ভাবনার কাটাকুটি

ভাবনার কাটাকুটি (বছর তিনেক আগের কিছু শব্দমালা) @ রাজেন্দ্র
--------------

এক এক্কে এক
-----------
Far away, crossing the boundary of imagination, my love ushers in the horizon of darkness. However the travesty of injustice is still going on with no temptation attached.

দুই এক্কে দুই
---------
মরার পর পোকার মত হেঁটে যাবে আমার শরীর, পা দুটো তখন হবে রেল লাইনের মতো । খাটিয়ার চার কোণা ধরে থাকবে চারজনের আটখানা পা । পোকা আর মানুষের নীরব সাম্য জন্ম নেবে । আকাশের নীচে প্রতিষ্ঠা হবে অন্তিম সমতাবোধের ।

তিন এক্কে তিন
-----------
চন্ডীপুরের ব্রীজ ভেঙেছে কাল রাতে, দাশুর মুখে খবর পেলাম । সরকারী ছাড়পত্রের তোয়াক্কা করেনি নদীর জল । প্রবল স্রোতে ভেসে গেছে শ'খানেক গ্রাম, রেয়াত করেনি কাউকে । সব দলের স্থানীয় কর্মীরাও পায়নি পার । কি করে পাবে ? কেনই বা পাবে ? নদী তো আর আম জনতার নির্বাচিত প্রতিনিধি নয় । ভোটব্যাঙ্কের তুষ্টির বালাই নেই তার, নিজের তালে, আপন চালে, চলবে সে স্বকীয় রেলায়, উদাসীন অবহেলায় । সে তার এলাকার রাণী, যেধার দিয়ে বইবে, দুকুল ছেপে ফুলবে । যদি কেউ বাঁধে বাসা তার কোলে, তার কি কিছু আসে যায় তাতে ? কথার স্তাবকতা বালির বাঁধের মতো, জল ঢেলে দিলেই ধুয়ে যায় । মূর্খ নেতারা বুঝবে কবে আর, অভাবী দুনিয়া কী পায় আর কী হারায় ?

চার এক্কে চার
-----------
অনেককিছুই আমরা মনে রাখি না, মনে রাখতেও চাই না, তবুও হিসেব কষি বাজারের ফর্দ হাতে । আর অতি সন্তর্পণে, সবার অলক্ষ্যে, নিজেকেও আড়াল করি, মুছে ফেলি চোখের জল । বাজারদর বেড়েই চলে, বাড়ে টুকিটাকি ধারদেনা । কপালের ভাঁজ স্থায়ী হয় দুশ্চিন্তা বেড়ে । পরিচিতদের এড়িয়ে যাই, জানাই নিজেকে শুকনো সান্ত্বনা ।

পাঁচ এক্কে পাঁচ
-----------
কাকভোরে এ্যালার্ম বাজলো । আমার তো ঘুম ভাঙলোই, জেগে গেল বাড়ির সকলে । ভোরে ওঠার অভ্যেস নেই একটুও । তাও উঠতে হলো সকলকেই । উঠতে হয়, শাসনের খাঁড়া নেমে এলে, প্রাণের দায়ে জাগতে হয় । ঘুম হোক, ছাই না হোক, অফিস কাছারী দৌড়তে হয় । দাবী, প্রতিবাদে হারতে হয়, ছাই হয়ে উড়তে হয় । গণতন্ত্রের এঁটো মুখে, মুখোশ এঁটে চলতে হয় ।

ছয় এক্কে ছয়
----------
অসহায় মন এখন নিরুপায়, ধাক্কা মেরে চলেছে ক্রমাগত । টলমল করছে আবেগ, গামলার কানা ভর্তি জলের মতো । যে কোনও সময়ে তা গড়িয়ে পড়বে ভরা বর্ষায়, মিশে যাবে মশার ডিম ভরা নর্দমায় । নতুন জল আন্দোলন তুলে ঢুকছে ঘরে ঘরে, যখন ফিরে যাবে, রেখে যাবে শুধু একরাশ কাদা আর কাঁচা ড্রেনের পাঁকে থমকে যাবে ছলকানো আবেগের ভীড় । বাঁধ ভাঙা বানভাসি মন, সহায়-সম্বলহীন, অশান্ত অস্থির ।

সাত এক্কে সাত
-----------
নকল করতে ভালোবাসি আমি, অভিনয়ে জয় করি মন । নিজেকে একটুও অপরাধী মনে হয়নি মুহূর্তকালের জন্যেও । সজ্ঞানে এড়িয়ে গেছি সবকিছু । খাসা অভিনয় করেছি ভালো মানুষের, মন থেকে প্রতিজ্ঞা করিনি কখনো ভালো মানুষ হওয়ার । আজকাল আমি হাসিটাও করি নকল, জানি হাসির আড়ালেই আছে দুনিয়া ঠকানোর কারবার ।

আট এক্কে আট
-----------
তুমি তো জানোই আমার অলসতার কথা । তোমার তিলগুলো, আমার অলসতার সাথে জড়াজড়ি করে ঘুমায়, যখন মেঘেরা এসে ভিড় করে, আমার বিছানার চাদরে । আজ অনেকদিন পরে, তোমার ঐ কালো তিলগুলোকে জড়িয়ে ধরে, আমি চুমু খেলাম, রাতভর পৃথিবীর সমস্ত আলোকে আড়াল করে ।

নয় এক্কে নয়
----------
চড়াই এর চাহনি নিয়ে এক পা, দুই পা ফেলে, পথ খুঁটে খুঁটে চলি । মনে মনে কাঠবেড়ালীর মতো পুষে রাখি ভয় আর অগুনতি সংশয় । সাপের পাল্লায় কেই বা পড়তে চায় অকারণ ? শিকারীর জালে ধরা পড়ছে প্রতিদিন কেউ না কেউ । ক্ষমতার গন্ধ আর স্বাদ নেতাদের বাঁচতে শেখায় নতুন করে । কেমন হতো, যদি ভোট চাইতে আসা ভিখারীর বাচ্চা গুলোও বাঁচতো এমন করে ?

নয় এক্কে নয়
----------
ভালো নেই আমরা কেউ । তবুও, ভালো থাকার কথা মুখে বলি প্রতিবার, হাসি হাসি মুখ করে । আমরা সবাই পরে আছি একটা করে হাসিমুখো মুখোশ । সম্ভব হলে কালো চশমা দিয়ে চোখটাও ঢেকে রাখি ।

দশ এক্কে দশ
----------
এখন শুধু পড়ে আছে প্রোফাইল পিকচারের আলোটুকু, সামনে আর পিছনে জমাট বাঁধা অন্ধকার । চলার পথে গাড়ি উল্টানো গর্তগুলো ড্যাব্ ড্যাব্ করে চেয়ে, কখন আসবে আবার গাড়ি সওয়ার শিকার, ছিনিয়ে নেবে বুকের ধ্বক্ধকানি যমদূতের মতো । ভেবেছি অনেকবার, ইহকালে নয়, পরকালে হবেই দেখা একবার । প্রশ্নগুলো জমিয়ে ফাইলবন্দী করে তুলে রাখলাম সবকিছু, ব্লগারের ব্লগে, যা কিছু ছিল জানবার ।

Comments

Popular posts from this blog

মহায়ণ

মরণ vs যৌনতা

আনা কড়া গন্ডা ক্রান্তি