প্রভাত চৌধুরী, দ্বিতীয় দশক ও অত:পর

প্রভাত চৌধুরী, দ্বিতীয় দশক ও অত:পর -

নব্বই সালের পর থেকেই বাংলা কবিতার চলনে এক নতুন শতাব্দীর অভিমুখ স্পষ্ট হচ্ছিল। ক্রমশ: সমীর রায় চৌধুরী এই মুখ আরো স্পষ্ট করে দিচ্ছিলেন। শুধু তাই নয় একক মাত্রায় অধুনান্তিক যুগের আবাহনে সোচ্চার ছিলেন। পোষ্ট - কলোনিয়াল হ্যাং ওভারকে অস্বীকার এবং ভূমিমূলে ফিরে আসার টান এই পর্বে পরিস্কার। বাংলায় 'শোভে গ্রামাফোন' কবিতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নতুন নতুন পথ সন্ধান দেখেছি। হাংরি,ধ্বংশকালীন এমনকি বামপন্থী প্রোপাগান্ডামূলক পথ বাংলা কবিতাকে এক নতুন পথের সন্ধানে সাহায্য করেছে। পূর্বসূরী উত্তরপথের খোঁজ দেয়। কিছু মধ্যবিত্ত সূলভ ঝাঁকুনি ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র- ছাত্রী রোমাঞ্চ বই নয় ( শিকড়ের সন্ধান কম ছিল) । তবে বাংলার কবিতা আন্দোলনের ক্ষতি করেছে প্রাতিষ্ঠানিক ও বামপন্থী দুই বিরুদ্ধ শিবিরের কবিতাপ্রভুত্ববাদ। তবে এর এক পরিপূরক মতবাদ ও দেওয়া যায় যে ' তুমি ছিলে বলে আমি হলাম'। যাই হোক মূল আলোচনায় ধীরে ধীরে এগোনো যাক
সমীর রায় চৌধুরী উত্তরপর্বের প্রভাতকে পেলেন। সেই প্রভাত এক নতুন অরুনোদয়। যার মধ্যে ভগ্ন বিপ্লবের কশাঘাত। সমীরবাবু বলতেন ' প্রভাতের মধ্যে অধুনান্তিক বিষয়বস্তু প্রথম থেকেই ছিল। গণ সংগ্রাম ও জনমিছিল   শেষে প্রভাত চৌধুরী এক নতুন লেখনীর জন্ম দিলেন। এই অধুনান্তিক পর্বে তিনটি ধারার ভাষ্য
১.পোষ্ট কলোনীয়াল পর্ব থেকে শিকড়ের সন্ধানে।
২.ভেদ থেকে অভেদের দিকে যাত্রা।
৩. ভেদের মাঝে অভেদের ইন্টার টিউনিং খুঁজে বার করা

সবটাই ছিল দেশজ আশ্রিত। আমার কবিতা পাক্ষিক যোগাযোগের পর্বের পূর্ব স্রোতের যোগাযোগে কাজ করেছে কবিতা পাক্ষিক প্রকাশনীর বই,৩০০  সংকলন পর্বটি আর সমীর রায় চৌধুরীর ভাষ্য।
ফলে কন্টেম্পোরারী কবিতা পাঠের সংগে সবই ইন্টার রিলেটেড। কবিতা পাক্ষিক গ্রুপের কোর অঞ্চলের কবিদের মধ্যে আমি মুরারীদার মধ্যে লৌকিক বংগজগতের সংগে এক স্যাটায়ারিক, এক অন্য ভংগী এক অনন্য প্যারাডাইম আত্মস্থ করেছেন। গঠন পর্বে বেশ কিছু কবির  কবিতায় দেখেছি প্রভাত চৌধুরীর প্রভাতায়ানের স্পর্শ দেখতে পাই। আজ এটুকুই ।

এরপর আসবে প্রি- প্রভাত চৌধুরী কবিতার গঠন।

(২য় পর্ব)

প্রথম অংশ লেখার পর এক সম্পাদক বন্ধু ইনবক্সে লেখাটা তার পত্রিকার পরের সংখার জন্য রাখতে বললেন । উভয় সংকট । বন্ধু শুভেন্দু মাইতি অনেক প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন । ভাল লাগলো । এ যুগ আলোচনার যুগ ।উনি নিষ্ঠিত আলোচনা পর্বে প্রশ্ন গুলি সীমায়িত রেখেছেন ।শিরোনামটি লক্ষ্য একটু করবেন তিনটি বিভাগ আছে ।আমি কয়েকটি পর্বে লিখব ভাবলাম কিন্তু সম্পাদককে বিরুপ করা যাবে না ।তাই ওখানে লেখার কিছু অদলঅবদল ঘটবে ।
যাই হোক, মূল ধরতাইয়ে যাওয়া যাক । অধুনান্তিক যুগে প্রবেশের পর তার কবিতার রাইজ্যোমাটিক,যুক্তিফাটল ইত্যাদি সম্পর্কে প্রভাতবাবুর নিজস্ব সাফাই কিছু দেখা যাক-' ... আমাদের জীবনযাপনের যাবতীয় রংবদল হয়েছে ।তাহলে কবিতা কেন তার স্থান পরিবর্তন করবে না।এর জন্য আমাকে কোনো বল প্রয়োগ করতে হয় নি ।ওইসব থিয়োরিটিক্যাল কথাবার্তা বোঝার ক্ষমতা আমার নেই ।আমি কোনো থিয়োরিতে বিশ্বাস করি না। সে কাজের দায়িত্ব ও আমার নয় ।দায়িত্ব তাত্বিকদের। আমার কাজ লেখা,লেখা আর লেখা। আমার এই পর্বের কবিতাগুলি নির্মাণ না সৃজন -তার উত্তর ও আমার কাছে ক্লিয়ার নয়।নির্মাণ আর সৃজনের পার্থক্য ও আমার কাছে ক্লিয়ার নয় ।আলতামিরার গুহায় যে মানুষ বাইসন এঁকেছিলেন তিনি কি জানতেন ওটি নির্মাণ না সৃজন।আমি তো নির্মাণ করতে চেয়েছি আমার উত্তরপর্বে এখন সেগুলিকে কেউ সৃজন বললে আমার হাতের সংখ্যা ২ থেকে ৩ হয়ে যাবে না । আবার সৃজন না বললেও আমার চোখের দৃষ্টিশক্তির কোনো হেরফের হবে না ' (দধিচী উতসব সংখ্যা,১৪২২)। এটা দিয়ে শুরু করতেই হলো ।
'একটি অহংকারি ছাতা এগিয়ে আসছিল বর্ষাকাল থেকে
তাকে টেনে নিয়ে গেলাম এক নির্জন গাড়ি বারান্দার নীচে
ছাতার সাক্ষাতকার থেকে শুনতে পেলাম
ঋতু বিষয়ক একটি প্রাচীন লোক কথা...'
বা
'ভূমি শব্দটি অংকশাস্ত্রে যেভাবে উচ্চারিত হয়,একজন কমিউনিষ্ট
'ভুমি'কে সেভাবে উচ্চারিত করেন না ,এখন একজন কমিউনিষ্ট'ভূমি'কে
কিভাবে উচ্চারন করেন তাকে আমরা মেমোরিতে তুলে রাখতে পারি কারণ
এই মুহূর্তে আমি অংকশাস্ত্র নিয়ে ব্যস্ত আছি ,অংকের ভুমি' বেশ সাবলম্বী'
প্রথমটি সাক্ষাতকার ও দ্বিতীয়টি নোটবই । সময় ১৯৭৯ ও ২০০০ ।যাই হোক ,শব্দ প্রতিসরন এ সময়ের বৈশিষ্ট্য । অপসারী শব্দগুচ্ছ কিভাবে প্রতিটি চলনে কিভাবে প্রতিসরিত হতে থাকে । এই প্রতিসরন নির্দিষ্ট কিছু চিনহ বহন করে আবার বদলে যায় শেষ লাইনে এসে বন্ধন মুক্তি ঘটানোর প্রয়াস থাকে বা শব্দেরা নিরিবিলি জড়ো হয় ('চিতার রুপালী ছাই,ধাবমান শেষ ট্রাম,জলের কিনারে নিচু জবা সকলে চেয়েছে শেষ আশ্রয়'-শঙ্খ ঘোষ ) ।এই ধরনের উদাহরণ নোটবই বা সাক্ষাতকারের প্রায় অনেক কবিতায় আছে ।রাহুলের ভাষায় 'প্যারাসাইক্লিক' বা কণিকার মুহুর্ত বদল প্রকাশ । কবিতার শক্তি সঞ্চয় হয় শব্দ লেখায় তার শক্তির ট্র্যানফরমেশন ঘটে পাঠে । এই বিষয় নিয়ে একটু বিশদে পরবর্তী অধ্যায়ে যাব ।

আগামী অধ্যায়ে যে বিষয়ে আলোচনা হবে শূন্য দশক অবধি প্রভাতদার লেখা আর তার অনুসংগ।

(৩য় পর্ব)

