পাহাড়িয়া
পাহাড়িয়া © রাজেন্দ্র
❑ ক
দিস্তা দিস্তা ব্যাগে ঠাসা, ছোটো বড়ো টুকরো টুকরো মেঘ, ঢুলতে ঢুলতে প্রায় জেগে থাকা, ঘুমন্ত ঘুম রেল স্টেশনের শরীর থেকে কুড়িয়ে এনেও, ফুরিয়ে যায়না, তিস্তার মায়াবী সঙ্গমে, ভালোবাসার একমাত্র স্বাক্ষী হওয়ার
অদম্য কামনা ।
❑ খ
রংলির বাজার, আর নীল তেপান্তরের আকাশের অনামী সীমান্ত ছুঁয়ে, একটানা ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা, সারিবদ্ধ দেবদারু আর খ্রিস্টমাসে সাজানো গাছেরা, কুয়াশায় জড়াজড়ি করে ভালোবাসাবাসি করে, ঘনঘোর নিঝুম রাতের বর্ষার হিমেল জলে, মায়াবী চাদরের লুকিয়ে রাখা ভাঁজের অস্ফুট সোহাগে ।
❑ গ
ঘুমন্ত পাহাড়ের কোলে কোলে, বাজতে থাকা বাঁশির টানে, ঘরমুখো ঘরণীও, দুই পলকের মাঝের মুহূর্তে, অজানা কারণে থমকে যায়, মুঠোফোনের দৌলতে, কোনো অচেনা পথিকের ল্যাপটপের, ওয়ালপেপার হওয়ার অস্ফুট আকাঙ্খায় ।
❑ ঘ
নাম না জানা, অচেনা পাহাড়ী ঝুমকোলতার ফাঁকে, অবুঝ সবুজ পাইনের বন, গায়ে গা মিশিয়ে জড়িয়ে থাকে, একে অপরকে ভালোলাগার অপার্থিব কামনায় ।
❑ ঙ
কুয়াশা ঘেরা গ্রামের, ভিজে ঘাসে ঢাকা, পাথুরে মেঠো পথের প্রান্তে, সন্ধ্যার আসন্ন অন্ধকারে, মিশে যায় নিকোটিন, উঠতে থাকা ধোঁয়ায়, ধূমায়িত পাহাড়ী লাল চায়ের কাঁচের পেয়ালায় ।
❑ চ
পাহাড়ি সবুজ ঘন গভীর জঙ্গলের বুক চিরে, কালো পিচের রাস্তা ধরে, তিন হাজার ফুট খাদের ধার বেয়ে, ঝর্নার জলের একটানা আওয়াজ শুনতে শুনতে, টিপ টিপ পায়ে হেঁটে, চড়াই উৎরাই পথ পার করলেও, আশ মেটে না পাহাড়ে আসার । অন্ধকার নেমে এলে, জোনাকির আলোয়, নাম না জানা বাচ্চা পাখির ডাকে, পোকার শব্দে, ঘোর লাগা মন, ঘুরে ফিরে আসতেই থাকে অকারণে, বার বার ।
❑ ছ
পাহাড়ে বৃষ্টি নামলে, গড়িয়ে নামা জলের শব্দে, পাহাড়ি নদীর গর্জন, কোথায় যেন হারিয়ে যায়, কুয়াশা আর মেঘের ঠিকানায়, আর বর্ষণ থামার সাথে সাথেই, ফিরে আসে আবার, পাথরে পাথরে ধাক্কা খেতে খেতে ছুটে চলা পাহাড়ি নদীর অক্লান্ত গর্জন ।
❑ জ
শুধু একটু অবিচ্ছিন্ন নীরবতার আশায়, মন কখনো পাথরের সিঁড়ি ছুঁয়ে, লাল হলুদ পাতাবাহার পথে, নদীর ধারে চায়ের বাগিচায়, কখনো পাহাড় কোলে কমলা বাগানে, মেঘ ঝিরঝির বৃষ্টি ভেজা ডানা মেলে, কুয়াশা মেখে ভেসে যেতে চায় । কিন্তু, না চাইলেও ভেসে আসতেই থাকে শব্দেরা একে একে পাহাড়ি বাঁকে, কখনো পাহাড়ি ঝর্ণায়, কখনো অজানা পাখির ছানার অস্পষ্ট ডানার ঝাপটে, মায়ের পোকা ধরবার একান্ত কামনায় আর মেঘ ভাঙা বৃষ্টির জলকণা সশব্দে আছড়ে পড়ে পাথরে, গাছের ডালে, পাতায় শিরায় উপশিরায়, ঘাসের গোড়ায়, বিন্দু বিন্দু শিশির কণায় ।
❑ ঝ
খাদের ধারে, এঁকেবেঁকে, উপত্যকার খাঁজ বেয়ে, কুলুকুলু করে বইতে থাকা খিলখিল হাসির নদীর পাড়ে, চুপটি করে বসে থাকতে, জলের শব্দ শুনতে শুনতে, জঙ্গল থেকে ভেসে আসা ঝিঁঝির ডাকের সাথে ইচ্ছায় অনিচ্ছায় মিশে যেতে যেতে, ফিরে যেতে বেশ লাগে ধূসর অতীতে ।
❑ ঞ
হোটেলের এক একটা ঘর, কখনো কখনো, এক একটা ঢেউ এর মতোও হয়, মানুষের মতো, কখনো কখনো তারাও নিঃসঙ্গ হয় ।
Comments