চৈতন্যের মৃত্যু রহস্য নিয়ে
শ্রী চৈতন্যের রহস্যজনক মৃত্যু এবং প্রাসঙ্গিক কিছু কথা (An Article on The Mysterious Death of Shri Chaitanya)
”চৈতন্যদেবকে গুম খুন করা হয়েছিল পুরীতেই এবং চৈতন্যদেবের দেহের কোন অবশেষের চিহ্নও রাখা হয়নি কোথাও । এবং তা হয়নি বলেই তিনটে কিংবদন্তী প্রচারের প্রয়োজন হয়েছিল । … এই বয়সে শহীদ হবার ইচ্ছে নেই বলেই বলতে পারবো না , ঠিক কোথায় চৈতন্যকে খুন করা হয়েছিল । ” – নীহাররঞ্জন রায় (সপ্তডিঙ্গা , বর্ষ ২ , সংখ্যা ২ )
৮ই এপ্রিল , ২০১৭ । শিবপুর বিই কলেজ – লর্ডসের মাঠ । আমাদের ফেস্ট চলছে সেসময় । বিই কলেজে ফেস্ট চলে চার দিন ধরে । অবশ্য দিন না বলে রাত বলাই ভাল ! আমরা মানে , বিইংসদের কাছে ব্যাপারটা দুর্গোৎসবের সামিল ! সেদিন নবমীর রাত ; কলকাতা নাইট ।
রাত বারোটা নাগাদ ‘ফকিরা‘ উঠল । ফকিরার লিড তিমিরদার অসাধারন গলা । শুরুতেই কয়েকটা লোকগীতি এত দরদ দিয়ে গাইল যে আমি চলতি কথায় ‘ছিটকে’ গেলাম ! যেমন অপূর্ব গলা তেমনই ইন্সট্রমেন্টাল অ্যারেঞ্জমেন্ট ! আমার আশে পাশের লোকজন তখন পাগল হয়ে গেছে ! কেউ দু-হাত তুলে নাচছে , কেউ মাথা চুল ঝাঁকিয়ে চিৎকার করে গাইছে ! আমিও যে খুব প্রকৃতিস্থ অবস্থায় ছিলাম তা নয় , কিন্ত স্টেজের একপাশে চুপ করে দাঁড়িয়ে শুনছিলাম ! তিমিরদার গলা যেন তখন হ্যামলিনের বাঁশি , সুরের মূর্ছনা লর্ডসের মাঠ ছাড়িয়ে , হস্টেল ১৪ , ১৫র সীমানা ছাড়িয়ে রিচ , ম্যাক , সেন , সেনগুপ্তর ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে ! ‘হরে কৃষ্ণ’ পদাবলী কীর্তনটা গাইতে গাইতে মাঝে উদাত্ত গলায় তান ধরল –
”হরি হরায় নমঃ কৃষ্ণ যাদবায় নমঃ , যাদবায় মাধবায় কেশবায় নমঃ”
আমিও ডান হাতটা উপরে তুলে গলা মেলালাম । আমার পাশে , দুই বন্ধু তখন উত্তেজনায় বিটের তালে তালে দুহাত তুলে নাচছে ! সোমরসের কল্যানে হোক , বাবার কৃপায় হোক কি তিমিরদার গলার মাধুর্যেই হোক কয়েকশো তরুন-তরুণী যেন কৃষ্ণ নামে পাগল হয়ে উঠেছে । ঠিক ঐ মুহূর্তে অজস্র বন্ধুর ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়েও এক অদ্ভত আবেশ আমাকে আচ্ছন্ন করল ! এক দমকা হাওয়ার আমি যেন পিছিয়ে এলাম পাঁচশো বছর ।