এর আগে শুরু করেছিলাম প্রভাত চৌধুরীর দুটি কবিতার লাইন দিয়ে ।এবার শুরু করব।অধুনান্তিক যুগের দীর্ঘ দশ বছর জমি আন্দোলন থেকে কবিতায় মনোনিবেশ ।তার পূবানহ ধুয়ে মুছে গেছে । 'সাদা কথা' বইটির প্রথম প্রকাশ ১৯৯৪ সাল অ 'কাঠের পা,ঘোড়ার পা' ১৯৯৫ সালে ।তখনো সুনীলবাবু ও শঙ্খ ঘোষের কবিতায় প্রতীক ও আদি,মধ্য ও অন্ত এই প্যাটার্ণ বিদ্যমান ।কিন্তু প্রভাত চৌধুরী র কবিতা সরলবর্গীয় বৃক্ষের মতো নয় ।সবে শুরু হচ্ছে এক নতুন রুপ নেওয়ার আয়োজন । যেমন- 'আমার সংগে সংগে হাঁটে ঠিক আমারই মতো /আর একটি নেগেটিভ আমি /আমি যখন কাপালিক জ্যোতস্নায় দাবা খেলি/সে পাশে বসে নির্দেশ দেয় বলে ঃ তুমি ঘোড়াটা দিয়ে কিস্তি দাও/আমি কিস্তি দিলেই ঘোড়াটার ডানা গজায়/পক্ষীরাজ হয়ে ছুটে যায় নীল দিগন্তের দিকে ' এইভাবে কবিতাটা এগোতে থাকে। 'আমি 'থেকে শুরু করে অসংখ্য চিনহের মাধ্যমে চিত্রকল্পের বিস্তার কিন্তু ইন্টারলকিং আছে ।যেটা রুদ্র কিংশুকের ভাষায় 'রাইজোমাটিক বা মুথাঘাসের চাপড়ার মতো । যেমন-'রোদ ও মর্গের মাঝে কিছু লুপ্ত অন্ধকার আছে /জল্বেস্টিত স্থল্ভূমি দিয়ে আমাদের হাঁটাহাটি আছে ...... রোদ ও মর্গের মাঝে আলো-অন্ধকার তাড়িত বৈভব থেকে কেউ কেউ নিয়ে আসে নীলপদ্ম । এসব উত্তরপর্বের গোড়ার কথা । প্রায় প্রত্যেক কবিতাই প্রতিক বর্জন কিন্তু চিনহ সন্তরন বা প্রতিসরনের মধ্যে ছড়াতে থাকে । উওর আধুনিকবাদে ' অবয়ববাদ' বা 'স্ট্রাচারালিজম ' সূলতঃ গড়ে উঠেছে ফার্দিনান্দ দ্য স্যোসুরের ভাষাত্ত্বাতিক আলোচনাকে কেন্দ্র করে । ভাষা হলো চিনহের সংস্থান ।আমরা যখন কোন শব্দ ব্যাবহার করি তা 'দ্যোতক' বা sinificantআর পাঠের পর মস্তিস্ক যে রুপ দেয় তা 'দ্যোতিত' বা 'signified' কিন্তু তার লেখার এই পর্বে দ্যোতক আর দ্যোতনার ব্যবহারের পরিবর্তন ঘটে যেতে থাকে । তার পরবর্তী বই 'সাক্ষাতকার ' ।সাল ১৯৯৭ । এই বইটি থেকে কয়েকটি কবিতার টুকরো তুলে দিলে স্পস্ট হবে ।'জ্যামিতিবাক্সের সংগে আমাকে যগাযগ করিয়ে দিয়েছিলেন পিথাগোরাস/... দিটি সেট স্কোয়ার ক্মপাস ডিভাইসার এবং প্রোটেক্টর একই টেবিলে বসে ডিনার খায়... জ্যামিতিবাক্স জানিয়েছিল ঃ একটি বৃত্তের মধ্যে যে কটি হরিন আছে/একটি বর্গক্ষেত্রে ঠিক ততগুলিই হরিয়াল থাকবে/সন্নিহিত কোণ থেকে যে বিষন্ন ফড়িঙটি
উড়ে যাবে/ সে অবশ্যি ই একটি ত্রিভূজে বসবে ...' ।আবার দেখি ' জলহস্তীর সাক্ষাতকার থেকে উঠে এল একটা বৃত্ত/সেই বৃত্তের কেন্দ্রবিন্দুতে একটা হলুদ রং্যের টেনিস বল আর পরিধিতে স্কিপিং করছে এক নবীন কিশোর /তাকে কিভাবে সন্ন্যাস শেখাতে হবে- তা কিন্তু জলহস্তী জানায়নি ' ।এটা দেখা যাক ' প্যারাম্বুলেটরের পাশে বসে যে কথাবার্তা হ্যেছিল তা আদৌ শিশুসুলভ নয় / প্যারাম্বুলেটর বলেছিলঃ যে কোনো দুটি রঙয়ের পাশে তৃতীয় একটি রং আত্মগোপন করে থাকে ...। এইসব কবিতাগুলিতে শব্দ প্রতিসরণ ঘটেছে নির্দিশ্ট কিছু চিনহ বহন করে। দেঁরিদার মত অনুযায়ী ' লিখনের মধ্যে থাকে সমস্ত কিছুর অস্তিত্ব আবার পাঠের মধ্যে থাকে নিরন্তর বিনির্মাণ প্রয়াস' অর্থাৎ কবিতা অনুসরনে পূর্ব নির্মিতিকে ভেংগে নতুন নির্মিতি ।মজা হচ্ছে আমরা পাঠ অনুসরণের মধ্যে দিয়ে এক কেন্দ্র ভেঙ্গে আরেক কেন্দ্র পৌঁছে যাই । এইভাবে শব্দকেন্দ্রিকতায় তৈরী হয় । তবে এই সময়কালীন অনেক আধুনান্তিক কবি প্রভাত বলয় থেকে মুক্ত ছিলেন না ।
আজ এই পর্যন্ত্যই ।বাকি টা আবার পরে । এর পরে আসবে নোট বই ও ২য় দশকে এই বাংলা এবং বাংলাদেশের অধুনান্তিক কবিতার কিছু আলোচনা ।
( চলবে )

[27/08 16:16] Sinha Murari Kobi Da: আমি গ্রুপের বন্ধুদের বার বার অনুরোধ করেছি এবং করছি কপাতে নিয়মিত লেখা পাঠাও। সাপ্তাহিকের দ্বিতীয় বর্ষ শুরু হবার আগেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল এবার নতুনদের লেখা বেশি বেশি করে সুযোগ পাবে। সেকথা তখন বন্ধুদের জানিয়েছিলাম। কবিতাপাঠের অনুষ্ঠানেও আমরা নতুন মুখদেরই তুলে ধরছি এবং ধরব।

কবিতা নিয়ে আমাদের প্রতিটি আড্ডা কতটা প্রাণবন্ত হয় যারা সেখানে আসে তারা তা ভালো করেই জানে। 

প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি সেপ্টেম্বরে  যে কবিতাপাঠের অনুষ্ঠান হবে সেখানে কোনো নির্বাচিত কবি থাকেওছে না। ওদিন যারা আসবে আমরা চেষ্টা করব সকলকেই সুযোগ দেবার। ওইদিনই কপার শারদীয়া সংখ্যাটি প্রকাশিত হবে।

