কুকুর আর বিড়ালদের দেবতা নিয়ে

একটা জোকস্ _ শেয়ার না করে পারলাম না _
-----------------------------------------------------------------
-----------------------------------------------------------------
একবার একটা মাথাপাগল লোক ঠিক করল, সে ধর্মের সমালোচনা করবে। খুবই ভাল কথা। শুভস্য শীঘ্রম, ফেসবুকেই শুরু হল ধর্মের বিরুদ্ধে জেহাদ। লিখল, "দুর্গা বা সরস্বতী আসলে বেশ্যা"!

অবশ্য মনে একটা চোরা ভয় কাজ করছিল তার। কিছু হবে না তো? হওয়া অবশ্য শুরু হয়েছিল। মানে প্রথমে দু'চারটে "দেশদ্রোহী", "একে পাকিস্তানে পাঠানো হোক" কমেন্ট ফ্লো করেছিল। কিন্তু তারপরেই দেখা গেল, কিছু হবার আগেই তার একগাদা সমর্থক জুটে গেছে। সে আরও অবাক হয়ে দেখল, তার আবার বেশিরভাগই শহরের নামীদামী জেনেগেন। কাউকে সে দেখেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মুভমেন্টের হয়ে টিভিতে মুখ দেখাতে, কাউকে দেখেছে সিপিএমের হয়ে কাগজে ইন্টারভিউ দিয়েছে। কেউ হয়ত প্রেসিডেন্সির পড়ুয়া, কলেজ স্ট্রিটের বিপ্লবী গোষ্ঠীর সদস্য।

যত দিন যেতে লাগল, তত সে অবাক হতে লাগল। ফেসবুকে তার ফ্রেন্ডলিস্টে ছিল মোটে শ'খানেক লোক, এদিকে যত দিন যায় ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট আসতেই থাকে। সবাই ইনবক্স করছে,
"এরকম অন্যধারার চিন্তা সত্যিই পোসেনজিতের বাংলা অন্যধারার ছবিকেও ছাড়িয়ে যায় মশাই"!
"মনুবাদের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছেন আপনি, মনুবাদ সে আজাদি"।
"ব্রাহ্মণ্যবাদের বিরুদ্ধে, হুদুর দুর্গার বিরুদ্ধে লড়ে যান কমরেড, মহিষাসুর মাঙ্গে আজাদি!"
"আগামী পরশু কলেজ স্ট্রিটে আপনাকে নিয়ে স্ট্রিটকর্নার করব, বিকেল নাগাদ চলে আসবেন! কলেজ স্ট্রিট মাঙ্গে আজাদি!"

আর একটা নামও তার কানে আসছিল, যদিও সে জানে না এই ব্যক্তি কে।
"রোহিত ভেমুলার উত্তরাধিকার এইভাবেই আমরা যুগযুগান্ত ধরে বয়ে নিয়ে যাব কমরেড!"

আবার প্রশ্নও উড়ে আসে। "আপনার মত প্রগতিশীল, উন্নয়নশীল, বেনীমাধবশীলের কাছে প্রশ্ন, কাশ্মীরের আজাদি নিয়ে আপনি কি ভাবছেন?"

কিছুদিনের মধ্যেই দেখল, ফেসবুকে তার ডিপিটি নিয়ে বেশ কিছু মিম নেমেছে বাজারে, সবেতেই 'লাল সেলাম' বলে শয়ে শয়ে লোক শেয়ার করে ধন্য ধন্য করছে!

লোকটা গেল হিট খেয়ে। এই তো চাই। ছিল ফকির, হয়ে গেল আমির। ধর্মের বিরুদ্ধে জেহাদের এমন মহিমা?

পরের দিন বার খেয়ে সে আবার স্টেটাস দিল। এবারে লক্ষ্য, নবী মহম্মদ।

স্টেটাস দিয়ে বেশ আয়েশ করে তক্তপোষ থেকে নেমে একটা বিড়ি ধরিয়েছে। আজ নিশ্চয়ই কোনও মিছিলে যেতে ডাকবে। দেখি আজ কিরকম কি রিপ্লাই আসে।

রিপ্লাই এল। ঘন্টাখানেকের মধ্যেই। প্রথমে ফেসবুকে পিন ড্রপ সাইলেন্স। সবাই ইসলামের অবমাননার শোকে পাথর। তারপর ভায়োলেন্স। ঘরের বাইরে ঢিল, পাটকেল, আল্লাহু আকবর। শেষে লোকাল থানার পুলিশ। সেফ কাস্টডি।

লোকটি এখনও বুঝল না, এক যাত্রায় এমন পৃথক ফল কি করে হয়!
______________________________________

সব চরিত্র কাল্পনিক। তবে তারক বিশ্বাস কোনও কাল্পনিক নাম নয়। ইসলামের সমালোচনা করে হাওড়া সিটি পুলিশের হেফাজতে বন্দি। এবং এই নিয়ে প্রগতিশীলদের নীরবতাও কাল্পনিক কিছু নয়।

কারণ এখনও আসল কথাটা আমরা এড়িয়ে যাই। যেটা এদেশে অবিলম্বে দরকার। ভন্ডামি ও হিপোক্র্যাসি সে আজাদি।

Comments

Popular posts from this blog

মহায়ণ

মরণ vs যৌনতা

আনা কড়া গন্ডা ক্রান্তি