কল্পনায় দেখলাম – দাঁড়িয়ে আছি নবদ্বীপের রাস্তায় । ঐ যে দেখা যায় কত মানুষ নগর সংকীর্তনে বেরিয়েছে ; আর তাদের সবার সামনে এগিয়ে আসছে এক দীর্ঘদেহী গৌরবর্ণ পুরুষ । তার পিছন পিছন দুহাত তুলে ভাবের ঘোরে কৃষ্ণ নাম নিতে নিতে এগিয়ে আসছে শত সহস্র মানুষ । সমাজের চোখে তাদের কেউ চণ্ডাল , কেউ মুচি আবার কেউ অচ্ছুত বা অস্পৃশ্য ! সঙ্গীত এর মত এত শক্তিশালী শিল্প মাধ্যম খুব কমই আছে । আজ থেকে কয়েক শতাব্দী আগে চৈতন্য খুব বুদ্ধি করেই কীর্তনকে ব্যবহার করেছিলেন জাতিভেদের বিরুদ্ধে নিম্নবর্ণের মানুষকে একত্রিত করতে । শত শত মানুষ ভাবের ঘোরে কৃষ্ণ নামে পাগল হয়ে উঠেছিলেন । সঙ্গীত অবশ্য আজও আমাদের পাগল করে , জোটবদ্ধ করে – শুধু সময়ের সাথে সাথে পটভূমিটা বদলে যায় ।
গানটা শেষ হওয়ায় ঘোরটা কেটে গেল ! সেদিনই ঠিক করেছিলাম , এই অসাধারণ মানুষটাকে নিয়ে লিখব ! ব্রাত্যজনের রুদ্ধসঙ্গীতে , দেবব্রত বিশ্বাসের সাথে চে গেভারার তুলনা পড়েছি । ষোড়শ শতাব্দীর পরিপ্রেক্ষিতে দাঁড়িয়ে চৈতন্য আন্দোলন কে বিচার করলে আমার মনে হয় চৈতন্যর কৃতিত্ব , ‘চে’র থেকে কিছু কম হবে না ! সমকালীন যুগে , সামাজিক আন্দোলনকে দানা বাঁধতে হলে ধর্মের হাত ধরতেই হত ,
কিন্ত তাতে চৈতন্য আন্দোলনের গনবিপ্লবী চরিত্রটাকে কোন ভাবেই অস্বীকার করা যায়না ! তবে শুধু গনবিপ্লবই নয় , চৈতন্য আন্দোলনের হাত ধরে হিন্দু ধর্মের পুনরুথান না হলে বাংলার জনবিন্যাসই হয়ত বদলে যেত ! দেশ ভাগের সময় আজকের পশ্চিমবঙ্গ থাকত পূর্ব পাকিস্থানের আওতায় ! হয়ত ৭১’এর মুক্তিযুদ্ধ হতই না , আরও অনেক কিছুই হত না !
এবার আসি একটু অন্য প্রসঙ্গে । যেদিকটা নিয়ে বড় কেউ একটা আলোচনা করেনা ।
সমাজে যখন সত্যিই বড় কোন বদল আসে , তখন তার প্রভাব সমস্ত শিল্পক্ষেত্রেও পরে । পরিবর্তনের ঢেউ সাহিত্য , সঙ্গীত , স্থাপত্য , ভাস্কর্য , চিত্রকলা – সব কিছুকেই ছুঁয়ে যায় । স্থাপত্যের উদাহরণ দিয়ে আপনাদের বিষয়টা বোঝাই ।
একবিংশ শতাব্দীতে বাংলার মন্দির স্থাপত্য বলতে যা পাওয়া যায় তা মূলত রেখ (শিখর) ও সামান্য কিছু পীঢ়া (ভদ্র) দেউল ; যেগুলো মূলত কলিঙ্গ স্থাপত্যের অনুকরণে নির্মিত হয়েছিল । এরপর ত্রয়োদশ শতাব্দীর শুরুতে সেন বংশের পতন হয় । বাংলার শাসনভার ইসলামী শাসকদের হাতে গেলে , শুরু হয় দীর্ঘ তিনশো বছরের অরাজকতা পর্ব । এসময় মন্দির স্থাপত্যের বিকাশ যে শুধু রুদ্ধ হয়ে গেল তাই নয় ,
বেশ কিছু হিন্দু স্থাপত্য ভেঙ্গে মসজিদ নির্মাণও হয় । হাতে গোনা কিছু ব্যতিক্রমী উদাহরণ ছাড়া এসময় মন্দির নির্মাণ হয়নি । যা হয়েছে তার প্রায় সবই বাঁকুড়ার মল্ল রাজাদের তত্বাবধানে ।