সুতরাং বন্ধুরা যারা পারবেন সকলেই  কবিতা নিয়ে চলে আসুন সেই অনুষ্ঠানে।

[27/08 20:03] ‪+91 97492 92307‬: সুন্দরের দিকে
নৈহাটি হালিসহর পরে আসবে।আগে একটু আগের কথা বলে রাখি ।
সাম্প্রতিক প্রথম সংখ্যা বেরিয়েছিল কোনো এক পুজোর ছুটির ঠিক  আগে।বাসুদেবপুর যাবার আগে সব করেছিলাম তাড়াহুড়ো করে ।প্রকাশক ছিল দীপক চৌধুরী, মেজভাই ।ঠিকানা 36D, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের । অর্থাৎ  আমাদের বাড়ির । পরের সংখ্যা থেকেই সাম্প্রতিক  পর্ব ধরা হয়।কিন্ত শুরুর আগের কথা লিখলাম । আমার প্রথম বন্ধু দীপংকর সরকারও সাম্প্রতিক এর প্রস্তুতিপর্বে যুক্ত ছিল ।এই দীপংকর পরবর্তীতে দীপংকর স্যার, পাঠভবনের  অঙ্কের শিক্ষক । আর ছিল  অনিল কাজল শৈবাল সহ আরো অনেকেই ।জয়ন্ত দত্ত প্রথম জীবনে সাম্প্রতিক এ ছিল।পরে খেলাধুলোর বেশ কিছু বই লিখে রীতিমত নামী লেখক হয়ে যায়। প্রকাশকরা তাগাদা দিয়ে জয়ন্তকে দিয়ে বই লেখাতো।
এবার কবিপত্র বা পবিত্রদার সঙ্গে যুক্ত হবার দিনটিকে দ্যাখার  এবং দ্যাখানোর চেষ্টা করি।
পবিত্রদা তখন বেহালার নিরাপদ জীবনকে তোয়াক্কা না করে কেবলমাত্র লেখালেখির স্বার্থে চলে এসেছেন ঈশ্বর গাঙ্গুলি স্ট্রিটের বাড়িতে।রাসবিহারী মোড়ে দ্যাখা। টানতে টানতে নিয়ে গেলেন নতুন আস্তানায়। সেদিন থেকেই নিজেকে কবিপত্রর  একজন হিসেবে দেগে দিলাম । কবিপত্রর নতুন সংখ্যার প্রস্তুতি চলছিল তখন । সেদিন কাননকুমার ভৌমিকও সঙ্গে ছিল বা কাননের সঙ্গী ছিলাম  আমি।
তার আগেই সাম্প্রতিক প্রকাশিত হয়ে চলেছে।তাছাড়া আজকের কবিতা সংকলনটিও বাজারে চালু আছে।বাজার শুনে কেউ বিগবাজার ভেবে বসবেন না।দু চারটে বইদোকান কিংবা পত্রিকার স্টলেই সীমাবদ্ধ ছিল সেই বাজার ।তাতেই বা কী।আমাদের দম্ভ কিন্তু  এক ছটাকও কম ছিল না,  আজ কফিহাউসে তো কাল বারদুয়ারিতে কাক মারছি বক মারছি  । নিজেকে কবিতার দূত ভাবতে শুরু করে দিয়েছি ।
পবিত্রদা সেসময় প্রায়  একা হয়ে গিয়েছিলেন।যোগাযোগহীন হয়ে পেরেছিলেন ।ঠিক একা নয় পবিত্রদার সঙ্গে তখন ছিল  অতীন রায়চৌধুরী ।গদ্য লেখার কলম ছিল । কবিপত্রর নতুন সংখ্যা তে একটা কবিতা বিষয়ক গদ্য ছিল অতীনের।সেই গদ্যে রত্নেশ্বর হাজরা  এবং কালীকৃষ্ণ গুহকে কদর্য ভাষায় আক্রমণ করা হয়েছিল।বলতে দ্বিধা নেই  সেই আক্রমণকে মেনে নিয়েছিলাম চোখ বন্ধ করে ।
এই প্রসঙ্গে  আমার একটা উপলব্ধির কথা অকপটে জানিয়ে রাখি । পাঁচের দশকের কবিরা সবসময়ই সংঘবদ্ধ থেকেছিলেন।শেষ দিন পর্যন্ত  একত্রে ছিলেন। একবার ভেবে দেখুন কৃত্তিবাস  এর প্রথম সংখ্যাতেই প্রকাশিত হয়েছিল শঙ্খ ঘোষের দিনগুলি রাতগুলি।কবিতা কবিতাভাবনা এবং জীবনযাপন কোনো কিছুর সঙ্গে কৃত্তিবাস  এর  সঙ্গে শঙ্খ ঘোষের একবিন্দুও মিল ছিল না ।তবু বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে বাইরের পরিবেশগত কোনো প্রভাব কারো মনকে প্রভাবিত করতে পারেনি।এর জন্য সব কৃতিত্বটাই  একক ভাবে দাবি করতে পারতেন সুনীলদা অর্থাৎ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়।কিন্তু কোনোদিনই তিনি তা দাবি করেননি।এখানেই সুনীলদার মহত্ব।
সুনীলদা তাঁর বন্ধুদের জন্য যা করেছেন তা খোলাখুলি লিখলে এখন দাঙ্গা লেগে যাবে। আর তাছাড়া সুনীলদা কখনোই তাঁর মহত্ত্বগুলিকে প্রকাশ্যে আনতে চাননি আমি কোন অধিকারে সুনীলদার এই না চাওয়াকে অমান্য করবো।
আমাদের দশকের ক্ষেত্রে ঠিক  এর উল্টো ছবি । একজন অন্যজনের বিরুদ্ধে হাতে খাঁড়া তুলে নিতেন। এর জন্য কে কতটা দায়ী তা এই মুহূর্তে  তুলে ধরার সাহস আমার নেই ।
এর ফলে আমার সঙ্গে সুব্রত চক্রবর্তী বা ভাস্কর চক্রবর্তী র কখনোই ঘনিষ্ঠতা হয়নি।সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি শামসের কিংবা  মানিকের সঙ্গে । আমাদের মধ্যে  একমাত্র কালীকৃষ্ণ র সঙ্গে  ওদের সুসম্পর্ক ছিল ।
আসলে আমরা যে যার তৈরি কুয়োর মধ্যে থাকতে চেয়েছিলাম, এতে আমাদের বাইরের দিকে শ্যাওলা পড়লেও ভেতরটা কতটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল তার বিচার করবে মহাকাল নামক এক দৈত্য ।
তবে আমি নিশ্চিত আমাদের দশকে  একজন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় থাকলে এমনটা কিছুতেই হত না ।হতে দিতেন না সুনীলদা ।

[28/08 22:10] ‪+91 97492 92307‬: সুন্দরের দিকে
আজ তরুণদা চলে গেলেন ।তরুণ সান্যালকে খুবই ঘনিষ্ঠভাবে পেয়েছিলাম ।সেটা আমার সৌভাগ্য বলতে দ্বিধা নেই । তবে সেটা পরিচয়-পর্ব। এখনো দেরি আছে পরিচয় এ পৌঁছতে
এখন কবিপত্র - কাল।পবিত্রদা  এখন  ঈশ্বর গাঙ্গুলি স্ট্রিটের সাজানো বাড়িতে ।পবিত্রদা তখন চেতলা স্কুলের বাংলাশিক্ষক।বাড়িতে টোল। একদল টগবগে ছাত্র । তবুও কবিপত্রর কাজকে প্রাধান্য দিতেন। কাননকুমার ভৌমিক চণ্ডী মণ্ডল এবং আমি পৌঁছে গেলেই ছাত্ররা বুঝে যেত এখন শুরু হবে কবিতা । কেউ কেউ আমাদের  আলোচনায় মনোনিবেশ করত। সম্ভবত সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়ও সেই ছাত্রদলের একজন ছিল ।এই সঞ্জয়  এখন স্বনামধন্য ফিল্ম বিশেষজ্ঞ । স্কুলের পর সঞ্জয়  ইন্জিনিয়ারিং ভর্তি হয় এবং পাশটাশও করে।পরে কিছুদিন চাকরিও করে।সম্ভবত ত্রিপুরাতেও কাজ করে এসেছিল ।
কিছুদিন পর পবিত্রদা বাড়ি বদলালেন।চলে এলেন 22 B প্রতাপাদিত্য রোডের তিনতলায়। এই বাড়িই ছিল  আমাদের স্বর্গ মর্ত্য পাতাল।যত রকম  অত্যাচার করা সম্ভব তার থেকে অনেক বেশি অত্যাচার করেছি।অথচ পবিত্রদার স্ত্রী মিনুদি হাসিমুখে সব সহ্য করেছেন ।মিনুদি র সমর্থন  এবং সহযোগিতার কোনো তুলনা আমার কাছে নেই ।এখন অনেকেই যূথিকার কথা বলে।কিন্ত মিনুদি মিনুদিই।
তখন  ওখানে এসেছেন প্রায় সকলেই । কবি  এবং গল্পকার প্রায় সমান সমান ।কবিদের মধ্যে মৃণাল দত্ত  অনন্ত দাশ শিবেন চট্টোপাধ্যায় কাননকুমার  তুষার চৌধুরী বাপ্পা বা অনন্য রায় দীপেন রায় শিশির সামন্ত  অঞ্জন কর সুকোমল রায়চৌধুরী মনোজ নন্দী সহ আরো অনেকেই নিত্যযাত্রী ছিল  এই তীর্থের ।
এবার গল্পকারদের কথা বলা যাক ।আমাদের চণ্ডী মণ্ডল সুবিমল মিশ্র  অমিয় সিংহ তো ছিলই ।আর পবিত্রদার ঘনিষ্ঠ  আশিস ঘোষ রমানাথ রায় সুব্রত সেনগুপ্ত  রা প্রায়ই আসতেন ।নতুন ভাবে যুক্ত হয়েছিল অমর মিত্র শচীন দাশ  অসীম চক্রবর্তী দীপংকর দাশ প্রমুখ আরো অনেকেই ।ডায়মন্ডহারবার থেকে মাঝেমধ্যে হাজির হত ঝড়েশ্বর চট্টোপাধ্যায় ।আর একসময় সন্দীপ সরকার যুক্ত হলেন আমাদের সঙ্গে ।সন্দীপ একসময়  Frontier নামক বিশিষ্ট ইংরেজি পত্রিকার কলাসমালোচক ছিলেন।পরে দেশ আনন্দবাজার ।
এই সময়ে  আমরা দুটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম ।
প্রথমটি হল কবিপত্রর বিশেষ গল্প সংখ্যার প্রকাশ ।দ্বিতীয়টি কবিপত্র শিল্পসংখ্যা।
এই দুটি সংখ্যার সার্থক প্রকাশ কবিপত্র কে  একলাফে লিটল ম্যাগাজিনের শীর্ষে স্থাপন করলো। পশ্চিমবঙ্গের সর্বত্র  আমরা অভিনন্দিত হলাম ।
দু একটা অত্যাচারের কথা না বললে পাপ হবে।তুষার চৌধুরী এবং আমার প্রাত্যহিকতায় তখন বারদুয়ারি জায়গা করে নিয়েছে ।অফিস ছুটির সমিতির তুষার চলে আসত আমার  অফিসে ।তারপর দুজনে হাঁটাপথে বারদুয়ারিতে ।যতটুকু সময় দেওয়া আবশ্যক, ঠিক ততটুকুই সময় দিতাম । তারপর বাইশের বি,অর্থাৎ পবিত্রদার বাড়ি বা কবিপত্র দপ্তর। আমার তখন একটা  অভ্যেস ছিল  জন্মদিনের পোশাকের প্রতি প্রগাঢ়  আকর্ষণ ।ঘরে ঢুকেই প্রথম কাজ ছিল জন্মদিনের পোশাকটা পরে নেওয়া ।মনে  আছে পবিত্রদা ঘরের পবিত্রতা রক্ষার জন্য একটা চৌকো বালিশ ছুঁড়ে দিতেন আমার দিকে ।তবে এই প্রসঙ্গে  একটা কথা জানিয়ে রাখি আমি কিন্তু তালে ঠিক থাকতাম।বুঝে যেতাম এখন মিনুদি বাড়িতে নেই ।
পবিত্রদা বিষয়টিতে মজা পেতেন এমনটাই  আমি মনে করতাম ।
সেই দিনগুলি আর ফিরে আসবে না ।
আজ যখন এই লেখাটা লিখছি তখন চণ্ডী নেই, তুষার নেই , বাপ্পা নেই, শচীন নেই  ।এই না থাকাগুলিকে ঠিক কী ভাষায় কী পদ্ধতিতে  অনুবাদ করতে হবে তা  আমার জানা নেই । এরকম ঘটনার কথা যেন আর কাউকে লিখতে না হয়।

