জনগনমন
জনগনমন _ রাজেন্দ্র
-------------------------------
14.11.2016
----------------------
আজ সোমবার । শিয়ালদা থেকে রাতের পদাতিক ধরবো । আগামীকাল মঙ্গলবার সকালের ভিতর আমার মালদায় ফিরবার কথা । আগামীকাল অফিসে কমপক্ষে চল্লিশখানা মিউটেশন কেসের হিয়ারিং নিতেই হবে আমাকে ।
বাড়ি থেকে বের হয়ে খড়দা রেল স্টেশনে এলাম প্রায় নয়টা নাগাদ । বাড়িতে ইলিশ মাছের ঝোল দিয়ে ভাত খেয়ে এসেছি ভরপেট । পিঠে ভারী একখানা ব্যাগ । চার নম্বর প্ল্যাটফর্মের রেলের টিকিট কাউন্টার দুটি বন্ধ ।
অগত্যা লাইনটা পার হয়ে, এক নম্বর প্ল্যাটফর্মের কাউন্টারের সামনে তৈরী হওয়া একটা হাল্কা ছোট্ট লাইনের একেবারে শেষে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লাম । সাথে একটাই পাঁচশো টাকা আছে এখন । আর আছে গোটা তিনেক একশো টাকার নোট । আর বাদ বাকি সব দশে বিশে মিলে ।
আমার টিকিট কাটার পালা এলে কাউন্টারের ভিতরে বসা মাঝবয়সী ভদ্রলোকটিকে জানালাম, সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস পদাতিকে চেপে মালদায় যাব ভায়া শিয়ালদা । ভাড়া বাবদ পাঁচশোর নোটখানা বের করলাম । কাউন্টারে বসা ভদ্রলোকটি বড়ো নোট নিতে সোজাসুজি অস্বীকার করে বসলেন । বললেন খুচরো করে দিতে । আমি অতি কষ্টে খুচরো একশো ত্রিশ টাকা বের করে দিলাম মানিব্যাগের বুকের পাঁজর খুলে ।
টিকিট খানা কেটে লাইন পার করে আবার দুই নম্বর প্ল্যাটফর্মের মুখে চায়ের দোকানের সামনে এসে দাঁড়ালাম । ট্রেন আসতে মিনিট সাতেক দেরী হবে । একটু আগেই একটা লোকাল বেরিয়ে গেছে শুনলাম । আমি মাটির ভাঁড়ে এককাপ দুধ-চা সহ একটা সিগারেটও ধরালাম ।
আমার সামনেই দুই জন বৃদ্ধ নিজেদের ভিতর বেশ জমিয়ে গল্প জুড়ে দিয়েছিল । আর চারদিক জুড়ে বিষয় তো এখন একটাই । দেশের প্রধানমন্ত্রীর বড়ো নোট বাতিল এই সময়ে কতটা সঠিক সিদ্ধান্ত । আর কি কি ঘটছে দেশের সর্বত্র এল ফলশ্রুতি হিসেবে ।
আমি তো খবরের কাগজ, টিভি চ্যানেল, ফেসবুক আর হোয়াটস অ্যাপের কল্যানে ভালো মন্দ সব রকমেরই মিশ্র প্রতিক্রিয়া বেশ খানিকটা পেয়েছি । আর এটাও বুঝতে পেরেছি যে অধিকাংশ সাধারণ মানুষের কষ্ট হলেও তাঁদের প্রায় অধিকাংশই নরেন্দ্র মোদীজীকেই চাইছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভার্চুয়ালি ।
গুজরাতের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় যিনি সারা ভারত তথা গোটা বিশ্বের বুদ্ধিজীবি মহলের কাছে চরম নিন্দার বিষয়বস্তু হয়ে গিয়েছিলেন, সেই মোদীজিই কিন্তু পরবর্তীকালে দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে প্রমাণ দিয়েছিলেন যে দেশের আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা চাইছেন ওনাকে ।