ষোড়শ শতাব্দীতে নদিয়ায় নিমাই – ভক্তিরসের জোয়ারে , নিস্তরঙ্গ বাংলার সমাজে যে বিপ্লব নিয়ে এসেছিলেন তার প্রভাব ছিল সুদুর প্রসারী । সপ্তাদশ শতাব্দীর শুরু থেকেই বাংলার গ্রামে গ্রামে মন্দির নির্মাণ শুরু হয় । ঠিক এরকম একটা পরিস্থিতিতেই বাংলায় তৈরি হল ‘চালা মন্দির’ , যা একান্তই বাংলার নিজস্ব স্থাপত্য । বাংলার স্থপতিরা কলিঙ্গের অনুকরনের রাস্তায় না হেঁটে , বাংলার সমাজ , ভূমিপ্রকৃতি আর জলবায়ুর কথা ভেবে- গ্রাম বাংলার খড়ের চালাকেই তাদের অনুপ্রেরনা হিসেবে বেছে নিলেন । আমার বিশ্বাস এই সময়টায় , খুব অল্প সময়ের মধ্যেই মন্দির নির্মাতাদের চাহিদা হঠাৎ এত পরিমানে বৃদ্ধি পায় যে বাংলার স্থপতিরা তাদের চির পরিচিত গঠন শৈলীটাই বেছে নিয়েছিলন । এরপর এই চালা স্থাপত্য থেকেই সময়ের হাত ধরে এল রত্ন স্থাপত্য। এ সবই বাংলার একান্ত নিজস্ব স্থাপত্যশৈলী । আপনারা অনেকেই হয়ত জানেন না , এই যে আমরা বাংলো (Bungalow) বাড়ি দেখি – তার মূল অনুপ্রেরণা কিন্ত বাংলার এই নিজস্ব দোচালা স্থাপত্য । ‘বাংলা’ঘর শব্দটা ব্রিটিশ উচচারণে বাংলো হয়ে গেছে । অবশ্য শুধু বাংলোই নয় বাংলার এই চালা রীতি শাহজাহানের হাত ধরে সারা দেশেই ব্যবহার শুরু হয় । শাহজাহান তার জীবনের দীর্ঘ ১৬ বছর কাটিয়েছিলেন এই বাংলায় ।
যাই হোক প্রসঙ্গে ফিরে আসি । যেখান থেকে শুরু করেছিলাম । শুধু চালা বা রত্ন মন্দিরই নয় , বরং বাংলার দোলমঞ্চ ও রাস মঞ্চ নির্মাণের সাথেও চৈতন্য আন্দোলনের গভীর যোগসূত্র আছে । শুধু বাংলা মন্দিরের আকৃতিই নয় , বাংলার মন্দির ভাস্কর্যের গায়ে যে অনন্যসাধারন টেরাকোটার কাজ দেখা যায়
– বিভিন্ন আঙ্গিক থেকে বিচার করলে তা শুধু ভারতবর্ষ নয় , পৃথিবীতে বিরল । কারণ এই টেরাকোটাগুলো শুধু সৌন্দর্যায়নের জন্যই ব্যবহার হয়নি, বরং একই সাথে যেমন বৃষ্টি থেকে নোনা ধরা প্রতিরোধ করেছে , সাথে সাথে ফুটিয়ে তুলেছে মহাকাব্য , পুরাণ আর তৎকালীন বাংলার সমাজ ও রাজনৈতিক জীবনকে। সময়ের সাথে সাথে বাংলার সমাজ ও রাজনৈতিক জীবনে যে পরিবর্তন এসেছে তাও ধরা পরেছে টেরাকোটার ছোট ছোট প্যানেলগুলোর মধ্যেও । মন্দিরগাত্রের এই সামাজিক ও রাজনৈতিক চিত্রগুলোই বাংলার পোড়ামাটির কাজকে ভারতবর্ষের অন্যান্য মন্দির ভাস্কর্য থেকে আলাদা করেছে ।
চৈতন্য না এলে এসবের কিছুই হয়ত হত না !