[28/08 22:35] ‪+91 81709 73758‬: ১. সব গানের ভেতরেই একটি অন্তর্নিহিত অব্যক্ত কথামালা বিরাজ করে।
আমি সেই কথামালার ভেতর দিয়ে হেঁটে যাই প্রান্তর থেকে প্রান্তরে,
প্রত্যেকটা মোড়ে দেখা যায় আমার প্রেমিকদের মুখ,
সেই কবেকার কথামালা কানে বাজলে
আজও শিহরিত হয় শরীর,শক্ত হয় লিঙ্গ ;

২. এমন কোনো গান শোনাও যার ভেতর কোনো কান্না বা
কোনো প্রকার ধ্রুপদী স্মৃতি না ভেসে ওঠে,
প্রেমিকা,এমন কোনও কবিতা লেখো যার ভেতর
কোনো প্রকার মৈথুন ক্রিয়া নেই।

______©শৈলেন

[29/08 21:31] ‪+91 97492 92307‬: সুন্দরের দিকে
যারা নেই তাদের  অনেক কথা থেকে গেছে।লেখা থেকে গেছে ।কথাগুলো আমরা শুনব।লেখাগুলো পড়ব। আমি  চেষ্টা করব কিছু লেখার ।তবে মনে রাখতে হবে  আমার ক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কথা। আমি নেহাতই একজন ক্ষুদ্র কবিতালেখক। প্রয়োজনে টুকটাক গদ্যও লিখেছেন থাকি। তবে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য যে গদ্য গুলি লিখি বা লিখতে বাধ্য হই সেগুলি এই গোত্রের নয়। সেগুলি একদিকে  আত্মরক্ষার গদ্যও।তার সঙ্গে  এই স্মৃতিচারণকে  এক গোত্রে ফেলা ঠিক হবে না ।
যারা চলে গেছে তাদের মধ্যে চণ্ডী মণ্ডল সব থেকে পুরোনো বন্ধু । চণ্ডী দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার  এক গ্রাম থেকে  আসা ছাত্র ।পড়তো চারুচন্দ্র কলেজে।থাকতো লেক গ্যারেজ লাগোয়া এক মেসবাড়িতে ।
চণ্ডী কলকাতা  আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে তাকে লেখক হতে হবে ।গল্প লিখতে হবে।উপন্যাস লিখতে হবে । পরীক্ষা দিতে হবে, পাশ করতে হবে  এসব তুচ্ছ বিষয়ে  কখনোই  ওকে চিন্তা করতে দেখিনি ।দেখা হলেই গল্পের কথা ।গল্পের পরিকল্পনার কথা । গল্প ছাড়া  আর কোনো কিছুই জানত না চণ্ডী ।
চণ্ডীর প্রথম গল্প প্রকাশিত হয় সাম্প্রতিক এ। আমরা যে কবিতা নিয়ে  উদয়াস্ত পরিশ্রম করে চলেছি সেটা ও কোনোদিনই  পাত্তা দেয়নি ।অথচ আমরা ওর নিয়ে গলা ফাটিয়েছি সর্বত্র ।
চণ্ডীর গল্পের মধ্যে  আমরা  আবিষ্কার করতাম গ্রামবাংলার  এক নতুন রূপ ।যা তারাশঙ্কর কিংবা বিভূতিভূষণের মতো নয়। আবার গ্রাম্য গল্পও নয়।চণ্ডী গ্রামের ছেলে হলেও ওর মধ্যে বিন্দুমাত্র গ্রাম্যতা ছিল না । একশো পার্সেন্ট নাগরিক ছিল ।বলতে দ্বিধা নেই আমার মধ্যে যে গ্রাম্যতা ছিল এবং এখনো বর্তমান তা চণ্ডীর মধ্যে ছিটেফোঁটা ছিল না । কারণটা  এখন বুঝতে পারি, চণ্ডী জানতো লেখার মধ্যে গ্রাম্যতা প্রকাশের কোনো স্থান নেই ।
শুনলে অবাক হয়ে যাবেন চণ্ডী  একটা গল্প ছাপতে দেবার আগে কমপক্ষে দশ থেকে পনেরো বার লিখত বা লেখার পরিশ্রম করতো। এতো আর দশ লাইন বারো লাইন নয় যে কপি করে দিলাম দশ মিনিটের মধ্যে ।দশ পনেরো পাতা । এবং দশ পনেরো বার। আমি যেসব মহান কথাকারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছিলাম তাঁরা কোনো লেখাই একবারের বেশি দুবার লেখেননি। আমি নিজে কী কবিতা কী গদ্য, কোনো লেখাই দুবার লিখি না।তাহলে চণ্ডীর এই বারবার লেখার উল্লেখ করছি কেন? এ ব্যাপারে চণ্ডীর গুণগান করছি কেন ।আসলে চণ্ডী তার নিজের লেখা গল্পতে সন্তুষ্ট হতে পারতো না । এই অতৃপ্তি থেকেই ও নিজের গল্পের ঘষামাজা করতো।একবার চণ্ডী  একটা  উপন্যাস লিখে ফেলল। হাত নেই ।যা বাংলা সাহিত্যের সম্পদ।ছাপা হল কবিপত্র এ।পবিত্রদা সহ আমরা সকলে মেতে রইলাম হাত নেই নিয়ে ।জানি না  এই লেভেলের উপন্যাস সমগ্র বাংলাসাহিত্যে কটি আছে।
এবার কিছু ব্যক্তিগত কথা বলে রাখি । এক সময় মেসবাড়ির টাকা সময় মতো দিতে পারলো না ।মেস ছেড়ে দিতে হবে ।চিন্তার ব্যাপার ।সকলের ।অবশ্য চণ্ডীর মধ্যে কোনো দুশ্চিন্তা ছিল না ।পবিত্রদা কাননকুমার আমি সকলেই ভাবছি কী করা যায়।দিদিমা কে জানালাম পুরো বিষয়টি ।দিদিমা এক মুহূর্ত চিন্তা না করেই বিধান দিল চণ্ডী  আমাদের বাড়িতেই থাকবে ।আমরাও চিন্তা মুক্ত হলাম ।চণ্ডীকে দেখে মনে হল ও যেন আগে থেকেই জানতো ও আমাদের বাড়িতেই থাকবে।মেস থেকে বইখাতা সব নিয়ে চলে এল।
চণ্ডী তখন দু চারটে টিউশনি করতো।মাসের প্রথম দিকে সেইসব টিউশনির মাইনে পেত। আমরা  আশা করতাম আমাদের ধারবাকির কিছুটা ফেরত পাবো। কিন্তু  আমাদের সকলকে  অবাক করে চণ্ডী  এককৌটো গোল্ডফ্লেক অর্থাৎ একটিন গোল্ডফ্লেক নিয়ে হাজির হত।যার একটি দুটি আমরাও পেতাম । আসলে চণ্ডী সবসময়ই নিজেকে সম্পন্ন মনে করতো। নিজেকে অভিজাত ভাবতো।
দৈন্য  বা দীনতা থেকে নিজেকে দূরে রাখা একটা  বৈশিষ্ট্য যা চণ্ডীর মধ্যে যতটা দেখেছি আর কারো মধ্যেই  তা প্রত্যক্ষ করিনি ।
চণ্ডীর সঙ্গে স্বস্তির সম্পর্ক  এবং পরিণতিতে পরিণয় সেসব কথা সময় মতো আসবে।অনেক  পরের একটা ঘটনার কথা বলে রাখি চণ্ডীর চরিত্র সম্পর্কে । আমার বিয়ের পর সস্ত্রীক নিমন্ত্রণ চণ্ডী  স্বস্তির বাড়িতে ।ওরা তখন বাগবাজারের বাড়িতে ।ওই বাড়িতেই থাকতেন বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব গঙ্গাপদ বসুর পরিবার।
চণ্ডীরা সেদিন যে সাইজের পাবদামাছ প্লেটে দিয়েছিল তার মাথাএবংলেজা প্লেট থেকে বেরিয়ে ছিল তিন চার আঙুল করে।পাবদা ছাড়াও আমার অতিপ্রিয় খাসির মাংস ছিল একবাটি।
বেশি লিখলে নিন্দুকেরা বলে বেরাবে আমি পেটুক।
ভেবেছিলাম  আজই তুষার চৌধুরী পর্বে চলে  আসতে পারবো।হল না । তা না হোক , কাল তো হবে।

