘা আমি ভেঙেই ছাড়ব বোকাচো চো চন্ডি।

দ্রৌপদী : ( দুঃশাসন এর দিকে তাকিয়ে) ছেড়ে দে আমায়, তোর বাড়িতে মা বোন নেই না কি?

দুঃশাসন : আছে আছে সবই আছে সুইট হার্ট। শুধু তুমি নেই মামনি।

[ ইতিমধ্যে দুঃশাসন দ্রৌপদী কে সভার মাঝখানে টেনে এনে শাড়ি ধরে টানতে শুরু করে দিয়েছে।]

নকুল : ধুর বাঁ ইয়ে ভাই ওর শাড়িটা ছাড়। ওটা আমার আর সহদেবের টিউসনির জমানো টাকায় কেনা!

শকুনি : ওই সব বালের কীর্তনে ভুলো না ভাগ্নে। মনে করে দেখ ভাগ্নে এই আইটেমের জন্যে তুমি কত ল্যাঙট ভিজিয়েছ। ইয়ে মানে চোখের জলে। এই ব্যাটা বিরাশি নম্বর তুই দাঁত বার করছিস কেন বে? দুঃশাসন তোর দাদা হয় দাদা। সব কথাতে এদের ডুয়াল মিনিং!

সহদেব : ( শকুনির দিকে তাকিয়ে) আমার ছেলেদের ঢুকিয়ে দেব, রেড করে চলে যাবে!

দ্রৌপদী : (কাঁদতে কাঁদতে)  হেল্প হেল্প।  কে কোথায় আছো রক্ষে কর আমায়। হে সখা বাঁচাও আমায়।

[ এদিকে বিচিত্রবীর্য আইফোন সিক্স বার করে ভিডিও রেকর্ডিং করতে ব্যস্ত ]

দুর্যোধন : তোল ভিডিও টা বিচু। রাতে হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে সেন্ড করব।

কর্ণ : ( মনে মনে) বিয়ের সময় তো আমায়  খুব গেঁয়ো ভূত বলে দাঁত কেলিয়েছিলি। এখন দেখ কার পোঁ মানে পেছনে বাম্বু দিয়েছিলি।

ভীষ্ম : (মনে মনে) এই বুড়ো বয়সে এসে কি আর ওই স্ট্রিপটিস দেখতে ভালো লাগে! মাথায় উঠে গেলে ফুল কেলো।

ধৃতরাষ্ট্র : (মনে মনে) দুর বাল! সবাই চুটিয়ে এনজয় করছে আর আমিই কিছু দেখতে পাচ্ছি না।

[ এদিকে দৃশ্যে কৃষ্ণ এর প্রবেশ ঘটেছে। দুঃশাসন যতই শাড়ি ধরে টানুক না কেন কৃষ্ণ এর লীলায় শাড়ি আর শেষ হতে চাইছে না। ]

দুঃশাসন : (অনেকক্ষণ টানাটানির পর বিরক্ত হয়ে) দুর বাল! এ শাড়ি না রামগোপালের আগ?  শালা শেষই হচ্ছে না!

দুর্যোধন : (বিরক্ত হয়ে) তোকে শালা একটা কাজ দিয়েও শান্তি পাওয়া যায়না। একটা শাড়ি ঠিক করে খুলতে পারিস না আবার বলিস বিয়ে করব! দুর হ ঘাটের মড়া, আমি খুলছি।

[বেশ কিছুক্ষন টানাটানির পরে দুর্যোধন ও ক্লান্ত হয়ে বসে পড়ল।]

কৃষ্ণ : ( পান্ডব দের দিকে তাকিয়ে মনে মনে) অন্য সময় আমাকে কালো বলে তো খুব খিল্লি মারিস, এখন দ্যাখ আমিই তোদের আর একটা এম.এম.এস কান্ডের হাত থেকে বাঁচালাম।

দ্রৌপদী : (কৃষ্ণ এর দিকে খানকতক ফ্লাইং কিস ছুঁড়ে দিয়ে) থ্যাংকস সখা আজ তুমিই আমার লাজ বাঁচালে।

ভীম : (মনে মনে) কৃষ্ণটাকে এতদিন আন্ডার এস্টিমেট করেছি। বুঝিনি মালটার এতো ট্যালেন্ট। দেখি দিদির সাথে কথা বলে একটা বঙ্গ বিভূষণ যদি দেওয়াতে পারি!

যুধিষ্ঠির : (অর্জুন এর দিকে তাকিয়ে) দেখি এবার ধার বাকিটা আদায় করি, কৃষ্ণটাকে মেনল্যান্ড চায়নায় নিয়ে গিয়ে খাইয়ে দেব।

অর্জুন : (দুর্যোধন এর দিকে মিডল ফিঙ্গার দেখিয়ে চিৎকার করে) মুরোদ থাকে তো শালা সানি লিওন কে দিয়ে ল্যাপ ডান্স করিয়ে দেখা। দেখি তুই কত বড় হনু।

দুর্যোধন : শালা এতো লোকের সামনে আমার পুরো গুষ্টির গাঁ ইয়ে মানে ইজ্জত মারা গেল। সুযোগ পাই, একদিন সবকটার পোঁ মানে যাকে বলে পেছনে মেরে দেব।

দুঃশাসন : ( কৃষ্ণ এর দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে) আমি ভি দেখে নেব এ ব্যাটা কোন লোম?

দ্রৌপদী : ( চিৎকার করে) আজ আমি এই সভায় সকলের সামনে প্রতিজ্ঞা করছি, যতদিন না ওই দুঃশাসন এর বুক চিরে রক্ত পান করছি ততদিন কেয়া শেঠের কাছে চুল কাটাবো না। পাড়ার সস্তা স্যালনে চুল কাটাবো।

বিদূর : (মনে মনে) ভাগ্যিস এখানে মোদিজি নেই। থাকলে গিনেস বুকে নাম তোলার জন্য শাড়িটাকে মাপিয়ে তবে ছাড়তেন!

///

Comments

Popular posts from this blog

মহায়ণ

মরণ vs যৌনতা

আনা কড়া গন্ডা ক্রান্তি