আর এরপর তাঁর এই সিদ্ধান্ত কতটা আগাম দূরদর্শিতা বা মাস্টার স্ট্রোক নাকি এর পিছনে তাঁর অন্য কোনও দুরভিসন্ধি কাজ করছে তার উত্তর আমরা আগামী দিনের সময় থেকেই পেয়ে যাবো । যে সব কমিউনিস্টরা আজ ওনার বিরোধিতা করছেন তাঁরা তো বোধহয় ভুলেই গেছেন বিশ্বজুড়ে ওনাদের নিজেদের কুকীর্তির কথা । ইতিহাস তো এদের মার্জনা করেনি । ক্ষমা করেনি মানুষ । বাংলার বুক থেকে এরা আজ উৎখাত নিজেদের পাপের ফলে । এর সাথে দুর্নীতিগ্রস্ত আর ধান্দাবাজদেরও আজ সত্যিই বেহাল অবস্থা । কালো টাকা আর জাল নোটের কারবারীরাও এখন অগাধ সমুদ্রে ভাসিয়ে দিতে চাইছে নোটের জাহাজ ।
আর মুখে যে যতই বিরোধিতা করুন না কেন, ওনার বিকল্প এবং ওনার চেয়ে যোগ্য মানুষ এই মুহূর্তে কেউ নেই যিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা রাখেন । কি কংগ্রেস কি অন্য যে কোনও দলের নেতা নেত্রী, মোদীর কাছে সবাই যে ফিকে পড়ে যাচ্ছে । কারণ এখন সকলের মুখে তো একটাই কথা । এবার বুঝুক ঠ্যালা পয়সাওলা কালো টাকার নেতা মালিকেরা ।
যথাসময়ে লোকাল ট্রেন এসে পড়লো শিয়ালদা গামী । ট্রেনটা মোটামুটি ফাঁকাই পেলাম । সীটে বসে ঝিমোতে ঝিমোতে শিয়ালদা এসে নামলাম । ট্রেন পাঁচ নম্বরে দিয়েছিলো ।
আমি ট্রেন থেকে নেমে সোজা রেলওয়ে এনকোয়ারি তে গেলাম । এটা জানতে, যে পদাতিক গাড়িটা কত নম্বর প্ল্যাটফর্মে দেবে । ওরা বললো এখনো ঠিক হয়নি কোথায় দেবে । আমার খুব অবাক লাগলো । এরা রোজ এক কাজ করছে । অথচ এরা কিছুতেই আগেভাগে কিছু জানাবে না ।
বাধ্য হয়ে এবার আমি একজন কুলী কে ধরলাম । সে জানালো 9B তে 10.35 নাগাদ গাড়ি দাঁড় করিয়ে দেবে । আমার তো সীট রিসার্ভেশন নেই । আর জেনারেল কামরায় বসেই যাব । সুতরাং মনে হলো আগে একটা পলিথিনের বা কাগজের কিছু কিনে আনি । মেঝেতে পেতে বসা বা শোওয়া তো যাবে বসে থাকতে কষ্ট হলে ।
বাইরে বের হয়ে এসে দেখলাম দশ টাকার প্লাস্টিক কুড়ি টাকায় বিক্রি হচ্ছে স্টেশনে প্রবেশের মুখেই । একটা পলিথিনের প্যাকেট নিতেই হলো । কে জানে, যদি সীটও না পাই বসার, এটা মেঝেতে পেতে বসা যাবে ।
এবার আমি 9B প্ল্যাটফর্মের দিকে হেঁটে গেলাম । সামনেই একটা পুলিশ চৌকি গোছের । জনা দুই বসা । একজন ঘুম ঘুম চোখে আড়মোড়া ভাঙছে । আর একজন খৈনী ডলছে । পাশ দিয়ে এত লোক চলে যাচ্ছে, অথচ কোনও হুঁশ বা ভ্রুক্ষেপ ও নেই ওদের । একটাও ব্যাগ বা বস্তা চেক করে দেখছে না । ভিতরে কতকিছু যে আছে কে জানে ।
আমি ওদের ভিতর একজন স্বল্পবয়সী উর্দিওয়ালার কাছে গেলাম । জানতে চাইলাম জেনারেলের লাইনটা কোথা থেকে শুরু হয়েছে । কারণ আমার কোনও রিসার্ভেশন টিকিট নেই ।