[30/08 17:57] Poet Prabhat Chowdhury: জ্যোতি তোমার এই ইচ্ছাকৃত বানান বিকৃতি সমর্থন যোগ্য মনে হচ্ছে না ।
বিভাবসুর উচ্চারণ ভিত্তিক বানান কিছুটা মেনে নিতে পারি ।কিন্ত এক্ষেত্রে কীভাবে মানবো তা বোধগম্য হচ্ছে না । তুমি বোঝাতে সক্ষম হলে বুঝে যাবো।

[30/08 18:17] ‪+91 97492 92307‬: আপনাকে বোঝাবো এরকম দুঃসাহস আমার নাই।। ক্ষমা করবেন।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏

শুধু এইটুকুই বলবো একজন নেশাগ্রস্ত বাংরেজীশিক্ষিত ব‍্যক্তি, যে নারীকে শরীর হিসাবে দেখে সে কী আভিধানিক উচ্চারণে কথা বলতে পারবে? শিক্ষা যে জিভ টেনে ধরবে আর নেশাতুর জিভও।

সে তো অঙ্ক কে অঙ্কো আর মিডলট্রামফ‍্যাক্টর কে  মিডিলটেরামফ‍্যাক্টরই বলবে।

[30/08 20:08] Poet Prabhat Chowdhury: তোমার যুক্তি অনুযায়ী মদ্যপ ব্যক্তির  উচ্চারণ বদলে যেতে পারে । সেই ব্যবহার নাটকের ক্ষেত্রে মেনে নিতে কোনো বাধা নেই ।গল্প উপন্যাসের ক্ষেত্রেও গ্রহণ করা হয়ে থাকে ।সেভাবে কবিতায় কখনোই ব্যবহার করিনি ।
তোমরা বললে এবিষয়ে ভাবা যেতেই পারে ।তবে  এখন সময়ের বড়ো টানাটানি চলছে ।পুজোর ফাঁকে ভাববো ।

[30/08 22:16] ‪+91 97492 92307‬: সুন্দরের দিকে
গতকাল লিখেছিলাম আজ তুষার চৌধুরীর কথা লিখবো।কিন্তু কতটা এবং কীভাবে লিখবো তা নির্ণয় করা ততটা সহজ নয়। সবটা খোলাখুলি লেখার হিম্মত  আমার নেই ।প্রথমেই এই স্বীকারোক্তি করে রাখতে বাধ্য হলাম । এমন  অনেক কথা  আছে যা বলার ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা নেই কিন্তু লিখতে গেলেই নানা পিছুটান টেনে ধরে রাখে।
আমি চেষ্টা করব যাতে ভারসাম্য বজায় থাকে । কথা দিলাম তুষার কিংবা আমাকে পাঠক যেন ভুল না বোঝেন।
তুষার তার প্রথম লেখা কবিতাটি পাঠিয়েছিল ডাকযোগে।সাম্প্রতিক এর জন্য ।তখন ধ্বংসকালীন কবিতা আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে ।প্ররকের নাম
তুষারকান্তি চৌধুরী ।সেই নামেই ছাপা হয়েছিল কবিতাটি। কাননকুমার ভৌমিক  এর পূর্ণ সমর্থন ছিল তুষারের প্রতি । আর আমি তো আত্মহারা ।আর এক পিস চৌধুরী পাওয়া গেছে ।
এই তুষার কিছু দিনের মধ্যেই আমার একান্ত আপনজন হয়ে উঠলো ।বা তুষারের আত্মজন হয়ে উঠলাম আমি ।তা যায় হোক না কেন আমরা  অভিন্ন হৃদয়ের বন্ধনে যুক্ত হয়ে গেলাম।সেই 1969-70 এর বাঁধন কবিতা পাক্ষিক এর প্রথম পর্ব পর্যন্ত  অটুট ছিল ।
তুষার কবিতা লেখার জন্যই  এই পৃথিবীতে এসেছিল। কবিতাযাপন এই শব্দবন্ধটি যেন তুষারের জন্যই সৃষ্টি হয়েছিল । তখন বাইশের বি ছাড়াও আরও একটা ঠিকানা পেয়ে গেছি আমরা ।তা হল 36D, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট ।অর্থাৎ আমার বাড়ি।
তবে এই প্রসঙ্গে আরো একটা কথা জানিয়ে রাখি , তাহল তুষারের সঙ্গে দ্যাখা হবার আগে দ্যাখা হয়েছিল বাপ্পা বা অনন্য র সঙ্গে ।পবিত্রদা হাত ধরে নিয়ে গিয়েছিলেন কবি মণীন্দ্র রায়  এর বাড়ি।বাপ্পা মণিদার ছেলে।তখন স্কুল ছাত্র ।সম্ভবত সাউথ পয়েন্ট স্কুল।ক্লাস সেভেন এইট হবে বড়জোর ।তখন থেকেই কবিতায়।এরকম বাল্যপ্রতিভা দেখা যাবে প্রচুর ।কিন্তু ধরে রাখতে পারে না কেউই।ব্যতিক্রম  অনন্য রায়।
হচ্ছিল তুষারের কথা, এসে পড়ল বাপ্পা । এমনটাই হবার কথা ।তুষার এবং বাপ্পা আমার কাছে  অভিন্ন।
তখন আমার বারদুয়ারি পর্ব শুরু হয়ে গেছে ।শুরুর কথাটা না লিখলে মজাটাই মরে যাবে ।
হাংরি আন্দোলনের সুভাষ ঘোষ একদিন বললেন শণিবারে খালাশিটোলায় চলে  আসুন ।আমি তখন খালাশিটোলা চিনি না,  একথা বলব কোন মুখে ।কবিতা লিখি আর খালাশিটোলা চিনি না তা আবার বলা যায় নাকি ।বললাম ঠিক আছে ।সুভাষ জেনে গেলেন আমি যাচ্ছি খালাশিটোলায় ।
দেখতে দেখতে শনিবার এসে গেল।শনিবারের না  আসার কোনো সুযোগ নেই, তাকে আসতেই হবে।বিকেল এল।কিছুটা জানতাম যে খালাশিটোলা ওয়েলিংটনের কাছাকাছি ।ওয়েলিংটন চেনা শব্দ ।সেই শব্দটির কাছে পৌঁছে গেলাম, এবার পথ দ্যাখাবে কে।ট্রাফিক পুলিশ ছিল, কিন্তু লাল পাগড়ি না থাকায় পুলিশকে অ্যাভয়েড করলাম ।জানা ছিল মদ্যপ এবং রিক্সার একটা ঘনিষ্ঠ এবং গোপন যোগসূত্র আছে ।রিক্সাওয়ালাকে বললাম ইঁয়া দারু কা দুকান কীধার? রিক্সা  অলা হাতেরইশারায় দেখিয়ে দিল সেই পথ। আমি ওই রিক্সা অলাকে চিনি না ।কিন্তু সে আমার যে উপকার করছে তার কোনো তুলনা নেই ।
আমি রিক্সা অলা নির্দেশিত পথে এগিয়ে গেলাম । কিছুক্ষণের মধ্যেই আমার নাক আমাকে জানিয়ে দিল আমি সঠিক পথেই যাচ্ছি ।শেষে গন্ধ  শুঁকে ঢুকে পড়লাম।দেখেই মনে হল এটা খালাশিটোলা নয়।বারদুয়ারি ।
ওপরে  উঠে গেলাম । একটা ছোটোখাটো ঘর।শ্বেতপাথরের টেবিল ।মাথার মধ্যে উদিত হলেন মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ। কনফার্ম হলাম পৌঁছে গেছি বারদুয়ারিতে ।এখন মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কে ছেড়ে  অন্যত্র যাবো কীভাবে, তা না জানার কারণে  আশ্রয় নিলাম বারদুয়ারিতে ।

[31/08 22:53] ‪+91 97492 92307‬: সুন্দরের দিকে
এখন জলযানে আছি ।জলযাত্রায় আছি ।জলযান থেকে কিছুক্ষণের জন্য নামতে না পারলে অনেকগুলি জরুরি কথা হারিয়ে যাবে।এখন সেইসব কথাগুলি বলার চেষ্টা করি ।
প্রথমেই জানিয়ে রাখি রাসবিহারী মোড়ের লাগোয়া একটা বাড়িতে থাকতেন কবি আলোক সরকার । চাকরি করতেন বর্ধমানের শ্যামসুন্দর কলেজে ।রবিবার সকালে আমরা দল বেঁধে পৌঁছে যেতাম আলোকদার বাড়ি।একটাই ঘর।তাতে আমরা মানিয়ে নিতাম।কখনোই মনে হয়নি ঘরটা আর একটু বড়ো হলে বেশ হত। আলোকদার স্ত্রীর নামও মিনু।আমরা মিনুদি বলতাম। বরাদ্দ ছিল চা বিস্কুট।কবিতা নিয়ে কথাবার্তা হত।কালীকৃষ্ণ সুনীথ অশোক দত্ত চৌধুরী নরেশ কাননকুমার আর আমি যেতাম ।রাণা চট্টোপাধ্যায়ের যাওয়ার সম্ভাবনা হয়ত ছিল ।
তখন শতভিষা চলছে । দীপংকর দাশগুপ্ত তরুণ মিত্র এই দুজন ছিলেন শতভিষার কোর কমিটির । আমার কিন্তু মনে হত শতভিষার সর্বাধিনায়ক আলোকদা ।কেন মনে হত বলতে পারবো না । শংকরদাও এই আড্ডায় মাঝে মাঝে আসতেন।
আরো একটা কথা খুবই সঙ্কোচের সঙ্গে বলছি আলোকদা কালীকৃষ্ণ সুনীথ দের বেশি পছন্দ করতেন ।আমরা মনে মনে হিংসা করতাম কালীকৃষ্ণদের।সেই হিংসা নেহাতই অমূলক ছিল হয়তবা।
একটা সময় আমরা বলা শুরু করেছিলেন গাছফুলপাতা সর্বস্ব কবিতা আমরা পছন্দ করি না ।রক্ত মাংস হীন কবিতার বিরুদ্ধে আমরা ।এই আমরার মধ্যে পবিত্রদাও ছিলেন ।
এসব তখন যেমন ছিল এখনো আছে ।এসব কথা না বললে সত্যের অপলাপ হত।
আরো একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা বলছি , এখন শুনলে মনে হবে বানিয়ে বলছি ।কথাটি হল সেই সময়ে আমরা সকলেই ধরে নিয়েছিলাম আলোক-অলোক জুটিই বাংলাকবিতার প্রধান দুই কবি।অর্থাৎ আলোক সরকার এবং অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত ।
এই প্রসঙ্গে শেষ কথাটি হল ওই বাড়িতেই থাকতেন কবি অরুণকুমার সরকার ।আলোকদার দাদা।অরুণদা এক সময় বুদ্ধদেব বসুর কবিতা পত্রিকার অন্যতম পরিচালক ছিলেন ।অরুণদা আমাদের লক্ষ করতেন  ওঠানামার সময় কিংবা আলোকদার ঘরে ঢোকার এক চিলতে ভেতরের বারান্দায়।বাইরের বারান্দা দিয়ে রাসবিহারীর ট্রামরাস্তা দ্যাখা যেত।
অরুণদা আমাদের আসাযাওয়া দেখলেও কখনোই গুরুত্ব দেননি ।এটা এখনো মনে আছে ।