একথা সত্যি যে কোন যে কোন সামাজিক বা রাজনৈতিক আন্দোলনের ছাপ স্থাপত্যে ফুটে উঠতে বেশ খানিকটা সময় নেয় ; বরং তা অনেক দ্রুত ফুটে ওঠে সঙ্গীত ও সাহিত্যে । উদাহরণ স্বরুপ বলি , বাংলার বুকেই গত একশ বছরে স্বদেশী আন্দোলন থেকে নকশাল বাড়ি দানা বেঁধেছে – যার ছাপ পরেছে সাহিত্য ,
সঙ্গীত ও অন্যান্য ক্ষেত্রে । কিন্ত চৈতন্য আন্দোলনের পর থেকে প্রায় দীর্ঘ পাঁচশো বছর কেটে গেলেও বাংলার বুকে এমন বড় মাপের সামাজিক আন্দোলন হয়নি যার প্রভাব এসে পরেছে স্থাপত্যে । রাজনীতিক ও সামাজিক পালাবদল এবং যুগের অগ্রগতির সাথে সাথে বাংলার স্থাপত্যও বদলেছে ঠিকই কিন্ত চৈতন্য আন্দোলনের তীব্রতায় মাত্র কয়েক দশকের মধ্যে যেভাবে বাংলার স্থাপত্য ও ভাস্কর্য রীতিতে নিজস্ব সত্তার জন্ম হয়েছিল তা সত্যিই বিরল !
এতগুলো কথা লিখলাম শুধু একটা কারণেই । বাংলার বুকে চৈতন্য আন্দোলনের সুদূরপ্রসারী প্রভাবটা বোঝাতে । অথচ কি আশ্চর্য বলুন , এরকম ক্ষণজন্মা এক প্রতিভার মৃত্যুটাই রহস্যাবৃত ; সম্ভবত তাকে খুন করা হয়েছিল । আমরা অধিকাংশ বাঙালি হয়ত তার খোঁজ ও রাখিনা ! কত জন জানি যে এই চৈতন্য হত্যার কিনারা করতে গিয়েই বছর কুড়ি আগে জ্বলজ্যান্ত এক বাঙালি (জয়দেব মুখোপাধ্যায়) খুন হয়ে গেলেন ! দিন কয়েক আগেই নেট ঘাঁটছিলাম এই বিষয়টা নিয়ে । একটা লিঙ্কেও এই নিয়ে তথ্যপূর্ণ কোন প্রতিবেদন পেলামনা । শেষ অব্দি নিজেই QUORA’তে এক খানা অ্যাকাউণ্ট খুলে লিখলাম –
There are certain mysteries regarding the mysterious disappearance of Sri Chaitanya Mahaprabhu. Followers of Sri Chaitanya believe that ‘god can not die’ and either he merged with the Jagannath Deity / Gopinath Deity or he jumped in the sea out of emotion . According to some literary sources , the left foot of Sri Chaitanya was injured while dancing and it became the primary cause for his death. Although scholars have rejected this version of the story as it is clearly a deliberate attempt to match the ending with the life story of Krishna.
In the last few decades a few scholars have done research on this topic and according to them – Sri Chaitanya was murdered in the Jagannath Temple and his body was hidden within the Tota Gopnath temple precinct .
During that time , the Kings of Kalinga (present day Orissa) were greatly moved by the charisma of Mahaprabhu and started neglecting the affairs of the state. As a result Vijaynagar Kingdom and Sultanate of Gaur repeatedly attacked Kalinga and the ministers started to hate Mahaprabhu . They considered Chaitanya as the sole reason for the troublesome situation .