পুলিশটি এবার মৃদু হেসে আমায় জানালো, যে আমি নাকি এখন লাইনে গিয়ে দাঁড়ালে আর বসবার সীটও পাবো না । তার চেয়ে বরং আমি যদি ওকে নগদ একশো টাকা দেই, ও নাকি আমার বসার জন্য জানলার ধারে একটা সীটের ব্যবস্থা করে দেবে ।
সেই মুহূর্তে আমার কাছে আর মোটে তিনখানা একশো টাকার নোট ছিল । তবুও আমিও মৃদু হেসে ওকে বললাম আমার কাছে একশো টাকার খুচরো নেই । আর পকেটেও আমার একটাই পাঁচশো টাকা পড়ে আছে । সেটা যেন পারলে ও ভাঙিয়ে দেয় ।
ও বিরস বদনে জানালো যে ওর নাকি নিজেরই এখন কোনও খুচরো নেই । আর দিনভর আমদানিও নাকি হয়নি তেমন কিছু । সবারই নাকি খুচরো নোট দিতে সমস্যা । ওর কাছেও নাকি এখন একটাই এক হাজার টাকার নোট পড়ে আছে । ভাঙানি দিতে পারবে না ।
শুনে আমার বেশ মজা লাগলো । পুলিশও ঘুষ নিতে পারছে না । মনে মনে বেশ হাসছিলাম । ও আমায় উল্টো দিকের সাবওয়ের মুখে লাগোয়া, এস.বি.আই. এর এটিএম এ একবার ঘুরে যেতে বললো । সেখানে নাকি খুচরো পাওয়া যাচ্ছে ।
আমি ভাবলাম, বেশ তো । একবার যাই । দেখি গিয়ে, যদি খুচরো টাকা কিছু হাতে পাই, ভালোই তো । গেলাম এস.বি.আই. এটিএম এর সামনে । অন্ততঃ জনা তিরিশেক লোকের পরে গিয়ে দাঁড়ালাম লাইনে । কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর দেখলাম টাকা শেষ । লাইনটা ভেঙে গেল ।
ইতিমধ্যে পদাতিক এক্সপ্রেস 9B প্ল্যাটফর্মে দিয়ে দিয়েছে । আমিও আরেক কুলী মাধ্যমে জানতে পেরেছি জেনারেল এর দুটো লাইন হয় । একটা ইঞ্জিনের সামনে আর একটা শেষের দিকে ।
এবার আমি জোরে জোরে পা চালালাম । শেষের দিকের বিশাল জেনারেলের লাইন ছেড়ে এগিয়ে গেলাম ইঞ্জিন সংলগ্ন সামনের দিকের জেনারেল লাইনের দিকে । অবশেষে লাইনের লম্বা লেজের শেষভাগটা দেখতে পেলাম । গিয়ে দাঁড়িয়ে গেলাম লাইনের একেবারে শেষ ব্যক্তি হয়ে ।
আমার আগেও অনেক লম্বা লাইন । ওখানেও দুই-তিন জন দালাল গোছের ঘুরঘুর করছিলো । আমার পাশে এসে দাঁড়িয়ে কানের কাছে আলতো স্বরে মুখ এনে বললো একশো টাকা পেলে আমার একটা বসার সীট করে দেবে । এবার আমি মুখ খুললাম । ওকে শুনিয়ে জোরে জোরে চেঁচিয়ে বললাম সাথে খবরের কাগজ আর প্লাস্টিক আছে । সীট না পেলে মেঝেতে পেতে বসে বা শুয়ে যাবো কিন্তু সবেধন নীলমনি একশো টাকা খরচ করতে পারবো না ঘুষের জন্য । এদিকে কেউ ভাঙানিও করে দেবেনা । আবার ব্যাঙ্কের এটিএমেও নোট ঠনঠন্ । একি মগের মুলুক নাকি ! লোকটা আমাকে ছেড়ে যেন তখন পালাতে পারলে বাঁচে । এবার ও আরো সামনের দিকের লোকজনদের ধরা শুরু করলো । কিন্তু ওর কথায় কেউ ভিজলো না । সবাই যেন মানসিকভাবে কষ্ট করবার জন্যেই প্রস্তুত ।