রাইটার্সে কর্মরত কবিজনদের কথা আগে বলেছি
তখন বলা হয়নি রত্নেশ্বর হাজরার কথা ।রত্নেশ্বরদা বসতেন প্রক্টেটেট জোনে।সব সময় যাতায়াত সম্ভব ছিল না । লেখা নিতে যেতেই হত।মৃদুভাষী রত্নেশ্বর কখনোই আত্মপ্রচারে মন দিতেন না ।নিজের মনে নিজের লেখা লিখে যেতেন।
আর অনেক পরে পার্থদা অর্থাৎ পার্থসারথি চৌধুরী এলেন রাইটার্সে ।ওনার ঘরে আমার প্রবেশ ছিল অবারিত ।পার্থদাকে নিয়ে আরো অনেক কথা চলে আসবে পরের ঘটনাক্রমে ।
নাসের, দুই দেবাশিস চাকী এবং চট্টোপাধ্যায় অরূপ দের কথা আসতে এখনো অনেক দেরি ।
একতলার বি টি অফিসে একজন ছিলেন, নামটা মনে আসছে না, তারা একটি পত্রিকা করত।নাম শস্য ।পরে জেনেছিলাম শস্য র সঙ্গে যুক্ত ছিলেন উৎপল চক্রবর্তী ।যিনি পরে ছান্দারের  অভিব্যক্তির প্রাণপুরুষ রূপে চিহ্নিত হন।এই উৎপল চক্রবর্তী যাঁকে আমি ছোটদা বলে ডেকে এসেছি এই সেদিন পর্যন্ত ।আজ ছোটদা থাকলে এই লেখা পড়ে খুবই খুশি হতেন ।
দু এক দিন নরেশ গুহর বাড়িতেও গেছি ।নরেশ গুহ ছিলেন বুদ্ধদেব বসুর দক্ষিণ হস্ত ।বা ডানহাত।কবিতা পত্রিকার অন্যতম কর্ণধার ।খুবই মিতভাষী ছিলেন ।তখনও ওনার দুরন্ত দুপুর মধ্য গগনে ।ওনার সঙ্গে ব্যাক্যালাপে খুবই সঙ্কোচ বোধ করতাম ।তবুও কী একটা  আকর্ষণ ছিল ।চলে যেতাম ।এখন মনে হয় প্রত্যেক কবিরই এইরকম আভিজাত্য থাকা উচিত ।আমার মতো সব তরুণকে কোলে তুলে নেওয়াটা ঠিক নয়।কিন্তু যারা যা স্বভাব তা কি পাল্টানো সম্ভব। সম্ভব নয় বলেই পদেপদে এত অপবাদ এত  লাঞ্ছনা সহ্য করতে হয়।
এতে যে কিছুই যায় আসে না, সেটুকু বুঝি।আর বুঝি বলেই আমার হাত থেকে কেউ চলমান কেটে নিতে পারেনি ।যা লেখার কথা তা লিখে চলেছি ।লিখে যাবো।অবিরাম সেই বা এই লেখার পাঠকরা বুঝে যাবেন ঠিক কী লিখতে চাই ।

[01/09 08:00] Poet Prabhat Chowdhury: নিশীথ তোমার কবিতাটি পড়লাম।এখন আমার জানতে ইচ্ছে করছে কবির কাজ কী? বা কবিতা কেন এবং কীভাবে লিখবে? যদি সবসময়ই বাইরের ঘটনা আলোড়িত করে কবিকে তাহলে ভেতরে দিকে তাকিয়ে দেখবে কখন?
বিষয়টা ভেবে দেখতে বললাম মাত্র । কোনো কিছুই চাপিয়ে দিতে চাইছি না ।

[01/09 21:16] ‪+91 97492 92307‬: সুন্দরের দিকে
মৃণাল চক্রবর্তীর মতামতের সূত্র ধরে যাওয়া যাক কাদাকুলি, আর কাদাকুলির পাশেই ছাঁদার।ছাঁদার আমার মানচিত্রে  উৎপল চক্রবর্তীময়।
শেষবার আমার যাবার সঙ্গে মিলে গিয়েছিল মৃণাল অমল বসু দের যাওয়া ।গত দশই মার্চ । অভিব্যক্তি র জন্মদিনের  অনুষ্ঠানে ।সেই তখনই ছোটদার সঙ্গে শেষ দ্যাখা ।বালুরঘাট থেকে ওরা এসেছিল ।আর বাঁকুড়া থেকে এসেছিল ভজন দত্ত পার্বতী রায় ।শ্রীমহাদেব শ্রীমহাদেবকে বাঁকুড়ার বলতে পারছি কই ।মহাদেব তো অভিব্যক্তির অংশ। আর আমি কি নই। জানি না ।পরের বছর দ্যাখা হবে না অনুমান মাত্র ছিল।সিদ্ধান্ত ছিল না ।সেই অনুমানই মিলে গেল ।
এখন ফিরে যাই  অতীতকথায়।যা লেখার কথা সেই উপবনে।
সনতারিখ মনে নেই ।তুষার চৌধুরী অনন্য রায় বা বাপ্পা  আর আমি তিনজন পৌঁছে গেলাম বেলেতোড় হয়ে কাদাকুলিতে । তখন সবে অভিব্যক্তি গড়ে  উঠছে ।
সেবার কি আমরা বোলপুর শান্তিনিকেতন থেকে গিয়েছিলাম? ঠিক মনে নেই ।শান্তিনিকেতনের কথা পরে বলা যাবে । এখন  অভিব্যক্তি  এবং উৎপল চক্রবর্তী ।
সেবার যতক্ষণ কাদাকুলিতে ছিলাম বেশির ভাগ সময়ই ছিলাম অভিব্যক্তিতে। ছোটদা তখন গানে ডুবে আছেন। একটা শস্তা হারমোনিয়াম  এবং চা  অনুসারী পান। এই পান স্থলপথের পান।জলপথের নয়।
তখনকার  একটা গান  এখনো আমাকে তাড়িত করে।
এ জীবন সকলই সুন্দর  গো
এই গানটির উৎস ছিল একটি সাঁওতালি গান ।যার বাংলা রূপান্তর
ছাতু তোলা সে বড়ো লজর গো ।
গানটি  এতবার ছোটদা গেয়েছিলেন, শেষের দিকে আমরাও গলা মিলিয়ে ছিলাম, যে ওই গানটি  আমরা রপ্ত করে ফেলেছিলাম ।আর ওই গানটিকে বহন করে নিয়ে এসেছিলাম কলকাতায়।বারদুয়ারিতে ওই গানটি নিয়মিত গাইতাম । ওই গান তখন  আমরা কি আমাদের ব্যক্তিগত জাতীয় সংগীত করতে চেয়েছিলাম ।জানি না ।তবে গানটিতে মজে ছিলাম। অনুরূপ অভিজ্ঞতা হয়েছিল সুমনের প্রথম ক্যাসেটের গুটিকয়েক গান। এটা গান বিষয়ক স্মৃতিকথা নয়।ফিরে যাই কবিতায়।