Also ,the Oriya Bramhins were very envious of him and they lost their prestige due to the Oriya disciples of Sri Chaitanya . Furthermore there was a conflict between Oriya and Gaudiya (Bengali) devotees regarding whom to be considered as the ‘Mahaprabhu’ – the deity of Lord Jagannath or Sri Chaitanya himself ! Considering all these aspects the researchers (Dr. Biman Bihari Majumder ) have concluded that the disappearance of Mahaprabhu was not a natural incident.
Although this is really a controversial and sensitive issue for a lot of people , several Bengali scholars have concluded that – Mahaprabhu was murdered. Also the major biographers of Mahaprabhu are silent in this context. I believe that , certainly there is a mystery and it has been carefully hidden for all these years. Even today , I searched the net thoroughly and could not find a single article which deals with this matter rationally. Dr. Jayadev Mukhopadhyay was doing a research on the mysterious death of Sri Chaitanya and before he completed his second part of the book , he was mysteriously killed in Puri. The truth has been carefully hidden for all these years and still the practice is going on.
You may read the following links/books on this topic –
1. ‘’ – Rupak Saha – Dwip Publication (Khama Karo, He Prabhu by Rupak Saha in ebook pdf)
2. ‘Sri Chaitanyer Antardhan Rahasya’ (in Two Parts) – Yudishthir Jana – Mayna Publication (Sri Chaitanyer Antardhan Rahasya Vol. 1-2 Ed. 3rd)
3. ‘Kaha gele toma pai’ – Dr. Jayadev Mukhopadhyay – Kaha Gele Toma Pai by Joydeb Mukhopadhyay free ebook pdf
4. The Disappearance of Shri Chaitanya Mahaprabhu Paper
5.শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর মতো তাঁর গবেষকও কি পুরীতে খুন হন?
6. Shoptodina Vol.2 No.2 (See the article in Page no – 45)
7. Shoptodina Vol.2 No.3 (See the article in Page no – 56)
8.https://drive.google.com/file/d/0B6TPcCJKkWpIYnluNWhvTWFCUVk/view
শেষ করব সামান্য দুটো কথা বলে । সম্ভবত জয়দেব মুখোপাধ্যায়ের বইতেই পড়েছিলাম ঘটনাটা । কয়েক বছর আগের কথা । জগন্নাথ মন্দিরের সংরক্ষণ কাজ চলার সময় মন্দির গাত্রের এক প্রাচীরের মধ্যে একটা অস্বাভাবিক লম্বা কঙ্কাল পাওয়া যায় । উচ্চতায় সাড়ে ছয় ফুটেরও বেশী , নিমাইয়ের বর্ণিত উচ্চতার সাথে মিলে যায় প্রায় ! কঙ্কালটাকে ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছিল । কিন্ত খুব আশ্চর্যের কথা হল , কোন প্রভাবশালী মহল থেকে পুরো ঘটনাটা এরপর চেপে দেওয়া হয় ! এমনকি দৈনিক সংবাদপত্র গুলোও হয় ঘটনাটা এড়িয়ে যায় কিম্বা খুব ছোট করে প্রকাশ করে । এরপর আর সেই কঙ্কালের কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি !
মালিবুড়োর মতে চৈতন্যর মৃতদেহ সম্ভবত গরুড় স্তম্ভের নীচে বহুক্ষণ পরেছিল ! এছাড়াও তিনি বলছেন যে , চৈতন্যকে ওড়িশায় গুমখুন করা হল অথচ তার খুব কাছের গৌড়ীয় ভক্তবৃন্দ কিছু বললেন না – এটা খুব আশ্চর্যের বিষয় । এই প্রসঙ্গে অধিকাংশ জীবনীকারই নীরব , তবে এক প্রাচীন পুঁথি অনুযায়ী গৌরাঙ্গের মৃত্যু সংবাদ শুনে তার নিকট ভক্ত স্বরুপ দামোদরের বেদনায় বক্ষ বিদীর্ণ হয়ে মৃত্যু হয় । এখানে লেখক প্রশ্ন তুলেছেন – ‘বক্ষ বিদীর্ণ’ হবার ঘটনাটা সত্যিই দুঃখের কারণে হয়েছিল নাকি এখানে ‘বক্ষ বিদীর্ণ’ শব্দটার মধ্যে আক্ষরিক অর্থেই চৈতন্যে ভক্তকে অস্ত্র দিয়ে বুক চিরে হত্যা করার কথা বলা হয়েছে ?