লাইনে আমার ঠিক আগের যেই লোকটি ছিলো, সে হঠাতই বলে বসলো, নরেন্দ্র মোদীজি নাকি দারুণ একটা কাজ করেছেন । আমি উত্তরে বললাম কই আর দারণ কাজ করলেন । লোকজন তো ওনাকে গালি দিচ্ছে । আঁতেল বুদ্ধিজীবী মাতব্বর নেতা দাদা দিদিরা ওনাকে শাপ শাপান্ত করছেন সর্বত্র ফেসবুক আর হোয়াটস্ অ্যাপ জুড়ে । পন্ডিতরা বলছেন উনি নাকি দেশের অর্থনীতিকে রসাতলে পাঠিয়ে তবেই ক্ষান্ত দেবেন ।
লোকটি খুব সাধারণ মানের পোশাক পরেছিলো । দেখে এক বারের জন্যেও আমার অর্থবান মনে হলোনা । সে আমায় যা বললো, শুনে আমি অবাক হয়ে গেলাম ।
ও বললো দেশের যা চোদ্দটা বাজার ছিলো, তা তো আগের থেকেই বেজে বসে আছে । নতুন করে আর কে কি খারাপ করবে ! স্বাধীনতার পর থেকে ভোটের কথা, জোটের কথা, ঘোঁট পাকিয়ে নিজের আখের গোছানোর কথাই ভেবে আসছে সবাই । জাতপাত আর ধর্মের নামে রাজনীতি হয়েছে । এতকাল শুধু ধনীদের ধনসম্পদ ফুলে ফেঁপে উঠেছে আর গরীবেরা আরও গরীব হয়েছে । বিপুল জনসংখ্যার বিস্ফোরণ, বেকারত্ব, দারিদ্র্য, শিশুমৃত্যু ও কন্যাভ্রূণ হত্যা, শিশুশ্রমিক, নারী আর শিশুদের কেনাবেচা লাগামছাড়া হয়েছে । আর এর সাথে আছে জালনোটের আর কালো টাকার রমরমা ।
বরং এখন নাকি ওর ভাবনায় গরীবের সাথে ধনীদের তেমন আর কোনও ফারাক নেই এমন পরিস্থিতিতে । ধনীদের কাছে ধন আছে বিস্তর অথচ তারা তুলতে পারছে না । চেপেচুপে দেখে বুঝে খরচ করতে হচ্ছে প্রতি পদে পদে । যেমন এখানে রেলের পুলিশ আর দালাল গুলোও কোনও ঘুষ পাচ্ছেনা, ঠিক তেমন করে । কারণ যারা ঘুষ দিতে পারতো, এখন তো তারাও ব্যাপক চাপে । আর গরীবদের তো টাকাও নেই । তাই অত চাপও নেই । বরং উল্টে ধনীরাই নাকি এখন গরীবদের খুঁজে খুঁজে মরছে বহু জায়গা তেই । যদি কিছু কালো টাকা তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ভরে দেওয়া যায় । কিছু তো টাকা বাঁচবে তবে ।
আমার আবার মনে পড়ে গেল আমার এক ব্যাচমেট ভাইয়ের আজকের পাঠানো একটা জোকসের কথা - সেখানেও নাকি বড়লোকেরা ওদের কালো টাকাকে ভাগ করে চাকর-বাকর, কাজের মাসি, দাড়োয়ান, কর্মচারী - এদের অ্যাকাউন্টে জমা করে দিচ্ছে । যেন এটা একটা নীরব বিপ্লব চলছে । অর্থের সমবন্টন, সম্পদের বিকেন্দ্রীকরণ, বুর্জোয়া শ্রেণীর অবক্ষয়ন, সর্বহারা (প্রলেতারিয়েত) বর্গের উন্নতিসাধন - একেই তো নাকি সাম্যবাদ বলে অভিহিত করা হয় । মার্ক্সবাদ, লেনিনবাদের মূল সিদ্ধান্ত গুলোও তো সব এই কথাই নাকি বলে ! বছরের পর বছর ধরে শ্রেণী-সংগ্রাম করে, বন্দুকের নল দেখিয়ে, নকশালবাদের চাবুক পিটিয়ে, গেরিলা যুদ্ধে রক্ত ঝরিয়েও একটা কানাকড়ি তারা বুর্জোয়াদের কাছ থেকে কেড়ে এনে গরীবদের মধ্যে বিলিয়ে দিতে পারেনি ; আর আজ প্রধানমন্ত্রীর জাস্ট একটা স্টেটমেন্টের পরেই সেই বুর্জোয়ারা যেচে এসে গরীবদেরকে হাতে টাকা দিয়ে যাচ্ছে । সেটা যে কারণেই হোক না কেন ! এটা বিপ্লব নয় তো আর কি ?