বাঁকুড়ায় কবিতার সঙ্গে বসবাস শুরু হয়েছিল  আরও কিছুটা আগে। সেটা 1968-69 ।তখন  আমার কাকার বড়ো ছেলে বুড়ো বা সমীর বেলেতোড় স্কুলের শেষদিকে র ছাত্র ।বুড়োর সহপাঠী ছিল রাজকল্যাণ চেল, বেলবনীতে বাড়ি।রাজকল্যাণ তখন থেকেই কবিতা নিয়ে মাতামাতি শুরু করবো করবো করছে ।হাতের কাছে পেয়ে গেল আমাকে ।শুরু হয়ে গেল ছন্দ শিক্ষার পাঠ।রাজের সঙ্গে  আসতো প্রণব চট্টোপাধ্যায় স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্গা শর্মা বিজয় দাস। আমাদের দোতলার  বারান্দায় বসতো সেই আসর।মূলত অক্ষরবৃত্ত নিয়েই কথা হত।
বাঁকুড়ার রাজকল্যাণ  এবং তার দুই ভাই সত্যসাধন আর সুব্রত  আমার জন্য যা করেছে তার কোনো প্রতিদানই আমি দিতে পারিনি। তার প্রধান কারণ  আমার হাতে কোনোদিনই প্রাতিষ্ঠানিক কোনো ক্ষমতা ছিল না । আমি  আমার ক্ষুদ্র পরিসরে  এদের মনে রাখার চেষ্টা করেছি ।
সেই অর্থে শহর বাঁকুড়ার কবিদের কাছ থেকে বিন্দুমাত্র সমর্থন পাইনি সেসময়। এখন ভজন দত্তের প্রায় একক প্রচেষ্টায়  পা রাখার একটা জায়গা পেয়েছি।
কবিতা পাক্ষিক পর্বে পেয়েছিলাম গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায়কে। গুরুদাসের দৌলতে শুশুনিয়া উৎসবে  একটা মঞ্চ  উদ্বোধনের ডাক পেয়েছিলাম ।আর সত্যসাধন  আমাকে সংবর্ধনা দেবার ব্যবস্থা করেছিল । দৈনিক বাংলা সংবাদপত্রের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছিল সেই সংবর্ধনা । বাঁকুড়ার কজন কবি উপস্থিত ছিলেন  আমার জানা নেই ।
গুরুদাসের ব্যবস্থাপনায় কবিতাপাক্ষিকের অনুষ্ঠান হয়েছে।সেসব অনেক পরে । আর জন্মদিন পালন তো এই সেদিন ।
উৎপল চক্রবর্তী  আজ নেই, অথচ তাঁর উপস্থিতি  আমার সুন্দরের দিকে যুক্ত হয়ে থাকলো এই বাস্তবতাকে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে ।পরে আবার দ্যাখা হবে পথের সঙ্গী হিসেবে ।
একটা  অনুরোধ রাখছি কারো স্মৃতিতে যদি সেই সময়ের কোনো কথা মনে থাকে জানালে উপকৃত হব, লেখাটাও সমৃদ্ধ হবে।

[02/09 19:36] Poet Prabhat Chowdhury: দেবাশিসের বাড়ি কোথায়?
আশেপাশে হলে পটলভাঙার কপা দপ্তরে চলে এসো ফোন করে ।মাত্র  এক ঘণ্টা সময় নেবো।
আর হাতের কাছে বাংলা আকাদেমি র বানান অভিধান রাখতে হবে সর্বদা ।
98311 04279

[02/09 22:26] ‪+91 97492 92307‬: সুন্দরের দিকে
গত সন্ধের সঙ্গে  আজকের সন্ধের অনেকগুলি মিল যেমন  আছে তেমনি অনেকগুলো অমিলও আছে ।মিলের কথা নিয়ে মেতে থাকলে অমিলগুলিকে অবহেলা করা হবে ।
যেমন তখন আমি শার্ট প্যান্টে যাতায়াত করতাম ।আর এখন শার্ট প্যান্ট পরাই হয়ে  ওঠে না ।তাহলে কি  আমি মানুষটা বদলে গেছি?
বদলেছি অনেক পরে।পরের কথা পরে বলবো।এখন যাত্রা করলাম শঙ্খ ঘোষের বাড়ির দিকে ।তখনও পবিত্রদাই হাত ধরে নিয়ে যেতেন । তার অর্থ হল তখনো আমি স্বাবলম্বী হইনি। ধরে  আছি পবিত্রদার হাত । মান্যবর শঙ্খ ঘোষ তখন শ্যামবাজার চারমাথার খুব কাছে। CESC অফিসের পেছনের দিকে । পেছন না পাশে , দিক দিকভুল হতে পারে ।হলে শঙ্খদা শ্যামবাজার থেকে শ্যামনগর চলে যাবেন না । অর্থাৎ এতটা ভুল করে ফেলবো না ।
সম্ভবত লিফট ছিল । শঙ্খদা এখনকার মতোই অবারিত  ছিলেন। কবিপত্রর জন্য কবিতা নিতে গিয়েছিলাম । আগের সংখ্যা নিয়ে গিয়েছিলাম।দিলাম আর উনি  আগ্রহের সঙ্গে তা দেখেছিলেন ।এটুকুই মনে করতে পারছি ।
তখন 2B বাস দোতলা ছিল ।যাবার সময় বাসের একতলায় বসে গিয়েছিলাম ।ফেরার সময়ে দোতলায়। এটা স্মৃতি নির্ভর নয় তর্জনী নির্ভর তথ্য । লেখার সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য ।
আসল কথাটি হল ফিরেছিলাম পূর্ণ হয়ে। এখানে কোনো চাতুর্য নেই ।এরকম শান্ত এবং সৌম্য মানুষ আমি  আগে দেখিনি ।যে কটা কথা চালাচালি হয়েছিল তার মধ্যে কোনো ছলনা ছিল না, সবটাই  আন্তরিক । এখনকার মতো তখনও মৃদুভাষী ছিলেন। শঙ্খদা তখন যেমন ছিলেন এখনও ঠিক তেমনটাই আছেন ।এই এত বছর ধরে নিজেকে একই রকম রেখা বেশ দুরূহ ব্যাপার । আর কেউ পেরেছেন তা আমার জানা নেই ।
শঙ্খদাকে শান্ত সৌম্য এসব বিশেষণে ভূষিত করার অর্থ  এই নয় যে তিনি প্রতিবাদী ছিলেন না।যখনই প্রয়োজন পড়েছে শঙ্খদা প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন ।
যখন দীপেনদা অর্থাৎ দীপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যাডার ছিলাম তখন তাঁর প্রতিবাদী বৈশিষ্ট্য দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছি।
পরে সময় আসলে শঙ্খদার সম্পর্কে বহু কথা বলা যাবে । এখন উত্তর থেকে ফিরে আসি দক্ষিণে।
কুঁদঘাটে থাকতেন কবি দেবপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়। এখনো  একই বাড়িতেই থাকেন।দেবীদা আমাদের পাড়ার জামাই।দেবীদার স্ত্রীর নামও দেবী ।আমার বান্ধবী মিতা র দিদি।সেই সূত্রে দেবীপ্রসাদ সাম্প্রতিক তে কবিতা লিখেছেন ।অর্থাৎ আমাদের তিনি কবিতা লিখেছিলেন ।শুরুতে দেবীপ্রসাদ কীভাবে যে দেবপ্রসাদ হয়ে গেল জানি না ।এই লেখায় কীভাবে প্রুফ সংশোধন করতে হবে তা জানা নেই ।
দেবীদা ছিলেন আপাদমস্তক ভদ্রলোক । এবং নিজের তৈরি একটি  খোলসের মধ্যে বসবাস করতে পছন্দ করেন ।নিজের খেয়ালে নিজের কাজ করে যান। বাইরের তাপ উত্তাপ খুব  একটা স্পর্শ করে না দেবীদাকে।প্রকৃত কবির মতোই তাঁর যাপনচিত্র। আমার প্রতি তাঁর  আচরণে প্রশ্রয়চিহ্ন আমার না দ্যাখা নয়।কিন্তু সত্য কথাটা হল আমি সেভাবে দেবীদাকে তাঁর প্রাপ্য সন্মান দিতে পারিনি ।হয়ত ঘরের মানুষ ভাবার ফলেই এমনটা হয়ে থাকতে পারে ।অথচ যখনই কবিতা নিতে গেছি উনি  আমাকে নিরাশ করেননি ।
আর বিনয় মজুমদারের সঙ্গে যাবতীয় যোগাযোগ তখন ছিল কফিহাউসের দৌলতে।তখন ঠাকুরনগর যাওয়া হয়ে ওঠেনি ।কফিহাউসে বিনয়দার নির্দিষ্ট একটা টেবিল  ছিল ।অনেক আগে আসতেন এবং অনেক পরে যেতেন।তখন আমি কফিহাউসের গেট খুললেই ঢুকে পড়তাম। আর বের হতাম গেট বন্ধ হবার সময়। দুপুরের দিকে অনেকটা সময় বিনয়দার সঙ্গে কাটাতাম ।তার অর্থ এই নয় যে বিনয়দার সঙ্গে গল্পগুজব করতাম ।বিনয়দা নিজের মধ্যে থাকতেন ।পাশে কে বসে আছে তা দেখার প্রয়োজন বোধ করতেন না ।এটা যে কেবলমাত্র  আমার ক্ষেত্রে নয় সকলের প্রতি একই আচরণ ছিল বিনয়দার।তবে কবিতা দেবার কথা থাকলে তা কখনোই ভুলে যেতেন না।এসেই দিয়ে দিতেন।
তবে একটা কথা বলে রাখি, পরের কথা ।কবিতা পাক্ষিক পর্বে যখনই কবিতা চেয়েছি পোস্টকার্ড ।উনি খামে ভরে পাঠিয়ে দিয়েছেন ।ঠিকানা ভুল হয়নি। আমার মনে হয়েছে বিনয়দা কবিতা লেখার জন্যই এই ভূখণ্ডে এসেছিলেন ।আদ্যোপান্ত কবি বলতে যা বোঝায় বিনয় মজুমদার ঠিক তাই ছিলেন ।
আমি যখনকার কথা বলছি তখন বিনয়দাই পঞ্চাশের জনপ্রিয়তম কবি । আলোক - অলোকরঞ্জনের গ্রাফ তখন নিম্নমুখী।সুনীলদা  আর শক্তিদার জুড়ি তখনও দানা বাঁধেনি।
বিশ্বাস না হলে অমরেন্দ্র চক্রবর্তী র স্মরণাপন্ন হতে হবে । আমার বিশ্বাস  আমাদের সময়ের শ্রেষ্ঠ সম্পাদক হলেন অমরেন্দ্র চক্রবর্তী ।কবিতা পরিচয় নামে একটি পত্রিকা করতেন ।এরকম সুসম্পাদিত পত্রিকা  আর একটিও ছিল না,  এখনও নেই ।
একটি করে কবিতা  আর তার আলোচনা ।কে না অংশগ্রহণ করেছেন। এক টন দেড় টন ওজনের লেখকরা বিখতেন।বিতর্কে যুক্ত হতেন। সেই কবিতা পরিচয় পত্রিকায় বিনয় মজুমদারের কবিতা  আলোচিত হয়েছিল অনেকের আগে।
তাছাড়া বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় বিনয়দার উপস্থিতি লক্ষণীয় ছিল ।
কফিহাউসে  আসতেন আর এক কবি শান্তিকুমার বসু।পঞ্চাশের এই কবি খুবই সিরিয়াস ছিলেন। একটা দূরত্ব  বজায় রেখে মিশতেন ।আমাকে কিছুটা ভয়ও করতেন। এমনটাই  আমার মনে হত। শক্তি দা দের সাপ্তাহিক কবিতার  একটা পাতা ফাঁকা আছে ।আমার বন্ধু মিহির রায়চৌধুরী জানালো একজনের কবিতা দিতে হবে।চলে এলাম কফিহাউসে । শান্তিদাকে পেয়ে গেলাম ।একটা খাতা আর কলম ধরিয়ে দিয়ে বললাম একটা কবিতা লিখে দিতে হবে , এখুনি ।প্রথমে থতোমতো খেলেও শেষমেশ কবিতা লিখে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন ।