এই প্রশ্নেরগুলোর উত্তর দেবে কে ? এরকম আরও কত অজস্র প্রশ্ন ভেসে বেড়াচ্ছে ,যার কোন উত্তর নেই ! কেউ কি আছে যে এত বছরের মিথ্যার জঞ্জাল সরিয়ে , হুমকি ও অসহযোগিতাকে পরোয়া না করে সত্যিটাকে সবার সামনে তুলে ধরার চ্যালেঞ্জটা নেবে ?
আমি ভালো ছবি আঁকতে পারিনা । যদি পারতাম তবে একটা ছবি আঁকতাম ।
১৫৩৩ খ্রীষ্টাব্দের আষাঢ় মাস , শুক্লা সপ্তমী তিথি । রবিবার । সময় দুপুর তিনটে ।
গৌরবর্ণ দীর্ঘদেহী এক পুরুষ প্রসন্নমুখে জগন্নাথ মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশ করছেন । পিছনের কপাট খানা ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে আসছে । গর্ভগৃহের ভেতর সমস্ত মূর্তি সাদা কাপড় দিয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে ! জনা কয়েক উড়িয়া পাণ্ডা লুকিয়ে রয়েছে গর্ভগৃহের থামের আড়ালে ! দরজাটা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলেই তারা হিংস্র শ্বাপদের মত ঝাঁপিয়ে পরবে ! প্রদীপ গুলো নিভে আসছে একে একে !
An undergrad student of Architecture in IIEST(Shibpur) . Loves sustainable and eco-friendly designs which will be responsive to the climate and context . Also an avid traveler and got interest in literature , history and politics.
Arunava Sanyal এর সকল পোস্ট দেখুন
14 thoughts on “শ্রী চৈতন্যের রহস্যজনক মৃত্যু এবং প্রাসঙ্গিক কিছু কথা (An Article on The Mysterious Death of Shri Chaitanya)”
আমার মতে মহাপ্রভুর দেহটি আলানাথে কবর দেয়া আছে ।আলানাথের মন্দিরের পাশে একটি বিশাল পাথর আছে অনেকটা মুসলিমদের কবরের মত ।মন্দিরের লোকেরা বলে ওই পাথরের ওপর মহাপ্রভু শুয়ে ছিলেন ।পাথরের ওপর তার শরীরের ছাপ আছে ।
Abhijit Chatterjee
মে 19, 2017; 8:43 অপরাহ্ন এ
Arunava, Tomar lekha ta pore valo laglo. Amake quora y follow korte parbe? Tomar lekha ta porte agrohi ami…
আসল সত্য উদ্ঘাটন হওয়া দরকার । নেতাজীর মতো হয়তো এই মহামানবের ও কোনোদিন মৃত্যু রহস্য উদ্ঘাটন হবে না ।
Amrita Mukherjee
মে 22, 2017; 5:42 পুর্বাহ্ন এ
Brilliant! Aar oshonkhyo dhonyobad jaydeb mukhopadhyay er boi er link tar jonnyo. Baba r sathe amar ei bishoyta niye koyekbochor dhore alochona hoy. Baba i prothom bole ei boitar katha.
Echara banglar mondir er graphics gulor jonyo high five! Bochor koyek aage ami pore pore khunje khunje type guloke identify korchilam, kintu ek jaygay emon chotto sundor kore sajaini kokhono.
Durdanto kaj. Claps.