যাই হোক । মনে মনে বেশ খুশী হলাম । বড়লোক যদি দুই হাতে টাকা ছড়াতে না পারে, তবে ঘুষখোর দের পেটে টান পড়বেই পড়বে । সবাই যদি টাকা খরচে খুব হিসেবী হয়ে ওঠে, অর্থাৎ ক্রয়ক্ষমতা কমে যায় এক ধাক্কায়, তবে জিনিসপত্রের অস্বাভাবিক দামটাও অনেকটাই নেমে আসবে । জালনোটগুলোও সব গেল । পাকিস্তান, চীন আর বাংলাদেশের মতো প্রতিবেশী দেশগুলো, যারা কিনা নিয়মিত ভাবে জালনোট তৈরী করে ভারতে পাঠাত এতদিন ধরে, তাদের পেটেও আজ লাথি পড়লো । খবর এসেছে এই টাকার শোকে অনেকেই নাকি হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে । পাক অধিকৃত কাশ্মীরে পাঁচশো টাকার নোট ছড়ানো হচ্ছেনা বলে যুবসমাজও আর বিনা পয়সায় পাথর ছুঁড়ে মারতে রাজী হচ্ছেনা । অনেকেরই পিছনটা ফেটে যাচ্ছে নিঃশব্দে, অথচ মুখে তারা বড়ো বড়ো দেশভক্তের মতো অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান ফেলে বিজ্ঞের মতোন কপচাচ্ছে । বলি এত দেশভক্তি আর পান্ডিত্য এতদিন ছিলো কোথায় তোমাদের পন্ডিতের দল ? নেতারাও তো সকলেই লাফাচ্ছে একইভাবে । আর তার কারণও তো একটাই । এত গাদা গাদা বস্তা বস্তা নোটের গাদা তারা লুকাবে কোথায় । এবার তো হয় তাদের ফাইন সহ সরকারকে ট্যাক্স গুনে দিতে হবে নয়তো সব টাকা কাগজের মত ছুঁড়ে নদীতে ফেলে দিতে হবে, জ্বালিয়ে দিতে হবে । কারণ প্রধানমন্ত্রী যে যে পথ দিয়ে এত কালো টাকা লোকানো সম্ভব, তার সব সম্ভাব্য পথেই নজরদারি বসিয়ে দিয়েছেন । যা হয়েছে হয়তো ভালোই হয়েছে ।
এসব ভাবতে ভাবতেই আমার লাইনটা এগোচ্ছিল । ক্রমশঃ গেটের মুখে চলে এলাম । উঠে বসবার সীটও পেয়ে গেলাম । ভাবলাম হাতে টাকা নেই । তাই ঘুষ দিলাম না । থাকলে কি করতাম ! নিজের সীটের জন্যে কী আরেকজনকে বঞ্চিত করতাম না ? যে কিনা আমার অনেক আগে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছে !
এই সময় গুলো হয়তো সকলের কাছেই কমবেশী খারাপ যাচ্ছে । বড়ো নোট বাজারে চালানো আর ছোট নোটের সাপ্লাই দেওয়ার অভাব রয়েছে । তবুও এর থেকে একটা দিক উঠে এসেছে । মানুষ খরচ করার আগে ভাবছে । অর্থের অপচয় করতে দ্বিধাগ্রস্ত বোধ করছে । পুলিশের মতো অসামাজিক লোভী জীবও ঘুষ পাচ্ছেনা !!! ভাবা যায় !!!
এখন আমার ট্রেন ছুটছে । আমি জেনারেলের সীটে বসে আছি । চোখ জ্বলছে । ঘুম ঘুম পাচ্ছে । এবার বসে বসে ঢুলতে ঢুলতে রাতভর যাবো । তবুও মনে একটাই ভালো অনুভূতি । সাধারণ লোক খুব একটা কষ্টে নেই । তার চেয়ে অনেক বেশী কষ্টে আছে তারা, যাদের দিন গুজরান হয় জালনোটের ব্যবসা আর ঘুষের টাকায় ।
( সমাপ্ত )
Comments