[03/09 08:18] Poet Prabhat Chowdhury: দেবাশিস তা হলে তোমার পটলভাঙার দপ্তরে  আসার কোনো সমস্যা হবে না ।ফোন করে চলে এসো ।
98311 04279
যেদিন আসতে চাও তার আগের দিন ফোন করবে।

[03/09 21:15] ‪+91 97492 92307‬: সুন্দরের দিকে
গতকাল শেষ করেছিলাম কবিতার  ইতিহাস দিয়ে ।আমার এই সামান্য লেখাটি ইতিহাস নয়।সে দাবিও আমি সজ্ঞানে করবো না ।সেই চেষ্টা করেছিলেন সত্য গুহ।কৃষ্ণগোপাল মল্লিক সম্পাদিত গল্পকবিতা নামক পত্রিকায় ধারাবাহিক প্রকাশিত হয়েছিল একালের গদ্য পদ্য  আন্দোলনের দলিল ।বহুদিন ধরে চলেছিল ।আমরা  অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতাম ।পরে পুস্তকাকারে লেখাটি প্রকাশিত হয়।প্রকাশক অধুনা র পক্ষে কৃষ্ণগোপাল মল্লিক ।
ওই বইটিতে যে তথ্য সম্ভার আছে তা দিয়ে বহু গবেষক করে খেয়েছেন ।আপাতত এই ভূমিকাটুকু করে রাখলাম, না হলে ধ্বংসকালীন কবিতা  আন্দোলনের কথা লেখা হবে না ।আজ প্রতিজ্ঞা করেছি ধ্বংসকালীন লিখবোই। না হলে দেরি হয়ে যাচ্ছে ।
হাংরি শ্রুতি ধ্বংসকালীন এই তিন কবিতা আন্দোলন ছয়ের দশককে শতাব্দীর সবথেকে প্রাজ্ঞ দশক বলে চিহ্নিত করেছে । এটা আমার কথা নয় এটা সত্তরের বিশিষ্ট কবি কমল চক্রবর্তীর।কমলের পত্রিকা কৌরব এর ষাটের কবিদের কবিতা সংকলনের সম্পাদকীয়তে ঠিক  এমনটাই লিখেছিল কমল।কমলকে ধন্যবাদ,  ওর আগে  আর কেউই একথা বলেনি।সেসব এখন তোলা থাক ।পরে বলার সময় পাওয়া যাবে ।
আমরা কবিতা পাক্ষিক থেকে অক্টোবর 1994 এ প্রকাশ করেছিলাম ধ্বংসকালীন কবিতা আন্দোলনের দলিল নামে একটি পুস্তক ।সম্পাদনা করেছিল শান্তিময় মুখোপাধ্যায়।বইটির দ্বিতীয় পরিবর্ধিত সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছিল  অগাস্ট 2011 , এই দলিলটি  এখনো পাওয়া যায়।
আগ্রহী পাঠক সংগ্রহ করতে পারেন । এই আন্দোলন নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা আছে।সেই ধোঁয়া সরাবার চেষ্টা থেকে বিরত থাকছি।
1st Part. বাকিটা রাতের মেলে।

[04/09 09:38] Poet Prabhat Chowdhury: বৌদ্ধ গুম্ফায় বসে লেখা হচ্ছে  কবিতা । আর কিছুদিন পরে আমরা ফিরে যাবো চর্যাপদে।
দারুণ রাহুল ।

[04/09 10:13] Poet Prabhat Chowdhury: রাহুল গত পঁচিশ বছর ধরে অহরহ কবিতার  আপডেটের কথা বলে  আসছি । আপডেটের  অর্থ হল আধুনিক কালখণ্ডে যে কবিতা লেখা হত তা থেকে বা যেভাবে লেখা হত তার পুনরাবৃত্তি না করে কবিতার নতুন মানচিত্র নির্মাণের কাজ করে যেতে হবে ।
কাজটা সহজ নয়।খুবই কঠিন কাজ ।
আমি মনে করি কবিতায় প্রতীক উপমা রূপক ইত্যাদি আধুনিক ধ্যানধারণা ।এথেকে  বেরিয়ে আসতে হবে, নিজেকে  মুক্ত হতে হবে ।
এর জন্য গ্রহণ করতে হবে নতুন কাব্যভাষা।নতুন বিষয়ে চোখ রাখতে হবে ।কবিতার পরিসরকে ক্রমশ বাড়িয়ে নিতে হবে।যেমন আমি নোটবই  এর কবিতাগুলি লিখতে শুরু করেছিলাম । এবারও নতুন করে Notes on Stationery Items লিখলাম । আমি এই 73+ বয়সে চেষ্টা করে যাচ্ছি আর তোমাদের বয়স তো অনেক কম তোমাদের উচিত কবিতাকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়া । অমনটা যেন বাংলাকবিতার পাঠক বলতে শুরু করবে দেখুন রাহুল কতটা  এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে কবিতাকে।তোমার ওপর আমার ভরসা প্রচুর । আমি বিশ্বাস করি তুমি পারবে । এই জন্যই তোমাকে আলাদাভাবে গুরুত্ব দেওয়া শুরু করেছিলাম । কবিতাতে স্থির থাকো, অবিচল থাকো।
আমরা করবো জয়

[04/09 10:28] Poet Prabhat Chowdhury: আসলে তোমাকে আমি বোঝাতে পারিনি । আমি বলি  আমাদের কোনো গোপন নেই,  সবটাই ওপেন ।তাহলে সংকেত একটি মধ্যযুগের ভাবনা।
তুমি কলকাতায় আসবে কবে ? সবসময় একদিন  আমার সঙ্গে থাকবে । আমি আমার সাধ্য মতো চেষ্টা করবো।

[04/09 12:03] Poet Prabhat Chowdhury: আফজল তোমার তো অজানা নয় হাংরি ধ্বংসকালীন এসব  আধুনিক চিন্তা ।কবিতা বা সাহিত্যে  আন্দোলন হয় না । আন্দোলন করে কৃষক  এবং শ্রমিক শ্রেণি।

[04/09 12:12] Poet Prabhat Chowdhury: কাজেই পোস্টমডার্ন  এর পাশে অহেতুক অন্যদের বসালে পোস্টমডার্ন চিন্তাচেতনাকে খাটো করা
হয়।

আধুনিক যুগে কবি শিল্পীরা  আন্দোলন করেছেন সেটা আমার  অজানা নয়।কিন্ত এখন তো আর আধুনিক যুগে আটকে নেই আমরা । এটা ভুলে গেলে চলবে না ।

একটা মূল কথাই বলা হয়নি।তা হল যিনি কবিতা লিখবেন তাঁর মনটাকে বা মানসিকতা কে  আধুনিকতা থেকে বের করে  আনতে হবে।আধুনিকতার কিছু অবশিষ্ট থাকতে দেওয়া যাবে না মনের  কোনো কোণে।এটা বলা বা লেখা যত সহজ, বাস্তবে তা রূপায়ণ করা ততটাই কঠিন ।
এসব কথা তো বহুদিন ধরেই বলছি  আফজল । এখন কী এমন ঘটলো যার জন্য  আবার রিপিট করতে হচ্ছে ।

Comments

Popular posts from this blog

মহায়ণ

মরণ vs যৌনতা

আনা কড়া গন্ডা ক্রান্তি