Arunava Sanyal
মে 22, 2017; 5:46 পুর্বাহ্ন এ
Paulami Niyogi
মে 22, 2017; 11:44 পুর্বাহ্ন এ
Lekha pore khub Bhalo laglo. Tobe Hari Haraye Namo Krishna Holi 6 Gosai bondona. Podaboli Kirtan na. Somogro Baishnab Gosai, Shri Krishna, Shri Radhika , sokha, sokhi, gai ,gabhi, pita Nanda Maa Yaashoda ke smaran kora hoy ei Gaan tir madhyome. Narottam Das er lekha. Sankirtan suru korar agey gaite hoy.
সাবাস দত্ত
মে 23, 2017; 12:37 পুর্বাহ্ন এ
দারুন কাজ.চৈতন্যদেব সম্বন্ধে জানার আগ্রহ আরো বাড়িয়ে দিলেন ।
Bielay Souhardya Paul
মে 24, 2017; 1:01 অপরাহ্ন এ
একটি কথা ভাবার আছে এখানে……রথযাত্রা উপলক্ষে জগন্নাথদেব আষাঢ় শুক্লা দ্বিতীয়া তে শ্রীমন্দির থেকে রওনা হয়ে ফিরে আসেন আষাঢ় শুক্লা দশমীতে……এইকদিন প্রভুদেব থাকেন গুন্ডিচা মন্দিরে……আর শ্রীমন্দির ফাঁকা থাকেন……আমার প্রশ্ন এখানেই যে.,মহাপ্রভু যখন অনবসরকালে জগন্নাথ দেখতে না পেয়ে আলারনাথ চলে গেলেন তখন ঐ আষাঢ় শুক্লা সপ্তমী (হিসেব বলছে, জগন্নাথ তখন আছেন গুন্ডচা মন্দিরে ) তে ফাঁকা শ্রীমন্দিরে কি করতে এসেছিলেন……??!!!
Sujay Bhowmik
মে 31, 2017; 11:22 পুর্বাহ্ন এ
মহাপ্রভু নিজেই ফাঁকা শ্রীমন্দিরে গিয়েছিলেন নাকি নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সেটাও আলোচনা সাপেক্ষ।
singhoduar
জুন 2, 2017; 11:09 অপরাহ্ন এ
ভালো লেখা। তুমি রাজনীতিতেও আগ্রহ রাখো বলেই একটা কথা মনে হলো। শ্রেণী সংঘাতের দিক দিয়ে একটু ভাবলে হয়তো বিষয়টা আরো পরিষ্কার হতো। আমি বাস্তববাদী বলেই মৃত্যুর বাস্তব কারণে বিশ্বাসী ও অনেকের মতোই আমিও বিশ্বাস করি যে চৈতন্যকে খুন করা হয়েছিল। এর অন্যতম কারণ সমাজপতিদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে চৈতন্যকে ঘিরে একটা জোট গড়ে উঠছিলো, সে বিষয়ে সন্দেহ নাই। তুমি টেরাকোটা নিয়েও কিছু কাজ করেছো। বাংলার মন্দিরের টেরাকোটায় যে সামাজিক ঘটনাবলীর কাহিনী পাওয়া যায় তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সাধারণ ও গরীব মানুষের উপর ধর্মগুরুদের অত্যাচার, ধর্ষণ, ও আরো অনেক কিছু। এই অত্যাচারিত মানুষই তো চৈতন্যের সাথে যোগ দিয়েছিলো। তাই চৈতন্যের অনেক শত্রু হয়েছিল।
– Dipankar Sinha
জবাব
সোমেন চৌধুরী
জুন 27, 2017; 10:35 অপরাহ্ন এ
আমি একজন সাধারণ মানুষ মহাপভ কে এই ভাবে যদি মেরে থাকে তাহলে সেই সত্যের প্রকাশ পাক আমার খুব কষ্ট হচ্ছে যে যিনি মানুষের জন্য ভাল করেছেন তাকে এই ভাবে মারল আমাদের সবার এক হতে হবে
Comments