মহার্ঘভাতা
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি আধিকারিক ও কর্মচারীদের বেতনক্রমের হার ভারতের সমস্ত রাজ্যের ভিতরে সর্বনিম্ন, একথা এখন সারা দুনিয়াই কম বেশী জানেন।
যেখানে ভারতের আর সমস্ত বাদবাকি রাজ্যগুলো কেন্দ্রীয় হারে তাদের কর্মচারীদের জন্যে বেতন বরাদ্দ করে রেখেছে, সেখানে এই রাজ্য কি করে সর্বনিম্ন বেতনক্রম রাজ্যের কর্মীদের জন্য বরাদ্দ করে? এটা কি নৈতিকতার দিক থেকে সমর্থনযোগ্য?
মহার্ঘভাতা সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে রাজ্য সরকারের বক্তব্য খুব পরিষ্কার, তাদের তহবিলে যথেষ্ট পরিমাণে অর্থ নেই।
যদি তাই হয়, তাহলে, প্রতি বছর নিয়ম করে, সরকারি খরচে, এত উৎসব, মেলা, কার্নিভাল করবার মতো দেদার অর্থ, সরকার কোথা থেকে আমদানি করে?
অথচ, এই রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি অন্য অনেক রাজ্যের তুলনায় অনেক গুণ বেশি ভালো, যার প্রমাণ দিয়েছেন আমাদের রাজ্যের মাননীয় অর্থমন্ত্রী। তিনি স্বয়ং ঘোষণা করে জানিয়েছেন যে, চলতি অর্থবছরে আমাদের রাজ্যের জিডিপি গ্রোথ রেট ভারতের ভিতরে সর্বোচ্চ এবং অন্য সব রাজ্যকে টপকে আমাদের রাজ্য এবারে শীর্ষ তালিকায় আছে, যা কিনা রাজ্যবাসীর কাছে একাধারে সুখবর ও আনন্দদায়ক।
https://m.economictimes.com/news/politics-and-nation/west-bengal-heads-gdp-growth-rate-amit-mitra/articleshow/70621485.cms
তাহলে কি এবার এই রাজ্য সরকার অন্যান্য আর সব রাজ্যের মতোই, সমতুল্য হারে তার কর্মচারীদের জন্যে বেতনক্রম চালু করার কথা ভাবনাচিন্তায় আনবে?
বি.দ্রঃ-
কেউ কেউ ভাবেন, কেন এইভাবে বারবার আমরা বেতনের প্রসঙ্গ উত্থাপন করি, কেন আমরা চাকরি ছেড়ে দেই না, প্রাইভেট কোম্পানিগুলোতে অনেকেই তো আমাদের থেকে অনেক কম বেতন নিয়ে সংসার টানছেন, তাহলে আমাদের এত সমস্যা কেন? তাদের জ্ঞাতার্থে জানাই ___
প্রথমত, এই সময় মোটামুটিভাবে কুড়ি লক্ষেরও অধিক মানুষ সরকারি চাকরির পরীক্ষায় বসছেন প্রতি বছরে। সেখানে, প্রাইভেট কোম্পানিগুলোতে যারা চাকরি করেন, তাদের অনেকেই ঐ চাকরির সাথে পাশাপাশিভাবে, কোম্পানিকে না জানিয়েই, সরকারি পরীক্ষাগুলোতে লুকিয়ে চুরিয়ে অবতীর্ণ হন। কেউ কেউ যোগ্যতার সাথে পরীক্ষায় উত্তীর্ণও হয়ে যান। আর অযোগ্যরা সেটা পারেন না। এর উদাহরণ চারপাশে অজস্র রয়েছে। কাজেই যোগ্যতার নিরিখে সরকারি চাকরিরত ব্যক্তির সাথে বাদবাকি আর সকলের তুলনা টেনে আনা অনুচিত।
দ্বিতীয়ত, শুধুমাত্র টাকার জন্যেই কেউ সরকারি চাকরির চেষ্টা করে না। টাকা রোজগারের জন্যে তো চাকরির পরিবর্তে নেতাগিরি দাদাগিরি বা দালালিও করা যায়, যেখানে অনেক সহজে অনেকগুণ বেশী রোজগারের অবকাশ রয়েছে, কিন্তু মান সম্মান নেই। তাই এখানে সন্মান একটা বড়সড় প্রশ্ন।
একটা কথা স্পষ্ট করে জেনে রাখবেন, মাননীয়/মাননীয়া,
পরিশ্রম সহ উপযুক্ত যোগ্যতার পরিচয় দিয়ে, লক্ষ লক্ষ আর বাকি সকলের সাথে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসে, পাশ করে, সসম্মানে শিরদাঁড়াখানা সোজা করে, মাথা তুলে চাকরি করছি।
তাই নিজের পদমর্যাদা আর চেয়ারের সন্মানের প্রশ্নে, আর বাদ বাকি অন্যান্য রাজ্যের আধিকারিকদের সাথে তুলনামূলক ভাবে সম - মর্যাদার অধিকারের প্রশ্নেই আমার এই লেখার অবতারণা।
Comments