"শিবমন্দির ভাঙা" - "এহ বাহ্য আগে কহ আর"
"শিবমন্দির ভাঙা" -
"এহ বাহ্য আগে কহ আর" @ রাজেন্দ্র
________________
পরিধি বলয়
ছোট হতে হতে
/
বিন্দুর শেষ সীমানায়
মিশে যেতে যেতে
/
এখন এসে আটকে গেছি
সীমানার এই পারে
হলুদ ঘাসের মাথায়
/
যেখানে বার বার
আমার ছোট ছেলেটা
পূর্ণিমার জোছনা মেখে
অপলক চোখে তাকায়
/
জমি বাড়ি সব ফেলে
চলে আসাটা
বোধকরি ভুল ছিলো
/
অনেক যুগ ধরে
মাটির রঙে ঘ্রাণে
ভালোসাসা জন্মেছিলো
/
কিন্তু
বাঁচার লড়াই আর
টিকে থাকার জেদ
গতসু হয়েছে আগেই
/
কে কত ফায়দা পাবে
তার হিসেবও হয়ে গেছে
ক্ষমতার রাজপাট ভাগেই
/
চশমা সেঁটে
বোকা বাক্সের সামনে
মিডিয়ার সেক্যুলার বিশ্লেষণে
কলম ঝেড়ে তারিফ করেছি
আহা রে বাবা রে করেই
/
"সত্যি সেলুকাস্
কি বিচিত্র এই দেশ"
/
এখনো অনেকেই আমরা
দুই বাংলা জুড়ে দেওয়ার
অলীক স্বপ্নে বুঁদ
/
এই পারের বাঙালীদের
দেখিয়ে দিলো ঐ পারের
মৌলবাদীরা
/
কেমন করে রাতের আঁধারে
ভাঙতে হয় মন্দির
/
আর কেমন করে
সেক্যুলার আমরা
ভেজা চোখে মুখ লুকিয়ে
খুঁটে খাব ভাঙা খুঁদ
/
এক বাবরি নিয়েই
কত লাফালাফি চলেছিলো
এখানে সেখানে
বুদ্ধিজীবি আবেগিদের
/
তবে এখন কেন
তাদের সবার মুখে কুলুপ
তা জানতে ইচ্ছে করে
/
ধর্মের পাগলামো কেমন করে
অমানুষ করে তোলে
মন্দির আর মূর্তি ভাঙায়
/
রোজকার প্রতিবেশিকে
ধর্মাচরণে বার বার বাধা দেয়
দেখতে ইচ্ছে করে
/
আর শেষমেষ
আবেগের গামছা গলায় বেঁধে
ডুবে মরে যেতে ইচ্ছে করে
/
কেউ বা বলতে পারেন
ঐ বাংলা যে
এখন আর তোমার নয়
/
তবে কেন এত কিছু
এসে যায় আমার
/
কথাটা কি তবে শুধুই
আমার এবং তোমার
/
তবুও যে জানতে ইচ্ছে করে
কি ভাবছে আমার
ধর্মনিরপেক্ষ দেশের
ভোটবাক্সখেকো লোভীরা
/
বার বার হাতছানি দেয়
অসহায় একঘরে
হেরে যাওয়া ঐ পারের
বাঙালী সংখ্যালঘুরা
/
ডেকে দেখাতে চায়
চোখের জলের
না মোছানো দাগ
/
যেখানে মাঝে মাঝেই
নোনা জলের জোয়ার
ছুটে আসে
/
আর ডুবে হারিয়ে যায়
আমার কলমের শব্দেরা
/
দেখতে থাকি পড়তে থাকি
খবর খাওয়ানো বাজারি পত্রিকা
/
জানতে পারিনা লুকিয়ে রাখা
ইচ্ছে করে চেপে রাখা ইতিহাস
/
এখন ক্রমাগতঃ বিলুপ্তির পথে
জমে থাকা শত কোটি দীর্ঘশ্বাস
/
চোখে ভাসে
তরবারির আঘাতে মুন্ডহীন
পোকা আর মাছি বসা
না শুকানো পচা গলা
দেহের ভাইয়েরা
/
জানি
একমাত্র যন্ত্রণা বুঝবে
সন্তান আর লজ্জা হারানো
ঐ বাংলার বাপ বোন মায়েরা
@ রাজেন্দ্র
Comments